শিল্পমঞ্চ

'#মিটু হওয়া উচিত নারীদের প্রতিবাদের হাতিয়ার'

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮

'#মিটু হওয়া উচিত নারীদের প্রতিবাদের হাতিয়ার'

  সমকাল প্রতিবেদক

'#মিটু আন্দোলন হওয়া উচিত নারীদের প্রতিবাদের হাতিয়ার। কিন্তু এজন্য নারীদের আগে শক্তিশালী হতে হবে। আর এটা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে পরিবার, শিক্ষা এবং সমাজ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে হতে হবে।'

ঢাকা লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেশনে এ কথা বলেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও নারী আন্দোলনকর্মী রিতা দাশ রায়, অভিনেত্রী বন্যা মির্জা, এটিএন বাংলার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক মুন্নি সাহা ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সাংবাদিক জাইমা ইসলাম।

আলোচনার শুরুতে রিতা দাশ বলেন, শুধু নারীরাই নয়, অনেক ছেলে শিশুও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। কিন্তু সেটা আমাদের অগোচরেই রয়ে যায়। তাই #মিটু শুধু নারীদের নয়, একইসঙ্গে পুরুষদেরও আন্দোলন হওয়া চাই।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, বাংলাদেশের নারী নির্যাতনবিরোধী আইন কি নারীদের ঠিকমতো নিরাপত্তা দিতে পেরেছে? 

এ প্রসঙ্গে জাইমা ইসলাম বলেন, #মিটু আন্দোলন শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এজন্য একজন নারীর এই প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ও সাহস অর্জন করতে হবে।

নির্যাতিত গ্রামীণ নারীদের প্রসঙ্গে মুন্নি সাহা বলেন, প্রতিটি নাগরিককে সচেতনতার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আর এভাবে একটি আন্দোলন সময়ের সাথে সাথে টিকে থাকতে পারে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন উদ্যোগ

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

নবীন শ্রেণিতে পেয়েছেন ফাতিমা রুমি

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই লেখকের সঙ্গে অতিথি, বিচারকমণ্ডলী ও আয়োজকরা-সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

'হুমায়ূন আহমেদ নেই, হুমায়ূন আহমেদ আছেন। যারা তার সাহচর্য পেয়েছিলেন, তাদের স্মৃতিতে তিনি রয়েছেন। যারা তার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাননি, তারা তার সাহিত্যকর্মকে ভালোবেসে তার নৈকট্য লাভ করেছেন। তিনি এখনও সর্বত্র বিরাজিত।' প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে এসব কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য রিজিয়া রহমান এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছরের লেখক) 'সাঁঝবেলা' উপন্যাসের জন্য ফাতিমা রুমিকে হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে রিজিয়া রহমানকে পাঁচ লাখ, ফাতিমা রুমিকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও এক্সিম ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিনের সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে রিজিয়া রহমানের শংসাবচন পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ফাতিমা রুমির শংসাবচন পাঠ করেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত 'মাঝে মাঝে তব দেখা পাই' ও 'আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে' পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে ছাড়া বাংলা সাহিত্য চিন্তা করা যায় না। তার বড় কৃতিত্ব তিনি একটি বিশাল পাঠক শ্রেণি তৈরি করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি আধুনিক, প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, প্রিয় মানুষেরা চলে গেলেও, তাকে প্রিয়জনরা স্মরণ করলে চিরকাল বেঁচে থাকেন। হুমায়ূন আহমেদ তেমনই একজন। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, একজন সাহিত্যিকের জীবন পরিপূর্ণতা পায়, যখন তার নামে পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। এ পুরস্কার প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। নবীন কথাসাহিত্যিকদের জন্য এটি তীব্র কামনার পুরস্কার হবে একদিন।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিজিয়া রহমান বলেন, এ পুরস্কার প্রাপ্তি তার জন্য সম্মানের, গর্বের, দুঃখের ও  বেদনার। কারণ, হুমায়ূন আহমেদ তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। প্রকৃতির নিয়মে তার স্মৃতি হয়ে যাওয়ার কথা ও হুমায়ূন আহমেদের বেঁচে থাকার কথা। বাস্তবে তা ঘটেনি- যা বেদনার। তার স্মৃতির স্মারক হিসেবে পাওয়া এ পুরস্কার অনেক গর্বের ও সম্মানের।

