সাহিত্য ও সংস্কৃতি

সাক্ষাৎকার :নন্দিতা দাস

#মিটু আন্দোলন অনিবার্য ছিল

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

#মিটু আন্দোলন অনিবার্য ছিল

  দীপন নন্দী

নন্দিতা দাস কেবল চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও পরিচালকই নন, সামাজিক অধিকারকর্মী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। বাংলা একাডেমিতে চলমান ঢাকা লিট ফেস্টে এসেছেন নিজের পরিচালিত নতুন চলচ্চিত্র 'মান্টো' নিয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্বোধনী দিনে ছবিটির বাংলাদেশ প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে সমকালের সঙ্গে আলাপচারিতায় কথা বলেছেন চলচ্চিত্রটি নিয়ে। এ ছাড়া কথা বলেছেন চলমান #মিটু আন্দোলন নিয়েও।

নন্দিতা দাস বলেন, "ঢাকা লিট  ফেস্ট নিয়ে আমি মুগ্ধ। এর আগে ২০১২ সালেও এসেছিলাম। এবার আরও মুগ্ধ আমি। কারণ, দিন দিন এ উৎসবের পরিধি বেড়েছে। ভালো লাগার আরেকটা কারণ হচ্ছে- এবার আমার 'মান্টো' চলচ্চিত্রের প্রিমিয়ার হচ্ছে এখানে।"

আলাপচারিতা ডানা মেলল 'মান্টো'র দিকে। নন্দিতা বলেন, 'কান চলচ্চিত্র উৎসবে চলচ্চিত্রটির প্রথম প্রদর্শনী হয়। এর পর এটি নিয়ে ছুটেছি সিডনি থেকে লন্ডন। ঢাকায় সর্বসাধারণের জন্য প্রথমবারের মতো প্রদর্শিত হচ্ছে। ছবির প্রযোজক প্রথমে রাজি হননি, যদি ছবিটি পাইরেসি হয়ে যায়। পরে পাইরেসি না হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত করেছি আমি। এই প্রদর্শনীর পর সারাবিশ্বে বাণিজ্যিকভাবে ছবিটি মুক্তি দেওয়া হবে।'

'এটির গল্প নিয়ে যদি কিছু বলেন?'

"ছবিটি উর্দু সাহিত্যের অন্যতম লেখক সাদাত হাসান মান্টোর জীবন নিয়ে নির্মিত। আজ থেকে ৭০ বছর আগে মান্টো যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল, প্রাসঙ্গিক এখনও। ভারতসহ সারাবিশ্বে সত্য বলার আন্দোলনে যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদের কথাগুলোই এসেছে 'মান্টো'র জবানিতে।"

'এটার সঙ্গে তাহলে সাহিত্যের একটা সম্পর্ক আছে।'

"আছে। কিন্তু সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্র খুব কমই নির্মিত হয়েছে বলিউডে। হিন্দি ভাষায় শুধু সাহিত্য নিয়ে কোনো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়নি। সে হিসেবে 'মান্টো'ই সাহিত্য সম্পর্কিত প্রথম হিন্দি ছবি।"

'বলিউডসহ সারাবিশ্বে #মি টু আন্দোলন এখন খুবই আলোচিত। এতে আপনার অভিমত কী?'

'এই সমাজটা পুরুষপ্রধান। এখানে নারীর অধিকার কখনোই পুরুষের সমান ছিল না। তাই অনিবার্য ছিল এই আন্দোলন। এটা খুব ভালো বিষয় যে আন্দোলনটা খুব ভালোভাবে হচ্ছে। তবে সতর্ক থাকতে হবে। সত্যিই যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেই মেয়েদের এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে। এটার অপব্যবহার যাতে না হয়, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রকৃত অর্থে এ আন্দোলন পুরুষের বিরুদ্ধে নয়, ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে।'

উৎসবের উদ্বোধনী মঞ্চে কারাগারে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের মুক্তি চেয়েছেন নন্দিতা দাস। তিনি বলেন, 'শিল্পীরা সমাজে কোনো দেয়াল তৈরি করেন না; বরং সেতুবন্ধ তৈরি করেন। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। সৃষ্টিশীলতার ভেতর দিয়েই নিজেদের তুলে ধরেন তারা। সারা পৃথিবীতেই শহিদুল আলমের মতো মানুষ আছেন, যারা কবিতা, আলোকচিত্র কিংবা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সত্যের সন্ধান করে থাকেন। এটি একটি অহিংস পন্থা। তাদের মতো মানুষকে থামিয়ে দিলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।'

