শিল্পমঞ্চ

শ্রাবণ প্রকাশনীর ভ্রাম্যমাণ বইমেলা শুরু সোমবার

মুক্তিযুদ্ধের বই নিয়ে ছুটবে গাড়ি দেশজুড়ে

প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

'একাত্তরের দিনগুলি', 'আমি বীরাঙ্গনা বলছি', 'বীরাঙ্গনার জীবনযুদ্ধ', 'ফিরে দেখা একাত্তর'সহ পাঁচ শতাধিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-সংবলিত বই। ভ্রাম্যমাণ গাড়ির শাটার খুলতেই দেখা যায়, নানা প্রচ্ছদ, রঙ আর মুক্তিযুদ্ধের ছবিযুক্ত বই থরে-থরে সাজানো। গাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট রাশিদুল হাসান অপু। মুক্তিযুদ্ধকে জানতে আর তৃণমূল পর্যায়ের মানুষকে জানাতে এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন তিনি। সঙ্গে থাকবেন আরও তিনজন। 'ইতিহাস ধরবো তুলে- বই যাবে তৃণমূলে' স্লোগানে সোমবার থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা বইভর্তি গাড়ি ছুটে বেড়াবে দেশের আনাচে-কানাচে। গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ভিন্নধর্মী এ বইমেলার আয়োজন করেছে গত ২০ বছর ধরে বই প্রকাশনায় নানা বৈচিত্র্য আনা শ্রাবণ প্রকাশনী। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চলবে ভ্রাম্যমাণ মুক্তিযুদ্ধের বইমেলা।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে গাড়ির শাটার খুলে মুক্তিযুদ্ধের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম। উদ্বোধনী বক্তৃতায় তিনি বলেন, বাঙালির জীবনে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত অর্জন মুক্তিযুদ্ধের বিজয়। দিনে দিনে মুক্তিযোদ্ধারা হারিয়ে যাবেন, তবে এর ইতিহাস থেকে যাবে বাংলা ভাষা ও বইয়ের মধ্য দিয়ে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকে জানতে হলে বই পড়তে হবে। অন্যকে পড়তেও উৎসাহিত করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্রের অন্যতম সম্পাদক ও গবেষক আফসান চৌধুরী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-সংবলিত বইপত্র কিংবা লেখালেখি সবকিছুই শহরকেন্দ্রিক। স্বাধীনতা অর্জনে গ্রামের মানুষের যে ত্যাগের ইতিহাস রয়েছে, তা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাণকেন্দ্র গ্রাম উল্লেখ করে সমকালের উপসম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই, লাইব্রেরিসহ সবকিছুই শহরকেন্দ্রিক। মূলত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলা শহরে, জেলা শহর থেকে গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যেই ভ্রাম্যমাণ এই বইমেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নিউ এজের সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যে এত রক্তক্ষয়! তা পৃথিবীর খুব কম জাতিই দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ বাংলাদেশ। যে দেশের মানুষ ভাষার জন্য, স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছে।

শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে শাওন মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বইমেলার সঙ্গে প্রথম থেকেই আছি। শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবীন আহসান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে এ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার আয়োজন করেছেন।

বক্তারা বলেন, এ ভ্রাম্যমাণ বইমেলা ৬৪ জেলা ঘুরবে। কিন্তু একটা সময় ৬৪টা জেলাতেই শ্রাবণ প্রকাশনীর ৬৪টি মুক্তিযুদ্ধের ভ্রাম্যমাণ বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

বইমেলা প্রসঙ্গে শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবীন আহসান জানান, জেলা শহরের স্কুল-কলেজগুলোতে পাঠকদের বিপুল উৎসাহ রয়েছে। ভালো বইগুলো তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছায় না। তৃণমূলে চাহিদার তুলনায় বইয়ের ঘাটতি রয়েছে- বিষয়টা উপলব্ধি করেই আমাদের এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সঙ্গীতশিল্পী মিতা হকের পরিচালিত 'সুরতীর্থ'-এর শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। এ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার মিডিয়া পার্টনার একাত্তর টেলিভিশন, সমকাল, নিউ এজ, চ্যানেল আই অনলাইন ও নারীবিষয়ক পোর্টাল জাগরণীয়া। সহযোগিতা করছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

লেখক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়

  কলকাতা প্রতিনিধি

খ্যাতিমান ভারতীয় লেখক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায় আর নেই। শনিবার গভীর রাতে কলকাতার সেন্টিনারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে নিজ বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর থেকে সেন্টিনারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার ছেলে চিকিৎসক। ছেলের তত্ত্বাবধানেই চিকিৎসা চলছিল তার। রোববার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

১৯৩৪ সালে অবিভক্ত বাংলার ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশভাগের পর পশ্চিমবঙ্গে আবাস গড়েন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি নানা পেশায় জড়িত ছিলেন।

বাংলা সাহিত্যে উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্পও লিখেছেন তিনি। লেখালেখির জগতে তাকে আলাদা মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছিল 'নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে'। মানুষের ঘরবাড়ি, অলৌকিক জলযান, ঈশ্বরের বাগান তার অনন্য সৃষ্টি। অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলমে বারবার উঠে এসেছে দেশভাগের যন্ত্রণা, সর্বহারাদের কাতরতা। তিনি লিখেছেন একগুচ্ছ কিশোর উপন্যাস। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— রাজার বাড়ি, নীল তিমি, উড়ন্ত তরবারি, হীরের চেয়েও দামি।

