প্রযুক্তি

'স্মার্টফোনের বাজারে চোরাকারবারীদের আধিপত্য'

প্রকাশ : ২৭ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০১৮

'স্মার্টফোনের বাজারে চোরাকারবারীদের আধিপত্য'

   সমকাল প্রতিবেদক

দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের বাজারে এখন আধিপত্য চোরকারবারীদের, পথে বসছেন বৈধ আমদানিকারক এবং সংযোজন শিল্পের উদ্যেক্তারা। ২০১৭ সাল পর্যন্ত বৈধ আমদানিকারকেদের ব্যবসার পরিমান ছিল প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা এবং চোরকাবারীদের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। কিন্তু ২০১৮ সালের এসে চোরকারবারীদের ব্যবসার পরিমান বেড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা হয়েছে এবং বৈধ আমদানিকারকদের ব্যবসার পরিমাণ কমে ছয় হাজার কোটি টাকার নিচে নেমেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশে শুধু বৈধ আমদানিকারকরা নন, চলতি বছর থেকে নিজস্ব কারখানার মাধ্যমে স্মার্টফোন সংযোজনে যাওয়া কোম্পানিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর গ্রাহকদের মানসম্পন্ন হ্যান্ডসেটের পরিবর্তে নিম্নমানের হ্যান্ডসেট কিনে ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য দেন মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারকদের সংগঠন বিএমপিআই এর কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএমপিআই সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শহীদ, বিএমপিআই নেতা রাকিবুল কবীর, মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, রেজওয়ানুল হক, জয়নাল আবেদিন এবং এম এইচ খান।

মূল বক্তব্যে বলা হয়, ২০১৭ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে দেশে স্মার্টফোনের বাজার কমেছে ১৭ শতাংশ এবং ফিচার ফোনের বাজার কমেছে ১১ শতাংশ। সংখ্যার দিক থেকে ২০১৭ সালের প্রথম নয় মাসে দেশে ২ কোটি ৮০ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি হয়, কিন্তু চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আমদানি হয়েছে ২ কোটি ৩০ লাখ। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এ বছরই প্রথম স্মার্টফোনের বাজার বৃদ্ধি না পেয়ে নিম্নমুখী হয়েছে এবং এটা বৈধ আমদানিকারকসহ সংযোজন ও উৎপাদন শিল্পের উদ্যেক্তাদের জন্য আশঙ্কাজনক।

মূল বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়. ফোরজি চালু হওয়ার পরও ফোরজি হ্যান্ডসেটের চাহিদার বাড়েনি। গ্রামাঞ্চলে স্মার্টফোন বিক্রির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমেছে। তবে শহরাঞ্চলে ১২ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যসীমা পর্যন্ত স্মার্টফোনের বিক্রি ২১ শতাংশ বেড়েছে। এ চিত্র প্রমাণ করে শহরাঞ্চলে হ্যান্ডসেট যারা নিয়মিত বদল করার সামর্থ রাখেন সেই পুরনো ক্রেতারাই কেবল স্মার্টফোন কিনেছেন, নতুন করে স্মার্টফোনের গ্রাহক বাড়েনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, অবৈধ পথে আমদানির পাশাপাশি কয়েকটি আর্ন্তজাতিক ব্র্যান্ড কর্তৃপক্ষ নিজেরাই চতুরতার সঙ্গে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হ্যান্ডসেট আমদানি করছে। এক্ষেত্রে তারা প্রকৃত মূল্য আড়াল করে কম মূল্য দেখিয়ে হ্যান্ডসেট আমদানিতে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দিচ্ছে। এ প্রবণতা রোধ করতে আমদানির ক্ষেত্রে হ্যান্ডসেটের বপে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করার দাবি জানান বিএমপিআই নেতারা।

এ ছাড়া সংযোজন শিল্পকে উৎসাহিত করতে কর হার আরও কমানোর প্রস্তাব করেন তারা। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি আমদানিতেই ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ শুল্ক ও কর থাকার কারনে দেশে সংযোজিত হ্যান্ডসেট প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, চলতি বছর চারটি ব্র্যান্ডের সংযোজন কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ার পর গত তিনমাসে প্রায় ১০ লাখ দেশে সংযোজিত হ্যান্ডসেট বাজারে প্রবেশ করেছে। অর্থাৎ, প্রতি মাসে গড়ে প্রায় তিন লাখ দেশে সংযোজিত হ্যান্ডসেট বাজারে আসছে। আগামী বছরের শুরু থেকে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ লাখ হ্যান্ডসেট বাজারে আসবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

বিএমপিআই সভাপতি রুহুল আমিন আল মাহবুব বলেন, চোরাই বাজার বৈধ ব্যবসায়ীদের পথে বসিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, চোরাই পথে ছাড়াও দেশে বিভিন্ন শপিং মলে এবং অনলাইনে ঘোষণা দিয়ে কিছু প্রতিষ্ঠান নকল এবং রিফার্বিশড বা পুরনো হ্যান্ডসেট পালিশ করে নতুন হিসেবে বিক্রি করছে। কম মূল্যের কারণে এসব হ্যান্ডসেট কিনে গ্রাহকরাও প্রতারিত হচ্ছেন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই বিটিআরসিতে বিএমপিআই এর পক্ষ থেকে একটি আইএমইআই ডাটাবেজ চালু করা হচ্ছে। এটি চালু হলে গ্রাহকরা এই এমএমএস এর মাধ্যমে এই সার্ভার থেকেই হ্যান্ডসেটটি আসল এবং বৈধ পথে আমদানি করা কি না তা নিশ্চিত হতে পারবেন। তিনি বলেন, এটি একটা প্রচেষ্টা, কিন্তু চোরাই ও নকল হ্যান্ডসেটের বাজার বন্ধ করতে সংশ্নিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর আরও সক্রিয় তৎপরতার বিকল্প নেই।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ভুল স্বীকার করে যা বললেন ইউটিউবার সালমান


আরও খবর

প্রযুক্তি

সালমান মুক্তাদির

  অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও অভিনেতা সালমান মুক্তাদির আজ বুধবার বিকেলে ফেসবুকে লাইভে এসে নিজের ভুল স্বীকার করেন। ইন্টারনেটে অপ্রাসঙ্গিক ও অশ্লীল ভিডিও আপলোডের অভিযোগে সালমান মুক্তাদিরকে গতকাল মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। তার ঠিক পরেরদিনই ফেসবুক লাইভে এসে নিজের বিতর্কিত গান সরিয়ে ফেলা ও সাইবার ক্রাইম বিভাগের বর্তমান কাজের প্রশংসা করেন তিনি। 

 ফেসবুক লাইভে এসে সালমান বলেন, 'আমার একটা গান প্রকাশ হয়েছিল 'অভদ্র প্রেম' শিরোনামে। যেই গানটি বাংলাদেশে পরিপ্রেক্ষিতে খুব বেশি তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি করে। গানটির জন্য সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্ট আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আমাকে বলে এটা আমাদের দেশের কনটেক্সের বিপরীতে যায়। গানটি আমাকে নামিয়ে ফেলতে বলা হয়। আমি গানটি নামিয়ে দেওয়ার জন্য রাজি হয়েছি এবং নামিয়ে দিয়েছি'।

তিনি আরও বলেন, 'ভিডিওটি কোনোভাবেই আমাদের দেশের জন্য এক্সেপটেবল না। আমি চেষ্টা করবো গানটির ভিডিও আমাদের দেশের উপযোগী করে নির্মাণ করার জন্য। এছাড়া আমাদের নিরাপদ ইন্টারনেটের ডে ক্যাম্পেইন হচ্ছে সেটার সমর্থন করছি। আমি আশাবাদী এই ক্যাম্পেইনের একজন অ্যাম্বাসিডর হতে পারব। আমি সবাইকে আমন্ত্রণ জানাব এই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহন করার জন্য এবং এটাকে সাধুবাদ জানানোর জন্য'।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি 'অভদ্র প্রেম' শিরোনামে একটি মিউজিক ভিডিওটি ইউটিউবে 'সালমান দ্য ব্রাউন ফিশ' চ্যানেলে প্রকাশ করেন সালমান। মিউজিক ভিডিওটি তার প্রকাশের পর থেকেই তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। এতে তার চ্যানেলটি থেকে কমে যায় প্রায় ২ লাখের মতো সাবস্ক্রাইবার। সেই জের ধরে মঙ্গলবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিটে তাকে চার ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করার পর ছেড়ে দেয়া হয় তাকে। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণায় চাঞ্চল্য


আরও খবর

প্রযুক্তি
গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণায় চাঞ্চল্য

বিদেশি বিনিয়োগে বিরূপ প্রভাবের শঙ্কা

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

  রাশেদ মেহেদী

টেলিযোগাযোগ খাতে বিটিআরসির 'সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি)' ঘোষণা চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়েই বিটিআরসি এসএমপি ঘোষণার মতো শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনকে কঠোর বিধিনিষেধে বেঁধে ফেলার বিষয়টি টেলিযোগাযোগ খাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা।