আলাপচারিতা আরেকটু বাড়াতে চাইলে বাদ সাধলেন নন্দিতা দাস, 'ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি এবার। ওর বয়স আট বছর। ঢাকা ঘুরতে যাব ওকে নিয়ে। আর এখানে এসে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটাও বলব ওকে।'

সদ্য ৪৮ বছর পূর্ণ করা নন্দিতা দাসের জন্ম ১৯৬৯ সালে, মুম্বাইয়ে। হিন্দি ভাষার পাশাপাশি এই অভিনেত্রী তিনটি বাংলা ছবি ছাড়াও মালয়ালাম, তামিল, উর্দু, রাজস্থানি, কনড়সহ ভারতের অজস্র আঞ্চলিক ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে ফায়ার, ১৯৪৭ আর্থ, বাওয়ান্দার, আজাগি, বিফোর দ্য রেইনস অন্যতম। ১৯৪৭ আর্থ-এ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ারের শ্রেষ্ঠ অভিষেক অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেছিলেন তিনি। নন্দিতা দাস পরিচালিত প্রথম সিনেমা 'ফিরাক' একই সঙ্গে হিন্দি, উর্দু ও গুজরাটি ভাষায় মুক্তি পেয়েছিল ২০০৮ সালে। 'ফিল্মফেয়ার স্পেশাল অ্যাওয়ার্ড'সহ বেশ কয়েকটি পুরস্কার জিতে নেয় সিনেমাটি। চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০৯ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে 'অড্রে দেস আর্টস অ্যাট দেস লেটারস' সম্মাননায় ভূষিত করে। নন্দিতা দাস প্রথম ভারতীয়, যিনি শিল্পকলায় অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক নারী ফোরাম থেকে সম্মানিত হন। এ ছাড়া চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ 'এশিয়ান ফেস্টিভ্যাল অব ফার্স্ট ফিল্ম পুরস্কার', 'নন্দী পুরস্কার', 'ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব কেরালা পুরস্কার'সহ অনেক পুরস্কার লাভ করেছেন। দুবার কান চলচ্চিত্র উৎসবের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

সুফি গান আমার কাছে ঈশ্বরবন্দনার মতো


আরও খবর

সাহিত্য ও সংস্কৃতি

সাক্ষাৎকার :শাফকাত আমানত আলী

সুফি গান আমার কাছে ঈশ্বরবন্দনার মতো

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমু সাহা

'সঙ্গীতের আলাদা কোনো ভাষা নেই। কোনো মানচিত্রের মধ্যেও একে বন্দি করে রাখা যায় না। আমিও তাই কোনো নির্দিষ্ট ঘরানার শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইনি। প্রতিনিয়ত সঙ্গীতের নানা ধরনের নিরীক্ষা করে গেছি। ভালো লাগাকে বিসর্জন দিয়ে খ্যাতি কুড়াতে চাইনি। ক্লাসিক্যাল থেকে শুরু করে সুফি, পপ, রক, ফিউশনসহ নানা ধরনের গান করেছি। কিন্তু যে ধরনের গানে নিজের মন সায় দেয়নি, তা কখনও করতে চাইনি।

সেটাই করেছি, যা আমার শিল্পী সত্তাকে কিছুটা হলেও তৃপ্ত করেছে।'

বললেন পাকিস্তানের নন্দিত কণ্ঠশিল্পী শাফকাত আমানত আলী। আজ ঢাকা আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত 'ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকউৎসবের শেষ রজনীতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন তিনি। উৎসবে অংশ নেওয়ার আগে তিনি ঢাকার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় সমকালের সঙ্গে একান্ত আলাপে অংশ নেন। বলেন, 'শুধু দেশীয় ঐতিহ্য আর বংশপরম্পরা ধরে রাখতে সুফি গানকে প্রাধান্য দিয়েছি- বিষয়টি এমন নয়। নিজেও সুফি গানের অনুরাগী ছিলাম বরাবর। সুফি গান আমার কাছে ঈশ্বরবন্দনার মতো। আজকেও দর্শকের সামনে সুফি গানের কিছু নমুনা তুলে ধরতে চাই।' সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো :

সমকাল :এটাই কি প্রথম বাংলাদেশ সফর?

