খেলা

রঙ্গশালায় সাবিনাদের সামনে আজ ভুটান

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০১৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

রঙ্গশালায় সাবিনাদের সামনে আজ ভুটান

  সাখাওয়াত হোসেন জয় বিরাটনগর, নেপাল থেকে

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যঘেরা পাহাড়ের মাঝে আঁকাবাঁকা রাস্তা। যেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি। শিল্পনগরী খ্যাত বিরাটনগর শহরটি একেবারে হিমালয়ের গা-ঘেঁষা। সমুদ্র সমতল থেকে ৮০ মিটার উচ্চতার শহরটির প্রবেশের মুখে যতটা চোখ জুড়ানো ভেতরের পরিবেশটা তার উল্টো। বাংলাদেশের কোনো মফস্বল শহরের মতোই। গোগরাহা বাজার থেকে নামকরণ করা হয় বিরাটনগরের। এই শহরেই বসেছে মেয়েদের ফুটবলের মিলন মেলা। পঞ্চম নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের ঘণ্টা বেজেছে দু'দিন আগে; ১২ মার্চ। তবে বাংলাদেশের মিশন শুরু হচ্ছে আজ। শহীদ রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে  আজ টার্গেট পূরণের ম্যাচ সাবিনা খাতুনদের। ভুটানকে হারালেই সেমিফাইনালের লক্ষ্য পূরণ হবে মারিয়া মান্দা-মনিকা চাকমাদের। বাংলাদেশ সময় বিকেল সোয়া ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।

গ্রুপ 'এ'-এর প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে নেপালের ৩-০ গোলের জয়েই বাংলাদেশের জন্য সমীকরণটা সহজ হয়ে যায়। জিতলেই শেষ চারের টিকিট নিশ্চিত। শুধু জয়ই নয়, ভুটানের সঙ্গে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য অন্যদিক দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ। চার গোলে জিতলে গ্রুপের শেষ ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ড্র করলেই সেমিফাইনালে অন্তত ভারতকে এড়ানো যাবে। তখন মালদ্বীপ কিংবা শ্রীলংকার মুখোমুখি হবে। শক্তির বিচারে এই দু'দলের চেয়ে এগিয়ে থাকায় ফাইনালের পথটাও সহজ হয়ে যাবে বাংলাদেশের। ভুটান ম্যাচের আগে এটাই যেন মাথায় বেশি ঘুরপাক করছে গোলাম রব্বানী ছোটনের। গতকাল নিজের চাওয়ার কথা এভাবেই বলে দিলেন বাংলাদেশ কোচ, 'ভুটান ম্যাচটি আমাদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এসেছি, তা পূরণ করতে হলে জিততেই হবে। একই সঙ্গে জয়টা যেন বড় হয়, সেটাই বলা আছে মেয়েদের।' সহঅধিনায়ক মৌসুমীও কোচের সুরেই কথা বলেন, 'আমরা জানি ভুটানের বিপক্ষে আমাদের কী করতে হবে। মানসিকভাবে সবাই প্রস্তুত আছে।'

২০১৬ সালে রানার্সআপ হয়েছিল। এবারও সেই স্বপ্ন। কিন্তু ভারত এবং স্বাগতিক নেপাল আছে বলেই স্বপ্নের ডানা এখানেই মেলতে চায় না লাল-সবুজের মেয়েরা। বিরাটনগরে বিরাট স্বপ্ন নিয়ে নারী সাফ শুরুর দু'দিন আগে আসে বাংলাদেশ দল। শেষ ২৪ মাস দেশ এবং দেশের বাইরে অনেক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা আঁখি খাতুন-সানজিদারা এখন অনেক পরিণত ও পরিপকস্ফ। দুই বছর আগে শিলিগুড়ি সাফে স্বপ্নের সীমানা ছাড়িয়ে যাওয়া মেয়েরা এবার আরও বেশি প্রত্যয়ী। দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে সেরা হওয়ার বাসনা মনের মাঝে লুক্কায়িত রাখা তহুরা খাতুন-মনিকা চাকমারা এখন আজকের ভুটান ম্যাচ নিয়েই ভাবছেন। বয়সভিত্তিক আসরে এই ভুটান কখনোই বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি। গোলের ব্যবধান অনেক বড় ছিল। কিন্তু সিনিয়র পর্যায়ে তারা সমীহ জাগানো দল। প্রথম ম্যাচে হারলেও নেপালের সঙ্গে লড়েছিল সমানতালে। টিম বাংলাদেশ ওই ম্যাচটি মাঠে বসে দেখেছে। ভুটানের শক্তি-দুর্বলতাগুলো নিজের ডায়েরিতে নোট করেছেন কোচ ছোটন। ভুটানের বিপক্ষে কীভাবে খেলতে হবে সেই মন্ত্রও শিষ্যদের দিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এ কারিগর। এখন মাঠে তহুরাদের মেলে ধরার পালা।

বুধবার রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে এক ঘণ্টার অনুশীলনে বেশি সিরিয়াস ছিলেন মেয়েরা। তবে চোটের কারণে সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারেননি কৃষ্ণা রানী সরকার। দলের অন্যতম সেরা এই তারকার জন্য আজ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান ছোটন। বাকি সবাই সুস্থ। আর ভুটানের বিপক্ষে প্রথম একাদশও অনেকটা চূড়ান্ত। তা এগারোজনকে নিয়ে স্ট্র্যাটেজিক ডিরেক্টর পল স্মলি এবং ছোটনের আলাদা ক্লাসই বোঝা গেছে। মনিকা, মারিয়া, মাশুরা, আঁখি, স্বপ্না, সাবিনা, সানজিদা, শিউলি, শামসুন্নাহার সিনিয়র, রূপনা চাকমা এবং মৌসুমীকে নিয়ে আলাদা অনুশীলন করিয়েছেন কোচ। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপ বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে মিয়ানমারের বিপক্ষে কর্নারে যে চোখ ধাঁধানো গোল করেছিলেন মনিকা চাকমা, তা এদিন অনুশীলনের সময়ও করেছেন। সিনিয়র দল বলে বাংলাদেশের আক্রমণের মূল চাবিকাঠি সাবিনা ও স্বপ্না। বিশেষ করে গত সাফে স্বপ্না ছিলেন অনন্য। এবারও স্বপ্নের জাল বুনেছেন স্বপ্না। বিরাটনগরে বাংলাদেশও চায় স্বপ্নের সূচনা।

মন্তব্য


অন্যান্য