খেলা

জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৮

জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

বাংলাদেশকে প্রথম টেস্টে হারানোর পর জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাস; ছবি: ইউসুফ আলী

  অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির এলাকা সিলেটে বৃষ্টির দিন শেষ। চায়ের শহরে চা পাতার রঙ মরেছে। সবুজে ঘেরা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সবুজও কমেছে কিছুটা। কিন্তু সিলেটের দর্শকদের প্রাণে ছিল সবুজের ঢেউ। অভিষেক টেস্ট হচ্ছে সিলেটে সেই উন্মাদনা ছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু অভিষেক টেস্টে হার দেখলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে হেরেছে ১৫১ রানের বড় ব্যবধানে।

বাংলাদেশ তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে তারা করতে পারে ১৬৯ রান। এ নিয়ে টেস্টের সর্বশেষ আট ইনিংসে ২০০ রান করতে পারেনি বাংলাদেশ। টেস্টের চিরচেনা সেই ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে ঘরের মাঠে নিজেদের তৈরি করা স্পিন ফাঁদে পা দিয়ে আটকে গেলো বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজে সাকিব-তামিমের অভাব দেখা না দিলেও টেস্ট এসে অভিজ্ঞতায় টান পড়লো। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এবং সাকিবের বাঁ-হাতের ঘূর্ণি মিস করলো বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে তাদের প্রথম ইনিংসে ২৮২ রানের ভালো সংগ্রহ পায়। ওই ইনিংসে শেন উইলিয়ামস করেন ৮৮ রান। পিটার মুরের ৬৩ এবং অধিনায়ক মাসাকাদজার ৫২ রানে ভালো সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ১৪৩ রানে থাকলে ১৩৯ রানের লিড পায় তারা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে জিম্বাবুয়ে করে ১৮১ রান। দুই ইনিংস মিলিয়ে লিড পায় ৩২১ রানের। ওই রান তুলতে বাংলাদেশের হাতে ছিল দুই দিন। কিন্তু বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের দুটি সেশনই পার করতে পারলো না। মাঠ ছাড়লো ১৫১ রানে হেরে।

বাংলাদেশ দলের হয়ে দুই ইনিংসে মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান অভিষেক হওয়া আরিফুল হকের। প্রথম ইনিংসে ৪১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি করেন ৩৮ রান। বাংলাদেশের ইনিংসে নেই কোন অর্ধশতক। এই টেস্টে বাংলাদেশের একমাত্র পাওয়া সম্ভবত টেস্টে তাইজুলের প্রথম ১০ উইকেট পাওয়া। দুই ইনিংসে তিনি নিয়েছেন ১১ উইকেট। জিম্বাবুয়ের হয়ে দুই ইনিংসে ৬ উইকেট নিয়েছেন সিকান্দার রাজা। আগামী ১১ নভেম্বর ঢাকায় সিরেজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে। 

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি গেইলের


আরও খবর

খেলা

ছবি: এএফপি

  অনলাইন ডেস্ক

ভারত এবং বাংলাদেশের বিপক্ষে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আসেননি ক্রিস গেইল। খেলেছন টি-২০ লিগ। বিপিএলে আবার ফর্মটা একদম ভালো যায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিস্ফোরণ ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইলের। তবে বিশ্বকাপের আগে আগে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে দিয়ে আবার দলে ফেরেন তিনি। সেখানে আবার ৩৯ বছর বয়সী গেইলের ফর্ম নিয়ে তোলা হয় প্রশ্ন।

জবাবে গেইল বলেন, ক্রিকেটের এখনও বৈশ্বিক নেতা তিনি। ইংল্যান্ডের বোলাররা তাকে এখনও ভয় করে বলেও উল্লেখ করেন বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায়ের ঘোষণা দেওয়া ক্রিস গেইল। কারণটা তিনি পাঁচ ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ভালো মতোই বোঝালেন। তার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শুরুতে ব্যাট করে ৩৬০ রান তুলেছে। 

দলের এই বড় রান এসেছে গেইলের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি থেকে। গেইল খেলেছেন ১২৯ বলে ১৩৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। দারুণ ওই ইনিংস খেলার পথে ক্যারিবিয় ব্যাটিং দানব ছক্কা মারেন ১২টি। আর চারের মার মারেন মোটে তিনটি। 

দারুণ এই ইনিংস খেলে বেন স্টোকসের বলে যখন বোল্ড হয়েছেন তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেয়ে গেছে ৩১৭ রান। পরে হোল্ডার-নার্সরা সংগ্রহটা সাড়ে তিনশ' ছাড়ায়। গেইল দারুণ এই সেঞ্চুরি করে আফ্রিদির সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড (৪৭৬টি) নিজের করে নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের ২৪ তম সেঞ্চুরি করার পথে তিনি মোট ৪৭৭ টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।  

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে গেইল ছাড়াও বাকিরা ভালো খেলেছেন। ওপেনার ক্যাম্পবেলে করেন ৩০ রান। তিনে নেমে শাই হোপ করেন ৬৪ রান। ড্যারেন ব্রাভোর ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান। হেটমায়ার করেন ২০ রান। এছাড়া আর্সলে নার্স করেন ২৫ রান।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বাঘের ঘরের পুরোটাই ঘোগের দখলে?


