খেলা

দুর্দান্ত তামিমে শিরোপা কুমিল্লার

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

দুর্দান্ত তামিমে শিরোপা কুমিল্লার

ছবি: বিসিবি

  অনলাইন ডেস্ক

ধুঁয়ে মুছে গেল শুরুর গ্লানি। কি কাঠখোট্টা এক বিপিএলই না শুরু হয়েছিল। রান নেই ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে। নেই আধুনিক প্রযুক্তি। আম্পায়ারিংয়ের ভুল। কিন্তু সেসব ভুলের মাশুল এক ফাইনালের উসুল হয়ে গেল। দর্শকদের খরচা করা টাকা কিংবা সময় বিফলে গেল না। প্রথমে তামিমের অসাধারণ সেঞ্চুরি। পরে দেখা মিলল ঢাকার পাল্টা ছো। শেষ পর্যন্ত দারুণ জমাট লড়াই দিয়েও ঢাকা হারল ১৭ রানে। বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের শিরোপা ঘরে উঠল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের।

এ নিয়ে বিপিএলের ছয় আসরের পাঁচটিতে ফাইনাল খেলল ঢাকা। পরপর দু'বার হারল ফাইনাল। তার আগে প্রথম দু'বার শিরোপা তুলেছিল ঘরে। এক আসর ছাড় দিয়ে আবার নিজেদের সম্পত্তি ঘরে ফেরায় ঢাকা। এবার দেখল মুদ্রার উল্টো পিঠ। আর কুমিল্লা ঘরে তুলল বিপিএলের দ্বিতীয় শিরোপা। তামিম খেললেন বিপিএল প্রথম ফাইনাল। দেশ সেরা ব্যাটসম্যান সেটা দারুণভাবে রাঙালেন। 

টস জিতে কুমিল্লাকে এ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা। আগের পাঁচ আসরের তিনটিতে শিরোপা জেতে প্রথমে বল করা দল। সাকিবের হয়তো মাথায় ছিল সেটা। কিন্তু দিনটা যখন তামিমের তখন সব অতীত কিংবা পরিসংখ্যান ম্লান। বাংলাদেশ ওপেনার এ ম্যাচে দলের হয়ে খেলেছেন ৬১ বলে ১৪১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। এগারটি ছক্কা আর দশ চারে সাজানো তার ইনিংসে পাত্তা পায়নি ঢাকার কোন বোলার।

সাকিব-রুবেলদের কচুকাটা করেছেন তিনি। রুবেলের ১৫তম ওভারে তিনি একাই নিয়েছেন ২২ রান। রাসেলের ১৭তম ওভার থেকে তুলেছেন আবার ২২ রান। পরে সাকিবের বলেও দেখিয়েছেন চার-ছক্কা। নারিনকেও ছাড়া দেননি তিনি। তুলে নিয়েছেন বিপিএলে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি। এমনকি টি-২০ ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও দেখিয়েছেন তিনি। সঙ্গে ধরেছেন দারুণ দুই ক্যাচ। আনামুল-ইমরুলরা আরেকটু হাত খুলে খেললে রান আরও বড় হতে পারত কুমিল্লার।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে কোন রান না তুলেই ফিরে যান সুনীল নারিন। তবে ঢাকাকে ম্যাচে ফেরান উপুল থারাঙ্গা এবং রনি তালুকদার। তারা ১০২ রানের জুটি গড়েন। থারাঙ্গা ৪৮ রান করে ফিরে যান। পরে ফেরেন সাকিব। দলের রান আর এক যোগ হতেই ১২১ রানে নিজের ৬৬ রানে ফিরে যান রনি তালুকদার। ঢাকা হারায় রান তোলার গতি।

এরপরও ভরসা ছিল ঢাকার। কারণ ওপরে ছিলেন পোলার্ড-রাসেলরা। কিন্তু তারা ভরসা দিতে পারেননি দলকে। পোলার্ড ১৩, রাসেল ৪ এবং শুভাগত শূন্য রানে ফিরলে সব আশা শেষ হয়ে যায় ঢাকার। শেষটায় মাহমুদুলের ১৫ এবং নুরুল হাসানের ১৮ রান হারের ব্যবধান কমায। এর আগের আসরে ঢাকা ফাইনালে ২০৭ রান তাড়া করতে গিয়ে হেরেছিল ৫৭ রানে। আর এবার পুরোপুরি দুইশ'র লক্ষ্য তাদের শিরোপা বঞ্চিত করল ১৭ রানে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সাব্বিরের সেঞ্চুরির পরও ধবলধোলাই বাংলাদেশ


