অবলোপনকৃত ঋণ কি খেলাপি ঋণ নয়?

অর্থনীতি

প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

অবলোপনকৃত ঋণ কি খেলাপি ঋণ নয়?

  ড. মইনুল ইসলাম

গত ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখে দৈনিক প্রথম আলোতে অবলোপনকৃত মন্দ ঋণের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের বরাতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বক্ষ্যমাণ কলামে সংবাদটির গভীরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করছি সাধারণ জনগণ মন্দ ঋণ অবলোপনের ব্যাপারটি ঠিকমতো বুঝতে পারবেন না বিধায় এর প্রকৃত মাজেজাটি ব্যাখ্যা করার উদ্দেশ্যে। সংবাদে জানা যাচ্ছে, ২০০২ সালে পাঁচ বছরের বেশি সময়ের অনাদায়ী মন্দ ঋণের 'রাইট-অফ' ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক মোট ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা 'রাইট-অফ' করা হয়েছে। সংবাদে এর পর যে খবরটি প্রকাশিত হয়েছে সেটা পাঠকদের ভুল সিগন্যাল দেবে। বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই 'রাইট-অফ' করা মন্দ ঋণের ১১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। নিউজ আইটেমে এর পর বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আদায় হওয়া মন্দ ঋণের ব্যাংকওয়ারি পরিমাণ দেওয়া হয়েছে। পুরো ব্যাপারটি যে ইচ্ছাকৃতভাবে জনগণকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যেই প্রকাশিত হয়েছে, সেটা বোঝানোর জন্যই কলামটি লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যে ১১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা 'রাইট-অফ' করা মন্দ ঋণ আদায় হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, ওগুলো 'সুদাসলে আদায়কৃত মন্দ ঋণ'। অতএব, ওই অঙ্কটিকে ৪৯ হাজার ৭৪৫ দিয়ে ভাগ করে যদি কেউ খুশি হয়ে যান যে, প্রায় ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ 'রাইট-অফ' করা মন্দ ঋণ আদায় করে ব্যাংকগুলো বেশ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে, তাহলে তারা মারাত্মক ভুল করবেন। আসলে, এই দুটি অঙ্ক মোটেও অনুপাত নির্ধারণের উপযোগী নয়। গত ১৬ বছর ধরে মোট ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে আটকে থাকা মন্দ ঋণ হিসেবে ক্রমাগতভাবে 'রাইট-অফ' করার পর ওই মন্দ ঋণের ওপর নিয়মিতভাবে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ধার্য হয়ে চলেছে। কিন্তু যখন 'রাইট-অফ' করা মন্দ ঋণের ক্রমবর্ধমান (পঁসঁষধঃরাব) পরিমাণ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রকাশ করা হয় তখন যে সুদ ধার্য হচ্ছে, তার পরিমাণ যোগ করে সুদাসলে ওই মন্দ ঋণের পরিমাণ কত দাঁড়িয়েছে তা বলা হয় না। অতএব, 'রাইট-অফ' করা মন্দ ঋণ ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা সর্বশেষ হিসাব প্রকাশের সময় সুদাসলে কত দাঁড়িয়েছে, তা বাংলাদেশ ব্যাংক জনগণকে জানাচ্ছে না। মামলায় জিতে যখন ব্যাংক মন্দ ঋণ আদায় করতে পারে, শুধু তখনই ঋণের প্রিন্সিপালের সঙ্গে সুদ যোগ করে সুদাসলে মন্দ ঋণটা আদায় করা হয় (সুদ মওকুফ না হলে)। ব্যাপারটা বুঝতে হলে নিচের ব্যাখ্যাটা প্রয়োজন।

