পাথরখেকোদের থামাবে কে

কোম্পানীগঞ্জ

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

পাথরখেকোদের থামাবে কে

সিলেটের ভোলাগঞ্জ পাথরকোয়ারি এলাকায় ঠেকানো যাচ্ছে না পাথর খেকোদের। বোমা মেশিন দিয়ে গর্ত করে পাথর তোলা রোধ করতে রোববার লিলাই বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়- সমকাল

  মুকিত রহমানী, সিলেট

সিলেটের পাথররাজ্যের প্রধান পাথর কোয়ারি কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে। দেশের বৃহৎ এই কোয়ারি থেকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাথর উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তবে কোয়ারি এলাকায় থেমে নেই পাথর উত্তোলন। নিষিদ্ধ বোমা মেশিনসহ বিভিন্ন উপায়ে পাথর উত্তোলন করছে একাধিক শক্তিশালী চক্র। অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে ভোলাগঞ্জের রেলওয়ে বাঙ্কার এলাকা, লিলাইবাজার, দয়ারবাজার, গুচ্ছগ্রাম, ধলাই নদী ও কালিবাড়ি এলাকার পরিবেশ আজ বিপন্ন। শুধু ভোলাগঞ্জ কোয়ারি এলাকা নয়, পার্শ্ববর্তী শাহ আরেফিন টিলাও আজ বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। প্রশাসনের বারবার অভিযানের মধ্যেও থেমে থাকেনি পাথরখেকোদের দৌরাত্ম্য। গর্ত করে পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে গত দু'বছরে মারা গেছেন ৬০ জনের মতো শ্রমিক। সর্বশেষ সোমবার শাহ আরেফিন টিলায় মারা যান দুই শ্রমিক। এ ছাড়া গত এক দশকে কোয়ারির আধিপত্য নিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কলেজছাত্রসহ আটজন।

অতীতে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনবিরোধী অভিযান কোনো বাধার সম্মুখীন না হলেও সোমবার হামলার শিকার হয় অভিযান দল। পাথরখেকো ও তাদের সহযোগীদের হামলায় আহত হন ১৫-২০ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক। নজিরবিহীন এ ঘটনায় হতভম্ব অনেকেই। এ অবস্থায় পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেবে এমন প্রশ্ন তুলেছে সাধারণ মানুষ। তারা মনে করছেন, মূল হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।

গত আগস্টে দৈনিক সমকালে ধারবাহিক তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত কয়েক মাস ধরে বোমা মেশিন বন্ধ ছিল ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারি এলাকায়। সম্প্রতি আবার বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় গত এক মাসে একাধিকবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। গত রোববার ও সোমবার পৃথক অভিযানে লিলাইবাজার এলাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫-৩০টি বোমা মেশিন জব্দ করা হয়। সোমবার অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয় অভিযান দল। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে উপজেলার কালিবাড়ি গ্রামের আব্দুল আজিজ, মাহমুদ হোসেন, সিরাজুল, কয়েছ মিয়া, আজির উদ্দিন, ছইদুর, উত্তর কলাবাড়ি গ্রামের বিল্লাল, আলিম উদ্দিন, মৃত মংগাই মিয়ার ছেলে শাহাব উদ্দিন, মৃত আব্দুল বারীর ছেলে শাহাব উদ্দিন, কালাইরাগ গ্রামের আমির উদ্দিন, ফয়জুর রহমান, রইছ উদ্দিন, লাল মিয়াসহ ২৩ জনকে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পাথর কোয়ারিতে বোমা মেশিন বা যন্ত্র দিয়ে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে নির্দেশও রয়েছে উচ্চ আদালতের। তবে ভোলাগঞ্জে এ নির্দেশনা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বোমা মেশিন ব্যবহার ও যত্রতত্র পাথর উত্তোলনের কারণে বিনষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, ধসে পড়ছে হাটবাজার, বসতবাড়ি। এমন অবস্থার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের শক্তিশালী ভূমিকার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) সিলেট সমন্বয়ক শাহ শাহেদা আক্তার। তিনি বলেন, পাথররাজ্যের পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে আন্তরিক হতে হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিজন ব্যানার্জি সমকালকে বলেন, আমরা বারবার অভিযান চালাচ্ছি; কিন্তু তাদের রোখা যাচ্ছে না। এর জন্য দরকার কঠোর আইন প্রয়োগ। এ ছাড়া সবার আগে স্থানীয় লোকদের সচেতন হতে হবে। তবে আমাদের অভিযান চলবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।


মন্তব্য যোগ করুণ