শাফকাত আমানত আলী :লোকসঙ্গীত উৎসবে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছি। কিন্তু এটা আমার প্রথম বাংলাদেশ সফর নয়। এর আগেও একবার এ দেশে এসেছি। আমার কিছু আত্মীয়-স্বজন খুলনায় থাকে। সে সূত্রেই এ দেশে এসেছিলাম। সেটাও প্রায় ২০ বছর আগের কথা। এত বছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে। সে হিসেবে সফরটা প্রথম সফরের মতোই রোমাঞ্চকর লাগছে।

সমকাল :আজ ফোকফেস্টের দর্শকের কাছে কী প্রত্যাশা করছেন?

শাফকাত আমানত আলী :যতদূর জানি, এ দেশে সঙ্গীত অনুরাগী মানুষের সংখ্যা বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে বেশি। দর্শকের কাছে তাই প্রত্যাশা থাকবে, আমার সঙ্গে সবাই যেন গলা ফাটিয়ে গান গায়। গতকাল রাতে টিভিতে এ উৎসবে শিল্পীদের পরিবেশনা দেখেছি। অবাক হয়েছি এটা দেখে, অগণিত দর্শক কী উৎসাহ নিয়ে উৎসবে অংশ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক এ উৎসব সম্পর্কে আগেও অনেকের মতামত শুনেছি। প্রত্যেকের মুখে ছিল উচ্ছ্বসিত প্রশংসা। এবার নিজে এই উৎসবে গাইব- সেটা ভেবে শিহরিত হচ্ছি।

সমকাল :লোকগানের পাশাপাশি সুফি এবং চলচ্চিত্রেও নানা ধরনের গান করেছেন। আজ কি নির্দিষ্ট কোনো ঘরানার গান গাইবেন, না বিভিন্ন ধরনের গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে?

শাফকাত আমানত আলী :এটা ঠিক যে, আমি নানা ধরনের গান করি। কিন্তু সেটাই প্রাধান্য দেই, যা নিজের এবং দর্শক-শ্রোতার ভালো লাগে। মজার বিষয় হলো, ফোক বা সুফি গানের কনসার্টে গেলেও দেখি, বিভিন্ন ছবিতে গাওয়া আমার গানগুলো তারা শুনতে চান। আমিও দর্শক-শ্রোতার প্রিয় গানগুলো গেয়ে থাকি। জানি বিষয়টা নিয়ম ভঙ্গের মতো। কিন্তু দর্শকের পছন্দকে তো আর অস্বীকার করা যায় না। দর্শক চাইলে আজও নানা ধরনের গান গাইব। পাশাপাশি কিছু সুফি গানের নমুনাও তাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

সমকাল :আপনার অনেক গানে লোকসুরের ছাপ আছে। নিরীক্ষাধর্মী কাজের প্রয়াসেই এটা করা?

শাফকাত আমানত আলী :লোকগান খুব সহজেই সঙ্গীতপ্রেমীদের সঙ্গে আত্মিক যোগাযোগ ঘটাতে পারে। একবার স্পেনে শো করতে গিয়ে দেখেছি, আমার গাওয়া 'মতওয়া' গানের সঙ্গে স্পেনের ঐতিহ্যবাহী ফ্লেমিঙ্গো নাচ পরিবেশিত হচ্ছে। বিষয়টি আমাকে অনেক আলোড়িত করেছিল। এক দেশের চলচ্চিত্রের গানের সঙ্গে আরেক দেশের ঐতিহ্যবাহী নাচের এমন সম্মিলন ঘটতে পারে- আগে ভাবিনি। সেই পরিবেশনা দেখে অন্যরকম এক আনন্দে মনটা ছেয়ে গিয়েছিল। সঙ্গীত আসলে এমনই- নির্দিষ্ট কোনো ভাষা আর মানচিত্রের মাঝে তাকে বন্দি করে রাখা যায় না। সঙ্গীত নানা ঘরানার হলেও একটা যোগসূত্র থেকেই যায়। ফোক, সুফি, পপ, রক, ক্লাসিক, ফিউশন- যাই হোক না কেন, মনের তৃষ্ণা মেটানোই সঙ্গীত সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য।

সমকাল :ক্লাসিক্যাল ও সুফি গান দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। অথচ আপনাকে এখন রক, পপ, ফিউশনসহ প্লেব্যাকে ভিন্ন আঙ্গিকের গান গাইতে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ কী?