সাধারণত 'নন-পারফর্মিং' ঋণের শ্রেণিকরণ তিন ধরনের হয় :'সাব-স্ট্যান্ডার্ড' (তিন মাসের বেশি অনাদায়ী), 'ডাউটফুল' (ছয় মাসের বেশি অনাদায়ী) এবং 'ব্যাড ডেট বা লস' (ক্ষেত্রবিশেষে নয় মাস অথবা এক বছরের বেশি সময়ের জন্য অনাদায়ী)। এর মধ্যে ডাউটফুল ও ব্যাড ডেটগুলোকে খেলাপি ঋণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ব্যাড ডেটকে বাংলায় 'মন্দ ঋণ' বলা হয়। ২০০২ সালে চালু হওয়া 'রাইট-অফ সিস্টেম'-এর নিয়মানুযায়ী যেসব মন্দ ঋণ পাঁচ বছরেও আদায় করা যায়নি, সেগুলোকে শর্তসাপেক্ষে 'রাইট-অফ' বা অবলোপন করা যায়। 'রাইট-অফ' করার মানে হলো, এই মন্দ ঋণগুলোকে ব্যাংকের মূল ব্যালেন্সশিট থেকে সরিয়ে আলাদা আরেকটি লেজারে হিসাব সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা। 'রাইট-অফ' করার মূল দুটি শর্ত হলো :১. ওই ঋণ সুদাসলে আদায়ের জন্য ব্যাংক মামলা দায়ের করবে; ২. যে পরিমাণ ঋণ 'রাইট-অফ' করা হয়, তার সমপরিমাণ অর্থ 'প্রভিশনিং' বা 'সঞ্চিতি' করতেই হবে। প্রভিশনিং মানে হলো, ওই পরিমাণ অর্থ ব্যাংক কর্তৃক অন্য কাউকে ঋণ দেওয়া যাবে না। অতএব, প্রভিশনিং করলে ব্যাংকের ঋণ দেওয়ার সামর্থ্য ওই পরিমাণ সংকুুচিত হয়ে যাবে। বিভিন্ন ব্যাংক মামলায় চূড়ান্তভাবে রায় পেয়ে গত ১৬ বছরে যে পরিমাণ 'রাইট-অফ' করা মন্দ ঋণ 'সুদাসলে' ফেরত পেয়েছে, তার পরিমাণ হলো ১১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। এই অঙ্কের মধ্যে 'রাইট-অফ' করা ৪৯ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকার ৫ শতাংশও অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ তো অনেক দূরের কথা। সে জন্যই আমরা বারবার বলে চলেছি, 'রাইট-অফ' করা বা অবলোপনকৃত মন্দ ঋণের ৯৫ শতাংশেরও বেশি এখনও অনাদায়ী রয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোর এই চরম ব্যর্থতা লুকানোর জন্যই কি বাংলাদেশ ব্যাংক ২৮ জানুয়ারির এই সংবাদটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এভাবে প্রকাশ করল? যে কোনো সমস্যা সমাধানের প্রথম আবশ্যকীয় পদক্ষপই হলো সমস্যাটির আসল রূপ অকপটে স্বীকার করা, বিভ্রান্তি ও প্রতারণামূলক সংবাদ পরিবেশন করলে সমস্যাকে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে ফেলার অভিযোগ তোলা যাবে।

মামলা করে ব্যাংকগুলো বছরের পর বছর খেলাপি ঋণ আদায় করতে অসমর্থ হচ্ছে বলেই সমস্যাটা ইতিমধ্যে সংকটে পরিণত হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ে বিদ্যমান বিচার প্রক্রিয়া বাংলাদেশে এতই অকার্যকর ও দীর্ঘসূত্রতার শিকার রয়ে গেছে যে, অনেক 'রাইট-অফ' করা মন্দ ঋণ গত ১৬ বছরেও আদায় করা যায়নি। শত শত কোটি টাকা মন্দ ঋণ অনাদায়ী রেখে বেশ কয়েকজন 'রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি' মারাও গেছেন, অন্যরা হয়তো বিদেশে ভেগে গেছেন। তবে তাদের অধিকাংশই উচ্চ আদালতের মামলাগুলো বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রেখে বহাল তবিয়তে দেশের ব্যবসা ও রাজনীতির ক্ষেত্রে দাবড়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের অনেকেই ব্যাংকের মালিক বনে গেছেন, পরিচালক হিসেবে বছরের পর বছর দোর্দণ্ড প্রতাপে ব্যাংকিং খাতকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমার জানামতে, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের পিতা-পরিবারের সদস্য এই 'রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি'দের কাতারে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এফবিসিসিআইর বেশ কয়েকজন সাবেক সভাপতিও এই 'রাঘববোয়াল ঋণখেলাপি' হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছিলেন। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, এ দেশের রাজনীতি 'ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি কালচার'কে সযতনে লালন করে চলেছে। অতএব, সংশোধনও শুরু করতে হবে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই। আর এ জন্য জরুরি প্রয়োজন হলো, তিন বছরের জন্য একটি খেলাপি ঋণ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করে প্রত্যেক ব্যাংকের শীর্ষ ১০ জন ঋণখেলাপিকে চূড়ান্ত বিচারে দ্রুত শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ব্যবস্থা হয় রদ করতে হবে, নয়তো আপিলের ক্ষেত্রে রায়ে উল্লিখিত ঋণের অর্থের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ ব্যাংককে ফেরত দিলে আপিলের সুযোগ দেওয়া যাবে মর্মে শর্ত আরোপ করতে হবে। অর্থঋণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল দায়ের করে বিচার প্রক্রিয়াকে বছরের পর বছর ঘুম পাড়িয়ে রাখা যাচ্ছে বলেই খেলাপি ঋণ সমস্যার কোনো সুরাহা হচ্ছে না- এটা আমি চ্যালেঞ্জ দিয়েই বলতে চাই। আরেকটি বিচারিক পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, আদালতের চূড়ান্ত রায় পাওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে সহ-জামানত দখলে নেওয়ার জন্য আবারও যে মামলা করার আইন রয়েছে, সেটাও সংস্কারের উদ্দেশ্যে নতুন আইন প্রয়োজন। এ ব্যাপারে মালয়েশিয়া আমাদের পথ দেখাতে পারে; ওখানে পুনর্বার মামলার প্রয়োজন হয় না। আরেকটি বড় ধরনের পদক্ষেপ আবশ্যক। সেটা হলো, অবিলম্বে 'ডেট রিকভারি এজেন্সি' বা 'অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি' প্রতিষ্ঠার আইন পাস করা। এই এজেন্সি বা কোম্পানিগুলোকে পূর্ণ পুলিশ প্রটেকশন দিয়ে সহ-জামানত উদ্ধারে নিয়োজিত করতে হবে এবং সফল উদ্ধারের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা যায়।

২০০২ সালে যখন রাইট-অফ করার রীতি প্রবর্তিত হয়েছিল, তখন থেকে বেশ কিছু বছর ধরে ব্যাংকগুলো 'প্রভিশনিং শর্টফল' সমস্যায় ভুগেছিল। মানে রাইট-অফ করা ঋণের শতভাগ প্রভিশনিং করলে ওইসব ব্যাংকের ঋণ প্রদানের ক্ষমতা মারাত্মক সংকুুচিত হয়ে যাচ্ছিল। তাই যত মন্দ ঋণ রাইট-অফ করা প্রয়োজন ছিল, ততটুকু ওইসব ব্যাংক করতে পারেনি। এর মূল কারণ ছিল :ক্লাসিফায়েড লোনের (শ্রেণিকরণকৃত ঋণ) ৮৫-৮৭ শতাংশই ওই সময়ে ছিল মন্দ ঋণ এবং ওই মন্দ ঋণের ৮০ শতাংশই ছিল পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে খেলাপি মন্দ ঋণ। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ মন্দ ঋণ ছিল সত্তর ও আশির দশকে জিয়াউর রহমান এবং এরশাদের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রদত্ত ঋণ। ১৯৯৮ সালে আমি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক হিসাবে ডেপুটেশনে যোগদানের পর এ বিষয়ে একটি গবেষণা প্রকল্প শুরু করার পর সমস্যার গভীরে যাওয়ার সুযোগ পাই। আমাদের গবেষণা প্রকল্পের জরিপের ফলাফল ১৯৯৯ সালে একটি জাতীয় সেমিনারে উপস্থাপনের পর রিপোর্টে উল্লিখিত কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেমিনারের পরদিনের (২০ মে ১৯৯৯) সব দৈনিক পত্রিকার হেডলাইন ছিল ওই গবেষণার উদ্ঘাটিত ফলাফল। ১৯ মের বিবিসি সান্ধ্য খবরের হেডলাইনে যখন ৭৭ শতাংশ ঋণখেলাপি রাজনীতিকে ব্যবহার করে ঋণ পাওয়ার খবরটা ফাঁস হয়ে যায়, তখন এটা নিয়ে খোদ সংসদে জোরালো বিতর্কের অবতারণা করেছিলেন তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলে আমাদের গবেষণা ভণ্ডুল করার জন্য তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। বেশ কিছুদিন গবেষণা বন্ধ রাখার পর গবেষণা-পদ্ধতি পরিবর্তন করে বহু বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে গবেষণাটি সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়েছি আমরা। কীভাবে এ দেশে রাজনীতিকে ব্যবহার করে এই রাঘববোয়াল ঋণখেলাপিরা মোটা দাগের ঋণ বাগিয়ে তা আর পরিশোধ না করার 'কালচার' সৃষ্টি করেছে, তার প্রামাণ্য দলিল হিসেবে আমার ও মহিউদ্দিন সিদ্দিকীর রচিত ২০১০ সালে প্রকাশিত 'এ প্রোফাইল অব ব্যাংক লোন ডিফল্ট ইন দ্য প্রাইভেট সেক্টর ইন বাংলাদেশ' দেশে-বিদেশে বহুল আলোচিত একটি বই। বইয়ে বাংলাদেশের ১২৫টি শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল উদ্ঘাটিত হয়েছে। বইয়ের সপ্তম অধ্যায়ে দেশের ৩১ জন 'স্টার ঋণখেলাপি'র কেস স্টাডি বর্ণিত হয়েছে, যেখানে দেশের বাঘা বাঘা ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও শিল্পপতিদের বিশাল বিশাল ব্যাংক ঋণ হজম করে ফেলার চাঞ্চল্যকর কাহিনী বিবৃত হয়েছে। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের অনেক নেতা এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা-ধন্য অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীর আসল চেহারাটা উন্মোচিত হয়েছে এসব কেস স্টাডিতে। এই কাহিনীগুলোকে দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আনিসুর রহমান 'হেয়ার রেইজিং স্টোরিজ' বলে অভিহিত করেছেন বইটির মুখবন্ধে।

