শিল্পমঞ্চ

জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮ | আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০১৮

জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ

  সমকাল প্রতিবেদক

২০১৮ সালের জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে উদ্যোক্তারা। তালিকায় পাঁচটি বইয়ের নাম প্রকাশ করা হয়েছে- ইমদাদুল হক মিলনের 'নয়মাস', শাহাদুজ্জামানের 'একজন কমলালেবু', মহীবুল আজিজের 'তপন শীল ও তার বিবাহ প্রকল্প', প্রশান্ত মৃধার 'ডুগডুগির আসর' এবং রবিউল ইসলামের 'তথাগত কোথায় থাকেন'।

মঙ্গলবার ধানমন্ডির কাগজ প্রকাশন কার্যালয়ে এ তালিকা ঘোষণা করা হয়। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, কবি রুবী রহমান, কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী এবং পুরস্কার পর্ষদের সদস্য সচিব কবি শামীম রেজা।

সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা করে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, জেমকন গ্রুপ ২০০০ সালে কাগজ সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করে। পরে ২০০৭ সাল থেকে তা জেমকন সাহিত্য পুরস্কার নামে প্রতিবছর প্রদান করছে। বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল লেখকদের সম্মানিত করার জন্যই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের অর্থমূল্য এখন আট লাখ টাকা। অর্থমূল্যের বিচারেও এটি এখন দেশের অন্যতম পুরস্কার। বেসরকারি পুরস্কার হিসেবে সবচেয়ে পুরনো। যদিও জানি, লেখকরা পুরস্কারের আশায় লেখেন না। তবু পুরস্কার সৃষ্টিশীল লেখকদের প্রেরণা জোগায়।

কবি শামীম রেজা জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রকাশিত সব শাখার বই থেকে প্রাথমিক বিচারকমণ্ডলী এই ৫টি বই নির্বাচন করেছেন। আগামী ৭ থেকে ১০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা লিট ফেস্টের মঞ্চে এর মধ্যে একটি বইয়ের জন্য জেমকন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হবে। এর পাশাপাশি অনুর্ধ্ব ৩৫ বছর বয়সী কবি ও লেখককের মধ্যে দু'জনের প্রথম পাণ্ডুলিপির জন্য এক লাখ টাকা মূল্যমানের জেমকন তরুণ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হবে। 

এবারই প্রথম এই তরুণ সাহিত্য পুরস্কারে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকদের যুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন উদ্যোগ

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

নবীন শ্রেণিতে পেয়েছেন ফাতিমা রুমি

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই লেখকের সঙ্গে অতিথি, বিচারকমণ্ডলী ও আয়োজকরা-সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

'হুমায়ূন আহমেদ নেই, হুমায়ূন আহমেদ আছেন। যারা তার সাহচর্য পেয়েছিলেন, তাদের স্মৃতিতে তিনি রয়েছেন। যারা তার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাননি, তারা তার সাহিত্যকর্মকে ভালোবেসে তার নৈকট্য লাভ করেছেন। তিনি এখনও সর্বত্র বিরাজিত।' প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে এসব কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য রিজিয়া রহমান এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছরের লেখক) 'সাঁঝবেলা' উপন্যাসের জন্য ফাতিমা রুমিকে হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে রিজিয়া রহমানকে পাঁচ লাখ, ফাতিমা রুমিকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও এক্সিম ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিনের সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে রিজিয়া রহমানের শংসাবচন পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ফাতিমা রুমির শংসাবচন পাঠ করেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত 'মাঝে মাঝে তব দেখা পাই' ও 'আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে' পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে ছাড়া বাংলা সাহিত্য চিন্তা করা যায় না। তার বড় কৃতিত্ব তিনি একটি বিশাল পাঠক শ্রেণি তৈরি করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি আধুনিক, প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, প্রিয় মানুষেরা চলে গেলেও, তাকে প্রিয়জনরা স্মরণ করলে চিরকাল বেঁচে থাকেন। হুমায়ূন আহমেদ তেমনই একজন। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, একজন সাহিত্যিকের জীবন পরিপূর্ণতা পায়, যখন তার নামে পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। এ পুরস্কার প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। নবীন কথাসাহিত্যিকদের জন্য এটি তীব্র কামনার পুরস্কার হবে একদিন।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিজিয়া রহমান বলেন, এ পুরস্কার প্রাপ্তি তার জন্য সম্মানের, গর্বের, দুঃখের ও  বেদনার। কারণ, হুমায়ূন আহমেদ তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। প্রকৃতির নিয়মে তার স্মৃতি হয়ে যাওয়ার কথা ও হুমায়ূন আহমেদের বেঁচে থাকার কথা। বাস্তবে তা ঘটেনি- যা বেদনার। তার স্মৃতির স্মারক হিসেবে পাওয়া এ পুরস্কার অনেক গর্বের ও সম্মানের।

