সাক্ষাৎকার

সরকারের চাপ থাকলে তো আগেই থাকত

শমসের মবিন চৌধুরী

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৮

সরকারের চাপ থাকলে তো আগেই থাকত

  সাক্ষাৎকার গ্রহণ: লোটন একরাম

শমসের মবিন চৌধুরী এখন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য। এর আগে ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। দায়িত্ব পালন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবেও। ২০১৫ সালে বিএনপি থেকে সরে দাঁড়ান মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত শমসের মবিন চৌধুরী। চাকরিজীবনে পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি-

সমকাল :তিন বছর আগে আপনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতি থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। হঠাৎ করে বিকল্পধারায় যোগ দিলেন কেন?

শমসের মবিন চৌধুরী :২০১৫ সালে যখন রাজনীতি থেকে অবসর নিই, তখন আমি মারাত্মকভাবে অসুস্থ ছিলাম। দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তুলনামূলকভাবে এখন অনেক ভালো আছি। বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান অস্থিরতা রয়েছে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যুব সমাজের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে এই তরুণ সমাজের রাজনীতির ওপর অনাগ্রহ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শারীরিকভাবে সুস্থতাসাপেক্ষে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার মূল্যবোধকে সামনে রেখে দেশের জন্য আমার সীমিত অবস্থান থেকে কিছু করার চেষ্টা করতে চাই। আমার বিবেচনায় রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ হতে পারে। আমি আশা করি, দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। তবে কতটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মনে করলাম, আবার চেষ্টা করে দেখি, দেশ ও জনগণের জন্য কিছু করতে পারি কিনা।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ছিলেন। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল এবং তার সঙ্গে গত কিছুদিন ধরে কথাবার্তা চলছিল। পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তার একটি পরিচিতি রয়েছে। তিনি ও আমি দু'জন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী। তার অনেক কিছুর সঙ্গে, নীতির সঙ্গে, আদর্শের সঙ্গে, কথাবার্তার সঙ্গে আমার মিলে যায়। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী যখন বললেন, আমার কিছুটা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে- আমরা চেষ্টা করে দেখি। মতের মিল থাকাতে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিয়েছি এবং নিজেকে আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে নিয়ে এলাম। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কিছুটা হলেও সমাজকে দেওয়ার আছে। কী করতে পারব, তা আগামী দিনেই বলতে পারব।

আর বিএনপির সঙ্গে মতবিরোধ কিছুটা তো অবশ্যই ছিল। যেমন সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রশ্নে। আমি আশা করেছিলাম, বর্তমান বাংলাদেশের কথা চিন্তা করে বিএনপি তার কাজেকর্মে এবং অবস্থানে অসাম্প্রদায়িকতার দিকে চলে আসবে। সেসব বিষয়ে আমি বাধা পাচ্ছিলাম। আমার মনের মতো হচ্ছিল না। একটি জিনিস মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি- সেটা হলো, অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি হবে রাজনীতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলব, বাংলাদেশের মানুষ মনেপ্রাণে ধর্মভীরু ও অসাম্প্রদায়িক। কোনো ধরনের চরমপন্থি নয়। এখানেই বি. চৌধুরীর সঙ্গে তার বড় মিল রয়েছে। দ্বিতীয়ত, নাশকতার রাজনীতিতে আমি মোটেও বিশ্বাস করি না। সেটা সব ধরনের নাশকতা। পেট্রোল বোমা দিয়ে পুড়িয়ে মারা হোক বা লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে মারা হোক।

সমকাল :বিএনপির এই রাজনৈতিক অবস্থান তো অনেক দিনের, তারপরও দীর্ঘদিন এ দলের সঙ্গেই আপনি ছিলেন কেন? বিএনপির ভেতর থেকে কি দলকে সংশোধনের চেষ্টা করা যেত না?

শমসের মবিন চৌধুরী :সাম্প্রদায়িক চিন্তা-চেতনা থেকে পরিবর্তন করা যায় কিনা- আমি চেষ্টা করেছিলাম। আর যেহেতু তিন বছর রাজনীতি থেকে দূরে, সেই সুযোগ অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে বিএনপির নীতিনির্ধারক যারা আছেন, তাদের এ ব্যাপারে কী ধারণা- আমার জানা নেই। তারা যদি মনে করেন, দলের ভেতর সংশোধন আনা প্রয়োজন, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারেন। তারাই এখন সিদ্ধান্ত নেবেন- কী ধরনের রাজনীতি বিএনপি আগামীতে করতে চায়!