তিন বছর বিআইবিএমের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনের কারণে এবং বিশেষত খেলাপি ঋণ নিয়ে গবেষণাটি করার কারণে এ বিষয়ে প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কে আমার গভীর জ্ঞানলাভের সুযোগ হয়েছে। ১৯৯৮ সালে বিআইবিএম আয়োজিত প্রথম নুরুল মতিন স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেছিলেন তদানীন্তন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ। তার বক্তৃতায় তিনি প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ১০ ঋণখেলাপিকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য ঋণখেলাপি ট্রাইব্যুনাল গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাতে কর্ণপাত করেনি। ১৯৯৯ সালে আবার একই প্রস্তাব করেছিলেন দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রয়াত বিচারপতি হাবিবুর রহমান। তাতেও সরকার সাড়া দেয়নি। বরং একটি সেমিনারে আমার এ সংক্রান্ত বক্তব্যের জবাবে তদানীন্তন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ কিবরিয়া আমাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, অদূর ভবিষ্যতে দেশে দেউলিয়া আদালত প্রতিষ্ঠা করা হলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু এর পর দেউলিয়া আদালত আইন পাস হলো। প্রথম দেউলিয়া ঘোষিত হলেন এরশাদ সরকারের এককালীন প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী। তিনি তড়িঘড়ি করে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে আবার আওয়ামী লীগে ফিরে আসার ঘোষণা দেওয়াতে ওই সম্পর্কে তার মৃত্যুর আগে আর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। আরও দুর্ভাগ্য, খালেদা জিয়া ২০০১ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর দেউলিয়া আদালতে আর কোনো মামলার রায়ও ঘোষিত হয়নি। ১৮ বছর ধরে ওই আদালত ঘুমিয়ে আছে!

আমার জানামতে, ২০১৯ সালেই শেখ হাসিনার সরকার নিষ্ঠার সঙ্গে খেলাপি ঋণ আদায়ের পদক্ষেপ নিতে চলেছে। অতএব, এ পর্যায়ে ২৮ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের উল্লিখিত বিভ্রান্তিকর সংবাদটি সরকারকে ভুল পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে প্রকাশিত হলো কি-না, তা জানা প্রয়োজন।

একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