গবেষণায় ক্যারিয়ার

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

গবেষণায় ক্যারিয়ার

  সজীব রায়

লেখাপড়া শেষ করে প্রত্যেক শিক্ষার্থী ছোটেন চাকরি নামক সোনার হরিণের পেছনে। স্বপ্ন থাকে নিজের পছন্দমতো চাকরি করে সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিযোগিতামূলক এই চাকরির বাজারে অনেকেই নিজের পছন্দ অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে হতাশ হয়ে যান।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ বড় প্রতিষ্ঠানের ভালো মানের চাকরির পূর্ব শর্তই হচ্ছে অভিজ্ঞতা। হাজারো চাকরিপ্রত্যাশী অভিজ্ঞর ভিড়ে নিজের চাকরির অভিজ্ঞতা না থাকায় আপনি কি নিজেকে দুর্বল মনে করছেন? নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও প্রত্যাশিত চাকরি না পেয়ে নিজের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলছেন? যদি তাই হয়, তবে এখনই নিজেকে বদলে নিন। নিজের মধ্যে আস্থা খুঁজুন। ভাবনাটাকে একটু প্রসারিত করুন, লক্ষ্য স্থির করুন, চারদিক একটু ভালো করে তাকান। দেখবেন, ঠিকই সহজ এবং ভালো একটা সুযোগ আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। গবেষণায় ক্যারিয়ার হতে পারে আপনার জন্য দারুণ সুযোগ।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আপনি হয়তো নানা বিষয়ের ওপর একাডেমিক রিসার্চ করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অভিজ্ঞতাকেই নিজের কর্মজীবনে প্রয়োগের সুযোগ পাবেন এই কর্মক্ষেত্রে। এই চাকরি অন্য আর দশটা চাকরি থেকে অন্যরকম। অনেকটা স্বাধীন এবং বুদ্ধিদীপ্ত। অথচ এতে প্রবেশ খুবই সহজ। চাকরির মান, স্যালারিও স্মার্ট।

আসুন এবার তাহলে জানা যাক কোথায় কী সুযোগ অপেক্ষা করছে-

কর্মক্ষেত্র : দেশে বিভিন্ন সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকের পাশাপাশি গবেষণা কাজের জন্য বিশেষ লোকবলের প্রয়োজন হচ্ছে। এই বিশেষ পদগুলোতে রয়েছে দারুণ সুযোগ। এ ছাড়াও বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই আছে রিসার্চ সেল। বাংলাদেশের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক-বীমা-ইন্স্যুরেন্স, ফার্ম, দেশি-বিদেশি এনজিও ইত্যাদিতে প্রতিনিয়ত গবেষণার কাজ হচ্ছে। এদের মধ্যে অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আছে বিশেষায়িত। নিরাপত্তা, শিক্ষা, দুর্নীতি, মানবাধিকার, জলবায়ু, পোশাক খাত, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গবেষণা করে আসছে। দেশের শীর্ষ গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- সিপিডি, টিআইবি, বিআইএসএস, বিপস, বিইআই, আসক, রামরু, ব্র্যাক, ব্রি, সুজন, সিএমইএস, বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থা, জানিপপ। এসব প্রতিষ্ঠানে আপনি সম্মানজনক ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। এ ছাড়া দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়নে বহু গবেষণা করে থাকে। ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটরা এখানে কাজ করার সুযোগ পান।

মেধাকে কাজে লাগাতে হবে :এই চাকরির পুরো সময়টাই আপনার মেধাকে কাজে লাগাতে হবে। নিজের অর্জিত জ্ঞানের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে ভালো ধারণা থাকতে হবে।

সাধারণত প্রজেক্ট ও গবেষণার ওপরই নির্ভর করে এই চাকরি। কাজের সময়সীমা আপনার এবং প্রতিষ্ঠানের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারণ হয়। অনেকেই শুরুতে ছোটখাটো গবেষণা করে নিজের অভিজ্ঞতার ঝুলিটাকে দীর্ঘ করেন, তারপর বড়সড় গবেষণায় মনোনিবেশ করেন। এর মাধ্যমে সমাজ এবং রাষ্ট্র যেমন উপকৃত হয়, তেমনি জনপ্রিয়তাও পাওয়া যায় সহজে। আর রোজগার তো আছেই! সাধারণত আপনার মেধার জোরেই এ গবেষণাকে আপন করতে পারেন।

কাজের সময়সীমা : ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন এক মাস ও সর্বোচ্চ দুই বছর বা তার বেশি হতে পারে। তবে সাধারণত দুই বছরের বেশি সময় লাগে না। যেহেতু এটা প্রজেক্টকেন্দ্রিক হয়ে থাকে, তাই প্রজেক্টের সময়সীমা হলো গবেষণার সময়সীমা। গবেষণায় নামার আগে ভালোভাবে নিয়ম-কানুন জেনে নিতে হবে।

যেভাবে খোঁজখবর নেবেন : মূলত অনলাইন জব পোর্টালগুলোতে নিয়মিত পাওয়া যায় এমন গবেষণার খোঁজখবর। কিছু প্রতিষ্ঠান দৈনিক পত্রিকাতেও গবেষণার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে থাকে। নিয়মিত খোঁজখবর রাখলে সহজেই পেতে পারেন তথ্য। তবে আপনি যদি সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে নিয়মিত চোখ রাখেন সেটা হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আর্থিক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা : আপনার গবেষণার প্রতিষ্ঠান যদি ভালোমানের হয়, তবে প্রায় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাই পাবেন। যেমন- ট্রান্সপোর্ট, বাসস্থান, বোনাস-ভাতা, বেতনাদি। তবে গবেষণায় সবচেয়ে বড় সুযোগ হলো, এখানে আপনি পরিপূর্ণ স্বাধীনতা পাবেন। ভালো প্রতিষ্ঠান একজন রিসার্চ অফিসার কিংবা রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টকে চাকরির শুরুতেই ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বেতন দেয়। ৬ মাস পর সেটি আরও বেড়ে যায়। তবে ইউএসএইড, ইউএনডিপি, ইউসেপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুযোগ পেলে তো কথাই নেই। এসব প্রতিষ্ঠান শুরুতে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন দিয়ে থাকে। এ ছাড়া গবেষকরা গবেষণার কাজে বিদেশ সফরের সুযোগ পেয়ে থাকেন।

মনে রাখতে হবে, আপনি যে কাজটিই করতে চান না কেন, আপনার চেষ্টা থাকতে হবে। আপনাকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনার সঠিক সিদ্ধান্তই আপানকে আপনার সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।


মন্তব্য যোগ করুণ