টেলিভিশন

টেলিভিশন বনাম ইউটিউব

প্রকাশ : ৩১ মে ২০১৯ | আপডেট : ৩১ মে ২০১৯

টেলিভিশন বনাম ইউটিউব

মেহজাবিন এবং নিশো জুটির নাটক টিভি এবং ইউটিউব দুই মাধ্যমেই প্রচার হবে ঈদে

  বিনোদন প্রতিবেদক

বরাবরই লড়াই হয় সমানে-সমানে। এটা সত্যি যে, মাঝে মধ্যে ছোট-বড়, দুর্বল-সবলের লড়াইও হয়। কিন্তু প্রযুক্তির লড়াইয়ে কাউকে ছোট বা বড় কিংবা দুর্বল ভাবা যাবে না। এখানে সবাই সমান। তাই লড়াইটাও হয় বেশ উপভোগ্য! এখন যেমন চলছে টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে ইউটিউব চ্যানেলের লড়াই। আর এতে লাভবান হচ্ছেন দর্শক! এবার ঈদের অনুষ্ঠানের বিষয়ে তো অনেকে বলছেন- ইউটিউবই দর্শক টানবে বেশি। বিষয়টা নিয়ে অনেক বছর ধরেই আলোচনা চলছে। আলোচনার ধরনটা তখন ছিল ভিন্ন- মানুষ টিভি চ্যানেল দেখছেন না।

কারণ চ্যানেলে বিজ্ঞাপনের অসহ্য জ্বালাতন আর অনুষ্ঠান প্রচার হওয়ার কিছু সময় পরই সেটি প্রকাশিত করা হয় টিভি চ্যানেলটির নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে। অনেক সময় প্রচার আর প্রকাশ হয় প্রায় একই সময়। ফলে দর্শক টিভিতে না দেখে অনুষ্ঠান দেখেছে ইউটিউবে। কিন্তু এবারের ঈদে প্রচুর নাটক, ওয়েব সিরিজ এমনকি চলচ্চিত্রও মুক্তি পাচ্ছে ইউটিউবের বিভিন্ন চ্যানেলে। যদিও টিভি চ্যানেলও বসে নেই। ঐতিহ্য রক্ষায় তারাও তৈরি আছে হরেক রকম বাহারি অনুষ্ঠানের ডালা সাজিয়ে। ফলে এবার কোন দিকে যাবে দর্শক? যদি ইউটিউবে যায় তাহলে ধরাশায়ী হচ্ছে টিভি চ্যানেল?

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়- ২০০৫ সালের ভালোবাসা দিবসে বিশ্ববাসীকে নিত্যনতুন ভিডিও দেখানের জন্য আবিস্কৃত হয় ইউটিউব। তখন ইউটিউবে দর্শক গানই দেখত বেশি। ফলে পুরনো ভিডিও গানগুলো এখানে আপলোড দেওয়া হতো। কিছু নতুন গানও নির্মাণ হতো। আলাদা কনটেন্ট খুব একটা হতো না। চিত্রটা এখন একদম ভিন্ন। এখন ইউটিউবের জন্যই আলাদা কনটেন্ট তৈরি করছেন নির্মাতারা। সেটা দিয়ে করছেন ব্যবসা। জানতে পারছেন কার নির্মাণ কতজন দেখেছেন।

অন্যদিকে বিশ্বে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে টেলিভিশন সম্প্রচার শুরু করে বিবিসি। সেটা ১৯৩৬ সালে। তবে ১৯৪০ সালের মধ্যেই বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রচার শুরু হয়। বাংলাদেশে টেলিভিশন আসতে সময় লেগেছিল বাণিজ্যিক সম্প্রচারের প্রায় ৩০ বছর। এ দেশে যাত্রা শুরু হয় ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তখন থেকেই বিভিন্ন উৎসব-পার্বণে নতুন অনুষ্ঠান প্রচার করা হতো। তারপর চ্যানেলে বাড়তে থাকল অনুষ্ঠান নির্মাণের প্রতিযোগিতা। সামনে ঈদ। ঈদ উপলক্ষে টিভি চ্যানেলের জন্য প্রতি বছরই নির্মিত হয় অসংখ্য নাটক, টেলিছবি, গানের অনুষ্ঠান, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান। এসব অনুষ্ঠানের প্রতি দর্শক আগ্রহও থাকে প্রচুর। প্রিয় অনুষ্ঠান দেখার জন্য রিমোট নিয়ে বসে থাকেন দর্শক।

এবার কি এমন কিছু হবে? প্রশ্ন উঠেছে কারণ- এবার দেখা যাচ্ছে টিভি চ্যানেলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ইউটিউবের জন্য অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে টিভির দর্শকে পুরোপুরি ভাগ বসাবে ইউটিউব। শুধু যে নাটক-টেলিছবি প্রকাশ হচ্ছে ইউটিউবে তা কিন্তু নয়। নতুন চলচ্চিত্র মুক্তি দেওয়া হবে ইউটিউবে। ছবির নাম 'দি ডিরেক্টর'। খবরটি নিশ্চিত করেছেন ছবির পরিচালক কামরুজ্জামান কামু। কোনো উৎসবে প্রেক্ষাগৃহের বাইরে নিজ উদ্যোগে সিনেমা প্রদর্শনের নজির থাকলেও পাবলিক স্ট্রিমিংয়ে মুক্তির খবর এর আগে দেশে শোনা যায়নি। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন মারজুক রাসেল, পপি, মোশাররফ করিম, নাফা, কচি খন্দকার, তারেক মাহমুদ, তানভীন সুইটিসহ অনেকে।

এদিকে ঈদের অনুষ্ঠানের এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কাজ। ফলে ব্যস্ত সময় পার করছেন নাটকের শিল্পী ও নির্মাতারা। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত থাকে এ ব্যস্ততা। ঈদে এবার টেলিভিশনের বাইরে প্রায় ২০টি ইউটিউব চ্যানেলে শতাধিক নাটক ও টেলিছবি আসবে। চ্যানেলগুলো হলো- সাউন্ডটেক, বঙ্গবিডি, বঙ্গবুম, ডেডলাইন এন্টারটেইনমেন্ট, সিনেমাওয়ালা, সিডি চয়েস, ঈগলস, ধ্রুব টিভি, সেভেন টিউনস এন্টারটেইনমেন্ট, এফ-থ্রি, নাটক বঙ্গ ইত্যাদি। টিভি চ্যানেলের নাটক-টেলিছবির মতো ইউটিউবের চ্যানেলগুলোতে থাকছে জনপ্রিয় সব অভিনয়শিল্পীর কনটেন্ট।

ইউটিউবে যেহেতু কত ভিউ হলো সেটা দেখা যায়, স্বাভাবিক কারণে তারকাদের কদর সেখানে বেশি। এবার ঈদের এ দুই মাধ্যম দাপিয়ে বেড়াবেন যেসব তারকা, তাদের মধ্যে আছেন- জাহিদ হাসান, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, মীর সাব্বির, নুসরাত ইমরোজ তিশা, অপূর্ব, আফরান নিশো, মেহজাবিন, তানজিন তিশা, মম, ভাবনা, ঈশানা, অহনা, জোভান, তৌসিফ, সাফা কবির, সিয়াম আহমেদ, শামিম জামান. অর্ষাসহ অনেকেই। এখন অপেক্ষা শুধু ঈদের। দেখার বিষয় দর্শকের কাছে ইউটিউব, নাকি টিভি চ্যানেল-কোন মাধ্যমের নাটকগুলো গ্রহণযোগ্যতা বেশি পাবে।

এই ঈদে আড়াল ভেঙে দর্শকের সামনে আসছেন অভিনেত্রী সারিকা। চ্যানেল আইয়ের 'চুল তার কবে কার' শিরোনামের একটি টেলিছবিতে দেখা যাবে তাকে। এটি নির্মাণ করেছেন তুহিন হোসেন। বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটকে থাকছেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। ঈদের জন্য তিনি শেষ করেছেন মাসুদ সেজানের 'ঈদ ধামাকা অফার', সাগর জাহানের 'সৌদি গোলাপ' ও 'তালমিছরি না হাওয়া মিঠাই' শিরোনামের ধারাবাহিকগুলো।

এ ছাড়া ঈদে খণ্ড নাটকেও দেখা যাবে তাকে। জাহিদ হাসানকে দেখা যাবে শেখ সেলিমের নাটক 'মামুন মামা' এবং সাগর জাহানের 'সৌদি গোলাপ', 'ডায়াবেটিস' ও 'আলাল-দুলাল'সহ বেশ কিছু নাটকে। আফরান নিশো ও তানজিন তিশা থাকছেন 'ক্রেজি লাভার', 'ব্রেকআপ', 'ফ্রেন্ডস ভার্সেস টিচার', 'ফিরে আসি বারবার', 'দেখা হবে আবারও', 'মাকে দেওয়া কথাটা' শীর্ষক নাটকগুলোতে। আনিসুর রহমান মিলনের অভিনয়ে প্রচার হবে নাটক 'আব্বা উকিল ডাকবো' ও 'আইজু দ্য ভাই'। সালাহউদ্দিন লাভলুর পরিচালনায় ঈদে থাকছে দুটি নাটক। এর মধ্যে একটি হলো সাত পর্বের, অন্যটি খণ্ড নাটক। নাটক দুটি হলো 'হানিমুন হবে কক্সবাজারে' ও 'আবার দেখা হলে'।

মমকে দেখা যাবে শিহাব শাহিনের 'বাউণ্ডুলে' ও সুমন আনোয়ারের 'অন্ধকার ঢাকা'সহ বেশ কিছু নাটকে। মৌসুমী হামিদ শেষ করেছেন ফরিদুল হাসানের 'বউয়ের দোয়া পরিবহন' ও তরিকুল ইসলামের 'আমি তো সে না' শিরোনামের দুটি ধারাবাহিক ও শহীদুন নবীর 'কন্যা বিবাহযোগ্য নহে'সহ কয়েকটি খণ্ড নাটকের শুটিং। মেহজাবিন ঈদে থাকছেন মহিদুল মহিনের 'আনোয়ার দ্য প্রোডাকশন বয়', মিজানুর রহমান আরিয়ানের 'প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা'সহ একাধিক নাটকে। সজল থাকবেন 'তোতামিয়ার হানিমুন', 'দোস্ত দুশমন', 'কানা মাছি', 'আহত বেলি ফুল ও সুগন্ধি কলোনি' এবং 'বাম দিক থেকে চলুন'সহ একাধিক নাটকে। এক বছর পর ঈদে দুটি নাটকে দেখা যাবে নাদিয়া মিমকে। 

মন্তব্য


অন্যান্য