সদ্ভাব-অসদ্ভাবের টুকরো স্মৃতি

ফিরে দেখা

প্রকাশ : ১১ জানুয়ারি ২০১৯

সদ্ভাব-অসদ্ভাবের টুকরো স্মৃতি

  সন্‌জীদা খাতুন

আমার জন্ম হয়েছিল আমাদের সেগুনবাগানের বাড়িতে। সেই পাড়ার উত্তর-পশ্চিম দিকে ছিল ডাক্তার টিপি বোসদের বাড়ি। মুড়ির টিনের মতন একখানা ছোট্ট মোটরগাড়ি চালিয়ে তিনি ঘুরে বেড়াতেন। সে আমলে মেয়েদের স্কুলে স্বাস্থ্য বিষয়ে ক্লাস নিতেন তিনি। ওদের বাড়ির ধারে-পাশেই রসিক বাবু নামে একজন থাকতেন। মায়ের মুখে শুনেছি, মৃত্যুর পরে নিজ গৃহপ্রাঙ্গণেই (সম্ভবত) তাঁর দাহ হয়েছিল। তার শিখা নাকি আমাদের বাড়ি থেকে দেখা গিয়েছিল। বেশ কাছেই ছিল তো বাড়িটা।

আমাদের বাড়ির দক্ষিণ দিকে টিনের চালের একটা আধপাকা বাড়ি ছিল। আমরা বলতাম মতি বাবুর বাড়ি, আর আম্মুরা বলতেন, মতি দারোগার বাড়ি। আমার দু'বছরের বড় বোন রীনা খানিকটা পাড়াবেড়ানি টাইপের ছিল। সে আমাদের কাছে মতি বাবুর স্ত্রীর মৃত্যুদৃশ্য বর্ণনা করত অভিনয় সহকারে। কোন ফাঁকে যে দেখে এসেছে! স্ত্রীর মাথাটা যখন একদিকে কাত হয়ে গেল, তখন মতি বাবু নাকি দু'হাতের তালু ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলে উঠেছিলেন- 'গ্যালা! তুমি গ্যালা!!' হাত নেড়ে ঐ সংলাপ বারবার অভিনয় করতে ওর উৎসাহের কমতি ছিল না।

১৯৩২ সালে আমাদের বাড়ি তৈরি হবার আগে থেকে আর একখানা মুসলমান বাড়ি ছিল ওই পাড়ায়। আবদুল্লাহ সাহেবের দোতলা বাড়ি। আমাদের বাড়ি থেকে উত্তর-পশ্চিমেই ছিল সেটি। রসিক বাবু আর টিপি বোসদের বাড়ির পশ্চিমের সারিতে। ১৯৩৩ সালে আমার জন্মের পর বহুদিন পর্যন্ত হিন্দু-মুসলমান নিয়ে মন-মলিন হয়নি আমার। তবে হুটহাট করে অন্য বাড়িতে যাবার ব্যাপারে কড়া নিষেধ ছিল আমাদের, সে হিন্দু বাড়ি হোক, বা মুসলমান। অবশ্য দুই সম্প্রদায়ের পার্থক্য বুঝে চলবার মতন সাবধানতা জন্মেছিল মনের মধ্যে। বোধটা পরিবার থেকেই এসেছিল নিশ্চয়ই।

স্কুলে ভর্তি হবার পর একটু বড় হতেই সরস্বতী পূজার আয়োজন আর উৎসাহ দেখেছি। কিন্তু তাতে যুক্ত হইনি সচেতনভাবেই। বাড়ি থেকে বলে দেওয়া হয়েছিল, খবরদার পূজার প্রসাদ খাবে না কিন্তু। এ থেকেই বাস্তবিক ভেদের বোধটা হয়েছিল। অন্য পক্ষের ছোঁয়াছুঁয়ির বিচার থেকেও ব্যাপারটা বোঝা হয়ে গিয়েছিল।

মনে পড়ছে, একবার বছর শেষে স্কুলের পিকনিকে গেছি। শিক্ষকরা রান্নাবান্না করছেন। আমাকে দূরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কাছে ডাকলেন। এগিয়ে গেলে বললেন, 'এসো, বেগুন ভাজা করো।' তটস্থ হয়ে গিয়ে খুন্তি হাতে নিলাম। ময়মনসিংহের বেগুনের বড় একটা টুকরো উলটে দিলাম কোনোমতে। আমার আড়ষ্টতা দেখে দিদিরা হেসে অস্থির- 'দ্যাখো দ্যাখো, কেমন হাঁটু সোজা করে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে!' হাসি দেখে মনটা হালকা হয়ে গেল, মুসলমান বেগুন ভাজলে দোষ হয়ে যায় না তাহলে!