সমকাল :রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে সরকারের কি কোনো চাপ আছে?

শমসের মবিন চৌধুরী :সরকারের চাপ থাকলে তো অনেক আগেই থাকত। এটা নিতান্তই আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই আমি এই পদত্যাগ নিয়েছি।

সমকাল :দুটি গুঞ্জন আছে- প্রথমত, মামলা ও কারাভোগ থেকে বাঁচতে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে অবসরে গিয়েছিলেন এবং দ্বিতীয়ত, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে দল ছেড়েছেন? এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য?

শমসের মবিন চৌধুরী :আমার বিরুদ্ধে চারটি মামলা ছিল। দুটি মামলা আদালতের মাধ্যমে অনেক আগেই নিষ্পত্তি হয়েছে। আর বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে মতপার্থক্যের বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক। আমি যখন বিএনপিতে ছিলাম, তখন যত কথাবার্তা হতো সব দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গেই হতো। আর তখন তারেক রহমান ছিলেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

সমকাল :আপনার পথ ধরে বিকল্পধারায় কি বিএনপি বা অন্য কোনো দলের আরও নেতা যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে? বিএনপির তিনজন সাবেক সংসদ সদস্য শিগগির যোগ দেওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে- তারা কারা?

শমসের মবিন চৌধুরী :অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারার দ্বার খোলা রয়েছে। যাদের মধ্যে বিকল্পধারার মৌলিক নীতি-আদর্শ রয়েছে, তারা যোগ দিতে পারেন। নীতির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- উদারপন্থি রাজনীতির ধারা, পুঁজিবাদী, সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মধ্যে একটি সমন্বয় করে যাতে বাংলাদেশে কোনো সমাজের লোক বঞ্চিত না হয়। লিবারেল ডেমোক্রেসি এবং অসাম্প্রদায়িকতার মূল নীতিতে যারা বিশ্বাসী, তারা বিকল্পধারা বাংলাদেশে যোগ দিতে চাইলে তাদের স্বাগত জানানো হবে। তবে আমার সঙ্গে কারও যোগাযোগ হচ্ছে না। হলে বি. চৌধুরীর সঙ্গে হচ্ছে।

সমকাল :দুর্নীতির দায়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজাকে তার দল 'মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক' বলে দাবি করে আসছে। আপনার অভিমত কী?

শমসের মবিন চৌধুরী :বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় সাজা হয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে জনগণের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আইনি প্রশ্ন রয়েছে। রাজনৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। যেহেতু এটি আদালতের বিষয়, তাই আমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাই না।

সমকাল :নির্বাচন সামনে রেখে ছোট দলগুলোকে জোটে টানাটানি ও ভাঙাগড়ায় মনে হচ্ছে, 'ছোট দলের বড় কদর।' মাঠপর্যায়ে সংগঠন ও জনসমর্থন না থাকার পরও এসব ছোট দলকে নিয়ে এত টানাটানি কেন?

শমসের মবিন চৌধুরী :বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বড় দুটি দলের কবল থেকে বের হতে পারছে না। তারা একই সঙ্গে দেখছে, দুটি দলের মধ্যে সম্পর্ক হঠকারী পর্যায়ে চলে গেছে। তারা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নয়, পরস্পরকে শত্রু হিসেবে দেখছে। একে অপরকে নির্মূল করার অভিপ্রায় তাদের ভাষায় বেরিয়ে আসে। তারা বড় দল, নিশ্চয় তাদের ব্যাপক জনসমর্থন আছে। তবে এটা কোনো সুস্থ রাজনীতি নয়। আমি মনে করি, ছোট আকারে হলেও ছোট দলগুলো যদি ভিন্ন ধরনের সুস্থ রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে আসে- জনগণ তাদের ইতিবাচক হিসেবে দেখবে।

তবে হ্যাঁ, মৌলিক ভিত্তি থাকতে হবে- মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের আনুগত্য ও বিশ্বাস। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। ছোট রাজনৈতিক দলের উত্থান কিন্তু প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোতেও ঘটেছে। এমনকি কেউ কেউ জোট করে বড় দলগুলোকে পরাজিত করে রাষ্ট্রক্ষমতায়ও আসীন হয়েছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশে আগামীতে ছোট দলগুলোর কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এখনও দেখছি, বড় দলগুলো ছোট দলগুলোকে নিয়ে জোট করছে। আমি জোটের রাজনীতিকে ভালো বলেই মনে করি।

সমকাল :অতীতে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এবারও কি বিদেশি হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটতে পারে?

