সাহিত্য

কষ্ট আছে, প্রাপ্তিও আছে: কবি মোহাম্মদ রফিক

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৮

কষ্ট আছে, প্রাপ্তিও আছে: কবি মোহাম্মদ রফিক

  সমকাল প্রতিবেদক

‘কষ্ট আছে, নিশ্চয়ই আছে। কষ্ট আছে বলেই তো এখনও লিখতে পারি। কষ্ট না থাকলে কোন মানুষের মধ্যে সৃষ্টির তাগিদ আসতেই পারে না।’

জন্মদিনের আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরায় একথা বলেন কবি মোহাম্মদ রফিক। আয়োজনের এক পর্যায়ে ছোটবোনের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কষ্ট আছে, তাই বলে ভেবো না কোনো প্রাপ্তি নেই। কষ্ট আছে বলে পেয়েছিও অনেক কিছু।’

ছোটবোন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ভাই, তোমার কি কোনও কষ্ট আছে?’ এর উত্তরে এসব বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিপত্র ‘ভূমি'র কবি মোহাম্মদ রফিক সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

গত মঙ্গলবার ছিল কবি মোহাম্মদ রফিকের ৭৫ তম জন্মদিন। ১৯৪৩ সালে ২৩ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার বেমরতা ইউনিয়নের চিতলী-বৈটপুর গ্রামে জন্ম নেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রফিক।

আট ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কবির লেখালেখি শুরু ‘সমকাল’ ও ‘কণ্ঠস্বর’ পত্রিকায়। পাকিস্তান আমলে ছাত্র আন্দোলন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশে আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কাব্য রসদ যুগিয়েছেন তিনি।

ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে মোহাম্মদ রফিককে রাজশাহী কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়, সামরিক আইনে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অনেকদিন কারাভোগ করেন তিনি। তবে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়ে তিনি পাস কোর্সে বি.এ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি নেন। আশির দশকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার সময়েও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে কবিতা লেখার কারণে নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয় এই কবিকে।

অনাড়ম্বরপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ রফিক বলেন, আজ মনে হচ্ছে রাজধানী ঢাকায় থাকলেও আমি শেকড়ে ফিরে গিয়েছি। নিজের জন্মস্থান বাগেরহাট ও তখনকার মানুষদের নিয়ে কথা বলতে বলতে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।

স্বজনদের পক্ষ থেকে কথা বলতে গিয়ে কবির ভাই সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ তারেক বলেন, বাবা তাদের সব ভাইবোনদেরই কড়া শাসনে রেখেছিলেন। কিন্তু বড় ভাইকে কিছু বলতে পারতেন না, কারণ দাদা তাকে বলেছিলেন, রফিক একদিন অনেক বড় হবে, ওর ওপর কখনো খবরদারি করবে না। বাবার সে কথায় কোনো আস্থা না থাকলেও দাদার কথা তিনি মেনে নিয়েছিলেন। আজ বাবা নেই, কিন্তু তিনি নিশ্চয়ই এটা দেখে খুশি হচ্ছেন যে, দাদার কথাই সত্যি হয়েছে, মোহাম্মদ রফিকের খ্যাতি চিতলী-বৈটপুর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম বলেন, ‘প্রকৃতি আর মানুষকে মোহাম্মদ রফিক একসঙ্গে বেঁধেছেন তার কবিতায়। তার লেখার মধ্যে দিয়ে মানুষ মাটির কাছে ফেরে। এদেশের জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। আশি ও নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আমাদের তিনি শক্তি ও সাহস যুগিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে কেক কাটার পর গান ও কবির লেখা কবিতা আবৃত্তি করা হয়। পরে সংস্কৃতিপত্র ভূমির কবি মোহাম্মদ রফিক সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় কবির সঙ্গে ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম, নীলিমা পারভীন, অভিনয় শিল্পী নিয়াজ মোহাম্মদ তারেক,আবৃত্তিকার নাজমুল আহসান,গল্পকার আহসান ইকবাল,রুহুল আসফিয়া, শায়লা কেয়া, ভূমির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুসফিকুর রহমান, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট বাকি বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে কবির পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এ সময় কবি পাঠক ও শুভান্যধ্যায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মোহাম্মদ রফিক ইতিমধ্যেই একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থ পুরস্কার, জেমকন সাহিত্য পুরস্কার সহ বিভিন্ন স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে  ‘কপিলা’, ‘খোলা কবিতা, ‘গাওদিয়া’, ‘মানব পদাবলী’, ‘আত্নরক্ষার প্রতিবেদন’ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কবি মোহাম্মদ রফিককে নিয়ে প্রকাশিত ভূমির বিশেষ সংখ্যাটি পাওয়া যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার অভিজাত বইবিতান ও অনলাইন বুকশপগুলোতে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান


আরও খবর

সাহিত্য

এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন উদ্যোগ

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

নবীন শ্রেণিতে পেয়েছেন ফাতিমা রুমি

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই লেখকের সঙ্গে অতিথি, বিচারকমণ্ডলী ও আয়োজকরা-সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

'হুমায়ূন আহমেদ নেই, হুমায়ূন আহমেদ আছেন। যারা তার সাহচর্য পেয়েছিলেন, তাদের স্মৃতিতে তিনি রয়েছেন। যারা তার সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পাননি, তারা তার সাহিত্যকর্মকে ভালোবেসে তার নৈকট্য লাভ করেছেন। তিনি এখনও সর্বত্র বিরাজিত।' প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে স্মরণ করে এসব কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

আজ মঙ্গলবার হুমায়ূন আহমেদের ৭০তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক্সিম ব্যাংক-অন্যদিন হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য রিজিয়া রহমান এবং নবীন সাহিত্যশ্রেণিতে (অনূর্ধ্ব চল্লিশ বছরের লেখক) 'সাঁঝবেলা' উপন্যাসের জন্য ফাতিমা রুমিকে হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে রিজিয়া রহমানকে পাঁচ লাখ, ফাতিমা রুমিকে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিচারকমণ্ডলীর সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও এক্সিম ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন। স্বাগত বক্তব্য দেন অন্যদিনের সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে রিজিয়া রহমানের শংসাবচন পাঠ করেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম এবং ফাতিমা রুমির শংসাবচন পাঠ করেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার কণ্ঠে হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় দুটি রবীন্দ্রসঙ্গীত 'মাঝে মাঝে তব দেখা পাই' ও 'আজ জ্যোৎস্না রাতে সবাই গেছে বনে' পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে ছাড়া বাংলা সাহিত্য চিন্তা করা যায় না। তার বড় কৃতিত্ব তিনি একটি বিশাল পাঠক শ্রেণি তৈরি করেছেন। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি আধুনিক, প্রগতিশীল চিন্তাধারার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

আসাদুজ্জামান নূর বলেন, প্রিয় মানুষেরা চলে গেলেও, তাকে প্রিয়জনরা স্মরণ করলে চিরকাল বেঁচে থাকেন। হুমায়ূন আহমেদ তেমনই একজন। তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

মেহের আফরোজ শাওন বলেন, একজন সাহিত্যিকের জীবন পরিপূর্ণতা পায়, যখন তার নামে পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। এ পুরস্কার প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের সাহিত্য জীবন পরিপূর্ণ হয়েছে। নবীন কথাসাহিত্যিকদের জন্য এটি তীব্র কামনার পুরস্কার হবে একদিন।

অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে রিজিয়া রহমান বলেন, এ পুরস্কার প্রাপ্তি তার জন্য সম্মানের, গর্বের, দুঃখের ও  বেদনার। কারণ, হুমায়ূন আহমেদ তার চেয়ে বয়সে অনেক ছোট। প্রকৃতির নিয়মে তার স্মৃতি হয়ে যাওয়ার কথা ও হুমায়ূন আহমেদের বেঁচে থাকার কথা। বাস্তবে তা ঘটেনি- যা বেদনার। তার স্মৃতির স্মারক হিসেবে পাওয়া এ পুরস্কার অনেক গর্বের ও সম্মানের।