আরও খবর

খেলা
বাঘের ঘরের পুরোটাই ঘোগের দখলে?

প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ছবি: ফাইল

  অনলাইন ডেস্ক

নিউজিল্যান্ড সফরের আগে বাংলাদেশ দলের কোচ-অধিনায়কের বলা কিছু কথা দিয়ে শুরু করা যাক। নিউজিল্যান্ডে হারলেও খুব বেশি চিন্তার কিছু থাকবে না, বলেন জাতীয় দলের কোচ স্টিভ রোডস। মাশরাফি আবার বলেছিলেন, বিশ্বকাপের আগে এটাই আমাদের শেষ প্রস্তুতি। কোচের মত ছিল, বিশ্বকাপের আগে আমরা কি অবস্থায় আছি তা এই সফর থেকে বোঝা যাবে। কোচ কি বুঝলেন তা অজানা। মাশরাফিদের কতটা প্রস্তুতি হলো তাও। তবে সাদা চোখে মনে হচ্ছে বাঘের ঘরের পুরোটাই ঘোগের দখলে! 

নিউজিল্যান্ডে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের বিবর্ণ ছিলেন মুস্তাফিজরা। ছবি: ফাইল

এশিয়া কাপ, জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর উইন্ডিজ সিরিজের তাজা সুখস্মৃতি ছিল টাইগারদের। তা কিউই সফর শেষে বিস্মৃত। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তামিম ছিলেন না। ইমরুল, লিটন, সৌম্যরা টপ অর্ডারে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন। কাকে রেখে কাকে খেলাবে এই ছিল দলের মধুর চিন্তা। কিন্তু কিউই সফর শেষে বাংলাদেশ দলের টপ অর্ডারের দগদগে ক্ষত বেরিয়ে গেছে। 

দলের সেরা ব্যাটসম্যান তামিম তিন ম্যাচে করেছেন ১০ রান। তামিমের যোগ্য সঙ্গী ভাবা হচ্ছে যে লিটনকে তিন ম্যাচ খেলে তিনি ঠিক তিন রান করেছেন। কোন ম্যাচে দুই রানের ঘরে যেতে পারেননি তিনি। সৌম্য সরকার দু'ম্যাচে সুইংয়ে বিভ্রান্ত হয়ে আউট হয়েছেন। মিডল অর্ডারে মিঠুন ভালো খেলেছেন। শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাব্বির। কিন্তু একই পজিশনে অভিজ্ঞ মুশফিক-মাহমুদুল্লার ব্যাট হাসেনি। দলের চিন্তা না বেড়ে উপায় আছে? 

তিন ম্যাচে তিন রান করেন ওপেনার লিটন দাস। এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান এক। ছবি: ফাইল

আগের সিরিজগুলোতে পঞ্চ পান্ডব খ্যাত তামিম, মুশফিকরা ভালো করেছেন। এ সফরে তরুণ-সিনিয়ররা গলাগলি করে ব্যর্থ। কিউই দলে শেষ ম্যাচে ফিরে টিম সাউদি নিয়েছেন ছয় উইকেট। আর রুবেল করেছেন খরুচে বোলিং। মুস্তাফিজকে পর্যন্ত তছনছ করে দিয়েছে কিউই ব্যাটসম্যানরা। সাকিব না থাকায় স্পিন আক্রমণের দায়িত্ব ছিল মিরাজের কাঁধে। তিনিও ব্যর্থ। ব্যাটিংয়ে আশা দেখালেও বোলিংয়ে হতাশ করেছেন সাইফউদ্দিন।  

কিউই কন্ডিশনে বল হাতে সুবিধা করতে পারেননি মিরাজও। ছবি: ফাইল

এখন বিশ্বকাপে ভালো করার আশা দেখানেই একমাত্র ভরসা দলের। নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন অন্য দেশগুলোর থেকে বেশ ভিন্ন। কিন্তু চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কথা মনে করলেও দেখা যাবে ইংল্যান্ডের উইকেটও অনেকটা এমনই। শুরুর ১০ ওভারে রান তুলতে ধুঁকতে হবে। পরে ব্যাটিং করা সহজ হবে। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তামিম ওই ছঁকেই ব্যাট করে সফল হন। আবার নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শুরুতে উইকেট পড়ার পর সাকিব-মাহমুদুল্লাহ দেখান ইংল্যান্ডে সময় গড়ালে ব্যাট করা কত সহজ। নিউজিল্যান্ডেও সময় গড়ালে ব্যাট করা সহজ হয়েছে। 

