সাক্ষাৎকার

নদী কমিশনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯

নদী কমিশনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই

  ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার

ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারও আগে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন অর্থ মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। ছিলেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসোর চেয়ারম্যান। ১৯৮২ সালে জনপ্রশাসনে যোগ দেওয়ার পর তিনি মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন, সচিবালয় ও দেশের বাইরে দূতাবাসে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। মুজিবুর রহমান হাওলাদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন

সমকাল :এসে দেখছি সামনে কাগজের স্তূপ। মনোযোগ দিয়ে সম্পাদনা করছেন। এগুলো কী?

মুজিবুর রহমান হাওলাদার :এগুলো আমাদের গত বছরের কার্যক্রমের প্রতিবেদন ও মূল্যায়ন। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেব। একটি বড় প্রকাশনাও হবে। প্রকাশনার সফট কপি ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। ভিডিও থাকবে, আলোকচিত্র থাকবে। যাতে করে সবাই দেখতে পারে। জানতে পারে, আমরা কী কাজ করছি, কীভাবে করছি।

সমকাল :এই প্রকাশনা কি বর্ণনামূলক?

মুজিবুর রহমান : না, শুধু বর্ণনামূলক নয়। সারাদেশের নদ-নদী নিয়ে রীতিমতো ছক করে দেখানো হচ্ছে, সেগুলোতে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে। কমিশন কী সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো কারা, তাদের কাজের অগ্রগতি কী। এটা দেখে একনজরে বোঝা যাবে, দেশের নদ-নদীর সংরক্ষণবিষয়ক কার্যক্রম কোন পর্যায়ে রয়েছে।

সমকাল : আপনারা বিভাগীয়, জেলা ও

উপজেলা পর্যায়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেসব নির্দেশনা দেন, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার খোঁজখবর কীভাবে নেন?

মুজিবুর রহমান :অনেক সময় তারা জানায়। আমরাও চিঠি দিয়ে বা ফোন করে জানতে চাই। আমরা বিভাগ, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে নদী কমিটি করে দিয়েছি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সমন্বয়ে। জেলায় বা বিভাগীয় পর্যায়ে যখন আমরা যাই, তখন সভায় সেখানকার নদ-নদী বিষয়ে অবগত হই।

সমকাল :এর আগে শুনেছি, গত এক বছরে আপনি ৫৮টি জেলা পরিদর্শন করেছেন।

মুজিবুর রহমান :ঠিকই শুনেছেন। তবে ৫৮ নয়, ৬৪ জেলাই কাভার করেছি। কারণ, অনেক বিভাগে গিয়ে ওই অঞ্চলের একাধিক জেলার নদী কমিটির সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা দুই শতাধিক উপজেলায় গিয়ে সরেজমিন পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করেছি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর মাঠ পর্যায়ে গিয়ে পরিস্থিতি বোঝার ওপর জোর দিতে চেয়েছি। শুধু নথিপত্রের ওপর ভরসা করিনি। বিভিন্ন স্থানে নদী কমিশনের সভায় নাগরিক সমাজ, গবেষক, শিক্ষকদের

আমন্ত্রণ জানানো হয়। ফলে আমরা সরকারি পর্যায়ের ভাষ্য ও বেসরকারি পর্যায়ের ভাষ্য তুলনা করতে পারি। যে কোনো কাজে সবার আগে ভুক্তভোগীদের কথা শোনা উচিত।

সমকাল : মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন কতটা কাজে দিয়েছে?