ফাতিমা রুমি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার একজন নবীন লেখকের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি অনেক বেশি উৎসাহের, যা একজন তরুণ লেখকই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হুমায়ূন জয়ন্তী আজ


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ
হুমায়ূন জয়ন্তী আজ

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমকাল প্রতিবেদক

'আমরা জানি একদিন আমরা মরে যাব, এই জন্যেই পৃথিবীটাকে এত সুন্দর লাগে। যদি জানতাম আমাদের মৃত্যু নেই, তাহলে পৃথিবীটা কখনোই এত সুন্দর লাগতো না।' পৃথিবীকে, বিশেষ করে এদেশকে অনেক ভালোবেসে এ কথা লিখেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে ফিরে এসেছিলেন দেশের মাটিতে।

কথা বলেছিলেন স্বজনদের সঙ্গে। সময় কাটিয়েছিলেন স্বদেশের প্রিয় ভূমিতে। উচ্চতর চিকিৎসার জন্য পুনরায় নিউইয়র্কে যাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। কিন্তু কোটি মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে তিনি আজও জাগরূক। আজ মঙ্গলবার তার ৭০তম জন্মদিন।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। এবারও নানা আয়োজনে পালিত হবে তার এ জন্মদিন। তাঁর চলে যাওয়ার ছয় বছর  পেরিয়ে গেলেও মানুষ তাঁকে এখনও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করে, গভীর মমতায়। এবারও এ জন্মদিনকে ঘিরে চ্যানেল আই দিনব্যাপী 'হুমায়ূন মেলা'র আয়োজন করেছে।

হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটালেও তাঁর শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এর পর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। সাহিত্যের যে ক্ষেত্রেই তিনি নিজের পদচিহ্ন এঁকেছেন, সেটিতেই দেখা পেয়েছেন সাফল্যের। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীরও জনক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' প্রকাশের পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। পরবর্তী সময়ে  উপন্যাস ও নাটকে তাঁর সৃষ্ট চরিত্র বিশেষ করে 'হিমু', 'মিসির আলি' ও 'শুভ্র' তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে পাঠক ও দর্শকপ্রিয়। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি হয়ে ওঠেন একক ও অনন্য।

বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে পরিণত ও এগিয়ে নিতে হুমায়ূন আহমেদের অবদান অপরিসীম। এককভাবে বইয়ের বাজার সৃষ্টি করে ও প্রকাশনা শিল্পে অর্থপ্রবাহ তৈরির মধ্য দিয়ে এ শিল্পে গতিশীলতা নিয়ে আসেন তিনি। জীবিতাবস্থায় তিনি ছিলেন একুশে গ্রন্থমেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তিনি চলে যাওয়ার পরও বইমেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই কিনতে এখনও ভিড় জমান তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্ক থেকে ২৩ জুলাই দেশে নিয়ে আসা হয় তাঁর মরদেহ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব শেষে পরদিন তাঁকে সমাহিত করা হয় তাঁরই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, আগুনের পরশমণি, লীলাবতী, কবি, সাজঘর, গৌরীপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, শ্রাবণমেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাব যাব, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার সর্বশেষ উপন্যাস 'দেয়াল'ও পায় আকাশচুম্বী পাঠকপ্রিয়তা। তিনি রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারাবাহিক নাটক এবং চলচ্চিত্র।

হুমায়ূন আহমেদ তাঁর দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রায় সব পুরস্কারেই ভূষিত হয়েছেন। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও তাঁর অর্জিত পুরস্কারগুলোর মধ্যে লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের এনএইচকে টেলিভিশন তাঁকে নিয়ে 'হু ইজ হু ইন এশিয়া' শিরোনামে ১৫ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচার করে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বাংলা ভাষাকে ধারণ করে রেখেছে বাংলাদেশ: গর্গ চট্টোপাধ্যায়


আরও খবর

শিল্পমঞ্চ

গর্গ চট্টোপাধ্যায়

  অনলাইন ডেস্ক

গর্গ চট্টোপাধ্যায়। ইন্ডিয়ান স্টাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এবং ভাষা অধিকার আন্দোলনের কর্মী। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মস্তিষ্ক বিজ্ঞানে পিএইচডি করছেন। থাকছেন কলকাতায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৮ উপলক্ষে বাংলাদেশে এসেছিলেন গর্গ চট্টোপাধ্যায়। এ সময় তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সমকালের মিছিল খন্দকার।  

