শৃঙ্খলা কায়েমের অঙ্গীকার

চাই নিরাপদ-গতিময় সড়ক

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোই প্রধান কাজ- সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যকে আমরা স্বাগত জানাই। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি ঢাকা থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং গোপালগঞ্জের টুুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে মন্ত্রীদের শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচিতে প্রাইভেটকারের পরিবর্তে বাসে যাতায়াতের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, এর ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কম হয়েছে। প্রতিদিন মন্ত্রীদের তাদের বাসভবন থেকে সচিবালয়ে একযোগে বাসে নেওয়া যায় কি-না- এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিবেচনায় রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। সন্দেহ নেই, তার এ বক্তব্য একটি জনকল্যাণকারী সরকারের কাছে দেশবাসীর প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুলভাবে জয়ী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী চমক দিয়েছেন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীদের বড় অংশকে মন্ত্রিসভার বাইরে রেখে। সব মহল থেকেই এ পদক্ষেপের প্রশংসা মিলছে। যে কোনো দেশেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের জীবনযাপন আমজনতা ও গণমাধ্যমের নজরদারিতে থাকে। তাদের কোনো কাজ নিছক মানুষকে সাময়িক মুগ্ধ করার জন্য, আর প্রকৃতই আন্তরিকতার সঙ্গে কী কী তারা করছেন, সেটা সহজেই ধরা পড়ে। মন্ত্রী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা রাজপথে চলার সময় প্রটোকল সুবিধা পেতেই পারেন। জনগণ কেবল দেখতে চায়, রাজপথে শৃঙ্খলা বিধানে সরকার কতটা আন্তরিক।

আমাদের রাজপথে নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা যে যথেষ্ট, সেটা নিয়ে দ্বিমত নেই। ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এর কারণ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের তরফে সৃষ্ট বাধার কথাও বলেছেন। মানুষের সচেতনতার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন অবকাঠামোগত উন্নতির কথা। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সড়ক-মহাসড়ক প্রশস্ত করা প্রভৃতি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর অভ্যন্তরে এবং মহাসড়কে পথের বাধা অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় জনগণের ট্যাক্সের অর্থে। এ অর্থের যেন অপচয় না হয়, দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে যেন ব্যয় বেড়ে না যায়, সেটাও জনপ্রত্যাশা। যদি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সাধারণের কাতারের কাছাকাছি জীবনাচরণ দৃশ্যমান হয়, যদি সড়ক-নৌ-রেলপথে অনাকাঙ্ক্ষিত বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের পাশে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমর্থন-সহযোগিতার ঘটনা না থাকে, তাহলে পথের শৃঙ্খলা ফেরাতে যে কোনো পদক্ষেপে জনসমর্থন যে অনেকটাই বেড়ে যাবে, সেটা নিশ্চিত করে বলা যায়। সড়ক-নৌপথ বহুদিন ধরেই রাহুর গ্রাসে পড়ে আছে- এভাবেই আমরা দেখে অভ্যস্ত। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এটা ভাঙার জন্য যে পদক্ষেপ নেবেন, তার প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন মিলবেই। সবচেয়ে খুশি হবে সেসব কিশোর-তরুণ-তরুণী, যারা গত বছর আগস্ট মাসে নিরাপদ সড়কপথের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছিল। পথে কী কী বাধা, সেটা তারা সবাইকে দেখিয়ে দিয়েছিল। এটা নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, সড়কপথে শৃঙ্খলা কায়েম করা সম্ভব হলে গতি মন্থরতার নিদারুণ যন্ত্রণা থেকেও মিলবে রেহাই।


মন্তব্য

সম্পাদকীয় বিভাগের অন্যান্য সংবাদ