অন্যান্য

বৃহস্পতিবার শুরু ঢাকা লিট ফেস্ট, চলছে নিবন্ধন

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৫ নভেম্বর ২০১৮

বৃহস্পতিবার শুরু ঢাকা লিট ফেস্ট, চলছে নিবন্ধন

ঢাকা লিট ফেস্ট উপলক্ষে সোমবার বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন আয়োজকরা। ছবি: সমকাল

  সমকাল প্রতিবেদক

আবারও পর্দা উঠতে যাচ্ছে ঢাকা লিট ফেস্টের। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হচ্ছে তিন দিনের এ সাহিত্য উৎসব। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। 

অষ্টমবারের মতো আয়োজিত এ উৎসব শেষ হবে শনিবার। প্রতিদিন চলবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। বরাবরের মতো এবারও এ উৎসবের আয়োজন করছে যাত্রিক; সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। পুরো উৎসব পরিচালনা করছেন কথাসাহিত্যিক কাজী আনিস আহমেদ, কবি সাদাফ সায্ সিদ্দিকী ও কবি আহসান আকবার। এবারের উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকছে ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন। সহ-পৃষ্ঠপোষক ব্র্যাক ব্যাংক।

সোমবার বাংলা একাডেমির শহীদ মুনীর চৌধুরী মিলনায়তনে এই ঘোষণা দেন আয়োজকরা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা লিট ফেস্টের তিন পরিচালক- বাংলা একাডেমির পরিচালক ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলাম, ব্র্যাক ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট জারা মাহবুব খান ও ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান এবং বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী আনিস আহমেদ বলেন, ২০১১ সালে ‘হে ফেস্টিভ্যাল’ নাম দিয়ে এই আয়োজন যাত্রা শুরু করে। ২০১৫ সাল থেকে এটি ঢাকা লিট ফেস্ট নামে আত্মপ্রকাশ করে। গত আট বছরে এ উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। যার কারণে নোবেল, ম্যান বুকার, পুলিৎজার বিজয়ীরা এ উৎসবে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা লিট ফেস্টের মঞ্চ এখন বিশ্বের কাছে সুপরিচিত। তারই জের ধরে ক্যামব্রিজ শর্ট স্টোরি প্রাইজ কর্তৃপক্ষ এবার এই মঞ্চে এ পুরস্কার ঘোষণা করবেন। সে সঙ্গে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পত্রিকা গ্রান্টা ম্যাগাজিন দ্বিতীয়বারের মতো এ উৎসবে অংশীদার হচ্ছে। প্রদান করা হবে জেমকন সাহিত্য পুরস্কার।

সাদাফ সায্ সিদ্দিকী বলেন, এবারের উৎসবের তিন দিনে ৯০টির বেশি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এখানে শুধু সাহিত্য নয় শিল্পকলা, আলোকচিত্র, চলচ্চিত্র- সব কিছুরই প্রদর্শনী থাকছে। বিশ্বের ২৫ দেশের দুই শতাধিকের বেশি সাহিত্যিক, বক্তা ও চিন্তাবিদ এই আয়োজনে অংশ নেবেন।

আহসান আকবর বলেন, লিট ফেস্টে আমাদের মূল আগ্রহ থাকে বাংলা সাহিত্যকে প্রচার ও প্রসারের। সেটিকে এগিয়ে নিতে আমরা বাংলা সাহিত্যের লেখকদের বই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে ভারতীয় প্রকাশনা সংস্থা সি গার্ল যুক্ত হয়েছে ঢাকা লিট ফেস্টের সঙ্গে।

এবারের আয়োজনে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে অংশ নিচ্ছেন ভারতীয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন, বলিউড অভিনেত্রী মনীষ কৈরালা, অভিনেত্রী নন্দিতা দাস, পুলিৎজার বিজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক অ্যাডাম জনসন, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মোহাম্মদ হানিফ, ব্রিটিশ উপন্যাসিক ফিলিপ হেনশের, বুকার বিজয়ী ব্রিটিশ উপন্যাসিক জেমস মিক, ভারতীয় জনপ্রিয় লেখিকা জয়শ্রী মিশ্র, লন্ডন ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব রাইটিংয়ের পরিচালক রিচার্ড বিয়ার্ড, ভারতীয় লেখিকা হিমাঞ্জলি শংকর, শিশুতোষ লেখিকা মিতালি বোস পারকিন্স, ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এশিয়ার প্রধান হুগো রেস্টল, মার্কিন সাংবাদিক প্যাট্রিক উইন, লেখক ও সাংবাদিক নিশিদ হাজারি প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আফসান চৌধুরী, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, আসাদ চৌধুরী, ফকরুল আলম, ইমদাদুল হক মিলন, মঈনুল আহসান সাবের, আলী যাকের, সেলিনা হোসেন, শামসুজ্জামান খান, আনিসুল হক, কামাল চৌধুরী, মুস্তাফিজ শফি, মাহবুব আজীজ, কায়জার হক, খাদেমুল ইসলাম, অমিতাভ রেজা, মুন্নী সাহা, শাহনাজ মুন্নী, নবনীতা চৌধুরীসহ দেড় শতাধিক লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অংশ নিচ্ছেন এই আয়োজনে।