মুজিবুর রহমান :এটা খুবই কাজে দিয়েছে। গত এক বছরে আমরা যে কাজ করেছি, অফিসে বসে থাকলে তা দশ বছরেও সম্ভব হতো না। যেখানেই গিয়েছি, পরিস্থিতি সরেজমিন দেখে এসে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের কাছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে ডিও লেটার বা আধা-সরকারি পত্র দিয়েছি। সেখানে আমার স্বাক্ষর থাকে। যাতে করে তারা বিষয়টি বিলম্বিত করতে না পারে।

সমকাল :ভুক্তভোগীদের ভাষ্য কতটা শুনতে পেলেন? যদি প্রধান দুটি বিষয় জানতে চাই।

মুজিবুর রহমান :প্রথমত, সবখানেই প্রায় একটি বিষয় অভিন্ন, নদ-নদীগুলো দখল হয়ে গেছে বা যাচ্ছে। অনেক সময় অপরিকল্পিত স্থাপনাও একটি বড় সংকট। দেখা যাচ্ছে, নদ-নদীর উৎসে বা মুখে এমনভাবে বাঁধ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নদীটা মরে গেছে বা জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

সমকাল :দখলদারদের মধ্যে কাদের সংখ্যা বেশি?

মুজিবুর রহমান :যারা দখল করেছে, তাদের প্রায় সবাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। আমরা নদী কমিশনের সভাগুলোতে জনপ্রতিনিধিদেরও আমন্ত্রণ জানাই। উপজেলা বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা থাকেন। তাদের বিরুদ্ধেও অনেক সময় দখল-দূষণকারীকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ থাকে। আমরা আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের ভাষ্য জানতে চাই।

সমকাল :কোনো সভায় নদী দখল বা দূষণকারীদের কি ডাকেন?

মুজিবুর রহমান :আমরা জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দকেও আমন্ত্রণ জানাই। অনেক সময় দেখা গেছে, তাদের মধ্যেই এমন ব্যক্তি রয়েছে, যারা সরাসরি দখলের সঙ্গে যুক্ত। আমরা তাদের এ ব্যাপারে জবাবদিহি করি, সতর্কবার্তা দিই।

সমকাল :ভুক্তভোগীদের কাছে দ্বিতীয় কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জানতে পেরেছেন?

মুজিবুর রহমান :ভুক্তভোগী বা নদী নিয়ে কাজ করা গবেষকরা, আন্দোলনকারীরা আমাদের দ্বিতীয় যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করেছে তা হচ্ছে, দখল উচ্ছেদে প্রশাসনের গড়িমসি। আবার সরকার যেসব প্রকল্প বা উদ্যোগ নেয়, তা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করা। সেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা। ড্রেজিং করে মাটি আবার নদীর পাড়েই ফেলে। সেই মাটি আবার নদীতে চলে যায়। যেমন আজকেই অভিযোগ পেয়েছি, বুড়ি তিস্তা নদী খনন করা হচ্ছে; কিন্তু খননকৃত মাটি নিয়ম মেনে ফেলা হচ্ছে না। মাটি নয়ছয় করা হচ্ছে।

সমকাল :কুড়িগ্রামের উলিপুরের বুড়ি তিস্তার কথা বলছেন?

মুজিবুর রহমান :হ্যাঁ। আমি সঙ্গে সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানকার জেলা নদী রক্ষা কমিটি যাতে তদারকি করে, সে জন্য নির্দেশ দিয়েছি। আপনি খোঁজ নিতে পারেন, নদী কমিশন দেশের সব নদ-নদী রক্ষায় সর্বোচ্চ আন্তরিক। আমার নিজের মোবাইল ফোন সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত। নদীবিষয়ক যে কোনো অভিযোগ আমাকে সরাসরি জানাতে পারে।

সমকাল :আপনাদের পরিদর্শনের সময় সভা আহ্বান ছাড়া, নিজেদের মধ্যে সভা করা ছাড়া জেলা ও উপজেলা নদী কমিটির জন্য অগ্রাধিকারমূলক কোনো কাজ দিয়েছে নদী কমিশন?

মুজিবুর রহমান :আমরা প্রথম সরেজমিন পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি। কমিটিগুলো যাতে

ঠিকমতো কাজ করে, সে জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। প্রত্যেক এলাকায় নদী নিয়ে যারা কাজ করে,

সেসব নাগরিককে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার

নির্দেশনা দিয়েছি। দখল ও দূষণ উচ্ছেদ করার নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছি।

সমকাল :দেশের সব নদ-নদীর দখলদার বা দূষণকারীর কোনো তালিকা করেছে কমিশন?

