যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

   রিচার্ড ওলফ

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন কেমন অনুভব করছেন। তার মেজাজ-মর্জি ভালো থাকার কথা নয়। কারণ তার সমর্থকরাই এখন আর তাকে চাইছেন না। তার সমর্থক সবাই যে তাকে ত্যাগ করেছেন, তা নয়। তবে তিনি যাদের অধিকাংশ নারী (শ্বেতাঙ্গ) বলেছিলেন, আজ তারাই ট্রাম্পের বিদায় চাইছেন। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের এক্সিট পোলে ট্রাম্পবিরোধী ডেমোক্র্যাটরা নারীদের মধ্যে ২১ পয়েন্টের বড় ব্যবধানের সুবিধা পেয়েছেন। যেখানে রিপাবলিকানরা পেয়েছেন পুরুষের মধ্যে কেবল ২ পয়েন্টের লিড। শ্বেতাঙ্গ নারীরা ৫০-৪৮-এ ভাগ হয়ে গেছেন। রিপাবলিকানরা কেবল ৬৫ বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের মধ্যে জিতেছেন আর সেটাই আসলে আলোচনার বিষয়।

দুই বছর আগে আমেরিকার নির্বাচনের একই এক্সিট পোলে শ্বেতাঙ্গ নারীরা ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। বিবাহিত নারীরা দ্বিধাবিভক্ত থাকলেও ট্রাম্পের পক্ষেই কিছুট বেশি ছিলেন। এই নির্বাচনে শহরতলির শ্বেতাঙ্গ নারীরাও ট্রাম্পের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে গেছেন।

অনেক বিশ্নেষক বলে থাকেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন হতে আলাদা। তারা হয়তো এ উদাহরণ দেবেন, ২০১০ সালে বারাক ওবামা মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরেছিলেন। তারপরও জাতীয় নির্বাচনে জিতেছিলেন। তাদের জন্য বলি, ওবামা এরপর বিষয়টি স্বাভাবিক নিয়ে যেভাবে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন, যেভাবে তার ভোটারদের কাছে পৌঁছেছেন, ট্রাম্পের সে দক্ষতা নেই।

ফলে আমরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেখব, ট্রাম্প নতুন করে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব্ব ও পুরনো সিনেটের রিপাবলিকানদের মধ্যে চতুর্মুখী সংকটে পড়বেন। এই মানুষটি আসলে কোনো কিছুতেই নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি, কি রাশিয়ার সঙ্গে গোয়েন্দা বিষয়ে, কি তার নারীদের নিয়ে মন্তব্য বিষয়ে, কি জাতিগত-বিদ্বেষে। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে পরিবর্তন করতে পারছেন না; ভোটাররা তাকে কী বলছেন, তাতেও তিনি ভ্রূক্ষেপ করছেন না।

হ্যাঁ, ট্রাম্পের জন্য কিছু ভালো খবর আছে বটে। কারণ এই নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য একেবারে সুনামি নয়। তারাও ভালো ভোট পেয়েছেন। প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন বটে। কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবে বাধা দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করছেন। তবে উচ্চকক্ষে রয়েছে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য।

তারপরও ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনধারা নিশ্চয়ই বদলে যাবে। তিনি এখনও হয়তো সেটা বুঝছেন না; কিন্তু অচিরেই বুঝবেন। হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে পরাজয়ের মাধ্যমে তার প্রশাসনিক ব্যাপারে রিপাবলিকানদের বাধা দিয়ে ডেমোক্র্যাটদের তাৎপর্যপূর্ণ অবস্থান তৈরি হলো।

আমরা দেখেছি, পুয়ের্তোরিকোতে হারিকেন মারিয়ার আঘাতে অনেক আমেরিকান মারা যান। কিন্তু সে ঘটনায় রিপাবলিকানরা সব ধরনের তদন্ত বন্ধ রাখেন। অথচ সেখানে যথাসময়ে রিলিফ পৌঁছলে, সেখানকার অবস্থা ঠিকভাবে অবগত হলে হয়তো অনেক জীবন বাঁচানো যেত। বারাক ওবামার ওবামাকেয়ার বাতিলও গুরুত্বপূর্ণ তদন্তের বিষয় হতে পারে। ২০১৬ সালের আমেরিকার নির্বাচনে রাশিয়ার হাত ও ট্রাম্পের সংগঠনের সঙ্গে এর ব্যবসায়িক সম্পর্কও খতিয়ে দেখার বিষয়। সুতরাং ট্রাম্পের লাগামছাড়া ক্ষমতা প্রয়োগের দিন শেষ হতে যাচ্ছে। এখন যদি তার পূর্বসূরিরা তাকে কোনো নির্দেশনা দেন, সেটাও হয়তো ট্রাম্প আমলে নেবেন না।

অনেক জ্যেষ্ঠ ডেমোক্র্যাট নেতার জন্য যদিও বর্তমান চিত্র খুব বেশি আনন্দদায়ক নয়, তারপরও কংগ্রেসের নিম্নকক্ষে তাদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনা সুখকর বিষয়। ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ডেমোক্র্যাটরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকবেন। তবে তখন নির্বাচনে জয় পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ক্ষতই তাড়িয়ে বেড়াবেন।

তবে এটা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয় যে, ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে যারা জয়লাভ করেছেন, তাদের সংখ্যা পুরনো সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশি। এখন তারা প্রথমবারের মতো নারী স্পিকারের নেতৃত্বে থাকবেন। এটাও একটা ঐতিহাসিক অর্জন বটে। ফলে এটাও কাকতালীয় নয়, ২০২০ সালের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বীও হবেন একজন নারী। সে নির্বাচনে ট্রাম্প জয়লাভ করলেই বুঝবেন ব্যথা কেমন।

গার্ডিয়ান থেকে সংক্ষেপিত ভাষান্তর


মন্তব্য যোগ করুণ