পাহাড়ে শান্তির ফুল ফুটুক

প্রকাশ : ০৮ মে ২০১৮

পাহাড়ে শান্তির ফুল ফুটুক

  আহমদ রফিক

হঠাৎ করেই রক্তে ভিজে গেল পার্বত্য চট্টগ্রামের ধূসর পাথুরে মাটি। যথারীতি রাজনৈতিক বিরোধিতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড। এই বিভাজন-বিরোধিতা-দ্বন্দ্ব যেন বাংলাদেশি রাজনীতির বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। পক্ষে-প্রতিপক্ষে এমনকি দলীয় অন্তদ্র্বন্দ্বে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও কম নয়। কখনও তা হয়ে ওঠে দলবদলের জের ধরে।

একাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী অধ্যুষিত পার্বত্য চট্টগ্রামে একসময় শান্ত পরিবেশই বিরাজ করেছে। দেশের গরিষ্ঠতম জাতি বা সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক স্বাভাবিকই দেখা গেছে; ভিন্ন ধর্ম বা মতপথ সত্ত্বেও। তাদের নেতৃস্থানীয় অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তি স্বতঃস্ম্ফূর্ত প্রেরণায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। ব্যতিক্রমী দু'চারজন নেতা পাকিস্তানের পক্ষে। মোট জনগোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের নীরব সমর্থক।

কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে উগ্র বাঙালিয়ানা বিভেদ তৈরিতে সাহায্য করেছে। এমনকি ১৯৭৫-এর পর তৎকালীন শাসকদের বিভ্রান্তিকর বাঙালি বসতিনীতি যেমন সংঘাতের বীজ বুনেছিল; তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক বিভক্তি অর্থাৎ রক্তাক্ত বিভেদ কথিত শান্তিবাহিনীর স্বদেশে-স্বভূমিতে প্রত্যাবর্তনের পর। পার্বত্য চট্টগ্রামে সামরিক স্থাপনা স্থানীয় ভূমি সন্তানরা সুনজরে দেখেনি।

অনেকে মনে করেন, সেনা স্থাপনা ছিল একটি ভুল সিদ্ধান্ত। পার্বত্য জনগোষ্ঠীর দু'চারজন লেখক পত্রিকা কলামে তাদের রচনায় এমন মন্তব্য করেছেন। তুলে ধরেছেন কল্পনা চাকমার অপহরণ ও নিখোঁজ হওয়ার মতো একাধিক ঘটনা। এসব ঘটনা-রহস্যের মীমাংসা হয়নি। কাজেই অসন্তোষ ও অশান্তির বীজ রয়েই গেছে। তাতে মাঝেমধ্যে বিশেষ ঘটনার জল সেচনে অশান্তির বীজ অঙ্কুরিত হয়েছে। ক্রমশ এর বিস্তার ঘটেছে নানামাত্রিক চরিত্রে। রাজনীতির মাত্রাবদলও ঘটেছে চরমপন্থার হাত ধরে।

