খেলা

'সেঞ্চুরিটা দেশি তারকাদের উৎসাহ দেবে'

প্রকাশ : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

'সেঞ্চুরিটা দেশি তারকাদের উৎসাহ দেবে'

ছবি: ক্রিকবাজ

  অনলাইন ডেস্ক

বিপিএলের ফাইনালে তামিমময় এক ম্যাচ দেখা গেছে।  দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।  এক ইনিংসের প্রায় ৭১ ভাগ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে।  হয়েছেন ম্যাচ সেরা। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ এগারো ছক্কা তিনি মেরেছেন এক ইনিংসে। তামিম ম্যাচটাকে একক প্রদর্শনীতে পরিণত করেন। দারুণ এই ইনিংস খেলার পথে পরিকল্পনা কি ছিল তামিমের। তার ইনিংস পরবর্তী মনোভাবই বা কি। এসব নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ওপেনার তামিম ইকবাল।

তামিম ফাইনালে কুমিল্লার হয়ে খেলেছেন ৬১ বলে ১৪১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। প্রথমে ৩০ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। পরের ৩১ বলে করেছেন চোখ ধাঁধাঁনো ৯১ রান। ম্যাচ শেষে তামিম জানান, তিনি ভালো খেলছেন সেটি জানেন। কিন্তু কিভাবে খেলেছেন, কোন পরিস্থিতি কিভাবে সামলেছেন এসব নিয়ে বিস্তর ব্যখ্যা দিতে পারবেন না। ম্যাচের হাইলাইটস যদি দেখেন  তবে হয়তো বলতে পারবেন। 

তবে জানালেন একটি পরিকল্পনা ছিল আগে থেকেই। সেটা ঢাকার দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান এবং সুনীল নারিনকে নিয়ে। তামিমের মাথায় ছিল এই দুই স্পিনারকে তিনি উইকেট দেবেন না। দেনওনি তামিম। আর তাতেই তার হাত থেকে এসেছে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি।  তামিম বলেন, 'সত্যি আমি ভাবিনি এতো ভালো ইনিংস খেলবো। তবে আমি  মনে করি আমার পরিকল্পনা ভালো ছিল। আমি ঢাকার সেরা দুই বোলার সাকিব এবং নারিনকে উইকেট দিতে চাইনি। নারিনকে একটা ছক্কা মারা ছাড়া কোন ঝুঁকি নেয়নি। ব্যাটিং বান্ধব উইকেট হওয়ায় আমি পেসারদের ওপর চড়াও হতে চেয়েছিলাম।' 

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের শিরোপাজয়ী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ছবি: ইএসপিএন

তবে পরিকল্পনা কাজে লাগলেও এতো ভালো ইনিংস তামিম খেলবেন তা তিনি ভাবেননি। পরিকল্পনা করে টি-২০ ক্রিকেটে অন্তত সেঞ্চুরি করা যায় না। আর ১৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস হলে তো কথাই নেই। সব কিছু যেন কিভাবে কিভাবে ঠিক ঠাক হয়ে যায়, হয়ে গেল। তামিমও আছেন ঘোরের মধ্যে, 'আমার মনে হচ্ছে এখনও স্বপ্নের ঘোরের মধ্যে আছি। কিভাবে ব্যাট করেছি এখনও আমি বলতে পারবো না। মনে হয়, হাইলাইটস দেখলে বলতে পারবো। তবে আনামুল আউট হয়ে গেলে মধ্যে খুব মন খারাপ হয়েছিল। পরে নিজেকে শান্ত করে আবার খেলা শুরু করি।'

ফাইনালে দুর্দান্ত তামিম  কৃতিত্ব দিলেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফিকে। তার দেওয়া টোটকা মাঠে তিনি দারুণ প্রয়োগ করেছেন বলে জানান তামিম।  বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি সব সময় বলেন এবং বিশ্বাস করেন তিনিই জিতবেন। তামিমও এই মন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন পুরো ম্যাচে, 'বড় ম্যাচের আগে আমি খুব চিন্তায় পড়ে যায়। দায়িত্বটা যখন আমার কাঁধে বেশি থাকে তখন তা আরও বেড়ে যায়। সেজন্য ইতিবাচক থাকবো ঠিক করেছিলাম। দলের মালিকরা মাঝে মাঝে আবেগ প্রবণ হয়ে পড়েছেন।  তবে আমি এক মুহূর্তের জন্যও ভাবেনি যে আমি হারবো। কৃতিত্ব জনাব মাশরাফিকে দিতেই হবে।' 

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরে ছয়টি সেঞ্চুরির দেখা মিলেছে। এর মধ্যে বিদেশিরা করেছেন শুরুর পাঁচটি। ফাইনালে এসে দেশিদের হয়ে খাতা খোলেন তামিম। তার এই সেঞ্চুরি বিপিএলে স্থানীয় ক্রিকেটারদের ভরসা দেবে, আমরাও পারি। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেও নিশ্চয় তামিমের দুর্দান্ত  এই ইনিংস এবং আসর আত্মবিশ্বাস দেবে। তামিম বলেন, 'আমি আশা করি এই ইনিংস অন্য বাংলাদেশিদের উৎসাহ দেবে। অন্যরা সেঞ্চুরি করবে এই ভরসায় তাদের থাকতে হবে না। এটা আমরাও করে দেখাতে পারি।'

মন্তব্য


অন্যান্য