মুশফিকের কাল হয়েছে সম্ভবত তার আত্মবিশ্বাস। তিন ম্যাচেই সেট হয়ে আউট হন তিনি। ছবি: ফাইল

সমস্যা হলো জেনে-বুঝেও সেটা প্রয়োগ করতে পারেনি দল। তামিম শেষ ওয়ানডের আগে ১০ ওভারের মধ্যে উইকেট না দেওয়ার আহ্বান করলেন। অথচ মাঠে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই তেড়েফুড়ে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে আত্মহনন করলেন তিনি। বাংলাদেশ জেনে-শুনে ফাঁদে পা দিয়েছে। এই রোগের ওষুধ বের করা কঠিন। বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের আগে তলানিতে পড়া আত্মবিশ্বাস জাগানোর ওটাই শেষ সুযোগ মাশরাফিবাহিনীর সামনে। ওটাকেই বাজি ধরে। মাছের চোখ করে অপেক্ষা করতে হবে দলের।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

অ্যাথলেটিকোর পিছু ছাড়ছেন না রোনালদো


আরও খবর

খেলা

  অনলাইন ডেস্ক

চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের বড় বাধা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রিয়ালের জার্সিতে সিমিওনের দলকে বারবার হতাশ করেছেন তিনি। ২০১৪ ও ২০১৬'র চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে গ্রিজম্যানদের স্বপ্ন ভেঙেছেন সিআরসেভেন। পর্তুগিজ যুবরাজ লস ব্লাঙ্কোসদের জার্সি ছেড়েছেন। তবে রোজি ব্লাঙ্কোসদের পিছু ছাড়েননি। চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্রথম লেগে অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে মাদ্রিদে বুধবার রাত দুইটার ম্যাচে জুভদের হয়ে নামবেন তিনি।

২০১৪ সালের ফাইনালে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল সিমিওনের দল। যোগ করা সময়ে হেডে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান রামোস। আর অতিরিক্ত সময়ে বেল, মার্সেলো ও রোনারদোর গোলে ৪-১ ব্যবধানে হারে অ্যাথলেটিকো। দু'বছর বাদে আবার ফাইনালে মুখোমুখি দু'দল। নির্ধারিত সময়ে ১-১  গোলে সমতায় থাকা ম্যাচটি টাইব্রেকারে হারে সিমিওনের শিষ্যরা।

২০১৭ সালের সেমিফাইনালে রোজি ব্লাঙ্কোসদের পুড়িয়ে ছারখার করে দেন সিআরসেভেন। বার্নাব্যুতে হ্যাটট্রিক করেন তিনি। অ্যাথলেটিকোর বিপক্ষে রিয়ালের জার্সি গায়ে ২২ গোল করেছেন রোনালদো। দলের জার্সি বদল হলেও অ্যাথলেটিকোর জাল খুব চেনা রোনালদোর। এবার জুভেন্তাসের জার্সিতেও আলো ছড়ানোর অপেক্ষা তার।

এর আগে রোনালদোর জুভেন্টাসের জার্সিতে স্পেনে ফেরাটা অবশ্য ভালো হয়নি। সেপ্টেম্বরে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখেন তিনি। ম্যাচটি ওল্ড লেডিরা ২-০ গোলে জেতে। ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় রেকর্ড ১২১ গোল রোনালদোর নামের পাশে। প্রায় দুই যুগ শিরোপা খরায় থাকা জুভেন্টাস রোনালদোকে কিনেছে অধরা ওই চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে।

তবে ম্যাচটি আবার অ্যাথলেটিকোর মাঠে। ঘরের মাঠে সিমিওনের দল সবসময় ভয়ঙ্কর। চ্যাম্পিয়নস লিগের আসরেই ২০১৪ সালের গ্রুপ পর্বে অ্যাথলেটিকোর মাঠে হেরেছিল জুভরা। ফিরতি লেগটি হয়েছিল গোলশূন্য ড্র। তবে অ্যাথলেটিকোকে ভয় পাচ্ছেন না জুভেন্টাস কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি, 'অ্যাথলেটিকো আমরা ভয় পাই না।' ডিয়াগো সিমিওনে দেখছেন অন্যভাবে, 'এটা অনেকটা ফাইনালের মতোই। আমরা ভুল করতে চাই না।'

সংশ্লিষ্ট খবর