অশান্ত পাহাড়, উপদ্রুত পাহাড় তার পূর্ব-শান্তির পরিবেশ আর ফিরে পায়নি। মাঝেমধ্যে নিঃশব্দ নীরবতা। তারপর আবার রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ইতিমধ্যে ১৯৯৭ সালে স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি স্থানীয় মানুষের মনে আশার আলো ফুটিয়েছিল। সন্তু লারমার নেতৃত্বে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও ছোট একটি পাহাড়ি গ্রুপ তা মেনে নেয়নি। তারা আরও স্বশাসনের দাবি তুলে মূল দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অরণ্যের গোপন আস্তানায় ডেরা বাঁধে। শুরু হয় রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী মানুষের জন্য অশনিসংকেত এনে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের বড়সড় অংশে স্বস্তি ও শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। এ চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়তো পরিবেশের পরিবর্তন ঘটাতে পারত। উগ্র বিচ্ছিন্ন গ্রুপ আরও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যেত। কিন্তু শাসকশ্রেণির উদাসীনতার কারণে সে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। পরবর্তী দীর্ঘ সময়ে আমরা সংবাদপত্রের পাতায় পড়েছি, সন্তু লারমার আক্ষেপ আর আর্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে। মাঝেমধ্যে ইলোরা দেওয়ান প্রমুখের একই রকম দাবি প্রকাশ পেয়েছে সংবাদপত্রের কলামে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ফলে শান্তিচুক্তির বিরোধী পক্ষ ক্রমে অধিক শক্তি সঞ্চয় করেছে; তাদের স্থানিক জনসমর্থন ক্রমে বেড়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে নানামাত্রায় রাজনৈতিক মতভেদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিভেদের জের ধরে গুপ্তহত্যার ঘটনা বেড়েছে, রক্তে ভিজেছে আরও মাটি। দলীয় বিভাজন ঘটেছে একাধিক রাজনৈতিক ধারায়। সন্তু লারমার রাজনৈতিক ভিত, শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা আরও দুর্বল হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা এর পরিণামের দিকে ফিরে তাকায়নি। দেশের একটি অংশের অশান্তি যে গোটা ভুবনকে কোনো না কোনোভাবে স্পর্শ করে, সে হিসাব রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিবেচনায় আসেনি। ফলে চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়েছে। নানামাত্রিক সংঘাত মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। কখনও তা বাঙালি বনাম পাহাড়ি বিভেদে, আবার কখনও পাহাড়ি রাজনীতির অন্তদ্র্বন্দ্বের জের ধরে বিভেদ ও সংঘাত পাহাড়ি-পাহাড়িতে।

দুই. পার্বত্য চট্টগ্রামে এমন এক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে রক্তাক্ত অধ্যায়ের সূচনা। দেশের প্রতিটি দৈনিকে মোটা হরফে প্রথম পাতায় সংবাদ-শিরোনাম সামান্য ভিন্নতায়- 'ফের ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত', 'পাহাড় উত্তপ্ত', 'কার্যালয়ের সামনে গুলিতে উপজেলা চেয়ারম্যান খুন', 'দিনেদুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা' ইত্যাদি (৪.৫.২০১৮)।

একটি দৈনিকে ঠিকই লেখা হয়েছে, 'অন্তত চারটি ধারায় বিভক্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনীতি এবং এ বিভক্তিরই সর্বশেষ পরিণাম, বলি হলেন নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা। তিনি ছিলেন জনসংহতি সমিতির একাংশের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি।' এ মূল দল জনসংহতি ভেঙে নতুন এ দলের জন্ম।

এরপর তো পার্বত্য রাজনীতিতে বিভক্তির পর বিভক্তি- চরমপন্থি বনাম উদারপন্থি (প্রথমোক্তের মতে আপসবাদী)। বিভক্তি মূলত পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে। যথারীতি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ তাতে জ্বালানি যোগ করে। এ রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার কথা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি, যা জনসংহতি তথা সন্তু লারমার উদারনীতির ওপর আঘাত হেনেছে।

পাহাড়ি সমাজের মূল স্বার্থের কথা না ভেবে পাহাড়ি নেতৃত্ব কথিত আদর্শিক কর্মসূচির নামে যে বিভক্তির সূচনা ঘটনায়, তার পরিণামে ভ্রাতৃঘাতী দ্বন্দ্বের জের ধরে একের পর এক খুন- ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া। আত্মঘাতী এ দ্বন্দ্বের মূঢ়তায় তিন দলের পারস্পরিক সংঘাতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত খুনের সংখ্যা দাঁড়ায় ছয় শতাধিক। এত রক্তপাতের পরও এদের বোধোদয় ঘটেনি। এর পেছনে যতটা আদর্শিক বিভাজন, তার চেয়ে বেশি কাজ করেছে নেতৃত্ব অর্জনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা- যেমনটি বিশ্বরাজনীতির পরিসরেও প্রায়শ দেখা গেছে, এখনও দেখা যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম এ দূষিত রাজনৈতিক ঐতিহ্যের ঘোর চক্কর থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি; জনহিতৈষণা ভুল পথ ধরে হেঁটেছে। এখনও হাঁটছে।