ফাতিমা রুমি বলেন, হুমায়ূন আহমেদের নামাঙ্কিত এ পুরস্কার একজন নবীন লেখকের জন্য অনেক বড় পাওয়া। এটি অনেক বেশি উৎসাহের, যা একজন তরুণ লেখকই কেবল উপলব্ধি করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

হুমায়ূন জয়ন্তী আজ


আরও খবর

সাহিত্য
হুমায়ূন জয়ন্তী আজ

প্রকাশ : ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমকাল প্রতিবেদক

'আমরা জানি একদিন আমরা মরে যাব, এই জন্যেই পৃথিবীটাকে এত সুন্দর লাগে। যদি জানতাম আমাদের মৃত্যু নেই, তাহলে পৃথিবীটা কখনোই এত সুন্দর লাগতো না।' পৃথিবীকে, বিশেষ করে এদেশকে অনেক ভালোবেসে এ কথা লিখেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ে নেমে ফিরে এসেছিলেন দেশের মাটিতে।

কথা বলেছিলেন স্বজনদের সঙ্গে। সময় কাটিয়েছিলেন স্বদেশের প্রিয় ভূমিতে। উচ্চতর চিকিৎসার জন্য পুনরায় নিউইয়র্কে যাওয়ার পর ২০১২ সালের ১৯ জুলাই না ফেরার দেশে চলে যান তিনি। কিন্তু কোটি মানুষের হৃদয়কে ছুঁয়ে তিনি আজও জাগরূক। আজ মঙ্গলবার তার ৭০তম জন্মদিন।

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন। এবারও নানা আয়োজনে পালিত হবে তার এ জন্মদিন। তাঁর চলে যাওয়ার ছয় বছর  পেরিয়ে গেলেও মানুষ তাঁকে এখনও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করে, গভীর মমতায়। এবারও এ জন্মদিনকে ঘিরে চ্যানেল আই দিনব্যাপী 'হুমায়ূন মেলা'র আয়োজন করেছে।

হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটালেও তাঁর শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এর পর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন প্রতিভার স্বাক্ষর। সাহিত্যের যে ক্ষেত্রেই তিনি নিজের পদচিহ্ন এঁকেছেন, সেটিতেই দেখা পেয়েছেন সাফল্যের। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীরও জনক। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস 'নন্দিত নরকে' প্রকাশের পরপরই তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। পরবর্তী সময়ে  উপন্যাস ও নাটকে তাঁর সৃষ্ট চরিত্র বিশেষ করে 'হিমু', 'মিসির আলি' ও 'শুভ্র' তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে পাঠক ও দর্শকপ্রিয়। জনপ্রিয়তার জগতে তিনি হয়ে ওঠেন একক ও অনন্য।

বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে পরিণত ও এগিয়ে নিতে হুমায়ূন আহমেদের অবদান অপরিসীম। এককভাবে বইয়ের বাজার সৃষ্টি করে ও প্রকাশনা শিল্পে অর্থপ্রবাহ তৈরির মধ্য দিয়ে এ শিল্পে গতিশীলতা নিয়ে আসেন তিনি। জীবিতাবস্থায় তিনি ছিলেন একুশে গ্রন্থমেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। তিনি চলে যাওয়ার পরও বইমেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই কিনতে এখনও ভিড় জমান তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। জনপ্রিয় এ লেখকের মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্ক থেকে ২৩ জুলাই দেশে নিয়ে আসা হয় তাঁর মরদেহ। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব শেষে পরদিন তাঁকে সমাহিত করা হয় তাঁরই গড়ে তোলা নন্দনকানন নুহাশ পল্লীর লিচুতলায়।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, আগুনের পরশমণি, লীলাবতী, কবি, সাজঘর, গৌরীপুর জংশন, নৃপতি, অমানুষ, বহুব্রীহি, এইসব দিনরাত্রি, শুভ্র, নক্ষত্রের রাত, কোথাও কেউ নেই, শ্রাবণমেঘের দিন, বৃষ্টি ও মেঘমালা, মেঘ বলেছে যাব যাব, জোছনা ও জননীর গল্প প্রভৃতি। তার সর্বশেষ উপন্যাস 'দেয়াল'ও পায় আকাশচুম্বী পাঠকপ্রিয়তা। তিনি রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারাবাহিক নাটক এবং চলচ্চিত্র।

হুমায়ূন আহমেদ তাঁর দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে উল্লেখযোগ্য প্রায় সব পুরস্কারেই ভূষিত হয়েছেন। একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার ছাড়াও তাঁর অর্জিত পুরস্কারগুলোর মধ্যে লেখক শিবির পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, হুমায়ুন কাদির স্মৃতি পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও বাচসাস পুরস্কার উল্লেখযোগ্য। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের এনএইচকে টেলিভিশন তাঁকে নিয়ে 'হু ইজ হু ইন এশিয়া' শিরোনামে ১৫ মিনিটের একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচার করে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ


আরও খবর

সাহিত্য

  সমকাল প্রতিবেদক

২০১৮ সালের জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে উদ্যোক্তারা। তালিকায় পাঁচটি বইয়ের নাম প্রকাশ করা হয়েছে- ইমদাদুল হক মিলনের 'নয়মাস', শাহাদুজ্জামানের 'একজন কমলালেবু', মহীবুল আজিজের 'তপন শীল ও তার বিবাহ প্রকল্প', প্রশান্ত মৃধার 'ডুগডুগির আসর' এবং রবিউল ইসলামের 'তথাগত কোথায় থাকেন'।

মঙ্গলবার ধানমন্ডির কাগজ প্রকাশন কার্যালয়ে এ তালিকা ঘোষণা করা হয়। 
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কবি আসাদ চৌধুরী, কবি রুবী রহমান, কথাসাহিত্যিক পারভেজ হোসেন, কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী এবং পুরস্কার পর্ষদের সদস্য সচিব কবি শামীম রেজা।

সংক্ষিপ্ত তালিকা ঘোষণা করে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, জেমকন গ্রুপ ২০০০ সালে কাগজ সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করে। পরে ২০০৭ সাল থেকে তা জেমকন সাহিত্য পুরস্কার নামে প্রতিবছর প্রদান করছে। বাংলা সাহিত্যের সৃজনশীল লেখকদের সম্মানিত করার জন্যই এই পুরস্কার দেওয়া হয়। জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের অর্থমূল্য এখন আট লাখ টাকা। অর্থমূল্যের বিচারেও এটি এখন দেশের অন্যতম পুরস্কার। বেসরকারি পুরস্কার হিসেবে সবচেয়ে পুরনো। যদিও জানি, লেখকরা পুরস্কারের আশায় লেখেন না। তবু পুরস্কার সৃষ্টিশীল লেখকদের প্রেরণা জোগায়।

কবি শামীম রেজা জানান, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রকাশিত সব শাখার বই থেকে প্রাথমিক বিচারকমণ্ডলী এই ৫টি বই নির্বাচন করেছেন। আগামী ৭ থেকে ১০ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ঢাকা লিট ফেস্টের মঞ্চে এর মধ্যে একটি বইয়ের জন্য জেমকন সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হবে। এর পাশাপাশি অনুর্ধ্ব ৩৫ বছর বয়সী কবি ও লেখককের মধ্যে দু'জনের প্রথম পাণ্ডুলিপির জন্য এক লাখ টাকা মূল্যমানের জেমকন তরুণ সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হবে। 

এবারই প্রথম এই তরুণ সাহিত্য পুরস্কারে বাংলাদেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের কবি-সাহিত্যিকদের যুক্ত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।


File:- ২০১৮ সালের জেমকন সাহিত্য পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে উদ্যোক্তারা। তালিকায় পাঁচটি বইয়ের নাম প্রকাশ করা হয়েছে- ইমদাদুল হক মিলনের 'নয়মাস', শাহাদুজ্জামানের 'একজন কমলালেবু', মহীবুল আজিজের 'তপন শীল ও তার বিবাহ প্রকল্প', প্রশান্ত মৃধার 'ডুগডুগির আসর' এবং রবিউল ইসলামের 'তথাগত কোথায় থাকেন'।