ফাতিমা রুমি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার একজন নবীন লেখকের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি অনেক বেশি উৎসাহের, যা একজন তরুণ লেখকই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হুমায়ূন জয়ন্তী আজ


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ
হুমায়ূন জয়ন্তী আজ

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমকাল প্রতিবেদক

'আমরা জানি একদিন আমরা মরে যাব, এই জন্যেই পৃথিবীটাকে এত সুন্দর লাগে। যদি জানতাম আমাদের মৃত্যু নেই, তাহলে পৃথিবীটা কখনোই এত সুন্দর লাগতো না।' পৃথিবীকে, বিশেষ করে এদেশকে অনেক ভালোবেসে এ কথা লিখেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে ফিরে এসেছিলেন দেশের মাটিতে।

কথা বলেছিলেন স্বজনদের সঙ্গে। সময় কাটিয়েছিলেন স্বদেশের প্রিয় ভূমিতে। উচ্চতর চিকিৎসার জন্য পুনরায় নিউইয়র্কে যাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। কিন্তু কোটি মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে তিনি আজও জাগরূক। আজ মঙ্গলবার তার ৭০তম জন্মদিন।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। এবারও নানা আয়োজনে পালিত হবে তার এ জন্মদিন। তাঁর চলে যাওয়ার ছয় বছর  পেরিয়ে গেলেও মানুষ তাঁকে এখনও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করে, গভীর মমতায়। এবারও এ জন্মদিনকে ঘিরে চ্যানেল আই দিনব্যাপী 'হুমায়ূন মেলা'র আয়োজন করেছে।

হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটালেও তাঁর শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এর পর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। সাহিত্যের যে ক্ষেত্রেই তিনি নিজের পদচিহ্ন এঁকেছেন, সেটিতেই দেখা পেয়েছেন সাফল্যের। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীরও জনক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' প্রকাশের পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। পরবর্তী সময়ে  উপন্যাস ও নাটকে তাঁর সৃষ্ট চরিত্র বিশেষ করে 'হিমু', 'মিসির আলি' ও 'শুভ্র' তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে পাঠক ও দর্শকপ্রিয়। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি হয়ে ওঠেন একক ও অনন্য।

বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে পরিণত ও এগিয়ে নিতে হুমায়ূন আহমেদের অবদান অপরিসীম। এককভাবে বইয়ের বাজার সৃষ্টি করে ও প্রকাশনা শিল্পে অর্থপ্রবাহ তৈরির মধ্য দিয়ে এ শিল্পে গতিশীলতা নিয়ে আসেন তিনি। জীবিতাবস্থায় তিনি ছিলেন একুশে গ্রন্থমেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তিনি চলে যাওয়ার পরও বইমেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই কিনতে এখনও ভিড় জমান তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্ক থেকে ২৩ জুলাই দেশে নিয়ে আসা হয় তাঁর মরদেহ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব শেষে পরদিন তাঁকে সমাহিত করা হয় তাঁরই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, আগুনের পরশমণি, লীলাবতী, কবি, সাজঘর, গৌরীপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, শ্রাবণমেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাব যাব, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার সর্বশেষ উপন্যাস 'দেয়াল'ও পায় আকাশচুম্বী পাঠকপ্রিয়তা। তিনি রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারাবাহিক নাটক এবং চলচ্চিত্র।

হুমায়ূন আহমেদ তাঁর দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রায় সব পুরস্কারেই ভূষিত হয়েছেন। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও তাঁর অর্জিত পুরস্কারগুলোর মধ্যে লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের এনএইচকে টেলিভিশন তাঁকে নিয়ে 'হু ইজ হু ইন এশিয়া' শিরোনামে ১৫ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচার করে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

