এক্সিলেন্স ইন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড জয়ী

প্রথম বাংলাদেশি মামুনুর রশীদ

অর্জন

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯

 প্রথম বাংলাদেশি মামুনুর রশীদ

  লীনা দিলরুবা শারমিন

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এ বছর এক্সিলেন্স ইন এডুকেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষাবিদ মো. মামুনুর রশীদ। গত ৫ এপ্রিল জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০তম সিটওন সম্মেলনে তিনি এই সম্মাননা পান। এ বছর বাংলাদেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনকারী আরও দু'জন শিক্ষাবিদ ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার। জাতিসংঘ বিষয়ক শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধান উদ্ভাবন করা শিক্ষাবিদদের দ্য কমিটি অন টিচিং অ্যাবাউট দ্য ইউনাইটেড নেসনস বা সিটওন প্রতিবছর এই স্বীকৃতি দেয়। মো. মামুনুর তার শিক্ষাবিষয়ক প্রজেক্ট 'শেপিং দ্য ইয়ুথ উইথ এমপ্যাথি এডুকেশন'-এর জন্য এ বছর সম্মাননা পান। শিক্ষায় সহমর্মিতা চর্চার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি।

মামুনুর রশীদ বলেন, 'আমাদের সবার মধ্যে সহমর্মিতা চর্চার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। দূর থেকে অন্যের প্রতি সমবেদনা জানানো খুব সহজ, কিন্তু সহমর্মিতা জানানোর জন্য অন্যকে বুঝতে হয়, তার অনুভূতি নিজে অনুভব করতে হয়। অন্যের জগৎটা তার চোখ দিয়ে দেখতে পারলে আমাদের আচরণেও পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। বিশ্বজুড়ে যত যুদ্ধ, ঘৃণা, নাশকতা, উদ্বাস্তু সংকট- এসবের পেছনেও আমাদের অন্যের প্রতি অনুভূতিহীনতা অনেকাংশে দায়ী। আমি বিশ্বাস করি, তরুণদের মধ্যে অন্যকে বোঝার চর্চাটা অনুশীলন করা উচিত। কারণ তারাই ভবিষ্যতের অভিভাবক।'

মামুনুর রশীদ বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসে শিক্ষকতা করছেন। তিনি জানান, তার এই প্রকল্পটি পরস্কৃত হয়েছে, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহমর্মিতা চর্চার একটি কার্যোপযোগী মডেল উদ্ভাবন করেছে। এই মডেলটি ইতিমধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্লাসগুলোতে প্রয়োগ করা হচ্ছে এবং অনেক প্রশংসিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা চারপাশের বৈষম্যের শিকার হওয়া মানুষ, তাদের জগৎ নিজের অনুভূতির মাধ্যমে বোঝার চেষ্টা করে, তাদের প্রতি আমাদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত এবং তাদের উন্নয়নে কী করা যায় তা নিয়েই এই গবেষণা।

তিনি আরও বলেন, 'আমার মনে হয় ভালো শিক্ষার্থীর থেকে ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। খুব ভালো রেজাল্ট করে কেউ যদি অমানবিক হয়, নিজের চারপাশের মানুষের অবস্থা বুঝে তাকে সম্মান দিতে না পারে, সহনশীল না হয় বা কথা বলার জায়গা না দেয় তাহলে সেটা আসলে ব্যর্থতাই। আরেকজনের অবস্থায় নিজেকে দেখতে পারাটা আসলে একদিনে তৈরি হয় না। এটা চর্চার ব্যাপার। অন্যের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানানো, অন্যের দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে পারা- এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণ, যা মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের থাকা উচিত বলে আমার মনে হয়।'

শিক্ষা কার্যক্রমের অবদান রাখার জন্য গবেষণা অব্যাহত রেখেছেন প্রিয় এই শিক্ষক।


মন্তব্য