খেলা

বিশ্বকাপে আর কত বাজে আম্পায়ারিং?

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯ | আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯

বিশ্বকাপে আর কত বাজে আম্পায়ারিং?

ছবি-টুইটার

  অনলাইন ডেস্ক

টুইটারে একজন লিখেছেন, 'ইংল্যান্ড বিশ্বকাপটা বৃষ্টি আর আম্পায়ারের। প্রতিপক্ষের চেয়ে এই দুটি বিষয়ই বেশি ভুগিয়েছে দলগুলোকে।' কথাটা একবিন্দুও ভুল নয়। বৃষ্টিতে চারটি ম্যাচ পণ্ড হয়েছে। আর ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে কয়েকটি ম্যাচের ফলাফল বদলে দিয়েছেন আম্পায়াররা। সেমিফাইনালেও বজায় থাকলো ভুল আম্পায়ারিং। এবার বাজে আম্পারিংয়ের শিকার হলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান জেসন রয়।

দ্বিতীয় সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে খেলছে ইংল্যান্ড। ইনিংসের ২০তম ওভারে প্যাট কামিন্সের বলটা হুক করতে চেয়েছিলেন রয়। বলটা তাকে ফাঁকি দিয়ে জমা হয় অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে। অজি ফিল্ডাররা আবেদন করলে আঙুল তুলে দেন শ্রীলংকান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। ভুলে রিভিউ চেয়ে বসেন রয়, তার হয়তো মনে ছিল না দুই ওভার আগে একমাত্র রিভিউটা নষ্ট করে বসেন জনি বেয়ারস্টো।  ৬৫ বলে ৮৫ রান করা রয় ফিরে গেলেন আম্পায়ারের ভুলের কারণে।

রাগে ক্ষোভে অনেকক্ষণ উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকেন জেসন রয়। শেষ পর্যন্ত মরিস ইরাসমাসের অনুরোধে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ ওপেনার। তবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে তিনি যে মোটেও খুশি নন সেটা প্রকাশ্যেই জানান দেন রয়। 

এবারের বিশ্বকাপে বাজে আম্পায়ারিংয়ের উদাহরণ ভুরিভুরি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এর ম্যাচে আম্পায়ার রুচিরা পালিয়াগুরুগে ও ক্রিস গেফানি মিলে বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেন। নিজেদের বাঁচাতে এক ম্যাচেই চার রিভিউ নেয় ক্যারিবীয়রা। বিতর্কিত সিদ্ধান্তের দুটিই ছিল গেইলের বিপক্ষে। দুবার গেইলকে ভুল আউট দেন গিফানি। তৃতীয়বার লেগ বিফোরের সিদ্ধান্ত সঠিক থাকলেও গিফানি নো বল এড়িয়ে যান। 

আম্পায়ারের ভুল হয় পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচেও। কুমার ধর্মসেনা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের জোয়েল উইলসনের ভুলে এক ওভারে ৭ বল করতে হয় পাকিস্তানকে। সপ্তম বলে কোনো রান বা উইকেট পড়লে কিন্তু বিতর্ক আরও বাড়ত।

বাজে আম্পায়ারিংয়ের শিকার হয় বাংলাদেশও। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যাটিং করার সময় দুটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়াররা। সেদিন মুজিব উর রহমানের করা ৩২তম ওভারের শেষ বলটি সৌম্য সরকারের প্যাডে লাগে। তাতেই জোর আবেদন জানায় আফগানিস্তান। ফিল্ড আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে দেন। রিভিউ নেন সৌম্য সরকার।

রিভিউ দেখে সবারই মনে হয়েছে ব্যাট স্পর্শ করার পর বলটি প্যাডে লাগে! তবে থার্ড আম্পায়ার আলিম দারের মনে হলো অন্য কিছু। আফগানিস্তানের পক্ষে রায় দিলেন তিনি! সেদিনই লিটন কুমার দাসের আউটটিও ছিল বিতর্কিত। ১০ বলে তিন রানে আউট হন সৌম্য সরকার। বলটি মাটিতে পড়ার পর ক্যাচ ধরেন আফগান ফিল্ডার হাশমতুল্লাহ শাহেদি। তবুও আউট ঘোষণা করেন আলিম দার। 

বাজে আম্পারিংয়ের শিকার হয়েছে ভারতও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে কেমার রোচের শিকার হয়ে ফিরে যান রোহিত। মাঠের আম্পায়ারের নট আউটের সিদ্ধান্ত থার্ড আম্পায়ারের কাছে গিয়ে বদলে যায়। স্নিকো মিটার দেখে আউট দেন থার্ড আম্পায়ার। পরে দেখা যায় বলটি ব্যাটে নয় বরং প্যাডেই লেগেছিল।

আম্পায়ারের ভুলে কারণেই নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হাতছাড়া হয় আফগানিস্তানের। সেবার হারিস সোহেল জীবন পেয়েছেন আম্পায়ারের নাইজেল লংয়ের ভুলে। হারিসের ব্যাটে লেগে বল জমা পড়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে কিন্তু লং আউট দেননি লং।

পাকিস্তানকে ম্যাচ জেতানো ইমাদ ওয়াসিম জীবন পান মাত্র ১ রানে থাকতে। রশিদ খানের বল ইমাদের প্যাডে লেগেছিল। আফগানরা জোরালো আবেদন করলেও আম্পায়ার পল উইলসন সাড়া দেননি।

সত্যিই, এবারের বিশ্বকাপটা আম্পায়রদেরই হয়ে থাকল। 

মন্তব্য


অন্যান্য