শীর্ষেন্দু-মনিষায় মধুরেণ সমাপয়েৎ


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

ঢাকা লিট ফেস্ট

শীর্ষেন্দু-মনিষায় মধুরেণ সমাপয়েৎ

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮

লিট ফেস্টের শেষ দিনে শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে উঠে আসে তার লেখালেখির যাপিত জীবন— সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

নজরুল মঞ্চ থেকে যখন ভেসে আসছিল বাউল গান, মিলনায়তনের ভেতরে তখন বেজেছে বিদায়ঘণ্টা। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের হাত ধরে গত বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমিতে শুরু হয় ঢাকা লিট ফেস্টের অষ্টম আসর। আর শনিবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ঘোষণায় শেষ হয়েছে লিট ফেস্ট। 

শেষ দিন সকালে বলিউড অভিনেত্রী মনিষা কৈরালা শুনিয়েছেন তার ক্যান্সার জয়ের গল্প এবং সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে উঠে আসে তার লেখালেখির যাপিত জীবন।

কথাসাহিত্যিক কাজী আনিস আহমেদ, কবি সাদাফ সায্ সিদ্দিকী ও কবি আহসান আকবরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় এ উৎসব। উৎসবের সহযোগিতায় ছিল সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি। এবারের উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিল ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন। সহপৃষ্ঠপোষক ছিলো ব্র্যাক ব্যাংক।

আগের দিন নন্দিতা দাসের সঙ্গে মনিষা কৈরালা অংশ নিয়েছিলেন ‘ব্রেকিং ব্যাড’ শিরোনামের অধিবেশন। আর শনিবার শেষ দিনে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে কথা বলেন তার প্রথম বই ‘হিল্ড’ নিয়ে। বইটি ডিসেম্বরের শেষে অথবা জানুয়ারির শুরুতে প্রকাশ হবে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার দিনটি স্মরণ করে মনিষা বললেন, ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর যখন প্রথম ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার খবর জানতে পারেন, তখন তিনি মনে করেছিলেন- ‘মৃত্যু আমার দুয়ারে যেন কড়া নেমেছিলো’। চোখ বন্ধ করে দেখেন, নিজের আকাশ কালো হয়ে এসেছে। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, এর মধ্য দিয়েই যেতে হবে। একটি পরিসংখ্যান থেকে তিনি জানতে পারেন, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ, উল্টোপিঠে মৃত্যুর ঝুঁকি ৫৬ শতাংশ। তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়। শুরু হয় নতুন এক যুদ্ধ। যে যুদ্ধে হাল না ছেড়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের যুদ্ধ শেষে তিনি জয়লাভ করেছেন বলে জানান।

আপ্লুতকণ্ঠে মনিষা বলেন, ‘আমার জরায়ুর ক্যান্সার হয়েছে যখন জানলাম, তখন কষ্টটা আরও বেড়ে গেল। কারণ আমার জরায়ু কেটে ফেলে দিতে হবে। আমি সন্তানের মা হতে চেয়েছিলাম। তখন উপলব্ধি হলো, আমি কখনো মা হতো পারবো না। এভাবেই আমার জীবনের নিঃসঙ্গ রাত শুরু হলো। সেই সাথে শুরু আমার ভয়ঙ্কর দিনগুলো।’

নিজের বই থেকে উদ্বৃত্ব করে মনিষা বলেন, ‘ক্যান্সার আমাকে বদলে দিয়েছে। আমি ভেতর থেকে বদলে গিয়েছি। আমার পৃথিবীও বদলে গেছে। আমি জীবনকে উপভোগের দ্বিতীয় সুযোগ পেয়েছি। তাই মরতে চাই না। এক অর্থে ক্যান্সার আমার জীবনের শিক্ষক। এটাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। এই রোগ থেকে জীবনের মূল্য বুঝেছি। একইসঙ্গে নিজেকে কঠিন ও মজবুতভাবে তৈরি করতে শিখেছি। এখন জীবনটাকে ভালোবাসার উপহার বলে মনে হয়।’

