শান্তি কি এখনও বহুদূর

ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব

প্রকাশ : ০৬ মার্চ ২০১৯

শান্তি কি এখনও বহুদূর

  এমাজউদ্দীন আহমদ

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্বের ইতিহাস পুরনো। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই দ্বন্দ্বের নিরসন ঘটাতে ইতিমধ্যে দু'দেশের দিক থেকেই কমবেশি কূটনৈতিক-রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত এর কোনো সুফল মেলেনি। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে এর আরও অনেক কিছুই সামনে উঠে আসে। আগে থেকেই কাশ্মীর নিয়ে বিতর্ক চললেও ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির পর শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এ দ্বন্দ্ব শুধু উত্তেজনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ইতিমধ্যে তা দু'বার যুদ্ধেও রূপ নেয়। পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণহানির মর্মন্তুদ ঘটনাও ইতিমধ্যে কম ঘটেনি।

প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ফের উত্তেজনা শুরু হয় গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে। উভয় দেশ একে অন্যের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালায়। এরই এক পর্যায়ে ভারতের বিমানবাহিনীর উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর হাতে আটক হন। এ নিয়ে উত্তাপ যখন চরমে, তখন পাকিস্তান তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ঘোষণা দেয়। অভিনন্দন বর্তমান ইতিমধ্যে দেশে ফিরে এসেছেন; কিন্তু শান্তি যে এখনও দূরঅস্ত- এর ফের বার্তা মিলেছে উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান ফেরার পরপরই। ফের সংঘর্ষে জড়ায় দুটি দেশ। অভিনন্দন বর্তমান ফেরার দিনই জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তজুড়ে রাতভর গোলাবিনিময়ে সাধারণ নাগরিক ও সেনাসদস্য হতাহতের সংবাদ জানা গেছে। এর পরও এমন ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সীমান্ত এলাকাজুড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন। দুই দেশের নিয়ন্ত্রণরেখায় এখনও উত্তেজনার যে বার্তা মিলছে এ থেকে এটাই স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়, এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা যেন এখনও দুরাশাই রয়ে গেছে।

'যুদ্ধ নয় শান্তি চাই'- শান্তিপ্রিয়দের এই দাবি বহু পুরনো। এই স্লোগানে আমরা ইতিমধ্যে শান্তিপ্রিয় বিশ্ববাসীর নানারকম কর্মসূচিও লক্ষ্য করেছি। ইরাক যুদ্ধ, সিরিয়া সংকট, ফিলিস্তিন সংকটসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সৃষ্ট এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শান্তিপ্রিয় বিশ্ববাসী এই দাবি জানিয়েছে এবং এখনও এই দাবিতে শান্তিপ্রিয়রা সোচ্চার। কিন্তু মানুষের এই শুভ প্রত্যাশা বারবার হোঁচট খাচ্ছে। কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব-সংঘাতের নানারকম ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণ ইতিমধ্যে গবেষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, রাজনৈতিক বিশ্নেষকসহ অনেকেই করেছেন। এ কথাও আলোচনায় এসেছে যে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নানারকম ছক কষছেন। এটা তো স্পষ্ট যে, ঘরের রাজনীতিতে মোদির বর্তমান অবস্থান অনেকটাই নড়বড়ে। দুর্নীতির অভিযোগে তার সরকার রয়েছে তোপের মুখে। ইতিমধ্যে অনুষ্ঠিত কয়েকটি রাজ্যের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মোদির সামনে যে পরাজয় চিত্র রয়েছে, তাতে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন ছক তিনি কষতেই পারেন। কিন্তু এর সুফল মনে হয় মিলবে না। কারণ শান্তিপ্রিয় মানুষ সংঘাত-যুদ্ধের বিপক্ষেই অবস্থান নেবে। এরই মধ্যে তা অনেকটা প্রমাণিতও।

