কিশোরগঞ্জ

কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না ইজিবাইক

প্রকাশ : ১২ জানুয়ারি ২০১৯

  সাইফুল হক মোল্লা দুলু, কিশোরগঞ্জ

এক মাস ধরে শহরের বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাগুলোতে রোড ডিভাইডারও বসানো হয়েছে। তবু শহরের অসহনীয় যানজট সামাল দিতে পারছে না ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক বিভাগ ও জেলা পুলিশ জানায়, কিশোরগঞ্জে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ ইজিবাইক। শহরে ইজিবাইকের সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে, হেঁটে রাস্তা পার হওয়া দায় হয়ে পড়েছে। ইজিবাইকের আধিক্যে রীতিমতো আতঙ্কিত শহরবাসী। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গলিপথেও এই যানটির ছড়াছড়ি। সহজ যোগাযোগের বদলে ইজিবাইক এখন এ শহরে মানুষের প্রতিদিনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। কিন্তু কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না তিন চাকার এই ইজিবাইক।

কিশোরগঞ্জ শহরে কতসংখ্যক ইজিবাইক রয়েছে, তার সঠিক হিসাব পৌরকর্তৃপক্ষের কাছে নেই। তবে কিশোরগঞ্জ পৌরসভা ও ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তাদের মতে, শহর ও শহরতলিতে এর সংখ্যা ১৬ থেকে ১৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এর বাইরে তিন চাকার অন্যান্য যান ও রিকশাও রয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শিশু শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে সড়ক পার হতে পারছে না। অসংখ্য ইজিবাইকে রাস্তা আটকে আছে। ছেলেমেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা পড়েছেন বিপাকে। ইজিবাইকের কারণে শহরবাসীর পথচলা দায় হয়ে পড়েছে। শহরের গাইটাল এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম বলেন, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে উঠায় দিন দিন শহরটা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এগুলো এখন শহরবাসীর গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট একটা রাস্তাই পার হওয়া যায় না। প্রধান সড়ক স্টেশন রোড, কালীবাড়ি মোড়, আখড়াবজার ও ঈশা সড়কে দীর্ঘসময় যানজট লেগে থাকে।

ইজিবাইক এতটাই অস্বস্তিকর ও অসনীয় পর্যায়ে গেছে, তা নিয়ন্ত্রণে জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির একাধিক সভায় সদস্যরা লাগাম টানার দাবি জানিয়েছেন। তবু অবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

পৌর কাউন্সিলর ইসমাইল হোসেন ইদু জানান, প্রতিদিনই শহরতলি ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে ইজিবাইক শহরে ঢুকে পড়ছে। এ কারণে ইজিবাইকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। কিশোরগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য আইনজীবী নাসিরউদ্দিন ফারুকী বলেন, ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দিতে গিয়ে বাড়তি চাপ পড়ছে বিদ্যুতে ওপর। সকাল-বিকেল যাদের হাঁটার অভ্যাস আছে, তারাও রাস্তায় বের হতে পারছে না। এর আশু সমাধান দরকার।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ। পৌরকর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত মাত্র ৬০০ ইজিবাইকের অনুমতি দিয়েছে। সদর থানার ওসি আবু শামা মো. ইকবাল হায়াত জানান, ইজিবাইকের আধিক্য নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে শহরের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। এর জন্য একটি নীতিমালা করা জরুরি।

জানতে চাইলে পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ জানান, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাস্তবধর্মী একটি পদক্ষেপ শিগগিরই নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তারা কারণ ও সুপারিশমালা তৈরি করেছেন। নভেম্বর মাসের সভায় তা উপস্থাপন করে একটি স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।


মন্তব্য যোগ করুণ