'অকার্যকর' ছাত্র সংসদ

এই ডাকসু লইয়া আমরা কী করিব

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ২৮ বছর পর এ বছরের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্বাচনের ছয় মাস পর এসে সমকালের মঙ্গলবারের প্রতিবেদনে আমরা দেখছি 'ডাকসু অনেকটাই অকার্যকর'। ডাকসু নির্বাচনের সময় ছাত্রনেতাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সিংহভাগ বাস্তবায়ন না হওয়ার চেয়েও বিস্ময়, এখন পর্যন্ত ডাকসুর অভিষেক অনুষ্ঠানই হয়নি। ডাকসুর কাজে স্থবিরতার পেছনে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের যে বিষয়টি সমকালের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা শুরু থেকেই আমরা দেখে এসেছি। ছাত্রলীগের সঙ্গে কোটাবিরোধী আন্দোলনের পুরনো দ্বন্দ্ব ডাকসুতে এসেও প্রকট হবে, সেটি বিশ্বাস করা লজ্জার। বিশেষ করে ডাকসু কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই নয় বরং জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বৃহৎ স্বার্থে ক্ষুদ্রতর বিরোধের অবসান ঘটাই ছিল স্বাভাবিক। কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে ডাকসুর নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুরের ডাকসুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ খারাপ দৃষ্টান্ত হিসেবেই থাকবে। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এমনিতেই সমস্যার অন্ত নেই। এসব সমস্যার সমাধানে এতদিন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কথা বলার জন্য শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম ছিল না বললেই চলে। ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সে অবস্থা তৈরি হলেও গত ছয় মাসের কার্যক্রম আমাদের হতাশ না করে পারে না। এটা ঠিক যে, আবাসন সংকট, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, পরিবহন সমস্যাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক দিনের এসব সমস্যার রাতারাতি সমাধান নেই। তবে দীর্ঘমেয়াদেও এগুলোর সমাধান নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ না নেওয়ার দায় ডাকসু নেতৃত্ব এড়াতে পারে না। ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিক্ষিপ্ত-বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছেন, তা সত্য হলেও সম্মিলিতভাবে ডাকসুর বড় ধরনের কার্যক্রম হয়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন। ডাকসুর সঙ্গে হল সংসদ নির্বাচন হলেও সেগুলোও ধুঁকছে বলে সমকালের আলোচ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর বিপরীতে বিভিন্ন হল সংসদের ভিপি-জিএসের বিরুদ্ধে হল ক্যন্টিনে চাঁদাবাজির যে অভিযোগ উঠেছে, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। খাবারের মান বৃদ্ধি যেখানে ডাকসু নেতাদের প্রতিশ্রুতি, সেখানে ক্যান্টিনে ফাও খাওয়া ও চাঁদাবাজি খাবারের মান বৃদ্ধি তো করবেই না বরং তার ফল হবে উল্টো। এসব ক্ষেত্রে ডাকসু তো বটেই, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের ভূমিকাও কাম্য। তবে ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী যে বলেছেন, 'সীমাবদ্ধতা আছে, সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই'- তাতে আমরা আশ্বস্ত হতে চাই। ডাকসুর সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের ডাকসু বিষয়ে হতাশ না হওয়ার মন্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা মনে করি, সবার অভিভাবক হিসেবে তার ইতিবাচক ভূমিকা ডাকসুকে কার্যকর করতে সহায়তা করবে। নেতৃত্বের পারস্পরিক বিরোধ মিটিয়ে ডাকসুকে এগিয়ে নিতে তিনি পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস। নচেৎ এই 'অকার্যকর' ডাকসু লইয়া আমরা কী করিব। এটি না পারবে শিক্ষার্থীদের সমস্যা দূর করতে, না পারবে জাতির প্রত্যাশা পূরণে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি করতে।


মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের অন্যান্য সংবাদ