নির্বাচন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা

সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ

প্রকাশ : ২৯ নভেম্বর ২০১৮

নির্বাচন ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা

  ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী

এই ধরিত্রীর সব মানুষই সাবলীল ধারায় মানবাধিকার বিষয়টাকে জীবনপ্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করে। সব মানুষের জন্য প্রযোজ্য মৌলিক অধিকার, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনের দৃষ্টিতে সমদর্শিতার পরিপূর্ণ প্রতিষ্ঠাই মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে অর্থবহ করে। বিশ্বজনীন মূল্যবোধ ও চূড়ান্ত অগ্রাধিকার ধারণার মধ্যেই অন্তর্নিহিত মানবাধিকারের দার্শনিক ভাবনা। সব জাতি-রাষ্ট্র এসব অধিকারের স্বীকৃতি, শ্রদ্ধা, সংরক্ষণ ও পূর্ণ করার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আইনগত অঙ্গীকারবদ্ধ। মূলত মানবাধিকারের প্রণিধানযোগ্য নীতি হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে যথার্থ অর্থে সমুন্নত রাখা। অর্থাৎ সর্বাধিক জনগোষ্ঠীর মঙ্গলার্থে সংখ্যাধিক্য জনগণ দ্বারা যাতে সংখ্যাল্পরা কোনোভাবেই নির্যাতিত, বঞ্চিত বা দাসত্বের বন্ধনে আবদ্ধ না হয়।

বাংলাদেশের সংবিধানের ধারা ১১ অনুযায়ী 'প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে।' এবং ধারা ৭-এ বলা হয়েছে- 'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।' বাস্তবে বিশেষ করে বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের বর্বর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বেশ কিছু সময় সামরিক-গণতন্ত্রায়নের বিকৃত ধারায় পরিচালিত সরকারগুলো গণতন্ত্রের সংস্কৃতিকে প্রচণ্ডভাবে বিপর্যস্ত করেছে। উগ্র জাতীয়তাবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উন্মেষ ঘটিয়ে ধর্ম-বর্ণ-দলমত নির্বিশেষে বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ববোধের মূলে কুঠারাঘাত হেনে দেশকে করেছে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও লুম্পেন বিত্তশালীদের রাজনীতিকীকরণ।

১৯৭২ সালের সংবিধানের ধারা ২৮(১)-এ ঘোষণা করা হয়, 'কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদে বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবে না।' বৈষম্যহীনতা-সংশ্নিষ্ট অন্যান্য ধারা হচ্ছে- ধারা ১০ (নারীদের অংশগ্রহণ), ২৭ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা), ধারা ২৯ (প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের সমতা)। সংবিধানের অষ্টম সংশোধনীতে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সত্ত্বেও সংবিধানের ৪১ ধারায় ঘোষণা করা হয়- 'প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রহিয়াছে।'

আমার বিশ্বাস, উপরোল্লিখিত বর্ণনায় কিঞ্চিৎ মানবাধিকার ধারণায় সবাই মোটামুটি সমৃদ্ধ। এ প্রসঙ্গে কিছু ঘটনার বাস্তব উপলব্ধি প্রকাশ করতে খুব ইচ্ছা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরে কিছু ধর্মীয় নিপীড়নের অপরিমেয় নির্যাতন ও সহিংসতার চিত্র আমাকে এখনও চরমভাবে আতঙ্কগ্রস্ত করে তোলে। ১ অক্টোবর ২০০১ অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে-পরে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত আমার নিবন্ধগুলো বিনম্র আকুতিতে ভরপুর ছিল, যেন এই সংখ্যাল্প জনগোষ্ঠীর ওপর ধর্মীয় নিপীড়ন বন্ধ করা হয়।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কথিত নিরপেক্ষ সরকারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে। রাষ্ট্রপতি ছিলেন পূর্ববর্তী সরকারের রাষ্ট্রপতি। তিনি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি। সরকারের প্রধান উপদেষ্টাও ছিলেন আরেক সাবেক প্রধান বিচারপতি। তাদের অধীনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের ওপর দেশের জনগণ গভীর আস্থায় নির্ভার হয়েছিল। যেহেতু প্রধান দুই সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছিল; নিরপেক্ষ না হলেও সত্যনিষ্ঠ নৈতিকতায় দেশের জনগণ তাদের ধারণ করেছিল এক অনন্য উচ্চমাত্রিকতায়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সে সময়কার তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার কয়েক মিনিটের মধ্যেই জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দা থেকে মুছে নেওয়া হলো স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা, বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি প্রদর্শন।

