খেলা

হায় বৃষ্টি, হতাশার বৃষ্টি

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

হায় বৃষ্টি, হতাশার বৃষ্টি

  সঞ্জয় সাহা পিয়াল, ব্রিস্টল থেকে

দশটায় ৭০ শতাংশ, এগারোটায় ৬০, বারোটায় ৪০- এভাবে দুটোর মধ্যে যদি ০ হয়ে যায়! ক্রিকেট ম্যাচের শেষ দশ ওভারের মতোই বৃষ্টি মাপার চাপা উত্তেজনা ছিল! মোবাইলের ওয়েদার বুলেটিনে ঘণ্টায় ঘণ্টায় দেওয়া আপডেটগুলোয় চোখ ছিল সবার। কিন্তু ব্রিস্টলের বেরসিক আকাশ মাঠে আসা হাজারো প্রবাসীর বিশ্বাসে সাড়া দেয়নি, প্রয়োজন মনে করেনি টেলিভিশনের সামনে দেশে অপেক্ষা করে থাকা মানুষগুলোর আকাঙ্ক্ষাও। দুটো নাগাদ ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো জানিয়ে দেন ম্যাচ পরিত্যক্ত, সান্ত্বনার পুরস্কার পাবে- বাংলাদেশ পাবে ১ পয়েন্ট, বাকি ১ শ্রীলংকার। সব যোগ করে চার ম্যাচে এখন মাশরাফিদের ৩, শ্রীলংকার ৪ (যার মধ্যে দুটি পয়েন্টই বৃষ্টির দান)। যা পেয়ে প্রেসবক্সে আসা লংকান সাংবাদিকদের আনন্দ আর ধরে না! ব্রিস্টলকে লংকানদের ধন্যবাদ।

বাংলাদেশ অবশ্য তা মোটেই দিতে পারছে না। 'এই ম্যাচটিতে আমরা দুটো পয়েন্টের লক্ষ্য ধরেছিলাম; কিন্তু সেটা হলো না। অবশ্যই আমরা হতাশ। তবে যেহেতু প্রকৃতির ওপর কোনো হাত নেই, সেহেতু এই পয়েন্টই মেনে নিতে হচ্ছে। বাংলাদেশের জন্য, মাঠে আসা দর্শকদের জন্য এ দিনটি ছিল প্রচণ্ড হতাশার।' মৃত ম্যাচের পর সাংবাদিকদের সামনে এসে ড্রেসিংরুমের প্রতিক্রিয়া জানান বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস। মাশরাফিও এসেছিলেন সেখানে, আইসিসির ক্যামেরার সামনে তিনিও কষ্টের কথাটি জানিয়েছেন। 'আমরা খেলতে এসেছিলাম। হার-জিত যাই হতো সেটাই মেনে নিতাম। এভাবে পয়েন্ট

পাওয়া কেউ আশা করে না।' লংকান অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে অবশ্য ভেতরের খুশিটা চাপা দিয়েই ক্যামেরার সামানে সৌজন্য দেখালেন। 'অনেকে হয়তো ভাবছে, এই পয়েন্ট পেয়ে আমরা খুশি। তেমনটা মোটেই নয়। আমরাও ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলাম। এই ম্যাচটি জিততে চেয়েছিলাম।'

এ নিয়ে বিশ্বকাপের তিন-তিনটি ম্যাচ বৃষ্টির জলে ডুব মারল। ব্রিস্টলের এ মাঠেই পরপর দুটো। এখনকার মানুষ অবশ্য বলছেন, ব্রিস্টলের সামার এমনই! এখানে বৃষ্টি এলে সাত দিনের কমে ফেরার নাম করে না। যদি এমনই হয় তাহলে এই মাঠে এত ম্যাচ কেন দেওয়া হয়েছে? এমনকি এই মাঠে বিশ্বকাপের যে তিনটি ম্যাচ সূচিতে ছিল, তার দুটিই বৃষ্টিতে পণ্ড। আট ঘণ্টার ড্রাইভ করে ডারহাম থেকে খেলা দেখতে এক বাংলাদেশি ছাত্রের আক্ষেপ- ইংলিশ সামারে এই অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। সেটা জেনেও কেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিই এখানে দেওয়া হলো? এর উত্তর জানা নেই কারও। ছয় মাস আগে অনলাইনে ৪০ পাউন্ডের টিকিট কিনে একদিনে কাজের ছুটি নিয়ে মানিক এসেছিলেন মাঠে। তিনিও ফিরে গেলেন আইসিসিকে এক হাত নিয়ে।

সংবাদ সম্মেলনেও প্রশ্ন উঠল, এখনকার মৌসুমে এমন বৃষ্টি হয়েই থাকে। তাহলে কেন রিজার্ভ ডে রাখা হলো না? রিজার্ভ ডে থাকলে কি ভালো হতো না? উত্তরে লংকান অধিনায়ক খুব একটা সমর্থন দিলেন না। 'হলে হয়তো ভালো হতো। কিন্তু এত বড় টুর্নামেন্ট, এত এত শহরে খেলা; হয়তো রিজার্ভ ডে রাখাটা কঠিন ছিল আইসিসির জন্য।' দিমুথের কথাটি শুনলে আইসিসি খুশিই হবে। তবে বাংলাদেশ কোচ কিন্তু রিজার্ভ ডের পূর্ণ সমর্থন করেছেন। 'আমি নিজে ইংল্যান্ডের মানুষ, আজ সারাদিন বিশ্বের অনেক জায়গা থেকে আমার কাছে ফোন এসেছে। তারা জানাতে চেয়েছে খেলা হবে কি-না, বৃষ্টি থামবে কি-না? আমি তাদের উত্তর দিতে পারিনি। শুধু বাংলাদেশের এ ম্যাচটিই নয়। আরও কয়েকটি ম্যাচ এভাবে বৃষ্টিতে পণ্ড হয়েছে। আমার মনে হয়, রিজার্ভ ডের ব্যাপারটি আইসিসি মাথায় রাখলে ভালো হতো।'

শুধু ব্রিস্টলেই নয়, গোটা সমারসেটে সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি রয়েছে। আজ টনটনেও বৃষ্টি মাথায় যাবে টাইগাররা। সেখানে ১৭ জুন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ম্যাচ। আকাশবার্তা বলছে, সেখানেও ম্যাচের আগের দিন পর্যন্ত বৃষ্টি থাকবে। যা শুনে মাশরাফির কপালেও ভাঁজ। 'এভাবে বসে থাকলে মোমেন্টামটাই না চলে যায়...।'

মন্তব্য


অন্যান্য