মুজিবুর রহমান :এই কাজটায় জোর দিয়েছি। তালিকা না থাকলে আপনি ব্যবস্থা নেবেন কিসের ভিত্তিতে? যে জেলাতেই গিয়েছি, আমরা দখলদারদের তালিকা দেখতে চেয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেশিরভাগ জেলাতেই এই কাজটি সম্পন্ন হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি, ২৮ তারিখের মধ্যে সব দখলদার ও দূষণকারীর তালিকা পাঠাতে।

সমকাল :নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতগুলো জেলা থেকে পেয়েছেন?

মুজিবুর রহমান : এ পর্যন্ত সাত-আটটি জেলা পাঠিয়েছে। বাকিদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছে উচ্ছেদের পরিকল্পনাও জানতে চেয়েছি।

সমকাল :আমরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের নদীগুলোতে বিআইডব্লিউটিএ পরিচালিত দখল উচ্ছেদ অভিযান দেখছি। আপনার জেলাভিত্তিক নদী কমিটিগুলো একযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারে না?

মুজিবুর রহমান :অবশ্যই পারে। অবশ্যই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। দখলদারদের তালিকা সম্পন্ন হলেই এই কাজ শুরু হবে। এ ক্ষেত্রে অর্থায়ন একটি বড় ব্যাপার। কারণ নদী দখল উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসনের আলাদা বাজেট নেই। যেমন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কর্ণফুলী নদীতে দুই হাজারের বেশি দখলদার চিহ্নিত করেছিল। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযান শুরু করতে করতে আট মাস লেগে গেছে। নদী কমিশন যদি এই কাজে অর্থ বরাদ্দ পায়, তাহলে জেলা প্রশাসন উচ্ছেদের সরঞ্জাম সংগ্রহ করে বা কিনে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারবে।

সমকাল :জেলা বা উপজেলা প্রশাসন নদী কমিশনের নির্দেশনা কতটা পালন করে?

মুজিবুর রহমান :দেখুন, আইনগত দিক থেকেই নদী কমিশন যে কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে নদী বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে, সুপারিশ করতে পারে। কিন্তু নদী সুরক্ষার জন্য কেবল নদী কমিশনের নির্দেশনা সবসময় জরুরি নয়। জরুরি হচ্ছে আইনের প্রয়োগ। যেমন- পুলিশও নদী দখল উচ্ছেদ করতে পারে সিআরপিসি ১৩৩ ধারা মোতাবেক। নদীর ক্ষতিসাধন কেউ করলে জেলা প্রশাসকও নিজে ব্যবস্থা নিতে পারেন। আর নদী কমিশনের নির্দেশনা তো মানতেই হবে। আমরা যখন কোনো চিঠি দিই, তার অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছেও যায়। আমাদের নির্দেশনা যাতে সবাই মানে, সে জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় থেকেও নির্দেশনা দেওয়া আছে।

সমকাল :বিদ্যমান আইনে নদী কমিশনের ভূমিকা শুধু পরামর্শ বা সুপারিশমূলক। প্রায়োগিক ক্ষমতা নেই। ফেব্রুয়ারিতে উচ্চ আদালতের রায়ের পর এ ব্যাপারে কতটা সুবিধা হলো?

মুজিবুর রহমান :এতদিন আমরা যেসব আইনগত পরিবর্তন চেয়েছি, উচ্চ আদালতের রায়ে সেগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে। বলা চলে, নদী কমিশনকে শক্তিশালী ও কার্যকর করার পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।

সমকাল :রায়টি যুগান্তকারী সন্দেহ নেই। বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব? নদী কমিশন আইনে পরিবর্তন আসবে?

