টেলিকম

কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, জানতে চেয়ে জিপি-রবিকে চিঠি

প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কেন লাইসেন্স বাতিল করা হবে না, জানতে চেয়ে জিপি-রবিকে চিঠি

  বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন (জিপি) ও রবির টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে প্রতিষ্ঠান দুটিকে চিঠি দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে এই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে সমকালকে জানিয়েছেন বিটিআরসির মুখপাত্র ও জনসংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন খান।

তিনি জানান, বিটিআরসির অডিট আপত্তি অনুযায়ী দুই অপারেটরের কাছে বকেয়া পাওনা প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা দাবি করে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এই বকেয়া পাওনা দাবি করে প্রথমে দুই অপারেটরের ব্যান্ডউইথ সীমিত করা হয়। এরপর ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে দেশের প্রতিষ্ঠান দু'টিকে সব ধরনের 'অনাপত্তি পত্র' প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।

বিটিআরসির অডিট আপত্তি অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা ও রবির কাছে পাওনা ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এই পাওনা আদায়ে প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে গত ৪ জুলাই দুই অপারেটরের ব্যান্ডউইথ সীমিত করার নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। এই নির্দেশনার পর দুই অপারেটরের পক্ষ থেকে সালিশ অনুযায়ী পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী এ প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয় বলে সাংবাদিকদের জানান বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক। পরবর্তী সময়ে গ্রাহকদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে ব্যান্ডউইথ সীমিত করার নির্দেশনা প্রত্যাহার করে দুই অপারেটরের জন্য সব ধরনের 'অনাপত্তি' প্রদান স্থগিতের নির্দেশ দেয় বিটিআরসি। বর্তমানে এই নির্দেশ বলবৎ রয়েছে এবং এ কারণে দেশের শীর্ষস্থানীয় এই দুই মোবাইল ফোন অপারেটর নতুন করে যন্ত্রপাতি আমদানি, স্থাপন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ কিংবা নতুন প্যাকেজ চালু করতে পারছে না। এবার আগের আদেশ বহাল রেখেই অপারেটরদের টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হল।

বর্তমানে দেশের মোবাইল ফোন গ্রাহক ১৬ কোটি ৮২ হাজার। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ৭ কোটি ৪৭ লাখ এবং রবির ৪ কোটি ৭৬ লাখ।

এদিকে বিটিআরসির কারণ দর্শানোর নোটিশকে 'অযৌক্তিক' বলে দাবি করেছে গ্রামীণফোন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিটিআরসির নোটিশটি অযৌক্তিক এবং একই সঙ্গে একটি বিতর্কিত অডিট দাবির বিষয়ে গঠনমূলক সমাধানের প্রস্তাবের বিপরীতে তাদের অনীহার আরেকটি প্রকাশ। নোটিশটি পর্যালোচনা করেই গ্রামীণফোন উত্তর দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। গ্রামীণফোন শেয়ার হোল্ডার ও সম্মানিত গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার অন্যায্য যে কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য


অন্যান্য