চিঠিপত্র

প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমান

মনুষ্য জীবনকে যান্ত্রিকতার দিকে ধাবিত করার জন্য মানুষ নিজেই দায়ী। আমরা সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া সবই যান্ত্রিকতার সাহচর্যে করে থাকি। অথচ পরিবার যে যান্ত্রিকতার বাইরে তা ভুলে যাই। আমাদের বাচ্চারা যখন অস্বাভাবিক আচরণ করে, আমরা তখন নিজেদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। ফলে বাচ্চারা নিজেদের মধ্যে হীনমন্যতায় ভোগে আর সৃজনশীলতার পরিবর্তে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হয়। যন্ত্রবিহীন পারিবারিক পরিবেশ, খেলাধুলার জন্য সুপরিসর মাঠ কোনোটাই বাচ্চারা পাচ্ছে না। উপরন্তু ডে কেয়ার আর বোর্ডিং স্কুলে বাচ্চাদের দিয়ে আমরা তাদের বাবা-মার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখছি। এ জন্য শুধু পরিবারের সদস্যরা যে দায়ী, তা নয়। সামাজিক অবক্ষয়, যন্ত্রের প্রতি অতিনির্ভরশীলতা আর আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট অনেকাংশে দায়ী। কোনো বাচ্চা অস্বাভাবিক আচরণ করলে বাচ্চাকে নয় বরং তার অভিভাবককে চিকিৎসকের কাছে পাঠানো উচিত এ জন্য যে, কেন তাদের বাচ্চা আজ অস্বাভাবিক! সুশিক্ষিত আর স্বশিক্ষিতের মধ্যে যেমন পার্থক্য আছে, তেমনি কাউকে সচেতন করে দেওয়া আর নিজে সচেতন হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য। তাই নিজে সচেতন হয়ে প্রয়োজনের বাইরে যন্ত্রের প্রতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে পারিবারিক, সামাজিক সম্পর্ক বন্ধন শক্তিশালী করাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।


মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, এক্সিকিউটিভ অফিসার, এনসিসি ব্যাংক

বেপরোয়া মোটরসাইকেল

ট্রাফিক জ্যাম ঢাকা শহরে নতুন ঘটনা নয়। ফলে অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর প্রতিকারস্বরূপ সরকার অনেকভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ট্রাফিক জ্যামকে পুঁজি করে কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মোটরসাইকেল ভাড়ায় রাইড করায়। এতে কিছু মানুষের সাময়িক সুবিধা হলেও বেশিরভাগ মানুষের ঝুঁকির কারণ এই মোটরসাইকেল। স্বল্প জায়গায় বেশি ভাড়া নিয়ে তারা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয়। ফলে কোনো রকম ট্রাফিক আইনের তারা পরোয়া করে না। একটু ফাঁক পেলেই ট্রাফিক পুলিশকে উপেক্ষা করে দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করে। এমনকি ফুটপাতও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায় পথচারীদের জন্য। বাস থেকে কোনো যাত্রী নামলে ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি হয়। এভাবে প্রায়ই অনেক দুর্ঘটনা দৃশ্যমান। যার দায় পড়ে সরকারের ওপর। তাই এসব মোটরসাইকেল তথা সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর নজরদারি বাড়ানো হোক, ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য করা হোক। এতে পথচারী পথ চলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে। কারণ সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি।

রিমন মণ্ডল, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ


মন্তব্য