কথিত এই নিরপেক্ষ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে শুরু হলো ধর্মীয় নিপীড়ন। সংখ্যালঘু প্রত্যয়টি আমার কাছে খুব একটি গ্রহণযোগ্য নয় বলেই আমি ধর্মবিশ্বাসী ব্যক্তিবর্গকে সংখ্যাধিক্য ও সংখ্যাল্প বিশেষণে উপস্থাপন করার চেষ্টা করি। এই ধারণার বশবর্তী হয়েই সুফিগুরু লালন শাহর মতো শ্রেণিহীন শোষণমুক্ত এক মানবিক সমাজের স্বপ্ন দেখি। আপন মনে উচ্চারণ করি তার অমর গীতিকথা- 'এমন সমাজ কবে গো সৃজন হবে/ যেদিন হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান/জাতি-গোত্র নাহি রবে। শোনায়ে লোভের বুলি/ নেবে না কাঁধের ঝুলি, ইতর-আতরাফ বলি/ দূরে ঠেলে না দেবে।' অথবা কবি নজরুলের অসাধারণ উচ্চারণ- 'প্রভু আমরা আজিকে সহ্য করিতে পারি না তো পরমত।/ তুমি চাহ নাই ধর্মের নামে গ্লানিকর হানাহানি,/ তলোয়ার তুমি দাও নাই হাতে, দিয়াছ অমর বাণী।/ মোরা ভুলে গিয়ে তব উদারতা সার করিয়াছি ধর্মান্ধতা,/ বেহেশত্‌ হতে ঝরে নাকো আর তাই তব রহমত।'

২০০১ সালের ১ অক্টোবর। নির্বাচনের ফলাফল ছিল অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত। বাংলার মানুষ কখনও কল্পনা করতেই পারেনি, কথিত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে এমন ভোট গণনায় কৌশল-প্রতারণার মাধ্যমে ফলাফলকে পাল্টে দেওয়া এবং যারপরনাই জঙ্গি আস্টম্ফালনে দেশকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নেওয়া যায়। আমরা কিছু সমাজসচেতন অসহায় ব্যক্তি এই নির্মমতায় বিস্মিত হয়ে নগরের একটি বাসায় বসেছিলাম নির্বাচন বিশ্নেষণে। সেখানে ছিলেন ড. অনুপম সেন, সাংবাদিক আবুল মোমেন, কমল সেনগুপ্ত, তৎকালীন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইদ্রিসসহ (প্রয়াত) অনেকেই। সে সময়ে আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব।

বৈঠকের মাঝপথে দু'জন আইনজীবীকে নিয়ে দেশের খ্যাতিমান আরেক আইনজীবী রানা দাশগুপ্ত আমাকে বললেন, 'বোয়ালখালী সংসদীয় এলাকা এবং বায়েজিদ থানাভুক্ত কুলগাঁও হিন্দু গ্রাম পরিপূর্ণভাবে বিধ্বস্ত ও বিপর্যস্ত। এক পৈশাচিক অমানবিক তাণ্ডব পরিচালনা করে ওই এলাকাকে পুরুষশূন্য করে নারীদের ওপর প্রচণ্ড নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তোমরা যদি সেখানে একটু যাও, তাহলে তারা হয়তো কিছুটা হলেও বেঁচে থাকার শক্তি পাবে।' পাশে বসা এক সহকর্মী কানে কানে বললেন, চিন্তা করে দেখ- এ অবস্থায় সেখানে যাবে কিনা।

তখন আমি দু'বার হজ পালন করেছি এবং আমার সারা শরীরে মহান আল্লাহর ঘরের স্পর্শ রয়েছে। আমি যদি সত্যিকারের মুসলমান হই, তাহলে আমার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে সেখানে ছুটে যাওয়া এবং নির্যাতিত হিন্দুদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসা। যেই আমি বললাম আমি যাব; ইদ্রিস ভাই বললেন, আমিও যাব। কলমদা বললেন, আমিও। অনুপম স্যার কী করবেন জিজ্ঞেস করলে আমি বললাম, রাত অনেক হয়েছে। আপনি বয়োজ্যেষ্ঠ; বাসায় চলে যান। মোমেন ভাই রাত ১০টার ট্রেনে ঢাকায় যাবেন। তিনি সঙ্গে যেতে পারছেন না বলে খুবই কষ্ট পাচ্ছিলেন।

আমার গাড়ি ও কমলদার গাড়িসহ আরেকটি ভাঙা জিপে চড়ে আমরা রওনা হলাম কুলগাঁও হিন্দু গ্রামের দিকে। পথে বায়েজিদ থানায় গিয়ে দেখলাম খালি গায়ে প্রচুর রক্তপাতে আক্রান্ত ধুতি পরা একজন মেঝেতে বসে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। থানার প্রায় লোকবল শূন্য ছিল। একজন অফিসারকে কঠিন স্বরে নিজেদের পরিচয় দিয়ে রক্তাক্ত লোকটি সম্পর্কে জানতে চাইলে বললেন, তিনি সেই কুলগাঁও হিন্দু এলাকা থেকে এসেছেন থানায় মামলা করার জন্য। কিন্তু মামলা বা ডায়েরি লিপিবদ্ধ করা হচ্ছিল না কেন- জিজ্ঞেস করলে সদুত্তর পাওয়া যায়নি। অনেক দূর যেতে যেতে শেষ পর্যন্ত আমরা পৌঁছলাম সেই গ্রামে।