শীর্ষেন্দুর সঙ্গে কথোপকথন

উৎসবের শেষ অধিবেশন ছিল ‘শীর্ষেন্দুর সঙ্গে কথপোকথন’। কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের সঞ্চালনায় নিজের লেখক জীবন সম্পর্কে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার লেখার কোনো ছক নেই। পরিকল্পনা নেই। আমার লেখার ধরন অদ্ভূত। লিখতে বসার আগে পর্যন্ত জানি না কী লিখবো। একটা মনে ধরার মত লাইনের জন্য অপেক্ষা করি। যদি ওই বাক্যটি পছন্দ হয় লিখতে শুরু করি। এমনও হয়েছে বাক্যে একটি শব্দ খুঁজতে গিয়ে ১২/১৩ দিন লিখতে পারিনি। আবার কোনো কোনো দিন ১২/১৩ ঘণ্টা টানা লিখে গেছি। আমার লেখার ধরন অনেকটা তুলোর গুটি থেকে সুতো পাকানোর মত। ধীরে ধীরে একেকটি চরিত্রকে দেখতে পাই। তাদের মুখ, শরীর কাঠামো, পোশাক ভেসে ওঠে চোখের সামনে। তাদের জীবনযাত্রা, কথা দেখতে পাই। তখন আমার গল্প, উপন্যাস যেন হয়ে ওঠে একটি প্রতিবেদন লেখার মত। তবে এভাবে লেখা প্রত্যাশিত নয়। আমার লেখার ধরনটা বৈজ্ঞানিকও নয়। কিন্তু আমি নিরুপায়।’

সমাপনী অধিবেশন

লিট ফেস্টের সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আরও বক্তব্য দেন অস্কারজয়ী ব্রিটিশ অভিনেত্রী টিল্ডা সুইন্টন ও উৎসব পরিচালক সাদাফ সায়।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘আমার মনে হয় বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক জীবনে উত্থান-পতন আছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের বাতাস আমরা সংস্কৃতি এবং সাহিত্যের পালে লাগতে দেই না। নির্বাচন আমাদের খুব সন্নিকটে, পরিবেশ খুব ভালো এবং শান্ত। যারা এখানে বিদেশি অতিথিরা এসেছেন তাদের কাছে আমার প্রশ্ন— আপনারা কি বুঝতে পেরেছেন যে দেশে ইলেকশন সামনে? দেয়ার ইজ নো ইলেকশন ফিভার, অ্যান্ড ইট ইজ গুড। এর মানে হলো আমরা ভালো আচরণ করছি এবং ডিসেম্বরেই নির্বাচন হবে।’

উপন্যাস নিয়ে আলোচনা

পুলিৎজারজয়ী সাহিত্যিক অ্যাডাম জনসনের প্রথম উপন্যাস ‘প্যারাসাইটস লাইক আস’। এ শিরোনামে আলোচনা করেন অ্যাডাম জনসন ও ফিলিপ হেনশার এক হন। সঞ্চালনায় ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক মন্ময় জাফর।

অ্যাডাম জনসন বলেন, ‘সাহিত্যের অঙ্গনে ফিকশনই একমাত্র জনরা যেখানে প্রাণ খুলে সব কথা বলে ফেলা যায়। আর ব্যক্ত এই কথাগুলো বলা হয় অন্য কারো কণ্ঠে। সবচেয়ে মজার বিষয়টি হলো, পাঠক যখন এই লেখা পড়েন তখন ওই কণ্ঠটিকে নিজের কণ্ঠ হিসেবেই মনে করেন।’

ফিলিপ হেনশার এফ হন বলেন, কোনো সাহিত্যিক একজন সাধারণ মানুষের মতোই সমাজের বিভিন্ন স্তর প্রত্যক্ষ করেন। সব মানুষের মতো এই ঘটনাগুলোর আতিশয্য তাকেও নাড়া দেয়। সেই চরম বাস্তবতাই সাহিত্যিক তুলে আনেন ফিকশন নামের 'মুখোশ' পরিয়ে।’

