শিল্পমঞ্চ

'#মিটু হওয়া উচিত নারীদের প্রতিবাদের হাতিয়ার'

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

'#মিটু হওয়া উচিত নারীদের প্রতিবাদের হাতিয়ার'

  সমকাল প্রতিবেদক

'#মিটু আন্দোলন হওয়া উচিত নারীদের প্রতিবাদের হাতিয়ার। কিন্তু এজন্য নারীদের আগে শক্তিশালী হতে হবে। আর এটা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে পরিবার, শিক্ষা এবং সমাজ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হতে হবে।'

ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেশনে এ কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নারী আন্দোলনকর্মী রিতা দাশ রায়, অভিনেত্রী বন্যা মির্জা, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নি সাহা ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সাংবাদিক জাইমা ইসলাম।

আলোচনার শুরুতে রিতা দাশ বলেন, শুধু নারীরাই নয়, অনেক ছেলে শিশুও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। কিন্তু সেটা আমাদের অগোচরেই রয়ে যায়। তাই #মিটু শুধু নারীদের নয়, একইসঙ্গে পুরুষদেরও আন্দোলন হওয়া চাই।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশের নারী নির্যাতনবিরোধী আইন কি নারীদের ঠিকমতো নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? 

এ প্রসঙ্গে জাইমা ইসলাম বলেন, #মিটু আন্দোলন শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এজন্য একজন নারীর এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ও সাহস অর্জন করতে হবে।

নির্যাতিত গ্রামীণ নারীদের প্রসঙ্গে মুন্নি সাহা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে সচেতনতার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর এভাবে একটি আন্দোলন সময়ের সাথে সাথে টিকে থাকতে পারে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

জীবনানন্দ পুরস্কার পেলেন জুয়েল মাজহার ও আবদুল মান্নান সরকার


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

  সমকাল প্রতিবেদক

এ বছর জীবনানন্দ পুরস্কার পেয়েছেন কবি জুয়েল মাজহার এবং কথাসাহিত্যিক আবদুল মান্নান সরকার। সোমবার ধানসিঁড়ি সাহিত্য সৈকত এবং দূর্বা’র যৌথ উদ্যোগে প্রবর্তিত এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।

পুরস্কারের অর্থমূল্য (দশ হাজার টাকা) ও সম্মাননাপত্র কবি জীবনানন্দ দাশের প্রয়াণদিবসে (আগামী ২২ অক্টোবর) বরিশালে আনুষ্ঠানিকভাবে অর্পণ করা হবে।

কবি আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সম্প্রতি এ পুরস্কার চূড়ান্তকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন- রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ, ধানসিঁড়ি’র সম্পাদক কবি ও লেখক মুহম্মদ মুহসিন, দূর্বা’র সহযোগী সম্পাদক কবি সারফুদ্দিন আহমেদ এবং ধানসিঁড়ি সাহিত্য সৈকত-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা কবি শামীম রেজা।

পুরস্কারপ্রাপ্তির খবরে কবি জুয়েল মাজহার সমকালকে বলেন, বাংলা ভাষায় জীবনানন্দ দাশ আমার সবচেয়ে প্রিয় কবি। তার নামের সঙ্গে আমার এই পুরস্কারপ্রাপ্তি মিলে গেছে- এ এক অন্য অনুভূতি। ভাষার মাস ও বইমেলার সময়ে এই পুরস্কার পাওয়া বাড়তি আনন্দ দিচ্ছে।

কথাসাহিত্যিক আবদুল মান্নান সরকার বলেন, আমি অপরিচিত একজন লেখক। এই প্রথম পুরস্কার পেয়েছি। পুরস্কার একটি স্বীকৃতি তো বটেই। আর পুরস্কারটি জীবনানন্দের নামে এটি অনেক আনন্দের।

জুয়েল মাজহার ১৯৬২ সালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। পেশায় তিনি একজন সাংবাদিক। তার কাব্যগ্রন্থগুলো হলো: ‘দর্জি ঘরে একরাত’, ‘মেগাস্থিনিসের হাসি’ ও ‘দিওয়ানা জিকির’। 

কথাসাহিত্যিক আব্দুল মান্নান সরকারের জন্ম ১৯৫২ সালে পাবনার বেড়া উপজেলায়। তিনি পেশায় একজন অধ্যাপক। তার উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে: ‘পাথার’, ‘যাত্রাকাল’, ‘কৃষ্ণপক্ষ’, ‘নয়াবসত’, ‘পিতিপুরুষ’ এবং ‘আরশিনগর’। 

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

কামাল হোসেন টিপুর নতুন উপন্যাস মেলায়


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

  অনলাইন ডেস্ক

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৯ এ প্রকাশিত হয়েছে কামাল হোসেন টিপুর পঞ্চম উপন্যাস 'এত কাছে তুমি তবু এত দূরে'। অন্বেষা প্রকাশন প্রকাশন থেকে প্রকাশিত উপন্যাসটির প্রচ্ছদ করেছেন হিমেল হক।

এ বইয়ের বিষয়ে কামাল হোসেন টিপু বলেন, বাংলা উপন্যাসের রোমান্টিক ধারার যে সূচনা, আধুনিকতার হাত ধরে তাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়াস আছে এই উপন্যাসে। এটি পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে আমার বিশ্বাস। 

মেলায় বইটি মিলছে অন্বেষা প্রকাশনের ১৮ নম্বর প্যাভিলিয়নে। উপন্যাস ছাড়াও লেখকের আরও দু'টি বই প্রকাশিত হয়েছে।


সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

আল মাহমুদের জানাজা বায়তুল মোকাররমে


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

ফাইল ছবি

  সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদের নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে।

শনিবার বাদ জোহর মসজিদের উত্তর ফটকে এ জানাজা হবে বলে সমকালকে নিশ্চিত করেছেন কবির পারিবারিক বন্ধু কবি আবিদ আজম।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টার দিকে বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেয়া হবে কবি আল মাহমুদের মরদেহ। সেখান থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কবির মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় প্রেস ক্লাবে।

তবে কবি আল মাহমুদের দাফন কোথায় হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

কবিতার ছন্দে ধারণ করেছিলেন ভাটি বাংলার জনজীবন। আধুনিক ভাষা কাঠামোর ভেতরে আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়ে আল মাহমুদ হয়ে উঠেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি।

‘লোক লোকান্তরে’, ‘কালের কলস’ আর ‘সোনালী কাবিন’-এর কবি আল মাহমুদ শুক্রবার রাত ১১টার দিেক রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর। তিনি পাঁচ পুত্র ও তিন কন্যাসহ বহু গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেছেন।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে আল মাহমুদকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ইবনে সিনা হাসপাতালের ভর্তি করা হয়। ওইদিন রাত ৪টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে হাসপাতালেরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন।

শুক্রবার রাতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেই অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

আবিদ আজম জানান, আল মাহমুদ নিউমোনিয়াসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। তিনি ইবনে সিনার অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল হাইয়ের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

আল মাহমুদ আধুনিক বাংলা কবিতার শহরমুখী প্রবণতার মধ্যেই ভাটি বাংলার চিরায়ত জনজীবন, গ্রামীণ আবহ, নদীনির্ভর জনপদ, চরাঞ্চলের জীবনপ্রবাহ এবং নরনারীর চিরন্তন প্রেম-বিরহকে তার কবিতায় উপজীব্য করে তোলেন। আধুনিক বাংলা ভাষার প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে স্বাভাবিক স্বতঃস্ফূর্ততায় আঞ্চলিক শব্দের প্রয়োগ তার অনন্য কীর্তি।

আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৌড়াইলের মোল্লাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আব্দুর রব মীর ও মা রৌশন আরা বেগম। আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তিনি কুমিল্লার দাউকান্দির সাধনা হাই স্কুল এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। মূলত এই সময় থেকেই তার লেখালেখির শুরু। আল মাহমুদ বেড়ে উঠেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

সংবাদপত্রে লেখালেখির সূত্র ধরে ১৯৫৪ সালে আল মাহমুদ ঢাকায় আসেন। শুরুতে তিনি কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘কাফেলা’য় লেখালেখি শুরু করেন। পাশাপাশি ‘দৈনিক মিল্লাত’ পত্রিকায় প্রুফ রিডার হিসেবে সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৫৫ সাল কবি আব্দুর রশীদ ওয়াসেকপুরী ‘কাফেলা’র চাকরি ছেড়ে দিলে তিনি সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের পরে ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ পত্রিকার সম্পাদক হন আল মাহমুদ। সম্পাদক থাকাকালীন সরকারের বিরুদ্ধে লেখার কারণে এক বছরের জন্য কারাবরণ করতে হয় তাকে।

মুক্তিযুদ্ধের পর তিনি গল্প লেখার দিকে মনোযোগী হন। ১৯৭৫ সালে তার প্রথম ছোটগল্প গ্রন্থ ‘পানকৌড়ির রক্ত’ প্রকাশিত হয়। পরে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে শিল্পকলা একাডেমির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের সহ-পরিচালক পদে নিয়োগ দেন। ১৯৯৩ সালে পরিচালক হিসেবে শিল্পকলা একাডেমি থেকে অবসর নেন বরেণ্য এই কবি।

১৮ বছর বয়স থেকে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আল মাহমুদের কবিতা প্রকাশিত হতে থাকে। সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল’ পত্রিকা এবং কলকাতায় কবি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’, ‘নতুন সাহিত্য’, ‘চতুষ্কোণ’, ‘ময়ূখ’ ও ‘কৃত্তিবাস’ পত্রিকায় লেখালেখির সুবাদে ঢাকা ও কলকাতার পাঠকদের কাছে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন তিনি। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘লোক লোকান্তর’, যেটি তাকে স্বনামধন্য কবিদের সারিতে জায়গা করে দেয়। এরপর কালের কলস (১৯৬৬), সোনালি কাবিন (১৯৬৬), মায়াবী পর্দা দুলে উঠো (১৯৬৯)- এভাবে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থ তাকে প্রথম সারির কবি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

১৯৯৩ সালে বের হয় আল মাহমুদের প্রথম উপন্যাস ‘কবি ও কোলাহল’। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে - ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’, ‘আমি দূরগামী’, ‘দ্বিতীয় ভাঙন’, ‘উড়ালকাব্য’ ইত্যাদি। ‘কাবিলের বোন’, ‘উপমহাদেশ’, ‘ডাহুকি’, ‘আগুনের মেয়ে’, ‘চতুরঙ্গ’ ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস। ‘পানকৌড়ির রক্ত’সহ বেশকিছু উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ লিখে গল্পেও কিংবদন্তী হয়ে ওঠেন তিনি। এছাড়া ‘যেভাবে বেড়ে উঠি’ ও ‘বিচূর্ণ আয়নায় কবির মুখ’ তার উল্লেখযোগ্য আত্মজীবনীগ্রন্থ।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৈয়দা নাদিরা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এ দম্পতির পাঁচ পুত্র ও তিন কন্যা রয়েছে। বছর কয়েক আগে সৈয়দা নাদিরা বেগম মারা যান। এরপর থেকে তিনি মগবাজারের বাসায় নিভৃতেই বসবাস করতেন।

সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ আল মাহমুদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জয় বাংলা পুরস্কার, হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, কাজী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার, কবি জসীম উদ্দিন পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদকসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর