সাহিত্য

কষ্ট আছে, প্রাপ্তিও আছে: কবি মোহাম্মদ রফিক

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০১৮

কষ্ট আছে, প্রাপ্তিও আছে: কবি মোহাম্মদ রফিক

  সমকাল প্রতিবেদক

‘কষ্ট আছে, নিশ্চয়ই আছে। কষ্ট আছে বলেই তো এখনও লিখতে পারি। কষ্ট না থাকলে কোন মানুষের মধ্যে সৃষ্টির তাগিদ আসতেই পারে না।’

জন্মদিনের আয়োজনে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরায় একথা বলেন কবি মোহাম্মদ রফিক। আয়োজনের এক পর্যায়ে ছোটবোনের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘কষ্ট আছে, তাই বলে ভেবো না কোনো প্রাপ্তি নেই। কষ্ট আছে বলে পেয়েছিও অনেক কিছু।’

ছোটবোন তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ভাই, তোমার কি কোনও কষ্ট আছে?’ এর উত্তরে এসব বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিপত্র ‘ভূমি'র কবি মোহাম্মদ রফিক সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

গত মঙ্গলবার ছিল কবি মোহাম্মদ রফিকের ৭৫ তম জন্মদিন। ১৯৪৩ সালে ২৩ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার বেমরতা ইউনিয়নের চিতলী-বৈটপুর গ্রামে জন্ম নেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রফিক।

আট ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ কবির লেখালেখি শুরু ‘সমকাল’ ও ‘কণ্ঠস্বর’ পত্রিকায়। পাকিস্তান আমলে ছাত্র আন্দোলন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীন বাংলাদেশে আশির দশকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে কাব্য রসদ যুগিয়েছেন তিনি।

ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে মোহাম্মদ রফিককে রাজশাহী কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়, সামরিক আইনে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অনেকদিন কারাভোগ করেন তিনি। তবে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়ে তিনি পাস কোর্সে বি.এ পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ ডিগ্রি নেন। আশির দশকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা করার সময়েও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনামলে কবিতা লেখার কারণে নিপীড়নের মুখোমুখি হতে হয় এই কবিকে।

অনাড়ম্বরপূর্ণ এ অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে মোহাম্মদ রফিক বলেন, আজ মনে হচ্ছে রাজধানী ঢাকায় থাকলেও আমি শেকড়ে ফিরে গিয়েছি। নিজের জন্মস্থান বাগেরহাট ও তখনকার মানুষদের নিয়ে কথা বলতে বলতে তিনি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।

স্বজনদের পক্ষ থেকে কথা বলতে গিয়ে কবির ভাই সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ তারেক বলেন, বাবা তাদের সব ভাইবোনদেরই কড়া শাসনে রেখেছিলেন। কিন্তু বড় ভাইকে কিছু বলতে পারতেন না, কারণ দাদা তাকে বলেছিলেন, রফিক একদিন অনেক বড় হবে, ওর ওপর কখনো খবরদারি করবে না। বাবার সে কথায় কোনো আস্থা না থাকলেও দাদার কথা তিনি মেনে নিয়েছিলেন। আজ বাবা নেই, কিন্তু তিনি নিশ্চয়ই এটা দেখে খুশি হচ্ছেন যে, দাদার কথাই সত্যি হয়েছে, মোহাম্মদ রফিকের খ্যাতি চিতলী-বৈটপুর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছে।

কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম বলেন, ‘প্রকৃতি আর মানুষকে মোহাম্মদ রফিক একসঙ্গে বেঁধেছেন তার কবিতায়। তার লেখার মধ্যে দিয়ে মানুষ মাটির কাছে ফেরে। এদেশের জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি অফুরন্ত প্রেরণার উৎস। আশি ও নব্বইয়ের দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে আমাদের তিনি শক্তি ও সাহস যুগিয়েছেন।’

অনুষ্ঠানে কেক কাটার পর গান ও কবির লেখা কবিতা আবৃত্তি করা হয়। পরে সংস্কৃতিপত্র ভূমির কবি মোহাম্মদ রফিক সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ সময় কবির সঙ্গে ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম, নীলিমা পারভীন, অভিনয় শিল্পী নিয়াজ মোহাম্মদ তারেক,আবৃত্তিকার নাজমুল আহসান,গল্পকার আহসান ইকবাল,রুহুল আসফিয়া, শায়লা কেয়া, ভূমির সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মুসফিকুর রহমান, লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট বাকি বিল্লাহ। অনুষ্ঠানে কবির পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। এ সময় কবি পাঠক ও শুভান্যধ্যায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

মোহাম্মদ রফিক ইতিমধ্যেই একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, প্রথম আলো বর্ষসেরা গ্রন্থ পুরস্কার, জেমকন সাহিত্য পুরস্কার সহ বিভিন্ন স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জন করেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে  ‘কপিলা’, ‘খোলা কবিতা, ‘গাওদিয়া’, ‘মানব পদাবলী’, ‘আত্নরক্ষার প্রতিবেদন’ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কবি মোহাম্মদ রফিককে নিয়ে প্রকাশিত ভূমির বিশেষ সংখ্যাটি পাওয়া যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার অভিজাত বইবিতান ও অনলাইন বুকশপগুলোতে।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার ঘোষণা


আরও খবর

সাহিত্য

  সমকাল প্রতিবেদক

অগ্রণী ব্যাংক-শিশু একাডেমি শিশুসাহিত্য পুরস্কার-১৪২৪ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। 

পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন- কবিতা-ছড়া-গানে যৌথভাবে ‘দুরন্ত কিশোরের উড়ন্ত মন’ ও ‘আমার পড়া পাতায় ভরা’ বই দু'টির জন্য আহমেদ সাব্বির ও সোহেল মল্লিক। ‘ঘিয়ের পিদিম’ উপন্যাসের জন্য নিলয় নন্দী। জীবনী ও প্রবন্ধের ক্ষেত্রে যৌথভাবে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ ও ‘গল্পে গল্পে বাংলাদেশ’ বই দু'টির জন্য মনি হায়দার ও শিবুকান্তি দাশ। 

স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে ‘পৃথিবীর বাইরে’ বইটির জন্য মিন্টু হোসেন। অনুবাদ-ভ্রমণকাহিনি বিভাগে ‘লুইস ক্যারল অ্যালিসের অ্যাডভেঞ্চার’ বইটির জন্য সামিন ইয়াসার। নাটকে যৌথভাবে ‘আকাশ আর মৃত্তিকার গল্প’ ও ‘বিষ্টি বন্ধু’ বই দু'টির জন্য যৌথভাবে মোস্তফা হোসেইন এবং মোহাম্মদ মারুফুল। অলঙ্করণে ‘এক সকালে টম’ বইটির জন্য পুরস্কার পেয়েছেন শিল্পী মামুন হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন, পরিচালক আনজীর লিটন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তানজিনা ইসলাম, অগ্রণী ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক সুকান্তি বিকাশ সান্যাল প্রমুখ৷

চলতি বছর এ পুরস্কারের জন্য মোট সাতটি বিভাগে লেখক, প্রকাশক, শিল্পীদের কাছে থেকে বই আহ্বান করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় এই পুরস্কার প্রদান করা হলো।