এমনি ধারার বিভাজন, সংঘাত ও হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই একটি ঘটনা হয়তোবা শক্তিমান চাকমা হত্যাকাণ্ডের ভিত তৈরি করেছিল। আর তা হলো, ইউপিডিএফ সমর্থিত হিল উইমেন্স ফেডারেশনের দুই নেত্রী মন্টি চাকমা ও দয়াসোনা চাকমা অপহরণ। এ ঘটনায় শক্তিমান চাকমা ও তপনজ্যোতি চাকমাকে দায়ী করা হয়, যথারীতি মামলাও হয়। অপহৃত রা ফেরেননি কল্পনা চাকমার মতোই। আর এর মীমাংসাও একই নিয়মে ঝুলে থাকে আরও রক্তপাতের নিঃশব্দ ঘণ্টা বাজিয়ে।

এই আশঙ্কার প্রথম বলিই সম্ভবত শক্তিমান চাকমা। রাজনৈতিক অসহিষুষ্ণতা এবং রক্তাক্ত চরমপন্থা যে রসায়নশাস্ত্রের 'চেইন রিঅ্যাকশন'-এর মতো ক্রমান্বয়ে রক্তাক্ত ঘটনাই ঘটাতে থাকে- এই চরম সত্যটি রাজনৈতিক নেতাদের বোধোদয়ে থাকে না। তাৎক্ষণিক প্রয়োজন বা প্রাপ্তি বা প্রত্যাশাই সব যুক্তি ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠে। বলাই বাহুল্য, এর পরিণাম কখনও শুভ হয় না, এ ক্ষেত্রেও হয়নি।

একটি সহিংসতা পাল্টা সহিংসতা ডেকে আনে। হয়তো এমন বিবেচনা থেকে অবিভক্ত ভারতে-বঙ্গে রবীন্দ্রনাথ দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নেও হিংসাশ্রয়ী গুপ্তহত্যার পক্ষে ছিলেন না, ওই পদ্ধতি সমর্থন করেননি। আর এ কথাও ঠিক যে, এ জাতীয় হত্যাকাণ্ড মতাদর্শগত বিভাজনই ডেকে আনে, তাতে জনসমর্থন বৃদ্ধির কোনো আলামত লক্ষ্য করা যায় না। চট্টগ্রামের পাহাড়ি রাজনীতি অদ্ভুত এক আত্মঘাতী বিভাজনের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। যুক্তি ও সহিষুষ্ণতাবোধ ছাড়া এ জটিলতা থেকে মুক্তির সম্ভাবনা নেই।

এসব বিবেচনায়ই কিনা জানি না, আত্মঘাতী ও ভ্রাতৃঘাতী রক্তাক্ত দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান বলেছেন :'নিজেদের ছায়ার সঙ্গেই সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে পাহাড়ের রাজনৈতিক দলগুলো। সবাই অধিকারের কথা বললেও তা আদায়ের পদ্ধতি একেক দলের একেক রকম। এখানে পারস্পরিক অবিশ্বাসও দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এটি দূর করে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনা উচিত।'

গৌতম দেওয়ানের অজানা থাকার কথা নয় যে, এখানে 'পারস্পরিক অবিশ্বাস' নয়, এমনকি আদর্শগত বিভেদও ততটা নয়, যতটা ক্ষমতা ও নেতৃত্বের টান অনৈক্যের মূল কারণ। পার্বত্য চট্টগ্রামবাসী পাহাড়ি জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও দাবি আদায়ের বিষয়গুলো এখন আর রাজনৈতিক নেতাদের মূল অর্জনের বিষয় নয়। বিষয় মূলত ব্যক্তিস্বার্থ এবং অথবা চরমপন্থার উন্মাদনা।

এ লেখা শেষ হতে না হতেই (৪.৫.২০১৮) পূর্বোক্ত আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত করে শক্তিমান চাকমার শবযাত্রাতেই আবারও হামলা : 'ব্রাশফায়ারে ৫ খুন'। বলাই বাহুল্য, এবারের বলি দ্বিতীয় অভিযুক্ত তপনজ্যোতি চাকমা। ঘটনার নমুনা দেখে পশ্চিমবঙ্গে সত্তরের দশকের হানাহানির কথা- 'আবারও লাশ পড়ল' শব্দগুলো মনে পড়ে যায়। কী হয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিণাম- আমাদের পাহাড়ি নেতারা একবার পেছন ফিরে তা ভেবে দেখতে পারেন, তাতে আখেরে তাদের লাভ বই লোকসান হবে না।