শাফকাত আমানত আলী :ক্লাসিক্যাল ও সুফি গানের অনুরাগী হলেও প্রতিনিয়ত সঙ্গীত নিয়ে নিরীক্ষা করে থাকি। নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে যেমন আটকে থাকতে চাইনি, তেমনি শিল্পী হিসেবেও গায়কীর মধ্য দিয়ে বারবার নিজেকে ভাঙতে চেয়েছি। ব্যান্ড তৈরি করায় সঙ্গীত নিরীক্ষা বেড়ে গিয়েছিল। 'আখো কি সাগর', 'মধুওয়ান্তি রাগ'-এর সঙ্গে পপ গানের যোগসূত্র রাখার চেষ্টা ছিল। আর প্লেব্যকে তো ছবির কাহিনী, চরিত্র ও নানা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গান তৈরি করা হয়- যে জন্য সঙ্গীতের ধরনও বদলে ফেলতে হয়। সেই সুবাদে গায়কীতে নিজেকে নতুন করে তুলে ধরার সুযোগ থাকে। এটা ভেবেই নানা ধরনের গান করা।

সমকাল :কখনও সুযোগ পেলে এ দেশের লোকগান গাইবেন?

শাফকাত আমানত আলী :আমার স্ত্রীর কাছে এ দেশের গান সম্পর্কে যতটা জেনেছি, তাতে আপনা আপনি বাংলা গান গাওয়ার একটা ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। সৈয়দ আবদুল হাদীর 'কেউ কোন দিন আমারে তো কথা দিল না'সহ অসংখ্য বাংলা গান শুনেছি। তার মধ্য দিয়ে এখানকার লোকগানের প্রতি আলাদা একটা আকর্ষণ জন্মে গেছে। সুফি গানের মতোই এ দেশের লোকগানে আলাদা ধরন আছে- যা অন্য কোনো ঘরানার গানের সঙ্গে মেলানো যাবে না। সুযোগ পেলে আবারও এ দেশে গান করতে চাই। বাবাও এ দেশে এসেছিলেন, গান গেয়ে দর্শকের ভালোবাসাও কুড়িয়েছেন। আমাকেও তার পথ অনুসরণ করতে দেখলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

পরের
খবর

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন


আরও খবর

সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

সাক্ষাৎকার :আনিয়া উইটযাক

প্রকাশ : ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সমু সাহা

'লোকগানের কথায় রয়েছে জীবনের দিকনির্দেশনা। এর ঐন্দ্রজালিক সুর অদ্ভুত এক ঘোরে আবিষ্ট করে রাখে। তবে পোল্যান্ডে রক মিউজিকের বেশ আধিপত্য। যদিও লোকজ ও ক্লাসিক্যাল গানেরও চাহিদা আছে। ব্যান্ড দিকান্দা গঠনের উদ্দেশ্যই ছিল সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারার মধ্যে সুষম অন্বয় ঘটানো। লোকসুরের সঙ্গে পাশ্চাত্য বাদ্যযন্ত্রের মিশেলে দর্শককে ভিন্ন আস্বাদন দেওয়াই দিকান্দার প্রয়াস।'- এভাবেই বলছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পোল্যান্ডের ব্যান্ড দিকান্দার দলপ্রধান আনিয়া উইটযাক।

আজ রাতে 'ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট ২০১৮'-এ তাদের ব্যান্ড দল সঙ্গীত পরিবেশন করবে। তার আগে গতকাল সমকালের সঙ্গে একান্ত আলাপে অংশ নেন আনিয়া উইটযাক। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো :

সমকাল :ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবে প্রথমবার অংশ নিচ্ছেন। দিকান্দা ব্যান্ড দলের বাংলাদেশে এটিই প্রথম পরিবেশনা। সব মিলিয়ে এই ঢাকা সফরকে কেমন মনে হচ্ছে?