যুদ্ধ কিংবা দ্বন্দ্ব-সংঘাত নানারকম ক্ষয়ক্ষতির চিত্রই স্ম্ফীত করে। মানবতার পরাজয় ঘটায়। মানুষের পাশাপাশি সত্যেরও মৃত্যু হয়। আহত মানুষের আহাজারি বিশ্ব সম্প্রদায়ের বিবেকবান মানুষকে পীড়িত করে। চরমভাবে আঘাত লাগে অর্থনীতিতেও। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব যদি প্রকট হয়, আমাদের এই অঞ্চলের যে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, তাও থমকে যাবে। উভয় দেশের হাতেই রয়েছে পারমাণবিক বোমা। সংখ্যাগত পরিসংখ্যান যাই হোক না কেন, দু'দেশের তরফে যদি এর ব্যবহার ঘটে, তাহলে সামগ্রিক চিত্র কতটা ভয়াবহ হবে তাও সহজেই অনুমেয়। এই দ্বন্দ্ব-সংঘাত যদি বৃহদাকারে যুদ্ধে রূপ নেয়, তাহলে সংকট যে প্রকট হয়ে উঠবেই, তাতে সন্দেহ নেই। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক দিক শুধু এ অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; তা ছড়িয়ে পড়তে পারে অন্যত্রও। এরই মধ্যে বিশ্বের কয়েকটি বৃহৎ শক্তি ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশকে শান্ত থেকে সংকটের সমাধান খুঁজতে আহ্বান জানালেও এর পাশাপাশি কারও কারও ভিন্ন সুরও শোনা গেছে। কাজেই এ নিয়ে যে শঙ্কা রয়েছে, এর সমীকরণ হতে পারে বহুভাবেই।

আমাদের এই অঞ্চলে সার্ক নামক জোটবদ্ধ সংস্থাটি গঠনের অনেক বড় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল। সার্ক গঠনে বাংলাদেশের ভূমিকা নতুন করে ব্যাখ্যা-বিশ্নেষণ নিষ্প্রয়োজন। ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্বের ফলে ভবিষ্যতে সংকটের যে ছায়া বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিরসনে বাংলাদেশ বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করি। সার্কভুক্ত অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গী করে বাংলাদেশ এগোতে পারে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমন করে ভবিষ্যতে যাতে আর এ রকম পরিস্থিতির উদ্ভব না হয়, এর নিরসনে উদ্যোগ নিতে। সার্ক গঠনের যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল এর যদি পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হতো, তাহলে বিদ্যমান অনেক সমস্যা-সংকট নিরসনের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া আরও সমৃদ্ধ হতে পারত। সার্ককে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কার্যকর করা যায়নি, যদিও অতীতে এ ব্যাপারে অনেক অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতিই শোনা গেছে। অটল বিহারি বাজপেয়ি ও নওয়াজ শরিফ কাশ্মীর সংকট নিরসনে যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তাতে আশার আলো দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ ব্যর্থতায়ই পর্যবসিত হয় অতীতে নেওয়া উদ্যোগের মতো।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান সংকট এবং সর্বশেষ যে পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, তাতে এ কথা ভাবার অবকাশ মিলছে না। অভিনন্দন বর্তমান ফিরেছেন, সেই সঙ্গে এখন শান্তিও ফিরে আসবে। দু'দেশের সরকারপ্রধানসহ নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে আরও দূরদর্শিতা এবং আন্তরিকতা প্রদর্শনে মনোযোগী হওয়ার প্রত্যাশা আমরা করি এবং তাদের সেভাবেই পদক্ষেপও নিতে হবে। আমরা তাদের যেসব বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য ইতিমধ্যে শুনেছি, তা কোনোভাবেই স্বস্তির নয়। পাকিস্তানে হামলা নরেন্দ্র মোদিকে রাজনৈতিক কী সুফল এনে দেবে, এটি একটি বড় প্রশ্ন হয়েই আছে। কিন্তু যদি উভয়পক্ষ শান্তির পথে না হাঁটে, তাহলে অর্থনীতিসহ সামগ্রিক ক্ষতির চিত্র যে অনেক স্ম্ফীত হবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঘরের রাজনীতিতে মোদি ব্যাকফুটে- এই চিত্রটা অস্পষ্ট নয়, এ কথা আগেই লিখেছি। উপমহাদেশের বৃহৎ সামরিক শক্তিধর রাষ্ট্র ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটলে তা বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াবে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সন্ত্রাসবাদ এখন একটি বড় ইস্যু। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রয়েছে কঠোর অবস্থানে। তাই নরেন্দ্র মোদি ও ইমরান খানকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্নেষণ করা এবং আমলে রাখা প্রয়োজন। এই ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনকেন্দ্রিক যে চিন্তার কথা উঠেছে, এর বিপরীতে বিরোধী দলগুলোর ভিন্ন সুরও শোনা যাচ্ছে। কাজেই রাজনৈতিক মেরুকরণের সমীকরণটা এখন এ ইস্যুতে এত সহজ নয়। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশের ভূমিকা রাখার প্রয়োজনীয়তাটা এই নিরিখেও গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, প্রতিবেশী রাষ্ট্র দুটির মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদি যে বিরোধ রয়েছে, এর সমাধানে পৌঁছতে হবে আলোচনার মধ্য দিয়েই। আমার এও দৃঢ় বিশ্বাস, উভয় দেশের (ভারত-পাকিস্তান) নেতৃবৃন্দ পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের পরিণাম সম্পর্কে নিশ্চয় ভালোভাবেই অবগত।

