অন্যান্য

পর্দা উঠল ঢাকা লিট ফেস্টের

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৮

পর্দা উঠল ঢাকা লিট ফেস্টের

  সমকাল প্রতিবেদক

শাস্ত্রীয় সংগীতের তালে কত্থক নৃত্যের পরিবেশনা দিয়ে শুরু হলো ঢাকা লিট ফেস্ট-২০১৮। বৃহস্পতিবার বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। 

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- উৎসবের তিন পরিচালক কাজী আনিস আহমেদ, সাদাফ সায্ এবং আহসান আকবার। উদ্বোধনী বক্তৃতায় সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, স্পিকার, লেখক ও বিদেশি অতিথিদের শুভেচ্ছা জানাই। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ঢাকা লিট ফেস্টের অংশ হতে পেরে গর্বিত। আমি ঢাকা লিট ফেস্টের সাফল্য কামনা করি।

এরপর ফিতা কেটে আসরের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন- ফেস্টের পরিচালকরা, অভিনেত্রী নন্দিতা দাস এবং পুলিৎজার বিজয়ী লেখক এডাম জনসন।

এ আয়োজনের পরিচালক লেখক কাজী আনিস আহমেদ তার বক্তৃতায় বলেন, ঢাকা লিট ফেস্ট সবসময় মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী। ঢাকা লিট ফেস্ট বরাবরই নারী, রোহিঙ্গা ইস্যু ও বাকস্বাধীনতা নিয়ে কথা বলে। সংস্কৃতির প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অগণিত সমর্থনের কারণে আমরা অষ্টমবারের মতো এই আয়োজন করতে পারছি। ঢাকা লিট ফেস্টের কেউ কথা বলতে বাধার সম্মুখীন হয় না। খোলামেলা আলোচনা করার জন্য এটা একটি মুক্ত জায়গা।

ঢাকা লিট ফেস্টের পরিচালক সাদাফ সায্ বলেন, ৯০টিরও বেশি সেশন নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের আয়োজন। নারী ইস্যু, হ্যাশট্যাগ মি টু, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা বিষয়ে আলোচনার সেশন থাকছে আসরে। 

এবারের আসরে থাকছেন ১৫ দেশের দুই শতাধিক সাহিত্যিক, অভিনেতা, রাজনীতিক, গবেষক এবং বাংলাদেশের প্রায় দেড়শ’ লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। অনুষ্ঠানের শেষ দিন যোগ দেবেন ভারতীয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। 

বিদেশি অতিথিদের মধ্যে অংশ নিচ্ছেন পুলিৎজার জয়ী মার্কিন সাহিত্যিক অ্যাডাম জনসন, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মোহাম্মদ হানিফ, ব্রিটিশ উপন্যাসিক ফিলিপ হেনশের, বুকার বিজয়ী ব্রিটিশ উপন্যাসিক জেমস মিক, ভারতীয় জনপ্রিয় লেখিকা জয়শ্রী মিশরা, লন্ডন ন্যাশনাল একাডেমি অব রাইটিংয়ের পরিচালক রিচার্ড বেয়ার্ড, ভারতীয় লেখিকা হিমাঞ্জলি শংকর, শিশুতোষ লেখিকা মিতালি বোস পারকিন্স, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এশিয়ার প্রধান হুগো রেস্টল, মার্কিন সাংবাদিক প্যাট্রিক উইন, লেখক ও সাংবাদিক নিশিদ হাজারি।

নিজের লেখালেখি নিয়ে কথা বলতে আসছেন অস্কার জয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন। থাকছেন বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা। লিট ফেস্টে তিনি নিজের আত্মজীবনী নিয়ে কথা বলবেন। এসেছেন অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক নন্দিতা দাস। 

এছাড়া বাংলাদেশের লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে থাকছেন- ড. আনিসুজ্জামান, আফসান চৌধুরী, আসাদুজ্জামান নূর, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কামাল চৌধুরী, আসাদ চৌধুরী, ফখরুল আলম, ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, আলী যাকের, সেলিনা হোসেন, শামসুজ্জামান খান, আনিসুল হক, কায়সার হক, খাদেমুল ইসলাম, অমিতাভ রেজা, মুন্নী সাহা, শাহনাজ মুন্নী ও নবনীতা চৌধুরী।

লিট ফেস্টের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ঘোষণা করা হবে ‘জেমকন সাহিত্য পুরস্কার’। একই দিনে লঞ্চ করা হবে ক্যামব্রিজ শর্ট স্টোরি প্রাইজ। তিন দিনের এই সাহিত্য উৎসব চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত। 


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী


আরও খবর

অন্যান্য

  অনলাইন ডেস্ক

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আর নেই। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরলোকগমন করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯৪। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে হঠাৎ করে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মারা যান তিনি। 

বেশ কিছু দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সম্প্রতি শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করে। কয়েক দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিমতলা শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই কবির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তার আগে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রবীন্দ্র সদনে রাখা হবে।

১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।  সেখানে পাঠশালায় প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে ১৯৩০ সালে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন। শহরের মিত্র ইনস্টিটিউশন, বঙ্গবাসী এবং সেন্ট পলস কলেজে পড়াশোনা শেষে ১৯৫১ সালে যোগ দেন আনন্দবাজার পত্রিকায়। 

দীর্ঘ সময় তিনি ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। কবিতার পাশাপাশি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ছিলেন ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গদ্যকার, গোয়েন্দা লেখক, শিশুসাহিত্যিক, ভ্রমণ কাহিনির লেখক, সম্পাদক এবং বানান বিশেষজ্ঞ।

১৯৫৪ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম কবিতার বই ‘নীল নির্জন’। এরপর একে একে প্রকাশ পায় ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘নিরক্ত করবী’, ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’, ‘আজ সকালে’সহ অন্যান্য বই। পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। নীরন্দ্রেনাথ চক্রবর্তীর লেখা কবিতা ‘অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল...’ ও ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়...’ রীতিমতো প্রবাদে পরিণত হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হলেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী


আরও খবর

অন্যান্য

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন বলে বাংলা একাডেমি সূত্র জানিয়েছি।

১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন হাবিবুল্লাহ সিরাজী। তিনি আশির দশকে জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। কবিতার জন্য ২০১৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯১ সালে পান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান তিনি।

হাবিবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৩২টি। লিখেছেন উপন্যাস, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথাও। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো- ‘দাও বৃক্ষ দাও দিন’,‘মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি’, ‘মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাশ’, ‘স্বপ্নহীনতার পক্ষে’, ‘আমার একজনই বন্ধু’, ‘পোশাক বদলের পালা’, ‘প্রেমের কবিতা’,‘কৃষ্ণ কৃপাণ ও অন্যান্য কবিতা’, ‘সিংহদরজা’, ‘জয় বাংলা বলোরে ভাই’, ‘সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না’, ‘কতো কাছে জলছত্র’, ‘কতোদূর চেরাপুঞ্জি’ ‘ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই’।

দশ বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মে মাসে শামসুজ্জামান খানের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে মহাপরিচালকের পদটি শূন্য ছিল।