যাওয়ার পথে থানায় বসে ওসি সাহেব এবং সেনা দপ্তরে যোগাযোগ করে তাদেরকে সে এলাকায় যেতে অনুরোধ করলাম। গিয়ে যা পর্যবেক্ষণ করলাম, তা '৭১-এর হায়েনাদের নির্যাতনের মতোই মনে হচ্ছিল। যা ঘটেছিল ভাষায় তার বিবরণ দেওয়া কঠিন। সমগ্র এলাকা ঘুরে ঘুরে মা-বোনদের সঙ্গে কথা বলে যা শুনেছি, তা লিপিবদ্ধ করে থানায় গিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিলাম রানাদাসহ সবাই। পত্রিকায় সংবাদ করার জন্য ইদ্রিস ভাইকে নিয়ে সেই গভীর রাতে পূর্বকোণ অফিসে পৌঁছলাম এবং অনেক কষ্টে ইদ্রিস ভাই পরদিন সকালেই পত্রিকায় সামগ্রিক বিষয় তুলে আনলে চারদিকে তোলপাড় শুরু হয় এবং কথিত নিরপেক্ষ সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

মাসখানেকের মধ্যে সন্ত্রাসীরা থানার মাধ্যমে তাদের দোষ স্বীকার এবং ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দেওয়ার মাধ্যমে সমঝোতা চুক্তি করে। সেই থেকে এখনও এই পাড়াটি অনেক বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। এই ধর্মীয় নিপীড়ন নিয়ে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ কর্মশালার আয়োজন করতে হয়েছিল সেই কঠিন সময়ের মধ্যেই। প্রয়াত বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরীকে আহ্বায়ক এবং আমি ও আরও দু'জন সহযোদ্ধা সহ-আহ্বায়ক হয়ে তৎকালীন মেয়র চট্টলবীর আলহাজ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এই কর্মশালা নতুন এক নির্মমতার ইতিহাসের সাক্ষী করেছে।

এ ছাড়াও সে সময়ের এক মহান যোদ্ধা শ্রদ্ধাভাজন শাহরিয়ার কবিরকে তার অসামান্য সাহসিকতা ও নির্ভীক কর্মযজ্ঞের জন্য বাংলাদেশের কেউ সাহস না করলেও চট্টগ্রামে আমি আহ্বায়ক এবং ইদ্রিস ভাইকে সদস্য সচিব করে শাহরিয়ার ভাইকে নিদারুণ শোষণ-বঞ্চনা ও নির্যাতনের হুমকি মোকাবেলা করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলাম। এসব বিষয় ছিল কঠিন সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদকে নিধন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম তথা দেশবাসীকে উজ্জীবিত করা। আজ দীর্ঘশ্বাসে ভারি বাতাসে দেখতে হচ্ছে এমন সব ক্ষমতাবান ব্যক্তি এবং পদ-পদবি নিয়ে দারুণ জীবন ভোগের নির্লজ্জ অনৈতিকতাকে।

লালন ও নজরুলের উপরোল্লিখিত বাণী কী নিদারুণ যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে এখনও বাংলাদেশ নামক এক সভ্য দেশে, যার পেছনে রয়েছে ৩০ লাখ শহীদের প্রাণ বিসর্জন ও দুই লাখ জননী-জায়া ও কন্যার সর্বোচ্চ ত্যাগ। শুধু ১৫.৯.২০০১ থেকে ১০.১২.২০০১ পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক বর্বরতার চিত্র বিশ্নেষণ করে আমরা দেখতে পাই :নারী হত্যা ২৭, নারী ধর্ষণ ২৬৯, শিশু ধর্ষণ ১, পুরুষদের দৈহিক নির্যাতন ২৬১৯, নারীদের দৈহিক নির্যাতন ১৪৩০, নারী-পুরুষ অপহরণ ১০০, পরিবার উৎখাত ৩৮৫০০, চার্চ, মন্দির ও মূর্তি ভাংচুর ১৫৫, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ৪৫৫১।

এখনও কী কঠিন নির্মম ইতিহাস চর্চায় আমাদের ব্যতিব্যস্ত থাকতে হয়! কী দুর্ভাগ্য আমাদের গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠান করে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি এই সাম্প্রদায়িক নির্যাতনকারীদের দল থেকে মনোনয়ন না দেওয়ার অনুরোধ জানাতে হয়। ভোটারদের আহ্বান জানানো হয়, যাতে তারা দল কর্তৃক মনোনীত হয়ে ভোটযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও তাদের যেন ভোট না দেওয়া বা ভোটে অংশগ্রহণ থেকে বিতাড়িত করা হয়। নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতার আশঙ্কায় ধর্মবিশ্বাসী সংখ্যাল্প ব্যক্তিবর্গের ভোটের আগে দেশত্যাগ করতে না হয়। নির্বাচনের সময় যেন তাদের নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হতে না হয়। এখনও কেন জানি আমরা যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শানিত জাতির পিতার আদর্শ ও বিশ্বনন্দিত মহীয়সী নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনে আস্থা রেখে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনায় দেশকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি; সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অজানা আতঙ্ক আমাদের যে প্রতিনিয়ত তাড়িত করছে, তা নিশ্চয় দেশবাসীর অজানা নয়। দেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে চিরজাগরূক থাকুক- এতটুকুই প্রত্যাশা।

উপাচার্য, চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