শিল্পমঞ্চ

 আড্ডামুখর সারাদিন

বাংলা একাডেমির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

বাংলা একাডেমির বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত

  সমকাল প্রতিবেদক

হেমন্তের হালকা হিমেল সকাল। কুয়াশার চাদর পেরিয়ে একে একে প্রবেশ করছিলেন বিশিষ্টজনেরা। দীর্ঘদিন পর একে অপরের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আড্ডা মেতে উঠেন মুহূর্তেই। কি প্রবীণ কি নবীন- সকলেই ছিলেন এ তালিকায়। সবার প্রাণের সম্মিলনে মিলিত হওয়ার মধ্য দিয়ে শনিবার দিনভর অনুষ্ঠিত হলো বাংলা একাডেমির সাধারণ পরিষদের ৪১তম বার্ষিক সভা। যাতে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাত বিশিষ্টজনকে সম্মানসূচক ফেলোশিড এবং বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়।

শিল্পী তপন মাহমুদের পরিচালনায় সঙ্গীত সংগঠন বৈতালিকের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বার্ষিক সভা শুরু হয়। এরপর দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রয়াত গুণী ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব পাঠ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

সভায় বাংলা একাডেমির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন ২০১৭-২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং ২০১৮-২০১৯ সালের বাজেট অবহিত করেন। সে সঙ্গে ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী সারাদেশ থেকে আগত একাডেমির ফেলো, জীবনসদস্য ও সদস্যদের সম্মতিক্রমে অনুমোদন ঘোষণা করেন বার্ষিক সাধারণ সভার সভাপতি এবং একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আনিসুজ্জামান বলেন, বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার সামর্থ্য অনুযায়ী বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের গবেষণায় কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা বিপুল। আজকের সাধারণ সভায়ও একাডেমির সদস্যবৃন্দ নানা মতামত ও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলা একাডেমি যেমন এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তেমনি সদস্যরাও একাডেমি পরিবারের অংশ। আমরা আশা করি, আগামী দিনগুলোতে বাংলা একাডেমি সকলের সহযোগিতায় তার কার্যক্রম আরো সুচারুরূপে পালন করতে সক্ষম হবে।

সকালের পর্ব শেষে বিকেলের পর্বে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাতজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে বাংলা একাডেমি সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করা হয়। ফেলোশিপপ্রাপ্তরা হলেন অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম (শিক্ষা ও গবেষণা), শিল্পী মনিরুল ইসলাম (চারুকলা), মঞ্জুলিকা চাকমা (কারুশিল্প), এস এম মহসীন (নাট্যকলা), ডা. সামন্ত লাল সেন (চিকিৎসাসেবা), শিল্পী রওশন আরা মুস্তাফিজ (সঙ্গীত) এবং পলান সরকার (বইবান্ধব সমাজ প্রতিষ্ঠায়)। অসুস্থ থাকায় পলান সরকারের পক্ষে ফেলোশিপ গ্রহণ করেন তার জ্যেষ্ঠ সন্তান মো. হায়দার আলী।

অনুষ্ঠানে সাহিত্যিক মোহম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার, মযহারুল ইসলাম কবিতা পুরস্কার, কবীর চৌধুরী শিশু সাহিত্য পুরস্কার ও সা’দত আলি আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয়। যথাক্রমে যা পেয়েছেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মুহম্মদ নূরুল হুদা, অধ্যাপক হায়াৎ মামুদ এবং আবিদ আজাদ (মরণোত্তর)। প্রথম তিন পুরস্কারের অর্থমূল্য এক লাখ টাকা এবং শেষ পুরস্কারের অর্থমূল্য পঞ্চাশ হাজার টাকা। আবিদ আজাদের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার জ্যেষ্ঠ সন্তান তাইমুর রশীদ।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

লেখক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

  কলকাতা প্রতিনিধি

খ্যাতিমান ভারতীয় লেখক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। শনিবার গভীর রাতে কলকাতার সেন্টিনারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে নিজ বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর থেকে সেন্টিনারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ছেলে চিকিৎসক। ছেলের তত্ত্বাবধানেই চিকিৎসা চলছিল তার। রোববার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৪ সালে অবিভক্ত বাংলার ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে আবাস গড়েন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি নানা পেশায় জড়িত ছিলেন।

বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্পও লিখেছেন তিনি। লেখালেখির জগতে তাকে আলাদা মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিল 'নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে'। মানুষের ঘরবাড়ি, অলৌকিক জলযান, ঈশ্বরের বাগান তার অনন্য সৃষ্টি। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে বারবার উঠে এসেছে দেশভাগের যন্ত্রণা, সর্বহারাদের কাতরতা। তিনি লিখেছেন একগুচ্ছ কিশোর উপন্যাস। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— রাজার বাড়ি, নীল তিমি, উড়ন্ত তরবারি, হীরের চেয়েও দামি।

বাংলা ভাষায় অসামান্য সাহিত্যকীর্তির জন্য ২০০১ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। পেয়েছেন মানিক স্মৃতি পুরস্কার, সমুদ্র মানুষের জন্য বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার, ভুয়াল্কা পুরস্কার ও পাল বঙ্কিম পুরস্কার। এ ছাড়াও পেয়েছেন অনেক সম্মাননা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

প্রকাশিত হলো আবু তাহের তারেকের প্রথম কবিতার বই


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে আবু তাহের তারেকের প্রথম কবিতার বই 'আইয়ো রেগো ময়না'। প্রিন্ট পোয়াট্রি থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মনজুরুল আহসান ওলী।

এ বইয়ের বিষয়ে আবু তাহের তারেক সমকালকে বলেন, বইয়ের প্রায় সবগুলা কবিতা সিলেটি বাংলায় গদ্য ফর্মে লেখা। এইগুলারে নন-পোয়াট্রি কইতে পারেন এই সেন্সে যে, কাব্যিকতা এদের মইদ্যে কম। ন্যাচারের লগে আমরার যাপনরে মিলমিশ দিবার চেষ্টা আছে কবিতাগুলাতে। ফলে প্রেম আছে, আকুলতা আছে, পলিটিক্সও আছে। প্রায় সাত বছর ধইরা বিদেশ আছি বিধায়, দূরত্বের ঘনঘটাও আছে তাদের গতরে। কবিতা নিয়া যেসব রিডার নয়া এক্সপেরিমেন্টের মুখোমুখি হইবার চান, তাদের জন্য 'আইয়ো রেগো ময়না' ইন্টারেস্টিং মনে হইতেই পারে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কারণেই ব্যক্তি উদ্যোগে, নিজ খরচে বইটা বাইর করছি। এর একটা কারণ হইল- অনলাইনের পাওয়াররে যাচাই ও এক্সপ্লয়েড করা। প্রথাগত রিডার ছাড়াও, নন রিডারের কাছে ভিড়তে চাওয়ার খায়েশ।

১৬ পৃষ্ঠার বইটির দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। বিকাশের মাধ্যমে ঘরে বসেও কেনা যাবে এ বই। এক্ষেত্রে ০১৫৫৩৫১৯৭২৩ নাম্বারে ১৩০ টাকা বিকাশ করে একই নাম্বারে এসএমএস করে ক্রেতার তথ্য পাঠাতে হবে। এছাড়া ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও পাওয়া যাবে 'আইয়ো রেগো ময়না'। 

আবু তাহের তারেকের প্রকাশিত অন্যান্য বই 'ফের্নান্দ পেসোয়ার নির্বাচিত কবিতা' (অনুবাদ), নাগরি প্রকাশ, ২০১৬। 'পোয়েট রাইজিং' (উপন্যাস), ই-প্রকাশ অনলাইন ম্যাগাজিন, ২০১৭।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শওকত ওসমান সাহিত্য পুরস্কার পেলেন হারুন পাশা ও রাশেদ রহমান


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

ছবি: সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার। এ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দেওয়া হলো কথাশিল্পী শওকত ওসমান সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯। যৌথভাবে এ পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যিক হারুন পাশা ও রাশেদ রহমান।

বুধবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও অর্থমূল্য তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শওকত ওসমান ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসংগ্রামী কবি আহমদ রফিক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আকবর হুসাইন, সাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রকিবুল ইসলাম লিটু।

আহমদ রফিক বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত ওসমান মহান পুরুষ ছিলেন। সাহিত্যচর্চার বাইরেও তার ব্যক্তিগত আচরণ ও জীবনধারণের পদ্ধতি আকৃষ্ট করত। শওকত ওসমানের প্রিয় বিষয় ছিল দেশ। পাকিস্তানের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ নিয়ে তিনি কখনও আবেগ-বিহ্বল ছিলেন না। বরং পাকিস্তানের দুই অংশের বন্ধনের দৃঢ়তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

বক্তারা বলেন, সাহিত্যের বিভিন্ন ঘরানায় প্রায় ছয় দশক শওকত ওসমানের সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। শুরু থেকেই তার গল্প ও উপন্যাসে সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে গণমানুষের কথামালা এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা উঠে আসে। বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি জান্তার অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেন 'জননী' ও 'জাহান্নাম থেকে বিদায়' দুটি উপন্যাস। এই কথাসাহিত্যিক বহুমুখী লেখক ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর