'সুন্দরবনের হাসি'

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮

  আতিকা ইসলাম

ঐশ্বর্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর জীববৈচিত্র্যের স্বমহিমায় বিশাল সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার উপকূলবর্তী মানুষ প্রতিনিয়ত বনদস্যু বা জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়ে থাকে। সুন্দরবনসহ বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় বনদস্যু, জলদস্যুদের দমনের লক্ষ্যে র‌্যাব, পুলিশ, কোস্টগার্ড, বিজিবি ও বন বিভাগের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে, যার প্রধান সমন্বয়কারী 'মহাপরিচালক-র‌্যাব ফোর্সেস'। র‌্যাব সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যু ও বনদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সফল অভিযানে ২৬টি বাহিনীর সর্বমোট ২৭২ জন জলদস্যু ও বনদস্যু গ্রেফতার করে। ৪০৪টি অস্ত্র এবং ১৯ হাজার ১৫৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। র‌্যাব-৮ অভিযান চালিয়ে সুন্দরবন থেকে এক হাজার একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৭ হাজার ৬১৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চামড়া, ৬৬টি হরিণের চামড়াসহ শতাধিক জিম্মি জেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ফলে সুন্দরবনকেন্দ্রিক বনদস্যু বা জলদস্যু বাহিনীর অপতৎপরতা বহুলাংশে কমে এসেছে। সাধারণত ইলিশ ও শুঁটকি মৌসুমকে কেন্দ্র করে ডাকাতি, জেলে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আদায় করে জলদস্যুরা। সে কারণে ইলিশ মাছ আহরণ ও শুঁটকি প্রক্রিয়াকরণ মৌসুমে সুন্দরবন এলাকায় যাতে মৎস্য আহরণকারী জেলেরা জলদস্যুদের কবলে না পড়ে, সে লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে র‌্যাব।

আত্মসমর্পণের পর জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনযাপন অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল ও র‌্যাবের মাধ্যমে অনুদান প্রদান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আত্মসমর্পণকৃত প্রত্যেক জলদস্যুকে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিল থেকে নগদ এক লাখ টাকার চেক এবং র‌্যাব ফোর্সেস ২০ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট প্রদান করেছে। জলদস্যুরা যাতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে র‌্যাবের মাধ্যমে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের সাধারণ মামলাতে সাধারণ ক্ষমা করে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেছেন।

১ নভেম্বর সুন্দরবন জলদস্যুমুক্ত হয়েছে। উপকূলের মানুষের মনে আজ উৎসবের আমেজ। সেখানে থাকবে না ভয়ঙ্কর সাত্তার, জাকির, শরিফ, সিদ্দিক বাহিনীর নিষ্ঠুর কার্যকলাপ। মাছ ধরার মৌসুমে সবাই নিশ্চিন্তে মাছ ধরবে; পরিবার থাকবে নিশ্চিন্তে। দেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাবে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে ও ভবিষ্যতে যেন কোনো জলদস্যু গ্রুপ তৈরি না হয়, সে জন্য র‌্যাব ফোর্সেস একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। টহল জোরদারসহ অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। র‌্যাব কাজ করছে জলদস্যু তৈরির পেছনের কারিগরদের বিরুদ্ধে।

চলতি বছরের ১২ জুন র‌্যাব-৮, বরিশাল কমপ্লেক্সে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ 'সুন্দরবনের হাসি' নামক প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এ প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য আত্মসমর্পণকৃত জলদস্যুদের পুনর্বাসন। জলদস্যুদের আরও বেশি আত্মনির্ভরশীল করতে ২০টি পরিবারের মাঝে সেলাই মেশিন, শিক্ষা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সেলাই, কম্পিউটার, ড্রাইভিং, বুটিক, ওয়েল্ডিং প্রশিক্ষণে ইচ্ছুক পরিবারদের প্রশিক্ষণ কর্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অনুদান ও পুনর্বাসন প্রকল্পের পাশাপাশি সুন্দরবনের হাসি প্রকল্প জলদস্যুদের স্বাভাবিক জীবনমানকে প্রভাবিত করবে।

পরিশেষে বলতে পারি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় উপকূলকে জলদস্যুমুক্ত রাখতে সব কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে র‌্যাব। শান্তির দূত হিসেবে র‌্যাব-৬ ও র‌্যাব-৮-এর কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত ডিআইজি; অধিনায়ক, র‌্যাব-৮, বরিশাল


মন্তব্য যোগ করুণ