খেলা

স্বপ্নীল জয় আবাহনীর

প্রকাশ : ২১ আগষ্ট ২০১৯ | আপডেট : ২১ আগষ্ট ২০১৯

স্বপ্নীল জয় আবাহনীর

খেলার একটি মুহূর্ত

  ক্রীড়া প্রতিবেদক

সাত গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে হেসেছে আবাহনী।

বুধবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে এএফসি কাপের ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভকে ৩-৪ গোলে হারিয়েছে জীবন-সানডে চিজোবারা।

সানডে চিজোবার জোড়া গোলের সঙ্গে স্কোরশিটে নাম লেখান নবীব নেওয়াজ জীবন ও সোহেল রানা। স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে আকাশ ছোঁয়ার অপেক্ষায় আকাশি-নীল জার্সিধারীরা। ২৮ আগস্ট পিয়ংইংয়ে দ্বিতীয় লেগে না হারলেই ইন্টার জোন প্লে-অফের ফাইনালে উঠবে মারিও লেমোসের দল।

টানটান উত্তেজনা এবং রোমাঞ্চ ছড়ানো ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটেই হয় তিন গোল। আবাহনীর দুটি ও উত্তর কোরিয়ার ক্লাবটির করা এক গোল ছিল চোখ-ধাঁধানো।

তিনবার ইন্টার জোন প্লে-অফ সেমিফাইনাল খেলা এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের বিপক্ষে আবাহনী ছিল দুর্দান্ত। ছোট ছোট পাসে খেলা সোহেল-জীবনরে মধ্যে বোঝাপড়াটা ছিল দারুণ। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলটাই পাচ্ছিল না স্বাগতিকরা। অবশেষে ৩৩ মিনিটে গোলের আনন্দে মেতে ওঠে আকাশি-নীল জার্সিধারীরা।

মাঝমাঠ থেকে সোহেল রানার বাড়ানো বল বক্সের মধ্যে থাকা বেলফোর্ট শট নিলে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডার হেড করেন। বল পান নবীব নেওয়াজ জীবন। তিনি ব্যাকহীন করে দেন সোহেলকে। বক্সের বাইরে থেকে সোহেলের নেওয়া বাঁ পায়ের জোরালো শট চলে যায় এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের জালে। কিন্তু এই গোলের আনন্দ মাত্র ২ মিনিট স্থায়ী ছিল। ঠিক আবাহনীর গোলের পুনরাবৃত্তি করে উত্তর কোরিয়ান ক্লাবটি। বক্সের বাইরে থেকে গোল করে সমতা আনেন চু জং হুয়ুক।

রোমাঞ্চকর ম্যাচে তিন মিনিট পর আবারও নাটকীয়তা। আবারও লিড আবাহনীর। ৩৮ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে রায়হান হাসানের লম্বা থ্রো এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের এক ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করেন। মাঝমাঠের একটু সামনে দাঁড়ানো ওয়ালী ফয়সাল বল পেয়েই সামনে বাড়ান। বক্সের মধ্যে থাকা জীবন পেয়ে যান বল। ঠাণ্ডা মাথায় ডান পায়ের আলতো টোকায় এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভের গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে বল জালে পাঠান বাংলাশে প্রিমিয়ার লীগে ১৭ গোল করা এই ফরোয়র্ড।

বিরতির পর এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভকে সমতায় ফেরান রিম চল মিন। ৫৬ মিনিটে সানডে জাদু। নিজেদের অর্ধ থেকে টুটুল হোসেন বাদশার লং শট খুঁজে নেয় সানডে চিজোবাকে। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসা এপ্রিল টোয়েন্টিফাইভ গোলরক্ষক আন তায়ে সংয়ের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠান সানডে চিজোবা। চার মিনিট পর বেলফোর্ট-সানডের রসায়নে চতুর্থ গোল পায় আবাহনী।

মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে উঠে পড়া বেলফোর্ট উত্তর কোরিয়ান ক্লাবটির চার ফুটবলারের মাঝখান দিয়ে বল দেন সানডেকে। নাইজেরিয়ান এ ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডান পায়ের মাটি কামড়ানো শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করেন। ৭৭ মিনিটে পার্ক সং রক গোল করলে শঙ্কা জাগে। কিন্তু ম্যাচ শেষে সেই শঙ্কা উবে যায়। জয় উদযাপনে মেতে ওঠে আবাহনী শিবির।

মন্তব্য


অন্যান্য