আনিয়া উইটযাক :একেক সফরের গল্প একেক রকম। আজকের আয়োজনের কথা যখন আগামীতে ভাবব, তখন বুঝতে পারব- আগেরগুলোর চেয়ে এটা  কতটা ভিন্নরকম। তবে বাংলাদেশে প্রথম সঙ্গীত পরিবেশনা করব বলে অবশ্যই কিছুটা উচ্ছ্বসিত। দুই বছর আগে ভারতে একটি ফেস্টিভ্যালে অংশ নিয়েছিলাম। তখনই শুনেছিলাম লোকজ ঐতিহ্যে বাংলাদেশ অনেক সমৃদ্ধ; যে জন্য গত তিন বছর ধরে সেখানে আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসব হয়ে আসছে। তখন থেকেই আগ্রহ তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক কোনো লোকসঙ্গীত উৎসবে পারফর্ম করার। অবশেষে যখন বাংলাদেশের এই লোকসঙ্গীত উৎসবে আমন্ত্রণ পেলাম- তখন দলের সবার মুখেই আনন্দের আভা ফুটে উঠেছিল। যদিও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে টানা কয়েকটি কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে দিকান্দার। তারপরও এখন আমরা ঢাকায়। কিছুক্ষণ পরই অংশ নেব ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্টে। আশা করছি, এই উৎসবে সঙ্গীত পরিবেশন অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা এনে দেবে।

সমকাল :কনসার্টের সিডিউল মিলিয়ে ঢাকায় এলেন কীভাবে?

আনিয়া উইটযাক :ফোকফেস্ট কর্তৃপক্ষ যখন আমন্ত্রণ জানায়, তখনই ভেবেছি, এ আয়োজনে দিকান্দার অংশ নেওয়া উচিত। লোকজ সংস্কৃতি সমৃদ্ধ এ দেশের মানুষ সঙ্গীতের প্রতি যে গভীর আবেগ লালন করে তা আগেই জেনেছি। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও এ আয়োজনে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য পাঁচ দিন সময় বের করেছি। সবকিছুই হুটহাট করতে হয়েছে। গত চার বছর ধরেই দিকান্দা বিভিন্ন দেশে সঙ্গীত পরিবেশন করে আসছে। এ মাসেও অস্ট্রিয়া, জার্মানি, স্লোভাকিয়া এবং পোল্যান্ডে আমাদের চারটি শো রয়েছে। তার পরও ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্টকে প্রাধান্য দিয়েছি।

সমকাল :লোকজ সঙ্গীতের বিভিন্ন ধারা আছে, দিকান্দা সঙ্গীতের কোন ধারায় নিজেদের নিবিষ্ট রেখেছে?

আনিয়া উইটযাক :দিকান্দার পরিবেশনায় লোকজ গানের সঙ্গে ফিউশনের গভীর যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। লোকজ সঙ্গীতকে একটা নির্দিষ্ট ছকে কখনোই বেঁধে রাখতে চাইনি। আমাদের মৌলিক গানগুলোতে ঐতিহ্যগত লোকজ সুরের পাশাপাশি পাওয়া যায় প্রাচ্যের প্রভাব। সে ধারাবাহিকতায় আমাদের গানে বলকান থেকে শুরু করে ইসরায়েল, কুর্দি, বেলারুশ, ইন্ডিয়ার লোকজ সঙ্গীতেরও বেশ ছায়া আছে। লোকজ গানের কথায় যে গভীর প্রাণস্পন্দন এবং নিরেট অনুভূতি লুকিয়ে আছে তা আমাদের গানে তুলে ধরার চেষ্টা করি। গানে নিজস্ব লোকজ শব্দও প্রয়োজন মতো ব্যবহার করি। সবার কাছে যা দিকান্দিশ নামে পরিচিত। তবে আমাদের পরিবেশনার মূল লক্ষ্যই হলো সঙ্গীতের তাল, লয়ের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক স্থাপন করা।

সমকাল :এখন পর্যন্ত 'দিকান্দা'র কয়টি অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে?

