সিলেট

কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারিতে হামলা, পুলিশ-বিজিবিসহ আহত ২০

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০১৯

কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারিতে হামলা, পুলিশ-বিজিবিসহ আহত ২০

  সিলেট ব্যুরো

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে টাস্কফোর্স অভিযানকারী দলের ওপর হামলা করেছে পাথরখেকো ও তাদের পক্ষের শ্রমিকরা। 

হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা, বিজিবি সদস্যসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। আত্মরক্ষার্থে টাস্কফোর্সের সদস্যরা ৪০ রাউন্ড গুলি বর্ষণ করেন। 

সোমবার বিকেলে কেয়ারির লিলাইবাজার-লালপাথর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএমবি) ইনচার্জ এসআই আমিনুল হক, বিজিবি নায়েক আবদুর রহিম, সিপাহি আমিন, ভূমি অফিসের চেইনম্যান হেমায়েত, টাস্কফোর্সের শ্রমিক মোবারক, মিজান, শাহীনসহ ২০ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে ২০টির মতো বোমা মেশিন ও মেশিনের পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ব্যানার্জি। তিনি সমকালকে জানান, বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভোলাগঞ্জের লিলাইবাজার এলাকায় উপজেলা টাস্কফোর্স অভিযান শুরু করে। 

ওই সময় পাথর শ্রমিকদের উসকানি দেয় একটি পক্ষ। তারা অভিযানকারী দলের ওপর পাথর নিক্ষেপ ও হামলা করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম সমকালকে জানিয়েছেন, আহতদের কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, কোয়ারি এলাকার লিলাইবাজার, বাংকার এলাকাসহ কয়েকটি স্থান থেকে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ বোমা মেশিন দিয়ে গর্ত করে পাথর উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। ফলে ধ্বংসের পথে লিলাইবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার অভিযানকালে হামলা করে পাথরখেকোরা। স্থানীয় আলাউদ্দিন, আলিম উদ্দিন, বিল্লাল হোসেন, সাহাব উদ্দিন, পরিবেশ মোল্লা, রইছ উদ্দিন, লাল মিয়া ও বশির উদ্দিনের মদদ ও নেতৃত্বে হামলা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। 

তারা প্রথমে পাথর কোয়ারি এলাকার শ্রমিকদের উসকানি দেয়। পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এর আগে রোববার ভোলাগঞ্জের কালাইরাগ, গুচ্ছগ্রাম, ধলাই নদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৫টি বোমা মেশিন ধ্বংস করে আভিযানিক দল।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

পচা ডিমে বিস্কুট তৈরি


আরও খবর

সিলেট
পচা ডিমে বিস্কুট তৈরি

প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

   হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ শহরতলির ধুলিয়াখাল বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় পচা ডিম ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অভিযোগে আসাদ ফুড প্রোডাক্টস নামে এক বিস্কুট কারখানাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হবিগঞ্জের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাসনা শারমিন মিথি ও র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনোয়ার হোসেন শামীমের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পচা ডিম ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরির অভিযোগে আসাদ ফুড প্রোডাক্টসকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একই এলাকার একটি নকল ডিটারজেন্ট পাউডার কারাখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে ১ হাজার প্যাকেট ও ৫০ কেজি খোলা ডিটারজেন্ট জব্দ করা হয়। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কারখানা মালিক পালিয়ে যান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

অধ্যক্ষকে গাড়িচাপায় হত্যার অভিযোগে প্রভাষককে আসামি করে মামলা


আরও খবর

সিলেট

ফাইল ছবি

   ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি

সিলেটের ওসমানীনগরের শেখ ফজিলাতুন্নেছা ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শায়খুল ইসলামকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার রাতে নিহতের স্ত্রী দিলবাহার তালুকদার লিপি বাদী হয়ে একই মাদ্রাসার প্রভাষক (বাংলা) লুৎফুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ওসমানীনগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় লুৎফুর ছাড়াও অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে প্রভাষক লুৎফুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির কাছে নালিশ করেন অধ্যক্ষ শায়খুল ইসলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ লুৎফুর রহমানকে চাকরি থেকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেও লুৎফুর সফলতা না পেয়ে মুচলেকা দিয়ে পুনরায় মাদ্রাসায় যোগ দেন। যোগদানের পর বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার হুমকি দেন। পরে তিনি তাকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যা করেন।

ওসমানীনগর থানার পরিদর্শক এসএম আল-মামুন বলেন, আসামি লুৎফুর রহমান পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সকালে অধ্যক্ষ শায়খুল ইসলাম মোটরসাইকেলে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের বুরঙ্গা সড়কের মুখ এলাকায় পৌঁছলে একটি দ্রুতগতির প্রাইভেটকার তাকে পেছন দিক থেকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ঘটনার পরপর অভিযোগ ওঠে, একই মাদ্রাসার প্রভাষক লুৎফুর রহমান পরিকল্পিতভাবে গাড়িচাপা দিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হাওরে বাঁধ নির্মাণে গাফিলতির অভিযোগে প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ আটক ৭


আরও খবর

সিলেট

মাটিয়ান হাওর উপপ্রকল্পে ৪৭ নং প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা -সমকাল

  তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজে গাফিলতির অভিযোগে ২ প্রকল্প চেয়ারম্যান ও ১ সেক্রেটারিসহ ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কার্যালয়ে ডেকে এনে তাদের পুলিশে সোপর্দ করেন তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম।

আটকরা হলেন-মাটিয়ান হাওর উপপ্রকল্প ৩৮নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব রতনশ্রী গ্রামের মঞ্জুর আলীর ছেলে মনসাফ মিয়া, ৪৬নং প্রকল্প কমিটির সভাপতি ভাটি তাহিরপুর গ্রামের মৃত আহাম্মদ আলীর ছেলে সিরাজুল হক শাহ, সদস্য রতনশ্রী গ্রামের মৃত তাহির উদ্দিনের ছেলে হুমায়ুন কবীর, ৪৭নং প্রকল্প কমিটির সভাপতি রতনশ্রী গ্রামের মৃত মহব্বত আলীর ছেলে মিজানুর রহমান, সদস্য সচিব রতনশ্রী গ্রামের মৃত আব্দুল কাদিরের ছেলে জামাল হোসেন আখঞ্জি, সদস্য রতনশ্রী গ্রামের বদিউজ্জামানের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ও একই গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে মজনু মিয়া।

তাহিরপুরে কর্মরত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশ মতে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করতে হবে। সে অনুযায়ী সময় আছে আর মাত্র ৮ দিন। প্রকল্প এলাকাতে গিয়ে দেখা যায়, মনসাফের প্রকল্প অর্থাৎ ৩৮নং প্রকল্পে কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। অপরদিকে সিরাজুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানের প্রকল্পে অর্থাৎ ৪৬ ও ৪৭নং প্রকল্পে কাজ হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। এমতাবস্থায় সংশ্লিষ্টদের তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডেকে আনলে তারা সন্তোষজন উত্তর দিতে না পারায় তাদের সবাইকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এসেছিলেন বাঁধ পরিদর্শন করতে। এ সময় এই ৩টি বাঁধের কাজের অগ্রগতি ছিল ১০ শতাংশ। এরপর বাঁধগুলোর কাজে ১ শতাংশও অগ্রগতি হয়নি। তাদের কর্তব্যের অবহেলায় হাওরপাড়ের মানুষ বিপদে পড়বেন, এ অবস্থা মেনে নেয়া যায় না। কর্তব্য পালনে গাফিলাতির কারণে তাদের আটক করা হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট খবর