আলোচনায় ভাষার বৈচিত্র্য

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এবং লিঙ্গুইস্টিকস সার্ভে অব বাংলাদেশের যৌথ গবেষণায় প্রকাশিত হতে যাওয়া ২০ খণ্ডের ভাষা বিষয়ক গবেষণা গ্রন্থ নিয়ে ভাষার বৈচিত্র্য নিয়ে কথা বলেন কবি কামাল চৌধুরী, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জীনাত ইমতিয়াজ আলী এবং ভাষা গবেষক সৌরভ শিকদার। এ আলোচনার সূত্রধর ছিলেন গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গর্গ চট্টপাধ্যায়।

বক্তারা বলেন, ভাষা আসলে কল্পনার মাধ্যম, তাই একটি ভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে মানব সমাজের পৃথিবীকে দেখার একটি দৃষ্টিকোণ হারিয়ে যায়। কোনোভাবেই ভাষাকে হারিয়ে যেতে দেওয়া হবে না। প্রথমে সংগ্রহ ও সংরক্ষণের কাজ করে চর্চা ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে।

সাহিত্যে ‘মি টু’ আন্দোলনের প্রভাব

সাহিত্যে ‘#মিটু’ আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে ‘নো নোবেল: মি টু ইন লিটারেচার’ শীর্ষক আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জার্মান লেখক ওলগা গ্রাসনোয়া, ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক অধ্যাপক ফিলিপ হেনশার, ব্রিটিশ লেখক রিচার্ড বিয়ার্ড, আমেরিকান লেখক রস পটার এবং ভারতীয় লেখক ও সমাজকর্মী হিমাঞ্জলি শংকর। সঞ্চালক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় লেখক চন্দ্রবিভাস চৌধুরী।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার স্থগিতের কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে বক্তারা বলেন, সুইডিশ একাডেমির এই পদক্ষেপ তাদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সাহায্য করবে। নোবেল পুরস্কার ও তাদের কর্তৃপক্ষের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে এই আন্দোলনের ফলাফলের ওপর। আগে অনেকেই কন্ঠস্বর না তুললেও এখন সবাই কন্ঠস্বর তুলছে। ব্যক্তি ও শিল্পকে আলাদা করা যায় তার কাজের ভিত্তিতে। যদি কোনও পুরুষ তার কাজের ক্ষেত্রে কোনো নারীকে হয়রানি করেন, তাহলে সেটা সাহিত্যের ক্ষেত্রে হোক কিংবা সাধারণ মানুষের জীবনেই হোক, সোচ্চার হওয়া জরুরি— এমন কথাই বলেন বক্তারা।

ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখে কবিতা

‘এখনও কেন কবিতা’ শিরোনামের আলোচনায় অংশ নেন কবি আসাদ চৌধুরী, রুবি রহমান, পশ্চিমবঙ্গের সুমন গুণ এবং ড. নিখিলেশ রায়। সঞ্চালনা করেন কবি শামীম রেজা।

আসাদ চৌধুরী বলেন, ‘কবিতা আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই আছে। মানবমুক্তির শাশ্বত পথ হলো কবিতা। একমাত্র কবিতাই শেষ পর্যন্ত পথ দেখায়। মানবতার কোনো অবমাননা কবিরা মেনে নেন না। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ তৈরির পরিস্থিতি যদি হয় কবিতাই তা ঠেকাবে। যতদিন জরা-ক্লান্তি-ভয় থাকবে, ততদিন টিকে থাকবে কবিতা। ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখে কবিতা।’

অন্যান্য অধিবেশন

সকাল দশটায় উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল আসলাম সানীর সঞ্চালনায় ‘কিশোর মনন ও আবৃত্তি’। নভেরা প্রদর্শনালয়ে ছিল সম্পাদনা নিয়ে রিচার্ড বেয়ার্ডের পরিচালনায় কর্মশালা। কসমিক টেন্টে ছিলো ‘মুভিং পিকচারস অ্যান্ড বর্ডার’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন সাল ইমাম। আলোচনা করেন প্রবার রিপন ও সাবাহাত জাহান। নজরুল মঞ্চে বাচ্চাদেরকে বিভা সিদ্দিকী শোনান বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ গল্প।