আনিয়া উইটযাক :১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত দিকান্দার মোট ৮টি অ্যালবাম বের হয়েছে। সর্বশেষ গত বছর 'ডেবলা ডেবলা' শিরোনামে একটি অ্যালবাম প্রকাশ পেয়েছে। অ্যালবামের প্রতিটি গানেই চেষ্টা করি লোকজ গানের মধ্যে যে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য আছে তা সুর, তাল, লয়ের মাধ্যমে তুলে ধরার। গান পরিবেশনের জন্য বিশ্বের যে প্রান্তেই গিয়েছি, লোকজ সংস্কৃতির রস আস্বাদনের চেষ্টা করেছি। লোকসুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন। এখন পর্যন্ত আমরা জার্মানি, অস্ট্রিয়া, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, ভারত এবং আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিভিন্ন লোকজ কনসার্টে অংশ নিয়েছি। ২০০৫ সালে প্রখ্যাত জার্মান ম্যাগাজিন 'ফোকলার' আয়োজিত 'ডিস্ক অব দ্য ইয়ার' অ্যাওয়ার্ড জিতেছিল আমাদের তৃতীয় অ্যালবাম 'উশতিজো'।

সমকাল :এ দেশের লোকগান কখনও শোনা হয়েছে কী?

আনিয়া উইটযাক :না, আগে এদেশের লোকগান তেমন একটা শোনা হয়নি। তবে বছর দুয়েক আগে ভারতে যখন শো করেছিলাম, তখন এ দেশের লোকজ গান সম্পর্কে জেনে আগ্রহ বেড়েছিল। এরপর মঝেমধ্যে ইউটিউবে লোকজ গানের বেশ কিছু ভিডিও দেখেছি। তবে ভিডিও দেখার পরই বুঝেছি এ দেশের মানুষ কতটা গানপাগল। যে জন্য এবারের সফরের শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল, ভিন্ন আঙ্গিকে লোকজ গান পরিবেশন করব।

সমকাল :লোকজ গান মৃত্তিকা সংলগ্ন মানুষের কথা বলে। এর জন্য গভীর নিমগ্নতা প্রয়োজন। নতুন কোনো সঙ্গীত সৃষ্টির জন্য কোন রীতি অনুসরণ করেন?

আনিয়া উইটযাক :যখন সৃষ্টির নেশায় বিভোর, তখন ভুলে যাই আমি কে, কী আমার পরিচয়? ধর্ম-বর্ণ-জাত নিয়েও ভাবি না। যখন অনুশীলন করি, নিমগ্ন চিত্তে তাল-লয়-ছন্দ নিয়ে একের পর এক নিরীক্ষা চলতে থাকে। একসময় অনুভব করি, কিসের সঙ্গে যেন মনের যোগসূত্র ঘটে গেছে। মননে মিশেছে নতুন এক মূর্ছনা। সৃষ্টির নেশায় এমনই বিভোর হয়ে যেতাম যে, পৃথিবীর কোথায় কী ঘটছে- তা বিন্দু-বিসর্গও জানার সুযোগ হয়নি। সৃষ্টির নেশাই বোধ হয় এমন।



সমকাল :এবার শেষ প্রশ্ন, বাংলাদেশের লোকজ সঙ্গীত নিয়ে যদি কাজ করার কখনও প্রস্তাব আসে, সে ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা কিরূপ হবে?

আনিয়া উইটযাক :আমাদের ভূমিকা নিশ্চয়ই ইতিবাচক হবে। সঙ্গীতের তো নির্দিষ্ট কোনো মানচিত্র নেই। আগেই বলেছি, বাংলাদেশের লোকগান আমাদের অনেক বেশি প্রাণিত করেছিল। কেউ যদি এমন উদ্যোগ নিয়ে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, অবশ্যই সাধুবাদ জানাই।

সমকাল :আপনাকে ধন্যবাদ।

আনিয়া উইটযাক :সমকাল পরিবারকেও 'দিকান্দা'র পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।

