বাড়তি ধান সংগ্রহ

সময়ের কাজ সময়ে করলেই ভালো

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৯

কৃষকদের কাছ থেকে আরও আড়াই লাখ টন ধান কিনবে সরকার- মঙ্গলবার কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী যৌথভাবে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। প্রয়োজনে আরও সংগ্রহ করার কথাও জানিয়েছেন তারা। এর আগে সরকার দেড় লাখ টন ধান সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছিল। এর বাইরেও খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রতি বছরের মতো এবারও চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে। আমাদের জানা আছে, এপ্রিলের শেষ দিকে যখন নতুন বোরো ধান উঠতে শুরু করে, তখন দেশের নানা স্থানে কৃষকদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। খাদ্য মন্ত্রণালয় প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা দরে ৪০ কেজি এক হাজার ৪০ টাকায় কিনতে চেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কৃষকরা এর অর্ধেক কিংবা এমনকি আরও কম দামে নতুন ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। কারণ খাদ্য মন্ত্রণালয় তখনও বাজারে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করেনি। পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করেন খাদ্য ব্যবসায়ীরা। তারা অতি সস্তায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনে মজুদ করেছে। কোথাও কোথাও দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীসহ প্রভাবশালী একটি মহল কৃষকদের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে ৪০ কেজি এক হাজার ৪০ টাকা দরে সরকারের গুদামে তুলে দিচ্ছে। এভাবে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য প্রদানের উদ্দেশ্য অনেকটা ভণ্ডুল হয়ে যায়। নতুন করে দেড় লাখ টন ধান কেনার সুবিধা যেন প্রকৃত কৃষকরা পায়, সেটা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে যারা ধান সস্তা দরে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে, তাদের দিকটিও দেখতে হবে। গবেষণা সংস্থা সিপিডি বা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাঁচ হাজার টাকা করে প্রদানের সুপারিশ করেছে। এ প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখা যায়। কৃষিমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের ফলে প্রকৃত কৃষকরা খুব একটা লাভবান হয় না। মধ্যস্বত্বভোগীরাই সংগ্রহ মূল্যে আসল সুবিধা ভোগ করে। আমরা আশা করব, খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় খাদ্যশস্য সংগ্রহের পদ্ধতি বিবেচনায় নেবে। এ ক্ষেত্রে মূল লক্ষ্য হতে হবে কৃষকদের প্রণোদনা বাড়ানো। সরকারকে সময়মতো খাদ্যশস্য সংগ্রহে নামতে হবে। কৃষকরা যেন ধান চাষে নিরুৎসাহিত না হয়, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে রাখার জন্য বীজ, সার, সেচের পানি ও কীটনাশকে সরকার ভর্তুকি বাড়ানোর কথা ভাবতে পারে। এতে ধান-চালের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। চাল রফতানির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। সংশ্নিষ্টদের এটা জানা যে, রফতানি বাজারের জন্য চাল উৎপাদন থেকে সংরক্ষণ, পুরো প্রক্রিয়ার প্রতি নজর রাখা চাই। কৃষক, খাদ্য ব্যবসায়ী, ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা না গেলে রফতানির উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।


মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের অন্যান্য সংবাদ