ইমরান খান কিন্তু সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আটক ভারতের উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দিয়ে এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে দিয়ে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি রাজনীতি নয়, এ ব্যাপারে তার ক্রিকেটীয় ভঙ্গিতেই যেন পদক্ষেপ নিলেন। পাকিস্তানের রাজনীতিতেও নানারকম সংকট রয়েছে। অভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় দেশটি জর্জরিত। এসব নানা কারণে চাপে আছেন ইমরান খানও। তার নির্বাচনী স্লোগান ছিল 'নয়া পাকিস্তান'। এই ধারণা তুলে ধরতে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তৎপর রয়েছেন। এখন যদি কেউ প্রশ্ন রাখেন যে, পাকিস্তান কি অভিনন্দন বর্তমানকে মুক্তি দিয়ে শান্তির সন্ধানে ব্রতী হয়েছে- তাহলে এ নিয়েও বিতর্ক চলতেই পারে। আমরা চাই, আমাদের এই অঞ্চল স্থিতিশীল থাকুক। এ জন্য আমাদের ভূমিকার প্রয়োজন আছে। বর্তমান বিশ্ব জমানার পরিস্থিতি আর তিন-চার দশক আগের পরিস্থিতি এক নয়। তাই সবারই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টিয়ে নতুন পথ সন্ধানে ব্রতী হতে হবে এবং এটাই মনে হয় সময়ের উপযুক্ত দাবি।

পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার পর উভয়পক্ষ প্রতিরক্ষামূলক যেসব ব্যবস্থা নেয়, তা এমন সংকটময় মুহূর্তে তারা তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থেই নিয়েছে- এটা উভয় দেশের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলেছে। কাশ্মীরের বড় অংশ ভারতে, ছোট অংশ পাকিস্তানে রয়েছে। পাকিস্তানের অংশ আজাদ কাশ্মীর নামে পরিচিত। সঙ্গত কারণেই এখন এও মনে রাখতে হবে, যুদ্ধকে মহিমান্বিত করার চেষ্টা যাতে প্রবল না হয়, এ জন্য উভয়পক্ষকে সংযত থেকে দূরদর্শিতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে। কোনো পক্ষেরই উচিত হবে না রাজনৈতিক সুবিধার জন্য এই ইস্যুকে ব্যবহারের চেষ্টা করা। অশান্তি-অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ূক- এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যুদ্ধ কিংবা সংঘাতের পথ উভয়পক্ষকেই পরিত্যাগ করতে হবে। এই পথ আত্মঘাতী। এই পথ বড় বেশি বিপন্ন করে ফেলবে। এই পথ ভবিষ্যতের জন্য হবে খুবই ভয়াবহ। উত্তেজনা প্রশমনে দু'দেশের মধ্যে সমঝোতার উদ্যোগ নিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিশেষ ভূমিকা নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোকেও আন্তরিক হতে হবে।

সম্প্রতি ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ যে পুলওয়ামায় হামলার ঘটনাটি, তা সচেতন মানুষমাত্রই জানা। তুষারাবৃত কাশ্মীর তারা নিয়ন্ত্রণ করছে ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। নতুন করে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কিছুদিন আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান ক্ষমতায় এসেছেন। আর ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকার তাদের শাসন মেয়াদের শেষলগ্নে অবস্থান করছেন। ঘুরেফিরে এ কথাটাই বারবার আসে যে, ভারতের আসন্ন নির্বাচনে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি যখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে, সে সময় পুলওয়ামার ঘটনার পর নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি উগ্র জাতীয়তাবাদের ধুয়া তোলার রাজনৈতিক কৌশল নেন। দুঃখজনক বাস্তবতা হচ্ছে, যুদ্ধের দামামা বাজানো এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী চিন্তাকে 'দেশপ্রেম' বলে হাজির করার কাজে তাদের খ্যাতিমান কেউ কেউ সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন। এর যেমন ছিল না কোনো প্রয়োজন, তেমনি তা কাঙ্ক্ষিতও নয়।

তবে সবচেয়ে আশার বিষয় হচ্ছে এই যে, ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধের যে শঙ্কা এখনও বিদ্যমান বলে অনেকেই মনে করেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয় সচেতন নাগরিকরা শান্তির পক্ষে ব্যাপকার্থেই সরব রয়েছেন। যদি তাদের এই কণ্ঠস্বর আরও উচ্চ হয় কিংবা তারা যদি শান্তির পক্ষে অবস্থানে আরও দৃঢ় হন এবং নানারকম কর্মসূচি দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে এই সত্য তুলে ধরতে পারেন যে, তাদের প্রত্যাশা তারা হোঁচট খেতে দেবেন না, তা হলে যুদ্ধোন্মাদনার অবসান ঘটাতে বড় বেশি সহায়ক হবে বলে মনে করি। আমরা সেই পরিস্থিতিটাই দেখতে চাই এবং এটাই হতে পারে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আশার জন্য দু'দেশের সরকারের ওপর বড় চাপ। কারগিলের ঘটনা খুব দূর অতীতের ইতিহাস নয়। যদিও এই সন্দেহ রয়েছে যে, উভয় দেশের মধ্যে খুব দ্রুতই আস্থার সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হবে না, তবুও আমাদের প্রত্যাশা প্রতিকূলতার দেয়াল ভেঙে শান্তির আলো ছড়িয়ে পড়ূক।

আমরা জানি, যুদ্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এর গতিপথ নির্ধারিত হয় যুদ্ধক্ষেত্রেই। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেই দেশের সামরিক বাহিনীর প্রভাবের বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন মহলের আলোচনায় ঘুরেফিরে আসে। অন্যদিকে ভারতে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোতে সামরিক বাহিনীর ওপর রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ণ থাকার কথা বলা হলেও উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড কিংবা তৎপরতা শঙ্কাকেই প্রকট করে তোলে। তবে শেষ কথা হলো, দূরদর্শী কূটনৈতিক পন্থায়ই ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব নিরসনের সমাধান সূত্র বের করতে হবে। শান্তি এখনও দূরঅস্ত- সৃষ্ট এই ধারণার অবসানও ঘটাতে হবে এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য যোগ করুণ