আরও খবর

খেলা

ছবি: ফাইল

  অনলাইন ডেস্ক

ভারতীয় সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির আত্মজীবনী ‘এ সেঞ্চুরি ইজ নট ইনাফ’ বইটি বাংলাদেশের জন্য ভালো উদাহরণ। ডুনেডিনে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেও দলকে জেতাতে পারেননি সাব্বির। বরং ৮৮ রানের হার দিয়ে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। দলীয় খেলা ক্রিকেট। দলের অন্যদের ব্যর্থতায় একজনের সেঞ্চুরি কাজে লাগে না। তবে নিন্দুকের মুখ বন্ধ করার জন্য সাব্বিরের সেঞ্চুরিটা ‘ইনাফ’।

ম্যাচের আগে শুরুর ১০ ওভারে উইকেট বিলিয়ে ম্যাচ না হারার আহ্বান জানান তামিম। অথচ তিনিই তিন মাচের সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে আত্মহুতির যাত্রা শুরু করেন। কিউইদের ৩৩১ রানের লক্ষ্যে দেখে সম্ভবত ’ব্রেন ফেড’ হয় তামিমের! প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই তেড়েফুড়ে সামনে এগিয়ে মারতে গিয়ে আউট হন তিনি। এভাবেই শুরুর পাঁচ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তাও মাত্র ৬১ রানে। 

পরে সাব্বিরের ব্যাটে ধাক্কা সামাল দেয় বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি পাওয়া সাব্বির রহমান ১০২ রানে আউট হতেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। মাশরাফিবাহিনী ১৬ বল হাতে থাকতে ২৪২ রানে অলআউট হয়ে যায়। নিষেধাজ্ঞা মুক্ত হয়ে সাব্বিরকে দলে নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ড সফর থেকে দলের একমাত্র পাওয়া সাব্বিরের ওই সেঞ্চুরিটা। 

এর আগে তামিমের পর প্রথম ওভারেই দুই বল খেলে সৌম্য সরকার দারুণ এক সুইংয়ে সাউদির বলে বোল্ড হন। নিজের দ্বিতীয় ওভারে এসে আবার আঘাত হানেন সাউদি। এবার ফেরান লিটনকে। তিনি এক রান করেন। তিন ম্যাচেই এক করে রান করেন লিটন।তাদের আউটের পর মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদুল্লাহ ক্রিজে ছিলেন।

কিন্তু  এ ম্যাচেও সেট হয়ে ফেরেন তিনি। মুশফিক ১৭ এবং মাহমুদুল্লাহ ১৬ রান করে আউন হন।পরে সাইফউদ্দিন ৪৪ রান করে আউট হয়ে ফেরেন। মিরাজ আউট হন ৩৭ রান করে। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে রস টেইলরের ৬৯, টম ল্যাথামের ৫৯ এবং হেনরি নিকোলাসের ৬৪ রানের সুবাদে বড় সংগ্রহের দি েযায় ্নিউজিল্যান্ড। শেষটায় নিশাম এবং কলিন ডি গ্রান্ডহোম ৩৭ রান করে করলে বড় সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। কিউইদের হয়ে দলে ফেরার ম্যাচে সাউদি নেন ছয় উইকেট।  

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বায়ার্ন জ্বলেনি তাও জেতেনি অলরেডসরা


আরও খবর

খেলা

  অনলাইন ডেস্ক

গতির ফুটবলের জন্য আলাদা নাম আছে জার্মানির। দেশটির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ জার্মান ফুটবলেরই রেপ্লিকা। লিভারপুলও কম যায় না। ইংলিশ লিগের গতিময় ফুটবল দেখা যায় অলরেডসদের পা থেকে। আক্রমণই যাদের খেলার মূলমন্ত্র। লিভারপুলের কোচ আবার জার্মানির জার্গেন ক্লপ। অ্যানফিল্ডে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোয় দু’দলের ম্যাচটা তাই আগুনে লড়াই ছিল।

আক্রমণ প্রতি আক্রমণে অবশ্য জমাট ম্যাচ ছিল। কিন্তু গোল শূন্য সমতায় নির্লিপ্ত শেষ হয়েছে ম্যাচটি। তাতে অবশ্য গেলবারের চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল খেলা লিভারপুল একটু ধাক্কাই খেলো। কারণ দারুণ ফুটবল খেলে। মুহুরমুহ আক্রমণ করেও জয় বঞ্চিত তারা। দ্বিতীয় লেগে বায়ার্নের মাঠে খেলতে হবে। সেখানে হারলে আসর থেকে নিতে হবে বিদায়।

