রাজশাহীর আমগাছে আগাম মুকুল

ভালো ফলনের আশায় চাষিরা

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

রাজশাহীর আমগাছে আগাম মুকুল

  রাজশাহী ব্যুরো

ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের এই পৌষ মাসেই রাজশাহীর গাছগুলোতে আসতে শুরু করেছে আমের মুকুল। আগাম মুকুল রক্ষায় চাষিরাও পরিচর্যায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন, কুয়াশা মুকুলের জন্য ক্ষতিকর। তবে সকাল-সকাল রোদ ওঠায় মুকুলের ক্ষতির মাত্রা কমছে। ঘন কুয়াশার সঙ্গে আকাশ রোদহীন হলে এসব গাছে আসা আমের আগাম মুকুল নষ্ট হয়ে যাবে। আর সেক্ষেত্রে ফলন বিপর্যয় ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাজশাহীর অনেক গাছেই মুকুল বের হয়েছে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে। কিছু কিছু গাছে মুকুল এসেছে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে। নগরীর ভাটাপাড়া এলাকার আবদুল মজিদ মেমোরিয়াল কিন্ডারগার্টেনের গাছে এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে আমের গুটি। এ ছাড়া নগরীর গৌরহাঙ্গা, শিরোইল, ভেড়িপাড়া, পুলিশ লাইন, মালোপাড়া, মেহেরচণ্ডি ও ভদ্রা আবাসিক এলাকায় দেখা গেছে, বেশ কিছু আমগাছে উঁকি দিচ্ছে মুকুল। মুকুলের সমারোহে ঢেকে গেছে গাছের পাতা। বাতাসে ছড়াচ্ছে সৌরভ। কীটপতঙ্গকুল মুকুলের মধু আহরণে ব্যস্ত সময় পার করছে। বসে নেই চাষিরাও। ঘন কুয়াশা থেকে মুকুল রক্ষায় গাছে প্রয়োগ করছেন ছত্রাকনাশক। রসহীন গাছের গোড়ায় সেচও দিচ্ছেন তারা।

আমচাষিরা বলছেন, সাধারণত জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে মুকুল আসে। এবার এসেছে জানুয়ারি মাসের শুরুতেই। তবে আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা কম। পুঠিয়া উপজেলার আমচাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার দুই সপ্তাহ আগেই মুকুল আসতে শুরু করেছে। পরিবেশ ও আবহাওয়া ভালো থাকায় এমনটা হয়েছে। তিনি বলেন, আকাশে কুয়াশা থাকলেও তা খুব বেশি নয়। সকালেই রোদ উঠে আকাশ ঝলমলে হয়ে যাচ্ছে। তাই মুকুলের ক্ষতি হবে না। চাষিরা তার পরও সতর্কতার সঙ্গে গাছে ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন।

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলীম উদ্দিন বলেন, আগাম মুকুল এলেও ফলনে কোনো সমস্যা নেই। ফলনেও সমস্যা হবে না। এটা অনেকাংশে নির্ভর করে জাতের ওপর।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, রাজশাহীতে প্রতি বছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। এবারও আসতে শুরু করেছে। ঘন কুয়াশার কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যাবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী মাঘ মাসে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছের মুকুল স্থায়ী হবে। সাধারণত সেটা সময়মতোই আসে। এবারও তা সময়মতো আসবে।


মন্তব্য যোগ করুণ