শিমুল স্মরণে

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

শিমুল স্মরণে

আব্দুল হাকিম শিমুল

   এম আতিকুল ইসলাম বুলবুল

সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি প্রয়াত আব্দুল হাকিম শিমুলের আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। শিমুলের অকালমৃত্যুর পর তার দুই সন্তান মেয়ে তামান্না, ছেলে সাদিক ও স্ত্রী নুরুন্নাহারকে সমকালের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক গোলাম সারওয়ার ভাই নিজ পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখাশোনা করতেন। তার মৃত্যুতে শিমুলের পরিবার আবারও অভিভাবকশূন্য হয়ে পড়েছে। আমি ঠিক পাথরের মূর্তির মতো চেয়ে চেয়ে দেখেছি সহকর্মী শিমুলের ক্ষত-বিক্ষত লাশ, আর পাশেই স্বজনদের আহাজারি। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শোকসভায় সারওয়ার ভাই বলেছিলেন, শিমুল হত্যার বিচারের জন্য যা যা করা দরকার, সমকাল পরিবার সবই করবে। ২০১৮ সালে শিমুলের মৃত্যুবার্ষিকীতে শাহজাদপুরে স্মরণসভায় এসেছিলেন সমকালের অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক শ্রদ্ধেয় তপন দাশ। সবাই আশা করেছিল, শিমুল হত্যার বিচার শেষ হবে। কিন্তু না। আরও একটি বছর অর্থাৎ শিমুলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতেও শিমুল হত্যার বিচার হয়নি। অথচ ওই মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নুরুন্নাহার ভাবি জানান, মামলাটি মীমাংসা করতে চাপ দিতে মামলার প্রধান আসামি মিরুর ভাই মিন্টু ভাবির বাবার বাড়ি পাবনার আটঘরিয়াতে গিয়েছিল। এর ফলে তিনি ছেলেমেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, দ্রুত বিচার আইনে স্বল্প সময়ে কত মামলার বিচার হচ্ছে! কিন্তু স্বামী হত্যার বিচার দুই বছরেও পাইনি! এটা ঠিক, আমরা যারা মফস্বলে সাংবাদিকতার মতো ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় আছি, তারা নানা সীমাবদ্ধতায় কাজ করে থাকি। শিমুল তেমনই একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিক, যিনি কর্তব্য কাজকে অবহেলা না করে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সেখানে শিমুল যে ক্যামেরাটি ব্যবহার করেছেন, সেটি ছিল সাধারণ ক্যামেরা। এ কারণে তাকে ঘাতকের কাছাকাছি যেতে হয়েছিল ছবি তুলতে। ছবিও তুলেছেন, সেই সঙ্গে শিমুলের হত্যাকারী শাহজাদপুর পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর টার্গেটে পরিণত হন শিমুল। মিরুর গুলি করার দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করার সঙ্গে সঙ্গে তার ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আজ দুই বছর হলো, শিমুল চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তিনি আর কোনোদিনই ফিরবেন না।

মনে পড়ে, সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল প্রায়ই আমার কাছে হেসে হেসে বলতেন, আপনি তো অধ্যাপনা করেন। সচ্ছল আপনার পরিবার। কিন্তু আমার কী আছে? এ পৃথিবীতে আমার যে সম্পদ রয়েছে, তা ৫ সেকেন্ডেই আমি বলে দিতে পারি। আমি জানার জন্য প্রশ্ন করলে ৪ সেকেন্ডেই বলে দিতেন, সম্পদ বলতে আমার ছেলে সাদিক, মেয়ে তামান্না ও স্ত্রী নুরুন্নাহার- বলে আবারও হাসতেন। আজকে শিমুলের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। আর শিমুলের আদরের কন্যা তামান্নার মতো আমরাও চাই দ্রুততম সময়ে শিমুল হত্যার বিচার।

সমকালের তাড়াশ প্রতিনিধি


মন্তব্য