বাংলা ভাষায় অসামান্য সাহিত্যকীর্তির জন্য ২০০১ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার পান তিনি। পেয়েছেন মানিক স্মৃতি পুরস্কার, সমুদ্র মানুষের জন্য বিভূতিভূষণ স্মৃতি পুরস্কার, ভুয়াল্কা পুরস্কার ও পাল বঙ্কিম পুরস্কার। এ ছাড়াও পেয়েছেন অনেক সম্মাননা।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

প্রকাশিত হলো আবু তাহের তারেকের প্রথম কবিতার বই


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

  অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত হয়েছে আবু তাহের তারেকের প্রথম কবিতার বই 'আইয়ো রেগো ময়না'। প্রিন্ট পোয়াট্রি থেকে প্রকাশিত বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মনজুরুল আহসান ওলী।

এ বইয়ের বিষয়ে আবু তাহের তারেক সমকালকে বলেন, বইয়ের প্রায় সবগুলা কবিতা সিলেটি বাংলায় গদ্য ফর্মে লেখা। এইগুলারে নন-পোয়াট্রি কইতে পারেন এই সেন্সে যে, কাব্যিকতা এদের মইদ্যে কম। ন্যাচারের লগে আমরার যাপনরে মিলমিশ দিবার চেষ্টা আছে কবিতাগুলাতে। ফলে প্রেম আছে, আকুলতা আছে, পলিটিক্সও আছে। প্রায় সাত বছর ধইরা বিদেশ আছি বিধায়, দূরত্বের ঘনঘটাও আছে তাদের গতরে। কবিতা নিয়া যেসব রিডার নয়া এক্সপেরিমেন্টের মুখোমুখি হইবার চান, তাদের জন্য 'আইয়ো রেগো ময়না' ইন্টারেস্টিং মনে হইতেই পারে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন কারণেই ব্যক্তি উদ্যোগে, নিজ খরচে বইটা বাইর করছি। এর একটা কারণ হইল- অনলাইনের পাওয়াররে যাচাই ও এক্সপ্লয়েড করা। প্রথাগত রিডার ছাড়াও, নন রিডারের কাছে ভিড়তে চাওয়ার খায়েশ।

১৬ পৃষ্ঠার বইটির দাম রাখা হয়েছে ১০০ টাকা। বিকাশের মাধ্যমে ঘরে বসেও কেনা যাবে এ বই। এক্ষেত্রে ০১৫৫৩৫১৯৭২৩ নাম্বারে ১৩০ টাকা বিকাশ করে একই নাম্বারে এসএমএস করে ক্রেতার তথ্য পাঠাতে হবে। এছাড়া ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও পাওয়া যাবে 'আইয়ো রেগো ময়না'। 

আবু তাহের তারেকের প্রকাশিত অন্যান্য বই 'ফের্নান্দ পেসোয়ার নির্বাচিত কবিতা' (অনুবাদ), নাগরি প্রকাশ, ২০১৬। 'পোয়েট রাইজিং' (উপন্যাস), ই-প্রকাশ অনলাইন ম্যাগাজিন, ২০১৭।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শওকত ওসমান সাহিত্য পুরস্কার পেলেন হারুন পাশা ও রাশেদ রহমান


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

ছবি: সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান কথাসাহিত্যিক শওকত ওসমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী আজ বুধবার। এ উপলক্ষে প্রথমবারের মতো দেওয়া হলো কথাশিল্পী শওকত ওসমান সাহিত্য পুরস্কার-২০১৯। যৌথভাবে এ পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যিক হারুন পাশা ও রাশেদ রহমান।

বুধবার রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট ও অর্থমূল্য তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শওকত ওসমান ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসংগ্রামী কবি আহমদ রফিক। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্যাম সুন্দর সিকদার, বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মহাপরিচালক সুশান্ত কুমার মণ্ডল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আকবর হুসাইন, সাহিত্যিক আন্দালিব রাশদী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রকিবুল ইসলাম লিটু।

আহমদ রফিক বলেন, বাংলা কথাসাহিত্যে শওকত ওসমান মহান পুরুষ ছিলেন। সাহিত্যচর্চার বাইরেও তার ব্যক্তিগত আচরণ ও জীবনধারণের পদ্ধতি আকৃষ্ট করত। শওকত ওসমানের প্রিয় বিষয় ছিল দেশ। পাকিস্তানের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ নিয়ে তিনি কখনও আবেগ-বিহ্বল ছিলেন না। বরং পাকিস্তানের দুই অংশের বন্ধনের দৃঢ়তা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।

বক্তারা বলেন, সাহিত্যের বিভিন্ন ঘরানায় প্রায় ছয় দশক শওকত ওসমানের সাহিত্যকর্ম বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। শুরু থেকেই তার গল্প ও উপন্যাসে সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, শোষণের বিরুদ্ধে গণমানুষের কথামালা এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা উঠে আসে। বক্তারা আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি জান্তার অত্যাচার-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে তিনি লিখেন 'জননী' ও 'জাহান্নাম থেকে বিদায়' দুটি উপন্যাস। এই কথাসাহিত্যিক বহুমুখী লেখক ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর