দুর্বৃত্তপনা

প্রকাশ : ০৯ জানুয়ারি ২০১৯

  আনোয়ার হোসেন

চাঁদা না পেয়ে পুরান ঢাকায় ২০ বাস ভাংচুর- এমন খবর নিঃসন্দেহে উদ্বেগের। মঙ্গলবার সমকালে প্রকাশিত এ খবরে বলা হয়, একদল সন্ত্রাসীর কারণে তিন ঘণ্টা বাস চলাচল বন্ধ ছিল। ঘটনাস্থল বাহাদুর শাহ পার্ক। আমরা জানি, পুরান ঢাকার অনেক স্থানের সঙ্গেই রাজধানীর অন্য অংশের সড়কপথে যোগাযোগ নেই। এর প্রধান কারণ, বাস চলাচলের মতো অবকাঠামো তৈরি করা হয়নি। সেখানে রিকশা ও টেম্পোর অবাধ রাজত্ব। চলাচলের জন্য নারী-পুরুষ-শিশুদের অশেষ ভোগান্তির শিকার হতে হয়। একসময় ঢাকা বলতে বোঝাত সূত্রাপুর, কোতোয়ালি, লালবাগ প্রভৃতি এলাকাকে। আবার এ এলাকাতেই ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই সেখানে। কেবল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-বাহাদুর শাহ পার্ককে কেন্দ্র করেই যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, সেখানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অন্তত এক লাখ। এই এলাকাতেই রয়েছে সদরঘাট লঞ্চ ও স্টিমার টার্মিনাল। আরও আছে মাছ ও সবজির পাইকারি বাজার। রাজধানী ঢাকার অনেক স্থানে এখন উন্নত মানের বাস চলছে। একই সঙ্গে আছে লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাস-মিনিবাস। একটি আধুনিক শহরের জন্য এসব একেবারেই বেমানান। কিন্তু পুরান ঢাকাবাসীর জন্য তেমন সুবিধাও যে অতি সীমিত। বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি কোম্পানি বাস চালায়। একসময়ের জনপ্রিয় আজাদ পত্রিকার মোড়েও একাধিক রুটের মিনিবাস চলে। চাহিদার তুলনায় সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। আর মানের কথা বলতে গেলে কেবল দীর্ঘশ্বাসই বের হয়ে আসবে। সেখানের প্রতিটি অধিবাসী নিজেদের কপালকেই এ জন্য দোষারোপ করবে। কারণ কেউ যে পাশে দাঁড়ায় না!

পাশে না দাঁড়াক, উপকার না করুক- অন্তত ক্ষতি যেন না হয়, সেটাও তো হয় না। সমকালে চাঁদা না পেয়ে বাস ভাংচুরের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সেটা তো দুর্ভাগ্যের আরেকটি নজির। সোমবার চাঁদা না পেয়ে যে সন্ত্রাসীরা ২০টি বাস ভাংচুর করেছে, তারা যুবলীগের সঙ্গে জড়িত- এমনটিই কেউ কেউ দাবি করছেন। সন্ত্রাসীদের দাবি ছিল, প্রতিটি কোম্পানি থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী বাস মালিকদের প্রতি এ ধরনের অন্যায় আবদার না মানার অনুরোধ করে। এ দলে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মীরাও ছিল। তারা সাধুবাদ পেতেই পারে। বাস মালিকরা যখন চাঁদা দেন, সেটা নিজের পকেট থেকে দেন না। তারা এ অর্থ উসুল করে নেন যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে। মাসে ৫০ হাজার টাকা যারা চাঁদা দাবি করেছে, তাদের সন্তুষ্ট করলেই যে সবকিছু নির্বিঘ্ন হয়ে যাবে, সেটা বলা যায় না। সড়কপথে যানবাহন চালাতে হলে মালিক-শ্রমিকদের ইউনিয়নকে

তুষ্ট রাখতে হয়। পুলিশকে তুষ্ট রাখতে হয়। এর বাইরেও যে কারও বাম হাত বাড়ানো নেই- সেটা কে বলতে পারে।

অথচ আমাদের প্রত্যাশা একেবারেই বিপরীত। সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে। নতুন অঙ্গীকার নিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি যেন অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন, বাংলাদেশ যেন একটি আধুনিক ও উন্নত দেশের সারিতে নিজের স্থান করে নিতে পারে, সে জন্য বাড়িয়ে দিতে হবে সহযোগিতার হাত। যারা বাস মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা চাইছে, তারা এ পথে মস্ত বড় বাধা। যারা এ ধরনের অপকর্মে জড়িত, তারা যেন কঠোর শাস্তি এড়াতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য