ম্যাচে বায়ার্ন মিউনিখ গোলের লক্ষ্যে একটি শটও নিতে পারেনি। তার বড় কৃতিত্ব ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফ্যাবিনহোর। দলের সেরা ডিফেন্ডার ভ্যান ডাইকের অভাব তিনি দারুণ পুষিয়ে দিয়েছেন। বায়ার্ন স্ট্রাইকার লেভানডভস্কিকে একাই আটকে রাখেন তিনি। অলরেডসরা এ ম্যাচে দুটি শট নেয় গোলের লক্ষ্যে। তবে গোলের বাইরে জার্মান ক্লাবটি সাতটি শট নেয়। লিভারপুল নেয় দশটি শট।

চলতি মৌসুমে দারুণ ছন্দে আছে লিভারপুল। লিগ টেবিলে শীর্ষে আছে। দলের কাছে তাই সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল অনেক। সেভাবেই শুরু করেন সালাহ-সাদিও মানেরা। কিন্তু সবাই গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ফিরমিনো, সালাহ, মানে কে সুযোগ হাতছাড়া করেননি! দারুণ সব বল নিয়ে বক্সে ঢুকে সুযোগ হাতছাড়া করেন তারা। এবার তাই বায়ার্নের মাঠে ১৩ মার্চের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত হতে হবে ক্লপের দলের। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বাংলাদেশকে পাহাড়সম লক্ষ্য দিল নিউজিল্যান্ড


আরও খবর

খেলা

  অনলাইন ডেস্ক

আগের দুই ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। দু’ম্যাচেই হারে বড় ব্যবধানে। সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচে টস জিতে বল নেয় বাংলাদেশ। এরপর কলিন মুনরোকে শুরুতে তুলে নেন মাশরফি। পরে সাইফউদ্দিনের বলে দারুণ এক ক্যাচ ধরে গাপটিলকে ফেরান তামিম। ফিফটি করে হেনরি নিকোলাস ফেরেন মিরাজের বলে।

এরপরও টেইলর, টম ল্যাথামদের হাফসেঞ্চুরি এবং নিশাম-গ্রান্ডহোমদের ঝড়ে তিনশ’ ছাড়ানো সংগ্রহ পেয়েছে কিউইরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ রান তুলেছে তারা। জিততে হলে ওই রান টপকাতে হবে বাংলাদেশের।   

এ ম্যাচে আউট হয়ে ফেরার আগে হেনরি নিকোলাস করেন ৬৪ রান। গাপটিল ২৯ রান করে ফিরে যান। তবে ফিফটি পূর্ণ করেন রস টেইলর। তিনি দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডও গড়েন তিনি এ ম্যাচে। পরে টম ল্যাথাম খেলেন ৫৯ রানের ইনিংস। অলরাউন্ডার নিশাম ২৪ বলে ৩৭ এবং গ্রান্ডহোম ১৫ বলে ৩৭ রান করেন। 

বাংলাদেশের হয়ে ১০ ওভারে ৯৩ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন মুস্তাফিজ। মাশরাফি ১০ ওভারে ৫১ রান খরচায় এক উইকেট নেন। সাইফউদ্দিন ১০ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। এছাড়া মিরাজ ও রুবেল ৯ ওভারে যথাক্রমে ৪৩ ও ৬৪ রান দিয়ে একটি করে উইকেট নেন।  

বাংলাদেশ দল এ ম্যাচে ইনজুরির কারণে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনকে দলে রাখতে পারেনি। তার বদলে ওয়ানডে দলে মুমিনুলকে অন্তভূক্ত করা হয়। তবে একাদশে জায়গা হয়নি তার। রুবেল হোসেনকে নেওয়া হয়েছে শেষ ওয়ানডের একাদশে। 

এছাড়া ইনজুরির কারণে মুশফিকের খেলা নিয়ে শঙ্কা থাকলেও তা পরে দূর হয়ে যায়। বাংলাদেশের লজ্জা এড়ানোর ম্যাচে দলে আছেন তিনি। শুরুতে উইকেট থেকে বাংলাদেশ দল কিছুটা সুবিধা পাবে। ডুনেডিনে শীত অপেক্ষাকৃত কম। সময় গড়ালে উইকেটের ঘাস মলিন হতে শুরু করবে। ব্যাটসম্যানদের জন্য পরে ব্যাট করা বেশ সহজ হবে।

নিউজিল্যান্ড দল এ ম্যাচে তিন পরিবর্তন নিয়ে নেমেছে। কেন উইলিয়ামসন বিশ্রামে যাবেন আগেই জানা ছিল। তার জায়গায় কলিন মুনরোর ফেরাও নিশ্চিত ছিল। সঙ্গে ফিরেছেন টিম সাউদি। এছাড়া টোড অ্যাস্টলের জায়গায় শেষ ওয়ানডে ম্যাচের দলে ফিরেছেন মিশেল সাটনার।

সংশ্লিষ্ট খবর