সমকালের সঙ্গে আলাপে তারা বলেন, এসএমপি ঘোষণার ক্ষেত্রে বিটিআরসির উদ্দেশ্য খুবই ভালো; কিন্তু কার্যপদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ। এ কারণেই বিটিআরসির সিদ্ধান্তের ফলে টেলিযোগাযোগ খাতে বিদেশি বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা প্রবল। তারা আরও বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় গবেষণা সেল না থাকায় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বারবারই সমস্যা দেখা যায়। যেমন আরও পাঁচ বছর আগে যখন এমএনপি বা নম্বর না বদলে মোবাইল অপারেটর বদলের সেবা চালুর সঠিক সময় ছিল, তখন বিটিআরসি তা করেনি। সংস্থাটি এখন এমএনপি সেবা চালু করেছে, যা খুব বেশি সাড়া ফেলেনি। সঠিক সময়ে এমএনপি সেবা চালু হলে এখন এসএমপি ঘোষণার মতো জটিল সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতো না বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এসএমপি কী :সাধারণত বাজারে কোনো কোম্পানি একক আধিপত্য বা 'মনোপলি' সৃষ্টি করে গ্রাহকস্বার্থ ক্ষুণ্ণম্ন এবং বাজারের অন্য কোম্পানির ব্যবসায় উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাধা সৃষ্টির ক্ষমতা অর্জন করলে সেখানে 'প্রতিযোগিতা আইন' প্রয়োগ করা হয়। উন্নত দেশগুলোতে এ ধরনের প্রতিযোগিতা আইন আছে। বাংলাদেশেও ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন প্রণয়ন করা হয় এবং এর আওতায় একটি প্রতিযোগিতা কমিশনও গঠন করা হয়। তবে সেই প্রতিযোগিতা কমিশনের কর্মকাণ্ড কখনোই দৃশ্যমান হয়নি। এই প্রতিযোগিতা আইনের অধীনে আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাজারে 'মনোপলি' সৃষ্টির ক্ষমতাসম্পন্ন কোম্পানিকে এসএমপি বা বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী ঘোষণা করতে পারে। এসএমপি ঘোষণার অর্থ হচ্ছে, সংশ্নিষ্ট কোম্পানির একক আধিপত্যের সামনে বিধিনিষেধের লাগাম টেনে দেওয়া।

বাংলাদেশে প্রতিযোগিতা আইনটি গত ছয় বছরে অন্যান্য ক্ষেত্রে কার্যকর করা হয়নি। প্রথমবারের মতো বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ খাতে এসএমপি ঘোষণা করে প্রতিযোগিতা আইন প্রয়োগের বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ইউরোপের দেশগুলোতে এসএমপি ঘোষণার নজির থাকলেও দক্ষিণ এশিয়া এবং এশিয়ার অন্য কোনো দেশে এমনটা দেখা যায়নি। ভারতের প্রতিযোগিতা আইনে কোনো কোম্পানি ৫০ শতাংশ মার্কেট শেয়ার অর্জন করলে সেই কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার বিধান রাখা হয়েছে। তবে সেখানে এখন পর্যন্ত কোনো কোম্পানিকে এসএমপি ঘোষণার নজির নেই।

যে কারণে গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা :এসএমপি নীতিমালা সম্পর্কে বিটিআরসির চেয়ারম্যান জহুরুল হক সাংবাদিকদের বলেছিলেন, টেলিযোগাযোগ খাতে গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা, সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টির জন্যই এটা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সেই চূড়ান্ত পদক্ষেপই নিয়েছে বিটিআরসি।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করায় সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছে। দেখা যায়, গ্রামীণফোনের বর্তমানে বাজারে অংশীদারিত্ব ৪৬ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রবির অংশীদারিত্ব ৩০ শতাংশ, বাংলালিংকের ২২ শতাংশ এবং টেলিটকের মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ। গ্রামীণফোন বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে আছে। এর ফলে বাজারে নানাভাবে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হচ্ছিল। এ ছাড়া শীর্ষ অপারেটর হলেও গ্রামীণফোনের সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এ ব্যাপারে গ্রামীণফোনকে বারবার জানানোর পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সেবার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করাকে বিটিআরসি অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণেই এ ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে সংস্থাটি। এ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এর আগে এমএনপি সেবা চালু এবং বিলের ক্ষেত্রে 'অফনেট-অননেট' ব্যবস্থা তুলে দিয়ে একটি সাধারণ 'মূল্য' নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ঘোষণা করা হলো এসএমপি।

বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা :তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র ফেলো আবু সাঈদ খান সমকালকে বলেন, 'বিটিআরসি যে উদ্দেশ্যে এসএমপি ঘোষণা করেছে, তা ভালো। কিন্তু তাদের কার্যপদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ। এ পদ্ধতি নির্ধারণের আগে এর পরবর্তী প্রভাব কী হবে তা বিবেচনা করেনি বিটিআরসি। গ্রামীণফোন কেন শীর্ষ অপারেটর হয়েছে, তার নেপথ্যের কারণগুলোও সংস্থাটি আমলে নিয়েছে বলে মনে হয় না।'

তিনি বলেন, গ্রামীণফোন রেলওয়ের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক থেকে অপেক্ষাকৃত অল্প ব্যয়ে সেবা দেওয়ার সুযোগ প্রথম থেকে পেয়েছে এবং তা এখনও অব্যাহত আছে। এসএমপি ঘোষণার পরও তা অব্যাহত থাকবে। অন্য অপারেটররা এই সুবিধা আগেও পায়নি, ভবিষ্যতেও পাবে কি-না, সংশয় আছে। এর ফলে এই এসএমপি ঘোষণা বাজারে কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

এ ব্যাপারে টেলিযোগাযোগ খাত বিশেষজ্ঞ ও অ্যামটবের সাবেক মহাসচিব টিআইএম নুরুল কবীর সমকালকে বলেন, এসএমপি ঘোষণা টেলিযোগাযোগ খাতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে দুশ্চিন্তা রয়েছে। গ্রামীণফোন শুধু টেলিযোগাযোগ খাতের শীর্ষ অপারেটর নয়, বরং একক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সবচেয়ে বেশি বিদেশি বিনিয়োগও তাদের। তারা বর্তমানে শেয়ারবাজারে আছে। এ ধরনের একটি কোম্পানি হঠাৎ নিয়ন্ত্রিত হলে টেলিযোগাযোগ খাতে ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ বড় হুমকিতে পড়বে। বর্তমানে বড় আকারে বেতার তরঙ্গ অবিক্রীত আছে। শীর্ষ অপারেটর বিধিনিষেধে পড়ার কারণে এই বেতার তরঙ্গ বিক্রি করে রাজস্ব আয়ের পথও সংকুচিত হবে। তিনি বলেন, বিটিআরসির একটি গবেষণা সেল থাকা দরকার। তাহলে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে। নুরুল কবীরের ধারণা, এসএমপি ঘোষণার ফলে বিরূপ প্রভাবের আশঙ্কাই বেশি।

পরের
খবর

ষষ্ঠবারের মতো ঢাকায় বসছে উদ্যোক্তা হাট


আরও খবর

প্রযুক্তি

‘উদ্যোক্তা হাট’ সম্পর্কে জানাতে সোমবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়-সংগৃহীত ছবি

  অনলাইন ডেস্ক

ষষ্ঠবারের মতো রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ‘উদ্যোক্তা হাট’ শীর্ষক অনলাইনভিত্তিক নতুন উদ্যোক্তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শনী। 

রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে ওমেন ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউভিএ) মিলনায়তনে শুক্রবার থেকে শুরু হবে এ আয়োজন। চলবে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) উদ্যোগে এবং ফেসবুকভিত্তিক গ্রুপ ‘চাকরি খুঁজব না চাকরি দেব’ গ্রুপের আয়োজনে তিন দিনের এ প্রদর্শনীতে ৪৫টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে।  

সোমবার বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান আয়োজকরা। 

উদ্যোক্তা হাট সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিডিওএসএন সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান। তিনি বলেন, এবারের হাটে প্রায় ৪৫ জন উদ্যোক্তা তাদের পণ্য ও সেবা নিয়ে অংশ নেবেন। এই আয়োজন থেকে উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবা নিয়ে দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করছি।

আয়োজকরা জানান, আগ্রহীরা প্রদর্শনী থেকে সরাসরি নানা পণ্য ও সেবা কেনার সুযোগ পাবেন। উদ্যোক্তা হাট খোলা থাকবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। আয়োজনের বিস্তারিত জানা যাবে এই ঠিকানায় (www.uddokta.com.bd)।