চেনা শিল্পীর অচেনা ভুবন

সুরের ভুবন

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

চেনা শিল্পীর অচেনা ভুবন

জন কে লোগান বলেছেন, 'মিউজিক ইজ দ্য মেডিসিন অব হার্ট'। সত্যিই তাই, ক্লান্তি কিংবা অবসন্ন মনে ভালো লাগার পরশ বুলিয়ে দিতে প্রয়োজন ভালো সঙ্গীতের। কিন্তু ভুবন বিখ্যাত অনেক গান ও গায়ক সম্পর্কে আমরা কতটা জানি? রক অ্যান্ড রোল জগৎ আলো করা কয়েকজন গায়ক ও ব্যান্ড দলের অজানা কিছু দিক নিয়ে লিখেছেন তাজবীর তন্ময়

বিটলস-এর তিন

একটি গান- ৮ মিনিট- ১৪টি শব্দ

বিটলসের 'আই ওয়ান্ট ইউ (সি ইজ সো হেভি)' নামক আট মিনিটের গানটির লিরিক আট শব্দের। শিরোনামসহ গানের শব্দ সংখ্যা ১৪। বাকি আটটি শব্দ হচ্ছে 'ইটস সো ব্যাড/ ইটস ড্রাইভিং মি ম্যাড/ বেবি ইয়াহ'। ১৪ শর্ব্দেব মোহনীয়তায় শ্রোতাদের আট মিনিট মুগ্ধ করে রাখার ক্ষমতা হয়তো শুধু বিটলসের মতো ব্যান্ডেরই আছে।

নিজের কণ্ঠকে অপছন্দ করতেন জন লেনন

হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, রক মিউজিকের সেরা গায়কদের একজন এই তারকা তার নিজের কণ্ঠকে ঘৃণা করতেন। যে কোনো গান রেকর্ডের সময়ই নিজের কণ্ঠ শুনে বিরক্ত হতেন এবং নিজের গাওয়া গানগুলো ডাবল ট্র্যাক করতে চাইতেন। প্রায়ই বিটলসের প্রডিউসার জর্জ মারটিনকে তিনি অনুরোধ করতেন, যে কোনোভাবে গানে তার কণ্ঠগুলো বদলে দিতে, দরকার হলে টমেটো সস দিয়ে মাখিয়ে হলেও যেন বদলে দেওয়া হয়।

একই গোয়ালের গরু!

'বিটলস' ব্যান্ডের সদস্যদের জন্মের সময় এবং স্থান আশ্চর্য রকমভাবে মিলে গেছে, যা হয়নি অন্য কোনো ব্যান্ডের ক্ষেত্রে। জন লেনন এবং রিনগো স্টারের জন্ম যথাক্রমে ১৯৪০ সালের ৯ অক্টোবর এবং ৭ জুলাই। জর্জ হ্যারিসনের জন্ম ১৯৪৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। পাউল মেকার্টনির জন্ম ১৯৪২ সালের ১৮ জুন। চারজনের জন্মই ইংল্যান্ডের লিভারপুলে। এমন অবাক করার মতো ব্যাপারটাকে কি আমরা কাকতালীয় বলব নাকি এমনই প্ল্যান ছিল স্বয়ং সৃষ্টিকর্তার?

'নেভার মাইন্ড'-এর উদ্বোধনীতে বের করে দেওয়া হয় 'নির্ভানা' ব্যান্ডের সদস্যদের

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ১৯৯২ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে নিজেদের অ্যালবাম 'নেভার মাইন্ড'-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল 'নির্ভানা' ব্যান্ডের সদস্যদের। মূলত ঘটনার সূত্রপাত 'নভেম্ব্বর রেইন' গানটি নিয়ে। কার্ট কোবেইন গানস্‌ ন' রোজেসের গান পছন্দ করতেন না, তাই পিয়ানোতে অ্যাঙ্গেল রোজকে 'নভেম্ব্বর রেইন' বাজাতে নিষেধ করেন; রোজ তার নির্দেশ অমান্য করেন, ফলে শুরু হয় হাতাহাতি। একজন আরেকজনের দিকে খাবার ছুড়ে মারেন। পিয়ানোর ওপর কোর্টনি লাভ এবং কোবেইন থুথু ছিটান, এমনকি প্রস্রাব করারও চেষ্টা করেন। সে সময়ে কোর্টনি লাভ এবং কার্ট কোবেইনকে বের করে দেওয়া হয় বার থেকে। অ্যাঙ্গেল রোজের বদলে সেদিন পিয়ানো বাজান এলিট জন।

১০ মিনিটের সৃষ্টি 'ক্রেজি লিটল থিং কল্ড লাভ'

ফ্রেডি মারকিউরির তথ্য অনুযায়ী, মিউনিখের এক হোটেলে বাথটাবে থাকা অবস্থায় গিটারের সাহায্যে তিনি 'ক্রেজি লিটল থিং কল্ড লাভ' গানটি কম্পোজ করেন, সময় নিয়েছিলেন ১০ মিনিটের মতো। মূলত, এলভিস প্রেসলির প্রতি ট্রিবিউট হিসেবে মারকিউরি গানটি লিখেন। লেখা শেষ করেই তিনি স্টুডিওতে গিয়ে রজার টেইলর ও জন ডেকনকে গানটি দেখান। অতঃপর মিউনিখেই গানটি রেকর্ড করেন। পুরো গানটা প্রস্তুত করতে সময় লাগে আধা ঘণ্টার মতো। উল্লেখ্য, 'ক্রেজি লিটল থিং কল্ড লাভ' গাওয়ার সময় ফ্রেডি মারকিউরি কনসার্টে জনসমক্ষে প্রথম গিটার বাজান।

পিঙ্ক ফ্লয়েডের 'হরিষে বিষাদ'!

পিঙ্ক ফ্লয়েডের 'ডার্ক সাইড অব দ্য মুন' অ্যালবামটি বিক্রি হয় ৪৫ মিলিয়ন কপি। বিলবোর্ডের তালিকায় ছিল ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত টানা ৭৪১ সপ্তাহ। ইতিহাসের সফলতম অ্যালবামের মধ্যে অন্যতম পিঙ্ক ফ্লয়েডের এ অ্যালবামটি। এই অ্যালবাম থেকে উপার্জিত অর্থ ব্যান্ডের সদস্যরা বিনিয়োগ করেন- ভাসমান রেস্টুরেন্ট, বাহারি আইসক্রিম বার, কম্পিউটার গেম, স্কেটবোর্ড কোম্পানি, মুভি, রেন্ট-এ কার ও বাচ্চাদের জুতার দোকানে। দুঃখের বিষয়, তাদের সব ব্যবসা বিপুল লোকসানে পড়ে এবং বিরাট ভরাডুবির সম্মুখিন হয়। হ


মন্তব্য