ওখানকার ঘটনা ছিল অবশ্য ভিন্ন, যা খতমের রাজনীতি নামে পরিচিত। পরে বিভাজনের প্রতিক্রিয়ায় পক্ষে-প্রতিপক্ষের লাশ পড়েছে, তাতে লাভ হয়েছে শাসকশ্রেণির। তাই তারা নীরবে ওই আত্মঘাতী ঘটনা লক্ষ্য করেছে, স্বস্তি অনুভব করেছে। এখানেও রাজনীতি ভিন্ন পরিচয় দিচ্ছে না। আমাদের ধারণা, এরপরও যুক্তি প্রাধান্য পাবে না, হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়াই শক্তিমান হয়ে উঠবে এবং একের পর এক 'চেইন রিঅ্যাকশন' ঘটাতে থাকবে, অর্থাৎ লাশ পড়বে।

ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ড নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি-পাল্টা দাবি শুরু হয়ে গেছে, যেমনটি সাধারণত এসব ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। তপনজ্যোতির গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য চরমপন্থি ইউপিডিএফকে দায়ী করেছে, যারা আবার এ হত্যাকাণ্ডের দায় যথারীতি অস্বীকার করেছে। এসব ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় আতঙ্কিত স্থানীয় এলাকাবাসী। তাদের কেউ কেউ হয়তো বুঝতে পারছেন, এ আত্মঘাতী মূঢ়তার অবশেষ পরিণাম কী হতে পারে।

এ পরিণাম যে রাজনৈতিক বিবেচনায় জনস্বার্থের পক্ষে নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু না বোঝে অন্ধ, স্বার্থপর রাজনীতি, যা জনস্বার্থের পক্ষে নয়। ক্রোধ, হিংসা, কান্না ও আর্তিতে পাহাড়ের স্নিগ্ধ বাতাস এখন ভারি। আমাদের আশঙ্কা আবারও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার। এ ক্রমান্বয় রক্তধারা বন্ধ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ বিন্দুতে দাঁড়িয়ে ন্যায়নিষ্ঠ পথে তাদের কর্তব্য সম্পন্ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে উদাসীনতার কোনো সুযোগ নেই। এটা জাতীয় কর্তব্য।

অন্যদিকে এ সমস্যার সমাধান, অর্থাৎ পাহাড় যাতে ফের রক্তাক্ত না হয়, তার জন্য বড় দায় পালন করতে হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের সুশীল সমাজকে, রাজনৈতিক চেতনা বিচারে উদারপন্থিদের। 'দাঁতের বদলে দাঁত'- এমন নীতি পরিহার করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পথ ধরে এগোতে হবে। পাহাড়ি জনগণের আস্থাভাজন, শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিদের, তরুণ বা বয়োবৃদ্ধদের এ লক্ষ্য অর্জনে অবিলম্বে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে পাহাড়ে আর যেন রক্তপাত না ঘটে, লাশ না পড়ে।

রাজনৈতিক মতভেদ মেনে নিয়েও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির আদর্শ সামনে তুলে ধরতে হবে। বড় বিষয় হলো ঐক্য- পাহাড়ি জনগণের আর্থ-সামাজিক স্বার্থ অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে। পদ্ধতির ভিন্নতা আলোচনার মাধ্যমে যদি বা শেষ না হয়, তাহলেও যে যার মত ধরে চলুক ভিন্নমতকে সম্মান করে। যত মত তত পথ তো বহুকালের নীতিবাক্য।

আমরা চাই, মত ও পথের ভিন্নতার মধ্যেই পাহাড়ে শান্তির ফুল ফুটুক; মানুষের জীবনযাত্রা সহজ, সুন্দর, স্বচ্ছন্দ ও শঙ্কামুক্ত হোক। এমন প্রত্যাশা তো মানুষ রাজনীতিকদের কাছে করতেই পারেন। রাজনৈতিক নেতারাই তো বলে থাকেন, তারা জনগণের সেবক, জনগণের স্বার্থরক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ। প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অঞ্চলের দাবি পূরণে।

এমন দাবি যখন সব দলেরই, তখন আর বৃথা রক্তপাত, বৃথা প্রাণহানি নয়।

ভাষাসংগ্রামী, কবি, প্রাবন্ধিক ও রবীন্দ্র গবেষক


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় ও মন্তব্য বিভাগের অন্যান্য সংবাদ