পরের
খবর

বিডি হিপ হপ ফেস্ট ২৯ নভেম্বর


আরও খবর

সাহিত্য ও সংস্কৃতি
বিডি হিপ হপ ফেস্ট ২৯ নভেম্বর

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮

  অনলাইন ডেস্ক

হিপ হপ প্রেমীদের জন্য নগরীতে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এসিঅনলঅইনবিডিডটকম প্রেজেন্টস বিডি হিপ হপ ফেস্ট ২০১৮। একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে এবারও এ উৎসবের আয়োজক এ কবির আর গ্রুপের অনন্য উদ্যোগ রদেভুঁ প্রাইভেট লিমিটেড। এ কবির আর গ্রুপের উদ্যোগ এসিঅনলাইনবিডিডটকমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ উৎসব। হাইএন্ড লাক্সারি ব্র্যান্ডের জন্য একটি এক্সক্লুসিভ ই-কমার্স ওয়েব পোর্টল এসিঅনলাইনবিডিডটকম। 

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের আয়োজকরা জানান, বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের (আইসিসিবি) হল ২-এ আগামী ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিরতিহীনভাবে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত হবে বিডি হিপ হপ ফেস্ট-২০১৮। 

উৎসবে পারফর্ম করবেন খ্যাতিমান হিপ হপ তারকারা, যার মধ্যে থাকছে রাজত্ব-এর র্যা প, জালালি সেট, বাংলা মেন্টালজ, ডি হাজ, গ্রিন কোস্ট, টি জেড, ব্লু পপার্সের বি-বয় হিপ হপ ড্যান্স, বি-বটস, ডি ওয়ারিয়র্স, ঘোস্ট ইন দ্য সিটির বিট বক্সিং, ডিস্ক জকি হিসেবে ডিজে রিওন এবং ডিজে জি। পাশাপাশি হিপ হপ ফ্যাশন শো ছাড়াও থাকবে আকর্ষণীয় বিভিন্ন অফার। 

উৎসবের আয়োজক রদেভুঁ প্রাইভেট লিমিটেড, ডিরেক্টর আশিনুল কবির, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর নুরুল মোমেন সোহেল, অফিসিয়াল কোরিওগ্রাফার এবং স্টাইলিস্ট সৈয়দ রুমা, অফিসিয়াল টেনিক্যাল পার্টনার স্যাস কমপ্যাক্ট টিউন। উৎসবে অংশ নিতে কোনো টিকেটের ব্যবস্থা থাকবে না তবে www.aconlinebd.com-এ গিয়ে নির্ধারিত লিংকে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। 

হিপ হপ ফেস্টের টাইটেল স্পন্সর এসিঅনলাইনবিডিডটকম, পাওয়ারড বাই নোকিয়া অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোন, কো-স্পন্সর  ওয়াচেস ওয়ার্ল্ড লিমিটেড, এ কবির আর গ্রুপ, মোবাইল ওয়ার্ল্ড লিমিটেড, মোবাইল পার্টনার এশিয়ান টিভি, ৯৬.৪ স্পাইস এফএম, বঙ্গবিডিডটকম, দৈনিক ইত্তেফাক, আনন্দমেলা ম্যাগাজিন ও বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। 

বিডি হিপ হপ ফেস্ট ২০১৮-এর সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আশিনুল কবির রাজন, বিডি হিপ হপ ফেস্ট ২০১৮ এর ডিরেক্টর, এ কবির আর গ্রুপ এবং রদেভুঁর চেয়ারম্যান, এমএম কামাল পাশা, অ্যাসিস্যান্ট ম্যানেজার, প্রশাসন, রদেভুঁ প্রাইভেট লিমিটেড, বিশাল করিম, র্যা প আর্টিস্ট এবং প্রোডিউসার, রদেভুঁ প্রাইভেট লিমিটেডের কো-অর্ডিনেশন এবং কম্যুনিকেশন বিষয়ক নির্বাহী, সৈয়দ রুমা, বিডি হিপ হপ ফেস্ট ২০১৮ এর কোরিওগ্রাফার এবং স্টাইলিস্ট, নুরুল মোমেন সোহেল, স্যাস কম্প্যাক্ট টিউনের চেয়ারম্যান, বিডি হিপ হপ ফেস্ট ২০১৮ এর টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, ইউনিয়ন গ্রুপের মার্কেটিং হেড, মডেল মারিয়া কিসপোত্তা এবং মডেল শাবনাজ সাদিয়া এমি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি