প্রযুক্তি

'স্মার্টফোনের বাজারে চোরাকারবারীদের আধিপত্য'

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮

'স্মার্টফোনের বাজারে চোরাকারবারীদের আধিপত্য'

   সমকাল প্রতিবেদক

দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারে এখন আধিপত্য চোরকারবারীদের, পথে বসছেন বৈধ আমদানিকারক এবং সংযোজন শিল্পের উদ্যেক্তারা। ২০১৭ সাল পর্যন্ত বৈধ আমদানিকারকেদের ব্যবসার পরিমান ছিল প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা এবং চোরকাবারীদের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৮ সালের এসে চোরকারবারীদের ব্যবসার পরিমান বেড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা হয়েছে এবং বৈধ আমদানিকারকদের ব্যবসার পরিমাণ কমে ছয় হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে শুধু বৈধ আমদানিকারকরা নন, চলতি বছর থেকে নিজস্ব কারখানার মাধ্যমে স্মার্টফোন সংযোজনে যাওয়া কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর গ্রাহকদের মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেটের পরিবর্তে নিম্নমানের হ্যান্ডসেট কিনে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের সংগঠন বিএমপিআই এর কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএমপিআই সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহীদ, বিএমপিআই নেতা রাকিবুল কবীর, মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, রেজওয়ানুল হক, জয়নাল আবেদিন এবং এম এইচ খান।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৭ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশে স্মার্টফোনের বাজার কমেছে ১৭ শতাংশ এবং ফিচার ফোনের বাজার কমেছে ১১ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকে ২০১৭ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ২ কোটি ৮০ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি হয়, কিন্তু চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আমদানি হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এ বছরই প্রথম স্মার্টফোনের বাজার বৃদ্ধি না পেয়ে নিম্নমুখী হয়েছে এবং এটা বৈধ আমদানিকারকসহ সংযোজন ও উৎপাদন শিল্পের উদ্যেক্তাদের জন্য আশঙ্কাজনক।

মূল বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়. ফোরজি চালু হওয়ার পরও ফোরজি হ্যান্ডসেটের চাহিদার বাড়েনি। গ্রামাঞ্চলে স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমেছে। তবে শহরাঞ্চলে ১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যসীমা পর্যন্ত স্মার্টফোনের বিক্রি ২১ শতাংশ বেড়েছে। এ চিত্র প্রমাণ করে শহরাঞ্চলে হ্যান্ডসেট যারা নিয়মিত বদল করার সামর্থ রাখেন সেই পুরনো ক্রেতারাই কেবল স্মার্টফোন কিনেছেন, নতুন করে স্মার্টফোনের গ্রাহক বাড়েনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অবৈধ পথে আমদানির পাশাপাশি কয়েকটি আর্ন্তজাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ নিজেরাই চতুরতার সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হ্যান্ডসেট আমদানি করছে। এক্ষেত্রে তারা প্রকৃত মূল্য আড়াল করে কম মূল্য দেখিয়ে হ্যান্ডসেট আমদানিতে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে। এ প্রবণতা রোধ করতে আমদানির ক্ষেত্রে হ্যান্ডসেটের বপে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান বিএমপিআই নেতারা।

এ ছাড়া সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে কর হার আরও কমানোর প্রস্তাব করেন তারা। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি আমদানিতেই ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ শুল্ক ও কর থাকার কারনে দেশে সংযোজিত হ্যান্ডসেট প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, চলতি বছর চারটি ব্র্যান্ডের সংযোজন কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ার পর গত তিনমাসে প্রায় ১০ লাখ দেশে সংযোজিত হ্যান্ডসেট বাজারে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় তিন লাখ দেশে সংযোজিত হ্যান্ডসেট বাজারে আসছে। আগামী বছরের শুরু থেকে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ লাখ হ্যান্ডসেট বাজারে আসবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিএমপিআই সভাপতি রুহুল আমিন আল মাহবুব বলেন, চোরাই বাজার বৈধ ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, চোরাই পথে ছাড়াও দেশে বিভিন্ন শপিং মলে এবং অনলাইনে ঘোষণা দিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান নকল এবং রিফার্বিশড বা পুরনো হ্যান্ডসেট পালিশ করে নতুন হিসেবে বিক্রি করছে। কম মূল্যের কারণে এসব হ্যান্ডসেট কিনে গ্রাহকরাও প্রতারিত হচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই বিটিআরসিতে বিএমপিআই এর পক্ষ থেকে একটি আইএমইআই ডাটাবেজ চালু করা হচ্ছে। এটি চালু হলে গ্রাহকরা এই এমএমএস এর মাধ্যমে এই সার্ভার থেকেই হ্যান্ডসেটটি আসল এবং বৈধ পথে আমদানি করা কি না তা নিশ্চিত হতে পারবেন। তিনি বলেন, এটি একটা প্রচেষ্টা, কিন্তু চোরাই ও নকল হ্যান্ডসেটের বাজার বন্ধ করতে সংশ্নিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর আরও সক্রিয় তৎপরতার বিকল্প নেই।

মন্তব্য


অন্যান্য