'সংলাপ ও ধাক্কা'

অন্যদৃষ্টি

প্রকাশ : ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

   আহমদ হোসেন

বিএনপি ফের সংলাপে বসার জন্য শেখ হাসিনার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে। এ নির্বাচন বাতিল করতে হবে। নতুন নির্বাচন দিতে হবে। সে জন্য চাই সব রাজনৈতিক দল নিয়ে সংলাপ অনুষ্ঠান। বিএনপি ও তাদের জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনের পর নির্বাচন কমিশনের কাছে যে স্মারকলিপি দিয়েছে, তাতেও রয়েছে নির্বাচন বাতিলের দাবি। সরকার কিংবা নির্বাচন কমিশন এ দাবি মেনে নিতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি।

বিএনপি ও তার মিত্ররা গত কয়েক বছর সরকারের প্রতি সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। এতে সাড়া মেলেনি। কিন্তু গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন হতে না হতেই সংলাপ অনুষ্ঠানের জন্য চিঠি যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। অনেকের ধারণা ছিল যে, 'পত্রপাঠ বিদায়' হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিক রাজি হয়ে যান। একদিন যেতে না যেতেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জোটের শীর্ষনেতারা হাজির গণভবনে। বিএনপি নেতাদের সেটাই ছিল প্রথম গণভবন দর্শন। এক সপ্তাহে অনেক দল ও জোটের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক হয় দু'দফা। জোটের নেতারা পরে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' কায়েমের জন্য যেসব আশ্বাস দিয়েছিলেন, তা পূরণ হয়নি। তবুও আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচনে তাদের ফল ছিল বিপর্যয়কর। অতএব, ফের নির্বাচনের দাবি। এ জন্য চাই সংলাপ।

কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার কেন পরাজিতদের সঙ্গে সংলাপে রাজি হবে? নির্বাচনে পরাজিত পক্ষকে সংলাপে আমন্ত্রণের নজির যে নেই, সেটা বলা যাবে না। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি নির্বাচন বর্জনের ডাক দেন। প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে। সে সময় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নূ্যনতম ভোটারের উপস্থিতিতে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান করেন। কিন্তু আন্দোলনের চাপে মাস দেড়েকের মধ্যেই ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে বাধ্য হন। ওই বছরের ১২ জুন নতুন নির্বাচনের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে কি বিএনপির পক্ষে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা সম্ভব? রাজনীতির সঙ্গে সামান্য সংশ্রব রয়েছে, এমন যে কেউ বলবেন যে, এটা অসম্ভব। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার বলেছেন, অচিরেই সরকার বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা খাবে। কোন তথ্যের ভিত্তিতে এটা বলেছেন, তার ব্যাখ্যা নেই। তবে তার এ বক্তব্যে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন একজন- কে ধাক্কা দেবে? রোজার ঈদ না কোরবানির ঈদের পরে? বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অতীতে অনেকবার বলেছেন, 'ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন।' কিন্তু বাস্তবে কিছুই ঘটেনি। এটাই স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে ফেসবুকে। বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে আকস্মিকভাবে রাজপথ উত্তপ্ত হতে আমরা দেখেছি। দেখা যাক, তেমনটি এবার ঘটে কিনা। রুহুল কবির রিজভী অবশ্য বলেননি, কারা সরকারকে ধাক্কা দেবে এবার। গত বছর নিরাপদ সড়কের দাবিতে বড় ধরনের আন্দোলন হয়েছিল। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতেও বড় আন্দোলন হয়। দুটি আন্দোলনের পর সরকার কিছু দাবি মেনেও নেয়। ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতেও বড় আন্দোলন হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় সংসদে একটি আইনের সংশোধন করা হয়। দেখা যাক, এবার এমন কোনো আন্দোলন ঘটে কিনা; যার ফলে সরকার নতুন নির্বাচন দিয়ে নিজের সরে যাওয়ার পথ  খুলে দেবে।


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