জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন

কুকুরের কাজ ও মানুষের অকাজ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বিনামূল্যের ভ্যাকসিন 'অর্ধেক দামে' বিক্রির যে চিত্র শুক্রবারের সমকালে প্রকাশ হয়েছে, তা দুর্নীতি ছাড়া আর কিছু হতে পারে না। এটা ঠিক, 'র‌্যাবিক্স-আইজি' ভ্যাকসিন সব রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয় না এবং এর সরবরাহও সীমিত। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক সমকালকে বলেছেন, দেশব্যাপীই দিনে ২৫-৩০ হাজার ইউনিট ভ্যাকসিন বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়। এটাও ঠিক, সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ঢাকা ও এর আশপাশের রোগীরা আসায় চাহিদা অনেক বেশি। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, দেশে দিনে কি ২৫-৩০ হাজার বিশেষ ধরনের জলাতঙ্ক রোগী হাসপাতালে আসে যে, র‌্যাবিক্স-আইজি সরবরাহে টান পড়ে? টান পড়লেও তা বাইরে থেকে কেনা যেতেই পারে। কিন্তু খোদ সরকারি হাসপাতালে তা 'অর্ধেক দামে' বিক্রি হবে কেন? এই অর্থ কোথায় যায়, তার হিসাব কি কর্তৃপক্ষের কাছে আছে? আমরা দেখতে চাইব, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। প্রশ্ন আরও আছে। তিন হাজার টাকার মতো উচ্চমূল্যের এই ওষুধ সবাই কি সময়মতো কিনতে পারে? সমকালের প্রতিবেদকই দেখেছেন, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার অস্থায়ী গৃহকর্মী ও দারোয়ান দম্পতি তাদের সন্তানের জন্য এই টিকার দাম কতটা ক্লেশে জোগাড় করেছেন। নিম্নবিত্ত অনেকের পক্ষেই স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এই অর্থ জোগাড় করা কঠিন। অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে যদি রোগীর জটিলতা তৈরি হয়, সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার দায় কি এড়াতে পারে? কুকুরের কাজ কুকুর করেছে- কবি এই আপ্তবাক্য বলে গেছেন। এও বলে গেছেন যে, পাল্টা কামড় দেওয়া মানুষের শোভা পায় না। কিন্তু কুকুর-বিড়ালের কামড় খেয়ে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের অসহায়ত্ব পুঁজি করে বিনামূল্যের ওষুধ বিক্রি করা কি আরেকটি কামড় দেওয়া নয়? হাসপাতালের বিনামূল্যের ওষুধ মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাইরে কিনতে পাঠানোও সমান অকাজ। এই হয়রানি ও ভোগান্তি অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। বরাদ্দ ওষুধ কোন কোন রোগীকে দেওয়া হয়েছে, তার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ তথ্য সংরক্ষণ করলেই দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমবে।


মন্তব্য যোগ করুণ

সম্পাদকীয় বিভাগের অন্যান্য সংবাদ