সিলেট

শিক্ষকের বেতের আঘাতে চোখের আলো হারাতে বসেছে শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শিক্ষকের বেতের আঘাতে চোখের আলো হারাতে বসেছে শিক্ষার্থী

আহত শিক্ষার্থী হাবিবা আক্তার

  হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার যাদবপুর গ্রামে শিক্ষকের ছোড়া বেতের আঘাতে চোখের আলো হারাতে বসেছে হাবিবা আক্তার (৮) নামে এক শিক্ষার্থী। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

হাবিবা যাদবপুর গ্রামের শাহিন মিয়ার মেয়ে এবং যাদবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।

পরিবারের বরাত দিয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুক আলী সমকালকে জানান, রোববার দুপুরে ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশ তার হাতের একটি বেত ছুড়ে মারলে তা সরাসরি হাবিবার চোখে লাগে। এতে তার চোখ থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হৈ চৈ শুরু হলে স্থানীয় লোকজন হাবিবাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যায়।

হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মিঠুন রায় জানান, হাবিবার চোখের ভেতর আঘাত লাগার কারণে তার চোখ খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চোখটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সহকারী শিক্ষক নিরঞ্জন দাশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পড়া নিচ্ছিলাম। এ সময় যারা পড়া পারছিল না তাদের বেত্রাঘাত করি। কিন্তু ওই ক্লাসের দরজার সামনে কিছু শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে হৈ চৈ করছিল, আমি তাদের বারবার ধমক দিলেও তারা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় আমি হাতে থাকা বেত ছুড়ে মারলে তা গিয়ে হাবিবার চোখে লাগে। এটি আমার অনিচ্ছাকৃত ভুল।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বেত দিয়ে আঘাত করার কোনো বিধান নেই। ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য


অন্যান্য