সেগুনবাগান পাড়ার কথা আর একটু বলি। এই পাড়ারই আর একটা অংশ ছিল প্রেস ক্লাব থেকে উত্তর দিকে ঢুকে এলে। সে দিকটাতে অনেক হিন্দু পরিবারের বসতি ছিল। বড়দিরা অনেককেই চিনতেন। জে. কে. চৌধুরীদের বাড়িতে ব্যাডমিন্টন খেলতে যেতেন বড়দি। অপূর্ব সুন্দর ফ্রেস্‌কো করা ছিল দেয়ালে। '৫৪-৫৫ সালে শান্তিনিকেতনে পড়তে গিয়ে জেনেছিলাম- বিএ ক্লাসের চিত্রলেখার (রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী) মা চিত্রনিভাদি ঢাকার আত্মীয় বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ওই ফ্রেস্‌কোগুলো করেছিলেন। চুয়ান্ন সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু যখন শান্তিনিকেতনে আমাদের বিদেশি ছাত্রদের সঙ্গে আলাপচারির বৈঠকে বসেছিলেন, তখন সেখানে চিত্রনিভাদিকে দেখেছিলাম। উনি এক ধেয়ানে নেহরুর মুখের স্কেচ আঁকছিলেন। তাঁর সেই নিখুঁত করে আঁকা দেখেছিলাম চোখ বড় করে।

সেগুনবাগানের ঐ দিকটায় 'গোলাপ' নামে এক স্কুলপড়ূয়া নাচিয়ে থাকতেন। মেজদিদের সঙ্গে পড়তেন বোধ করি। মেজদির কাছে শুনেছি, নজরুলের 'চম্‌কে চম্‌কে ধীর ভীরু পায়/পল্লী-বালিকা বনপথে যায় একেলা বনপথে যায়।' আর রবীন্দ্রনাথের 'নূপুর বেজে যায় রিনিরিনি/রিনিরিনি রিনিরিনি' গানের সঙ্গে নাচতেন। দোলের সময়ে ওই এলাকা থেকে মেয়েরা আসতো রঙের বালতি নিয়ে। বড়দিরা তড়িঘড়ি ছেঁড়া-ফাটা শাড়ি পরে নিতেন, পাছে রঙ লেগে ভালো কাপড় নাশ হয়! কাপড় পালটে বড়দি-মেজদি ঢুকে যেতেন তক্তপোশের তলায়। তাতে কি রেহাই ছিল? পিচকারিতে গোলা-রঙ ভরে ভূত সাজিয়ে দিত ওরা বড়দিদের। দুঃখ এই, আমরা লুকিয়ে যাই কি সামনে থাকি, পাত্তাই দিত না আমাদের ঐ দিদিরা।

এরপরে বড়দিদের রঙ দিতে যাবার পালা। অভিভাবকরা ওসব পছন্দ করতেন না মোটেই। তবু বড়দির আহদ্মাদ বলে কথা! আমরাও মনে মনে চাইতাম, অনুমতি হোক। বড়দি ঠিকই অনুমতি আদায় করে নিতেন। সন্তান কিনা! তার মন জোগাবার জন্যে তটস্থ থাকত পুরো পরিবার। রঙ গুলিয়ে তাতে তোক্‌মা মেশাতেন বড়দিরা। তাতে রঙ নাকি কাপড়ে কামড়ে লেগে থাকে, ধুয়ে পরিস্কার করা যায় না সহজে। আক্রান্ত দিদিরা নাকি কাউমাউ করতেন, 'এ্যারাম! রঙের মধ্যে তোক্‌মা দিসে! গেল শাড়ি!!'

এর মধ্যে হিন্দু-মুসলমান ছিল না, ছিল নিছক আমোদের পাল্লাপাল্লি। আমরা দর্শকরাই উল্লাসে ফুটতে থাকতাম। বড়দিরা জিতে যেত তো! আমাদের গেটের বাইরে পশ্চিম দিকে বাড়ি বানাবার মিস্তিরিরা একটা চৌবাচ্চা করে তাতে ইট ভিজাতো। কেদারেশ্বর ব্যানার্জি বলে এক ভদ্রলোকের বাড়ি হচ্ছিল কিনা পশ্চিম দিকটাতে। সেই চৌবাচ্চাতে কিলবিল করা ব্যাঙাচিগুলোকে মাছ ভেবে ধরতে গিয়ে ধুড়ূম করে পড়ে গিয়েছিলাম- আমি না, রীনা ওই চৌবাচ্চাতে। আর ভালো লাগার স্মৃতি আছে, ওই দোতলা বাড়িতে গৃহপ্রবেশের নেমন্তন্ন খেয়েছিলাম। দোতলার উত্তর দিকের বারান্দাতে পাত পেড়ে খেয়েছিলাম আমরা মাছ দিয়ে। হিন্দু-মুসলমান ছোঁয়াছুঁয়ির কোনো বাধা বুঝিনি কিন্তু। ওই বাড়িটাতেই অনেক পরে টি-বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান থাকতেন।

হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার কিছু কিছু দেখেছি বা জেনেছি ঢাকা ইউনিভার্সিটির গেট-হাউসে থাকবার সময়ে। একবার এক হিন্দু ছাত্র সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের দিকটায় এক মুসলিম ছাত্রকে স্ট্যাব করে আমাদের উত্তর দিকের গেট-হাউস বাসার কাছে বাসস্ট্যান্ড থেকে 'পথের দাবী' নামের বাসে করে পালিয়েছিল। ধরা পড়েছিল পরে। বাসস্ট্যান্ডটার পিছনের বড় বাড়িটাতে দর্শনের প্রফেসর হরিদাস ভট্টাচার্য থাকতেন তখন। দোতলার জানলা থেকে চোখ বার করে ওই বাসস্ট্যান্ডের দিকে তাকিয়ে থাকতাম আমরা ছোটরা। ভয় ভয় লাগত, রক্তমাখা ছোরা হাতে ওই ছেলেটাকে যদি দেখে ফেলি আবার! সে হিন্দু, না মুসলমান তার চেয়ে বেশি মনে হতো- ওটা খুনি।

ঐ গেট-হাউসে থাকতেই মনে হয়, একবার মায়েদের আলোচনা শুনেছিলাম, রায়ট বেধেছে শুনে ইউনিভার্সিটির এক নামকরা প্রফেসর মুসলমানদের মারবেন বলে লাঠি হাতে বেরিয়েছিলেন। ছি ছি করছিলেন মায়েরা।

আর একবারের কথা মনে পড়ে, তখন আমরা দক্ষিণের গেট-হাউসে থাকি। রায়ট হচ্ছে। চানখাঁরপুলের রেললাইনের উত্তর দিকের অংশটাকে বলে সুরুজ্জামালের বা সুরউজ্জামালের ঢাল। আমাদের বাসার দক্ষিণ দিকের সিঁড়ির সঙ্গের জানলা দিয়ে ঐ দিকটা দেখা যায়। একদিন বেলা তিনটে নাগাদ দেখি, আব্বু ব্যস্ত হয়ে সেই সিঁড়ি দিয়ে নামতে চাইছেন আর আম্মু দু'হাত ছড়িয়ে তাকে আটকাচ্ছেন- 'না, আপনি যাবেন না।' রাস্তার উপর এক হিন্দুর পেটে ছুরি মেরে নাড়িভুঁড়ি বার করে ফেরা হয়েছে। 'মাগো বাবাগো' বলে মাটিতে পড়ে গিয়েও পেট চেপে ধরে আবার উঠে সে হাঁটতে চেষ্টা করছে। জানলা দিয়ে দেখতে পেয়ে আব্বু তার কাছে ছুটে যেতে চাইছেন আর আম্মু তাকে আটকাচ্ছেন। আব্বু কিছুতেই শুনবেন না। হঠাৎ আম্মুর কাতর কাঁদো কাঁদো মুখের দিকে তাকিয়ে আব্বু শান্ত হয়ে গেলেন। সেদিনও আহত মানুষটি হিন্দু বলে আব্বু বা ছোট্ট আমি খুশি হতে পারিনি। মানুষের জন্যেই বেদনার্ত হয়েছিলাম। আমাদের আমলে শিক্ষিত ভদ্রবাড়ির শিক্ষা আর ভাবনাচিন্তা এমনই ছিল। এ মস্ত সৌভাগ্যের কথা।