মুজিবুর রহমান :দেখুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নদী রক্ষার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আন্তরিক। ফলে গোটা সরকার এ ব্যাপারে জোর দিয়েছে। আমি আশাবাদী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আইনের সংশোধন হবে এবং নদী কমিশন প্রায়োগিক ক্ষমতা পাবে। নদী কমিশনের ক্ষমতা বাড়াতেই হবে। নদী রক্ষায় এর বিকল্প নেই।

সমকাল :রায়ে আপনাদেরও বলা হয়েছে আইনের সংশোধনের সুপারিশ করতে। সেটা কি করছেন?

মুজিবুর রহমান : আমরা রায়ের পরপরই সব সদস্যকে নিয়ে সভা করেছি, পর্যালোচনা করেছি। কী কী সংশোধন আমরা প্রত্যাশা করি, সে ব্যাপারে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের সুপারিশ যথাস্থানে জমা দেব।

সমকাল :কোন কোন বিষয়ে জোর দিচ্ছেন?

মুজিবুর রহমান :আমরা লিগ্যাল নোটিশ জারির ক্ষমতা চেয়েছি। নদী কমিশনকে শুনানি করার ক্ষমতা দিতে হবে। নদী পুলিশও থাকতে হবে। নদী বিষয়ে আলাদা ট্রাইব্যুনাল করতে হবে। ওই ট্রাইব্যুনাল স্বাধীন থাকবে; কিন্তু গঠিত হবে নদী কমিশন থেকে। যেমন নির্বাচন কমিশনে ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। যে কেউ সেখানে নদীবিষয়ক অভিযোগ করতে পারবে। ট্রাইব্যুনাল যে কাউকে ডাকতে পারবে। নদী কমিশনকে নির্ধারিত পর্যায়ে জরিমানা করার ও দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা দিতে হবে। তা না হলে দখল-দূষণ নিরুৎসাহিত করা যাবে না।

সমকাল : নদী কমিশন এখনও নৌপরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন। এতে করে সমস্যা হচ্ছে না?

মুজিবুর রহমান :নদী কমিশনকে আইনগতভাবে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সব মন্ত্রণালয়ের নদীবিষয়ক কার্যক্রম তদারকি করার, সুপারিশ করার, পরামর্শ দেওয়ার। কোনো স্টেকহোল্ডার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকলে বিষয়টি সাংঘর্ষিক হয় না? আমি মনে করি, নদী কমিশন প্রশাসনিকভাবে কেবিনেট ডিভিশনে সংযুক্ত হতে পারে। তাতে করে সব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে পারবে। কমিশনের আর্থিক বরাদ্দও কেবিনেট ডিভিশনের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি আসা দরকার। তাহলে নদী কমিশনের স্বাধীনতা অনেক বাড়বে। নদী রক্ষা করতে চাইলে কমিশনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সমকাল :আমরা নদীবিষয়ক আরও দুটি সমন্বয়কারী কাঠামো দেখছি। নদীবিষয়ক টাস্কফোর্স এবং যৌথ নদী কমিশন। সবগুলো একটি অভিন্ন ছাতার নিচে আসা উচিত কি-না।

মুজিবুর রহমান : টাস্কফোর্স গঠিত হয়েছিল আদালতের নির্দেশে, নদী কমিশন গঠন হওয়ার আগে। এখন নদী কমিশন গঠন হওয়ার পর এর কার্যক্রম কমে এসেছে। আর যৌথ নদী কমিশন আন্তঃসীমান্ত নদী নিয়ে কাজ করে। আমি মনে করি, নদীবিষয়ক সব কার্যক্রম একটি অভিন্ন ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে। তাতে করে কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়বে।

সমকাল :আমাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। এই সাক্ষাৎকার আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসে ছাপা হবে। আপনাকে জানাই নদীময় শুভেচ্ছা।

মুজিবুর রহমান :সমকালকেও ধন্যবাদ। আপনার মাধ্যমে আমিও সবাইকে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে নদীময় শুভেচ্ছা জানাই।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : শেখ রোকন


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