সোনাহাটে ইমিগ্রেশন

অন্যদৃষ্টি

প্রকাশ : ০৬ জানুয়ারি ২০১৯

   আব্দুল হাই রঞ্জু

ব্রিটিশ শাসনামলে সোনাহাট ছিল আসামের প্রবেশদ্বার। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির পর রেলপথের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কুড়িগ্রাম অঞ্চলের মানুষকে ১০ মিনিটের পথ প্রায় ৪০০ কিলোমিটার ঘুরে যাওয়া-আসা করতে হয়। এ বিড়ম্বনা থেকে রেহাই পেতে কুড়িগ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল সোনাহাটে একটি স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন সার্ভিস চালুর। মহাজোট সরকার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। সূত্রমতে, ২০১৮ সালের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের নতুন রাষ্ট্রদূত চোপ লাল ভুসাল সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়। সে সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে তাৎক্ষণিক কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের কাছে সোনাহাট স্থলবন্দরের বাস্তব অবস্থা জানতে চাওয়া হয়। সে সময় কুড়িগ্রামের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন সার্ভিস চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা কুড়িগ্রাম খুশির জোয়ারে ভাসতে থাকে। বাস্তবে দেশের উত্তর জনপদের জেলা কুড়িগ্রাম শিল্প-বাণিজ্যে অনেকটাই পশ্চাৎপদ। এক সময় কুড়িগ্রামকে বলা হতো মঙ্গার জেলা। যদিও এখন আর সে অবস্থা নেই। তবে বছরজুড়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে মানুষের টেকসই অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অনেকাংশে নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। এ ক্ষেত্রে সোনাহাট স্থলবন্দর অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে এই স্থলবন্দরে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি ও রফতানি হয়, সেখানে প্রায় প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে। যদিও ভারতের গোলকগঞ্জ এবং বাংলাদেশের সোনাহাট স্থলবন্দরের মাধ্যমে পাথর, কয়লা, তাজা ফলমূল, গম, চাল, ভুট্টা, আদা, পিঁয়াজ, ডাল ও রসুন আমদানির সুযোগ রয়েছে। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ থেকে নিষিদ্ধ পণ্য ব্যতিরেকে সব পণ্য রফতানির অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ভারত থেকে বর্তমানে কয়লা, পাথর আমদানি হচ্ছে। আর রফতানি হচ্ছে মেলামাইন ও সিমেন্ট। স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর নীতিগত সিদ্ধান্তও ভারতের অনাগ্রহের কারণে এখনও চালু হয়নি। বর্তমানে সোনাহাট স্থলবন্দরে প্রায় ২৫০টি আমদানি ও রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ভারতের আমদানি ও রফতানিকারকদের সঙ্গে আমদানিকৃত মালের গুণ, দরদাম ও অন্যান্য আলোচনার জন্য ব্যবসায়ীদের প্রায় সময় লালমনিরহাটের বুড়িমারী সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার বেশি পথ অতিক্রম করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অথচ সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ইমিগ্রেশন চালু হলে বাংলাদেশি আমদানি রফতানিকারকদের সময়, শ্রম ও খরচ কমে আসবে। এ প্রসঙ্গে সোনাহাট স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সভাপতি মো. রেদোয়ানুল হক দুলাল জানান, ইমিগ্রেশন চালু হলে সোনাহাট স্থলবন্দরে আরও বেশি সংখ্যক শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। সোনাহাট স্থলবন্দরটি নতুন করে চালু হওয়ায় আগের যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে পরিবহন সমস্যা। এ অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে কুড়িগ্রাম (দাসেরহাট) নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট স্থলবন্দর সড়ককে জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটির বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৪৫ কোটি টাকা। এটি হলে কুড়িগ্রাম-সোনাহাট স্থলবন্দরের সঙ্গে টেকসই, নিরাপদ ও ব্যয়সাশ্রয়ী সড়ক অবকাঠামো এবং সমন্বিত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্নিষ্টদের আশা। আমরা আশাবাদী, সোনাহাট স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু হলে এবং নতুন সেতু ও প্রস্তাবিত জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত হলে গোটা জেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত হবে।


মন্তব্য

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