ক্লাস এইটে পড়বার সময়ে, মনে হয় সাতচল্লিশ সালের এপ্রিলের দিকে, আমরা ফজলুল হক হলের হাউস-টিউটরস কোয়ার্টার্সে ছিলাম। একদিন খবর এলো, সে-রাত্রে ঢাকা হল ফজলুল হক হলকে আক্রমণ করবে। ঢাকা হলের ছাত্ররা 'বন্দেমাতরম' স্লোগান দিচ্ছে, ফজলুল হক হল থেকে তার জবাব যাচ্ছে 'আল্লাহু আকবর'। টানটান উত্তেজনা। গেট-হাউসে থাকা সে-রাত্রের জন্যে বিপজ্জনক। ফজলুল হক হলের ছাদে প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে খটাখট শব্দে ইট তুলে জমা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্ত হলো, বাড়ির মেয়ে আর শিশুদের হলের ছাদে গিয়ে আশ্রয় নিতে হবে। সে কী হাঁচোড়-পাঁচোড় করে অপরিসর ফুটো দিয়ে ঠেলে ঠেলে আমাদের ছাদে তোলা হলো। ঘুম কি আর হয়! শেষ রাতে খানিক ঝিমিয়ে জেগে উঠলাম। কিসের আক্রমণ কিসের কী!! এর পরে পরেই তো পাকিস্তান হয়ে গেল। সেবার হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গার অভিজ্ঞতা আমাদের এ পর্যন্তই।

১৯৫০ সালে ঢাকাতে আবার দাঙ্গা হলো। সে ধাক্কায় কলেজের অমুসলমান অনেক সহপাঠী আর শিক্ষক চলে গেলেন ভারতে। আমরা তখন পুরানা পল্টনের দিকে তোপখানা রোডে থাকি। আমাদের বাসার প্রায় উলটো দিকে জজ সাহেব রাদিকা বাবু থাকতেন। এক বিকেলে ৪২, তোপখানা রোডের বাড়ির ছাদ থেকে দেখি এক দঙ্গল গুণ্ডা রাধিকা বাবুর বাসার সামনে জড়ো হয়েছে, আক্রমণ করবে। দেখলাম এক লোক রুমাল দিয়ে রক্তমাখা চাকু মুছছে। শিউরে উঠলাম। সেই বয়সে বেজায় রকমের হাঁদা আর আবেগপ্রবণ ছিলাম তো! ছাদের প্রান্ত ঘেঁষে দাঁড়ালাম। ঠিক করলাম, চেঁচিয়ে বলব, ও বাড়ি আক্রমণ করলে আমি ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেব। যেন তাতে ভারি কিছু এসে যায়! হাঁদামি করেই বসতাম, সন্দেহ নেই। কিন্তু কী যেন হলো, খানিক বাদে গুণ্ডাগুলো জায়গাটা ছেড়ে চলে গেল। জজ সাহেবরা বাড়ি ছেড়ে গিয়েছিলেন আগেই? না কী হয়েছিল, বোঝা গেল না। যা হোক, ফাঁড়া কাটল!

পঞ্চাশের দাঙ্গায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনেক আহত মানুষ ভর্তি হয়েছিল। কী করে ব্যবস্থা হয়েছিল মনে নেই, আমি কিছুদিন সেবার কাজে যোগ দিয়েছিলাম তখন। ওপর তলায়, দোতলা না তিনতলা মনে নেই, অনেক সাধারণ দুস্থ মানুষ ভর্তি হয়েছিল। এক বুড়ি ছিল, সে মাথার ব্যান্ডেজ খুলে ফেলত টান দিয়ে। কাটা জায়গাটা ফাঁক হয়ে ছিল, রক্তটক্ত বেরোত না। আমার কাজ ছিল সবার জ্বর আর নাড়ির গতি মেপে চার্টে লিখে রাখা। হাসপাতালের নার্সরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ও বুড়ির মুখে থার্মোমিটার দিলে কড়মড় করে চিবিয়ে ফেলবে। জ্বরের কাঠি লাগাতে হবে বগলে। বুড়ির বোধ হয় ঘটনার ভয়াবহতায় মাথাটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

একদিন খবর পেলাম, ঢাকা ইউনিভার্সিটির বাংলার অধ্যাপক হরলাল রায় একতলার ওয়ার্ডে রয়েছেন আহত হয়ে। গেলাম দেখতে। ফর্সা মানুষ, জখমের দরুন মাথা-মুখ ফুলে যাচ্ছেতাই অবস্থা। চোখ ছলছলিয়ে উঠল আমার। কোনোমতে জিজ্ঞেস করলাম- 'চা খাবেন একটু?' স্থির চোখে চেয়ে থেকে মাথা নাড়লেন- হ্যাঁ। আমাকে পুরো পড়তে পারছিলেন তিনি। বহু কষ্টে ফিডিং কাপ জোগাড় করে, দীর্ঘ সময় পরে ওঁকে কোনোমতে চা খাওয়াতে পেরে ধন্য হয়েছিলাম। এসব স্মৃতি বুকের মধ্যে শান্তি এনে দেয়।

সভাপতি, ছায়ানট


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