শমসের মবিন চৌধুরী :আমি নীতিগতভাবে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের পক্ষে নই। নিজেরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের পক্ষে। যদি আমাদের সে ধরনের সদিচ্ছা থাকে- তা সম্ভব। অতীতে সে ধরনের সদিচ্ছার অভাব ছিল বলেই একাধিকবার আন্তর্জাতিক মহলের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে কমনওয়েলথ এবং ২০১৩ সালে জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে এসে বিবদমান দলের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। আমি আশা করি, সেটা আর পুনরাবত্তি হবে না। নিজেরাই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে।

সমকাল :গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন ও অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ৭ দফা দাবি ও ১১ লক্ষ্য ঘোষণা ক্ষমতাসীন দল প্রত্যাখ্যান করেছে। আপনি কীভাবে দেখেন এবং এ জোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী?

শমসের মবিন চৌধুরী :আমি সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। আমার বর্তমান নতুন দল বিকল্পধারা এবং যুক্তফ্রন্টও ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির সঙ্গে প্রায় একই অবস্থানে রয়েছে। অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগের শুরু থেকেই ছিলেন। তখন তিনিসহ অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ওই ৭ দফা দাবি-দাওয়া ঠিক করেছিলেন। কাজেই এসবের সঙ্গে আমিও একমত, দ্বিমতের কোনো সুযোগ নেই। তবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই জোটের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

সমকাল :প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেনের চিঠিতে সাড়া দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার গণভবনে সংলাপ ডেকেছেন। এ সংলাপের সফলতা নিয়ে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

শমসের মবিন চৌধুরী :আমি নীতিগতভাবে সংলাপের পক্ষে। দেশের যে কোনো সংকট সমাধানে সংলাপ হওয়া উচিত। ঐক্যফ্রন্টের চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত সাড়া দেওয়া অবশ্য রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। এতে বাংলাদেশের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। তবে সংলাপ আংশিক সফল, না পুরোপুরি ফলপ্রসূ হবে- তা আগেই বলা যাবে না। সংলাপে কে কতটুকু ছাড় দেবে বা দেবে না- সংলাপে নির্ধারণ হবে। তবে জনগণ সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য ফলাফল আশা করেন। সংলাপে সমঝোতায় আসতে হবে। একপক্ষের সব দাবি মেনে নেওয়া, অন্যপক্ষের কোনো দাবি না মানা- এটা তো সংলাপ নয়। আশা করি, সংলাপ সফল ও ফলপ্রসূ হবে।

সমকাল : আপনার নতুন দল বিকল্পধারার নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্টকেও প্রধানমন্ত্রী সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সংলাপে কোন বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন?

শমসের মবিন চৌধুরী :সংলাপে কোন কোন বিষয় তুলে ধরা হবে, তা দলীয় ফোরামে বৈঠক করে চূড়ান্ত করা হবে। তবে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। জনগণের পক্ষে সংলাপে সব বিষয় তুলে ধরবেন তারা।

সমকাল :বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলীয় সরকারের অধীনে কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব?

শমসের মবিন চৌধুরী :অতীতের ইতিহাসে কোনো দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার নজির দেখিনি। তবে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া আছে। সে ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে কমিশনের পক্ষে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু সরকার দেবে কিনা- সেটাই বড় প্রশ্ন।

সমকাল :আপনার নতুন দল বিকল্পধারা কি এককভাবে নির্বাচন করবে নাকি কোনো জোটে যাবে?

শমসের মবিন চৌধুরী :বিকল্পধারার নেতৃত্বেই যুক্তফ্রন্ট নামে একটি জোট রয়েছে। এই জোটে ন্যাপ, এনডিপি, লেবার পার্টির একাংশ রয়েছে। আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে এ জোট আরও সম্প্রসারিত হবে।

সমকাল :আপনি কি সিলেট-১ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন?

শমসের মবিন চৌধুরী :যদি দল চায়, আমি নির্বাচন করব। আমি কোন আসন থেকে নির্বাচন করব, তা বিকল্পধারাই নির্ধারণ করবে।

সমকাল :সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

শমসের মবিন চৌধুরী :আপনাকেও ধন্যবাদ।


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