ইতিমধ্যেই ঢাকা লিট ফেস্টে অংশগ্রহণের জন্য বিনামূল্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিবন্ধন করুন এই লিংকে গিয়ে- https://www.dhakalitfest.com/register/। উৎসবের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

চলে গেলেন কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী


আরও খবর

অন্যান্য

  অনলাইন ডেস্ক

কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী আর নেই। মঙ্গলবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার মুকুন্দপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরলোকগমন করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯৪। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সোমবার সকালে হঠাৎ করে তার হার্ট অ্যাটাক হয়। এরপর মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে মারা যান তিনি। 

বেশ কিছু দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সম্প্রতি শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করে। কয়েক দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিমতলা শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই কবির শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। তার আগে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রবীন্দ্র সদনে রাখা হবে।

১৯২৪ সালের ১৯ অক্টোবর তৎকালীন অবিভক্ত ভারতের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী।  সেখানে পাঠশালায় প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে ১৯৩০ সালে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন। শহরের মিত্র ইনস্টিটিউশন, বঙ্গবাসী এবং সেন্ট পলস কলেজে পড়াশোনা শেষে ১৯৫১ সালে যোগ দেন আনন্দবাজার পত্রিকায়। 

দীর্ঘ সময় তিনি ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন। কবিতার পাশাপাশি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ছিলেন ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, ঔপন্যাসিক, গদ্যকার, গোয়েন্দা লেখক, শিশুসাহিত্যিক, ভ্রমণ কাহিনির লেখক, সম্পাদক এবং বানান বিশেষজ্ঞ।

১৯৫৪ সালে প্রকাশ পায় তার প্রথম কবিতার বই ‘নীল নির্জন’। এরপর একে একে প্রকাশ পায় ‘অন্ধকার বারান্দা’, ‘নিরক্ত করবী’, ‘নক্ষত্র জয়ের জন্য’, ‘আজ সকালে’সহ অন্যান্য বই। পেয়েছেন আনন্দ পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। নীরন্দ্রেনাথ চক্রবর্তীর লেখা কবিতা ‘অমলকান্তি রোদ্দুর হতে চেয়েছিল...’ ও ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়...’ রীতিমতো প্রবাদে পরিণত হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

পরের
খবর

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হলেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী


আরও খবর

অন্যান্য

  সমকাল প্রতিবেদক

বাংলা একাডেমির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন কবি হাবিবুল্লাহ সিরাজী। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন বলে বাংলা একাডেমি সূত্র জানিয়েছি।

১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন হাবিবুল্লাহ সিরাজী। তিনি আশির দশকে জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। কবিতার জন্য ২০১৬ সালে একুশে পদক এবং ১৯৯১ সালে পান বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান তিনি।

হাবিবুল্লাহ সিরাজীর কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৩২টি। লিখেছেন উপন্যাস, প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথাও। তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো- ‘দাও বৃক্ষ দাও দিন’,‘মোমশিল্পের ক্ষয়ক্ষতি’, ‘মধ্যরাতে দুলে ওঠে গ্লাশ’, ‘স্বপ্নহীনতার পক্ষে’, ‘আমার একজনই বন্ধু’, ‘পোশাক বদলের পালা’, ‘প্রেমের কবিতা’,‘কৃষ্ণ কৃপাণ ও অন্যান্য কবিতা’, ‘সিংহদরজা’, ‘জয় বাংলা বলোরে ভাই’, ‘সারিবদ্ধ জ্যোৎস্না’, ‘কতো কাছে জলছত্র’, ‘কতোদূর চেরাপুঞ্জি’ ‘ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই’।

দশ বছর দায়িত্ব পালনের পর গত মে মাসে শামসুজ্জামান খানের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে মহাপরিচালকের পদটি শূন্য ছিল।