সমকাল: আপনাকে প্রথমেই যে প্রশ্নটা করতে চাই, এই যে বাংলাদেশ বাংলা ভাষাকেন্দ্রিক রাষ্ট্র, অন্যদিকে কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটা রাজ্য। আপনি কথা প্রসঙ্গে বলেছেন যে, কলকাতা তথা বাংলা পুঁজি ও হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের শিকার। এখন এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষীরা কি এক ধরনের আঞ্চলিকতার মধ্যে পড়ে গেছে- আপনার কী মনে হয়?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: এ দেশে সংবিধান অনুযায়ী যেমন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, আবার পশ্চিমবঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী ভাষার ভিত্তিতে ঘটিত রাজ্য রেনডম না। পশ্চিমবঙ্গ ভাষাভিত্তিক রাজ্য ঠিক আছে। ভারতের রাজ্যগুলো অধিকাংশই ভাষার ভিত্তিতে ঘটিত, প্রেক্ষিত কোথাও অনুপস্থিত নয়। কিন্তু আবার পশ্চিমবঙ্গে বাংলা এবং বাঙালি কোণঠাসা হয়ে পড়ছে এটাও ঠিক। কারণ ওখানে পুঁজিবাজার, চাকরি বেশিরভাগই হিন্দিভাষী ও ইংরেজি জানাদের দখলে। এখন অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ যদি অন্য ভাষার মানুষের হাতে থাকে তবে আপনি কোনঠাসা হবেনই। 

সমকাল:
আচ্ছা। তাহলে ওখানে বাংলা ভাষাভাষী লেখকরা কী ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন এর মাধ্যমে?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: তারা লিখছে। তবে পয়সাওয়ালা পাঠক ওই ধরনের বই পাচ্ছে না। কারণ তাদের মন ইংরেজি, হিন্দিতে চলে গেছে। আর এই শ্রেণী কিন্তু বাংলা ছাড়া বাঁচতে পারে। এইখানে যেহেতু অন্য ভাষার আগ্রাসন নেই তাই প্রেক্ষিত অনুযায়ী মূলধারার লোকজন মূলত বাংলা ভাষারই থেকে যাচ্ছে।

সমকাল:
এই যে ঢাকা লিট ফেস্ট নামে ইন্টারন্যাশনাল একটা ফেস্ট হচ্ছে। বাংলা ভাষার লেখক, অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে আপনি এই ফেস্টটাতে বাংলা ভাষার লেখকদের প্রাধান্য কতটা বলে মনে করেন?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: কলকাতায়ও দু'টি লিট ফেস্ট হয়। সেই লিট ফেস্টের স্পন্সর বাঙালি না, বয়ানে বাংলা না, সেই লিট ফেস্টের দর্শন বাঙালি না, সেই লিট ফেস্টের ভবিষ্যৎ বাংলা না, সেই লিট ফেস্টের কল্পনা বাঙালি না। দিল্লিতে, বেঙ্গালুরুতে, চেন্নাইতে যে অর্থে লিট ফেস্ট হয়, কলকাতায়ও হচ্ছে ওই একই অর্থে। অর্থাৎ সেখানে যে মাটির প্রেক্ষিত সেইটা অনুপস্থিত। তার মানে যে, সেখানে বাংলায় সেশন হয় না তা নয়। প্রেক্ষিত আর সেশন হওয়ার তফাৎ আছে। এই যে সামনের যে ছেলেটা জিন্স প্যান্ট পড়েছে সে কিন্ত সাহেব হয়ে যায় নাই। কারণ তার প্রেক্ষিত বদল হয় নাই। ফলে এটা একটা আবরণ। আর ওখানে আমরা দেখি উল্টো। প্রেক্ষিতটাই নেই। এর মূল কারণ হচ্ছে সেখানে হিন্দি সম্রাজ্যবাদের চাপে ও নিপীড়নে বাংলা ও বাঙালি আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। আমরা যখন হিন্দি সাম্রাজ্যবাদ বলি- এক্ষেত্রে সম্রাজ্যবাদ কোনো একমুখী সাংস্কৃতিক আগ্রাসন না। এটা পুঁজির আগ্রাসন, এটা বাজারের আগ্রাসন, এটা রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন- সব রকম। অর্থাৎ আজকে এইখানে ঢাকা লিট ফেস্টে এসে যে স্পন্সর দেখবেন, পর পর যে স্টল বা তাঁবুগুলো করেছে- এসব কিছুর মালিক বাঙালি। এর মানে এই নয় যে, বাংলাদেশে বিদেশি মালিকানার কোম্পানি নাই। কিন্তু মূল বিষয়টা বাঙালির হাতে। বাংলাদেশ বাংলা ভাষাকে ধারণ করে রেখেছে। পুঁজি, বাজার, চাকরি- এই তিনে আমরা যদি ত্রিভূজ বৃত্ত আঁকি, সেখানে বাঙালি মালিকানা, দাপট এবং আধিপত্য যথেষ্ট এখানে। এইটা পশ্চিমবাংলার ক্ষেত্রে ভয়ংকরভাবে অনুপস্থিত। অনুপস্থিত হবার কারণে প্রেক্ষিত বাংলা থাকে না, বাঙালি থাকে না। টাকা আছে, সুদৃশ্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল আছে, আমি হয়ত বলবো বাংলা একাডেমির থেকেও অনেক সুন্দর দেখতে জায়গাটা- সেই সেটিংয়ে লিস্ট ফেস্ট আছে। কিন্তু সেই লিট ফেস্টের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ ও তার বাঙালির কোনো হৃদয়ের সংযোগ নাই। 

সমকাল:
আপনি বলতে চাইছেন যে, ঢাকা লিস্ট ফেস্টের সঙ্গে বাংলা ও বাঙালির হৃদয়ের সংযোগ আছে; ইন্টারন্যাশনাল এ ফেস্টের প্রেক্ষিত বাংলা- এটা  প্রতিফলিত হচ্ছে?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: সব জায়গায় প্রতিফলিত হচ্ছেই। যখন কোনো ধর্মীয় বা কোনো পলিটিক্যাল প্রোগ্রাম হয় কিংবা কোনো উৎসব হয়, তখন তাঁবুগুলোর যে ডিজাইনগুলো করা হয় এইখানে যে তাঁবুগুলো তাতে সেই একই ডিজাইনে করা হয়েছে। মানে এর বেশভূষা সবকিছুতেই বাংলাদেশ প্রতিফলিত হচ্ছে। 

সমকাল:
এই ফেস্টে অনেক ইন্টারন্যাশনাল লেখক-শিল্পী এসেছেন, তাদের নিয়ে যেসব সেশন হচ্ছে তার বেশিরভাগই ইংরেজিতে। সেই সঙ্গে অনেক সেশন বাংলায়ও হচ্ছে। কিন্তু বাংলায় যে সেশনগুলো হচ্ছে, ইন্টারন্যাশনাল যারা অ্যাটেন্ড করেছেন তারা তো বাংলা জানেন না, আবার ওইসব সেশনে তাদের উপস্থিতিও থাকে না। তাহলে এই ফেস্টের মাধ্যমে কি আমাদের বাংলা লেখাপত্র তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: আমি বলবো, এই ধরনের লিট ফেস্টে যেখানে বাংলা আছে, ইংরেজি আছে, বাঙালি আছে, ইংরেজিতে লেখা লোকজন আছে- আসলে এই ধরনের জায়গায় দুটো জিনিস হয়- বাঙালি যায় বিশ্বের কাছে, আর বিশ্ব আসে বাঙালির কাছে। এই দুটো প্রক্রিয়া কিন্তু যুগপথ ঘটতে থাকে।

সমকাল:
বাংলা লেখাপত্র তাহলে কিভাবে ওদের সঙ্গে কমিউনিকেট করবে বা করতে পারে এই ফেস্টের মাধ্যমে?
গর্গ চট্টোপাধ্যায়: আসলে এক্ষেত্রে সবসময় যেটা হয়, সমাজে যে অংশ ইংরেজিতে পারদর্শী তারা এক্ষেত্রে সাঁকো হিসেবে কাজ করে। বৃহত্তর বাঙালি গণসমাজ এবং এই আন্তর্জাতিক বৃত্তটার মাঝে যে শ্রেণীকে আপনি গালি দিতে পারেন আবার চাইলে তাদের একটি সংযোগকারী সাঁকো হিসেবে দেখতে পারেন। এটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। যে কারণে আমরা দেখতে পারছি, এখানে আগামী প্রকাশনীর পাশেই জামিল কমিক্সের স্টল। এই আগামী প্রকাশনী আর জামিল কমিক্সের কাছাকাছি থাকাটার মাধ্যমে কিন্তু এক ধরণের সংহতিও গড়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্ট খবর