বেলায় সাড়ে ১২টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ছিল ‘ডেডলি লিগ্যাসি অব ইন্ডিয়াস পার্টিসন’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে মাহ্‌রুখ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন নিশিদ হাজারি। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল ‘বাংলা সাহিত্য: নারী ও পুরুষ’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন শামীম রেজা। আলোচনা করেন সেলিনা হোসেন, সালমা বানী, শাহনাজ মুন্নী ও অদিতি ফাল্গুনী। নভেরা প্রদর্শনালয়ে ছিল স্যালি পমির শিশুতোষ পরিবেশনা ‘দ্যা কিং উইথ ডার্টি ফিট’। কসমিক টেন্টে ছিল এ কে রহিমের গবেষনামূলক পরিবেশনা ‘দ্য রোহিঙ্গা: এ লিঙ্গুস্টিক হিস্টোরি’। এ পর্বটি সঞ্চালনা করেন সারাহ্ মজুমদার।

দুপুর পৌনে ২টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ছিল ‘টেকনোলজি অ্যান্ড দ্য ফিউচার’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে রুবায়েত খানের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন ডেভিড বিয়েলো। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ‘রিবেল, রোল মডেল’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে মুনিজে মানজুরের সঞ্চালনায় আলোচনা করেন জয়শ্রী মিশ্র। নভেরা প্রদর্শনালয়ে ছিলো ‘টেলস অব এন আর্ট লাভার’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন ফকরুল আলম। আলোচনা করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত মারিও পালমা, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও খুশি কবির।

বিকেল সোয়া ৩টায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিল অস্কারজয়ী অভিনেত্রী ও লেখিকা টিল্ডা সুইন্টনের ‘অন ড্রামদোয়ান হিল’ শিরোনামে কথোপকথন। তার সঙ্গে অংশ নেন উৎসবের অন্যতম পরিচালক আহসান আকবর। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিলো কবিতা পাঠের আসর ‘বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি’। এ পর্ব সঞ্চালনা করেন হাসান মাহমুদ। নভেরা প্রদর্শনালয়ে ছিলো ‘পেন: লেখকের মুক্তি, লেখার স্বাধীনতা’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন উদিসা ইসলাম। আলোচনা করেন কুমার চক্রবর্তী, আখতার হোসেন ও মুম রহমান।

বিকেল সাড়ে ৪টায় আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে ছিলো ‘রাইটস ইন দ্য এইজ অব ফেক নিউজ’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন চন্দ্রহাস চৌধুরী। আলোচনা করেন ঢাকা ট্রিবিউন সম্পাদক জাফর সোবহান, আফসান চৌধুরী, হুগো রেস্টল ও অ্যানি জায়েদি। কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ছিল ‘আফটার দ্য ফল’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন কেলি ফকনার। আলোচনা করেন ওলগা ওজানোয়া, আরিফ আনোয়ার ও অ্যানি জায়েদি। উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ছিল ‘ছয় নারী’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন জ্যাকি কবির। অংশ নেন ফরিদা হোসেন, শাহনাজ মুন্নী, জাহানারা পারভীন, আফরোজা সোমা ও সাকিরা পারভীন। নভেরা প্রদর্শনালয়ে ছিলো পাঠের আসর। যাতে অংশ নেন রুমানা হাবীব ও ডোমিনিকং গোমেজ। কসমিক টেন্টে ছিল ‘রোহিঙ্গা : সেক্সয়াল ভায়োলেন্স টেস্টিমোনিস’ শিরোনামের অধিবেশন। এতে সঞ্চালনা করেন উৎসবের অন্যতম পরিচালক সাদাফ সায। আলোচনা করেন রাজিয়া সুলতানা, শিরিন হক, গুয়েন রবিনসন ও মারিয়াম মোল্লা।

তিনি নারী বাউল ফকির আকলিমা, কোহিনূর আক্তার গোলাপি ও সূচণা শেলির পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শেষ লিট ফেস্টের এবারের আয়োজন।

সংশ্লিষ্ট খবর