সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ঢাকা লিট ফেস্ট আজ শুরু

সাহিত্যের আসরে স্বাগত

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাহিত্যের আসরে স্বাগত

  দীপন নন্দী

বিশ্বজুড়ে সাড়া জাগানো সব সাহিত্যিক, সাংবাদিক, চিন্তাবিদ, শিল্পী-নির্মাতা ও অধিকারকর্মীদের সম্মিলন ঘটছে একই প্রাঙ্গণে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৫টি দেশের তিন শতাধিক সাহিত্যিক-সংস্কৃতিজন অংশ নেবেন এ সম্মিলনে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বাংলা একাডেমিতে তিন দিনব্যাপী এই ঢাকা লিটারারি ফেস্টের উদ্বোধন করবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

দেশের সাহিত্যাঙ্গনের অন্যতম এ উৎসব চলবে আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ৯০টিরও বেশি অধিবেশনে আলোচকরা কথা বলবেন সাহিত্য ছাড়াও হালের #মিটু আন্দোলন থেকে নারীর জয়যাত্রা, বিজ্ঞানের নানা দিক আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। কথাসাহিত্যিক কাজী আনিস আহমেদ, কবি সাদাফ সায্‌ সিদ্দিকী ও কবি আহসান আকবরের পরিচালনায় অষ্টমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এ উৎসব। উৎসবের সহযোগিতায় রয়েছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এ উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউন। সহপৃষ্ঠপোষক ব্র্যাক ব্যাংক।

লিট ফেস্টের মঞ্চে এবার নিজেদের পুরস্কার ঘোষণা করবে কেমব্রিজ শর্ট স্টোরি প্রাইজ কর্তৃপক্ষ। জেমকন সাহিত্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হবে এ মঞ্চ থেকে। এবার দ্বিতীয়বারের মতো এ উৎসবে অংশ নিচ্ছে ব্রিটিশ সাহিত্য জার্নাল 'গ্রান্টা'। উৎসবের অন্যতম পরিচালক আহসান আকবর সমকালকে বলেন, আগের সাত বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বর্তমানে এ দেশের মানুষের পছন্দের বিষয়গুলো অনেক বেশি স্পষ্ট। আর সেভাবেই সাজানো হয়েছে এবারের অনুষ্ঠানসূচি। সাহিত্যের পাশাপাশি নানা বিষয় নিয়েও কথা হবে এ আয়োজনে।

এবারের উৎসবে অংশগ্রহণকারী বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, অস্কার বিজয়ী অভিনেত্রী টিলডা সুইন্টন, বলিউড অভিনেত্রী মনীষা কৈরালা, অভিনেত্রী ও নির্মাতা নন্দিতা দাস, পুলিৎজার বিজয়ী মার্কিন সাহিত্যিক অ্যাডাম জনসন, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখক মোহাম্মদ হানিফ, ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক ফিলিপ হেনশের, বুকার বিজয়ী ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক জেমস মিক, ভারতীয় জনপ্রিয় লেখিকা জয়শ্রী মিশ্র, লন্ডন ন্যাশনাল একাডেমি অব রাইটিংয়ের পরিচালক রিচার্ড বিয়ার্ড, ভারতীয় লেখিকা হিমাঞ্জলি শংকর, শিশুতোষ লেখিকা মিতালি বোস পারকিন্স, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এশিয়ার প্রধান হুগো রেস্টল, মার্কিন সাংবাদিক প্যাট্রিক উইন, লেখক ও সাংবাদিক নিশিদ হাজারি প্রমুখ।

বাংলাদেশ থেকে অংশ নিচ্ছেন আসাদ চৌধুরী, আলী যাকের, শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন, ফকরুল আলম, কায়সার হক, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, মঈনুল আহসান সাবের, ইমদাদুল হক মিলন, কামাল চৌধুরী, আফসান চৌধুরী, আনিসুল হক, মুস্তাফিজ শফি, মাহবুব আজীজ, খাদেমুল ইসলাম, মুন্নী সাহা, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, শাহনাজ মুন্নী, নবনীতা চৌধুরীসহ দেড় শতাধিক লেখক, অনুবাদক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

ইতিমধ্যে ঢাকা লিট ফেস্টে অংশ নেওয়ার জন্য বিনামূল্যে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিবন্ধন করতে হলে https://www.dhakalitfest.com/register/ ঠিকানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে। উৎসবের শেষ দিনেও নিবন্ধন করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট খবর


মন্তব্য যোগ করুণ

পরের
খবর

কাঙালিনী সুফিয়ার অবস্থার কিছুটা উন্নতি


আরও খবর

সাহিত্য ও সংস্কৃতি

হাসপাতালে কাঙালিনী সুফিয়া- সমকাল

  নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

বাংলা লোকগানের জনপ্রিয় শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া। হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ জনিত কারণে তাকে ঢাকার সাভারে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে ( সিসিইউ) রাখা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা এই শিল্পীর অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে চিকিৎসকের জানিয়েছেন। তবে অর্থকষ্টে থাকার কথা জানিয়েছে তার পরিবার।

শনিবার দুপুরে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও এনাম মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা: এনামুর রহমান এনাম হাসপাতালে যান এবং কাঙালিনী সুফিয়াকে দেখে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন।

কাঙ্গালিনি সুফিয়ার মেয়ে পুষ্প আক্তার বলেন, মা নানা জটিল রোগে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ করেই বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। স্মৃতিশক্তিও লোপ পাওয়ায় তিনি কাউকে চিনতে পারছিলেন না। প্রেশার বেশি থাকার কারণে বেশ খানিকবার বমি করেন। প্রচণ্ড মাথা ও  গলা ব্যথা ছিলো। এরপর দ্রুত তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি জানান, প্রথমে কেবিনে দিলেও মায়ের অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে সিসিইউ নেয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা বলেছেন- তিনি এখন অনেকটাই শংকামুক্ত।

পুষ্প কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য এত টাকা কোথায় পাব। সরকার ও বিভিন্ন ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া অনুদানের টাকাসহ ধারদেনা করে অনেক টাকা ইতিমধ্যেই  বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ঔষধের পিছনে খরচ হয়ে গেছে। মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তার ভক্তবৃন্দরা হাসপাতালে ছুটে  অনুদান দিলেও তার পরিমান খুবই সামান্য। তিনি তার মায়ের চিকিৎসার জন্য সকলের কাছে সহযোগিতা ও দোয়া চান।

রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী এ্যাপোলো জামালি কাঙালিনী সুফিয়া দেখতে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ছুটে আসেন। তিনি বলেন, এ বাউল শিল্পীর  অসুস্থতার খবর শুনে আমরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসি। গত দুই দিন ধরে তার পাশে থেকে পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আমরাও তাকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা এবং মানসিকভাবেও সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছি।

কাঙালিনী সুফিয়ার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক এনাম মেডিকেল কলেজের হৃদরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোলায়মান হোসেন জানান, হৃদরোগ ও উচ্চরক্তচাপ জনিত কারণে প্রথমে থাকে এখানে ভর্তি করা হয়। এরপর নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরে রক্তের পরিমাণ অনেকটাই কম। এছাড়াও কিডনি জনিত নানান জটিল রোগ তাকে আঁকড়ে ধরছে। তবে বর্তমানে আগের চেয়ে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, এনাম মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা: এনামুর রহমানের নির্দেশে তার সকল প্রকার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এর জন্য হাসপাতালের কার্ডিওলোজী, নিউরোলোজীসহ প্রতিটি ইউনিটের চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। কাঙালিনী সুফিয়া আমাদের দেশের একজন বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী। তার চিকিৎসার যেন কোন ত্রুটি না হয় সে নির্দেশও আমাদের রয়েছে। 

কাঙালিনি সুফিয়ার সাথে গান করা নাতি গিটার বাদক সোহান যাযাবর বলেন, আমরা চাই সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তিনি উপযুক্ত চিকিৎসা পেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও আমাদের মাঝে ফিরে আসুন।

এব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা: এনামুর রহমান বলেন, কাঙালিনি সুফিয়া আমাদের দেশের একজন বরেণ্য সঙ্গীত শিল্পী; সাভারের গর্ব। আমি প্রতিদিন তার চিকিৎসার খোঁজ খবর নিচ্ছি। তার শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে অনেক ভালো।

উল্লেখ্য, বাউল গানের শিল্পী কাঙালিনী সুফিয়া মাত্র ১৪ বছর বয়সে গ্রাম্য একটি অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

ওই সময়ই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর ডি.জি. মুস্তফা মনোয়ার তার উপাধি দেন ‘কাঙালিনী’। সেই থেকে তিনি এই নামে পরিচিতি পান।

সঙ্গীতে এযাবৎ তিনি প্রায় ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। গান রচনা করেছেন প্রায় ৫০০টি। তার জনপ্রিয় গানের তালিকায় আছে- ‘পরাণের বান্ধব রে, বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘কোন বা পথে নিতাই গঞ্জে যাই’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’ প্রভৃতি।

পরের
খবর

'রঙিলা বিয়ে'


আরও খবর

সাহিত্য ও সংস্কৃতি
'রঙিলা বিয়ে'

প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮

  সমকাল প্রতিবেদক

বছরের এ সময়টায় দেশজুড়ে বিয়ের জমকালো আয়োজন শুরু হয়। চোখে পড়ে ঝলমলে আলোকসজ্জা। বর-কনের পরিবার আর আত্মীয়দের সময় কাটে নানা ব্যস্ততায়। এ দেশে বিয়ের বিচিত্র সব আয়োজন এখনও সেভাবে নির্দিষ্ট কোনো শপিংমল কিংবা বাজারে পাওয়া যায় না। ছুটতে হয় শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আবার অনেকের মাঝে দেশের বাইরে থেকে পণ্য কিনে ব্যবহারের আগ্রহ এখনও আছে। যদিও এ দেশের পণ্য গুণেমানে কোনো দিক থেকেই অন্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে নেই।

এ ধরনের সমস্যা দূর করার চিন্তা থেকেই হ্যাপি ইভেন্টস দৃক গ্যালারিতে দু'দিনব্যাপী বিয়েবিষয়ক উৎসব 'রঙিলা বিয়ে'র আয়োজন করেছে। শনিবার বিকেল ৪টায় এ উৎসবের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ক্যানভাসের সম্পাদক কানিজ আলমাস খান।

উৎসবের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন লাইফস্টাইল ম্যাগাজিন ক্যানভাসের সম্পাদক কানিজ আলমাস খান— সমকাল

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুস্তাফিজ শফি বলেন, এ উদ্যোগ তরুণ সমাজকে নতুন ধরনের কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে সাহায্য করবে। একই ছাদের নিচে বিয়ের সব আয়োজন নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য আয়োজকদের সাধুবাদ জানাই।

কানিজ আলমাস খান বলেন, বিয়ে সবার জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বর্তমানে বিয়ের সময় বর-কনে নানা কাজের চাপে থাকে। তাই এ আনন্দ আয়োজন তারা কোনোভাবেই উপভোগ করতে পারেন না। সেই দিক থেকে ইভেন্ট অর্গানাইজাররা বিষয়টিকে অনেক সহজ করে দিয়েছে।

উৎসবের প্রথম দিনে অতিথিরা— সমকাল

দৃক গ্যালারিতে একই ছাদের নিচে বিয়েবিষয়ক সব ধরনের পণ্য আয়োজন করা হয়েছে। দেশি কাপড়ে ঐতিহ্যবাহী নকশা এবং বর্তমান ধারার মিশেলে বিয়ের পোশাক নিয়ে উপস্থিত আছে সাফিয়া'স ব্রাইডাল এবং এ বছরের বিয়ের মেকআপের ধারা নিয়ে উপস্থিত আছে ডিভাইন বিউটি লাউঞ্জ। উজ্জ্বলা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০ বিউটিশিয়ান ১০ ধরনের বিয়ের সাজ নিয়ে কনে সাজিয়েছেন।

বিয়ের মতো আনন্দ আয়োজনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য দিন দিন ওয়েডিং ফটোগ্রাফি এবং ভিডিওগ্রাফির চাহিদা বাড়ছে। এ ধরনের সেবা নিয়ে হাজির থাকবে রনি'স ফটোগ্রাফি। এ ছাড়াও রয়েছে দেশের জামদানি শিল্প, বিয়ের অলঙ্কার এবং বিশেষ খাবারের আয়োজন।

পরের
খবর

হাজার বছরের পথে


আরও খবর

সাহিত্য ও সংস্কৃতি

প্রত্ননাটক 'মহাস্থান'

হাজার বছরের পথে

প্রকাশ : ২৪ নভেম্বর ২০১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

  দীপন নন্দী, মহাস্থানগড় (বগুড়া) থেকে

মানুষ আসছে গ্রামের আলপথ ধরে। আসছে দল বেঁধে নাটক দেখতে-যে নাটকে উঠে এসেছে আড়াই হাজার বছরের ইতিহাস। এমন দৃশ্য দেখা গেল গতকাল শুক্রবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থানগড়ে। দেশের তৃতীয় প্রত্ননাটক 'মহাস্থান' প্রদর্শিত হলো সেখানকার ভাসুবিহারের প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে। নাটক দেখলেন আর হাজার বছর আগের পথে হাঁটলেন বগুড়া এবং আশপাশের জেলা-উপজেলা থেকে আসা দর্শকরা।

প্রায় দুই বছরের মহড়ার পর মঞ্চস্থ হয়েছে প্রত্ননাটক 'মহাস্থান'-যাতে রয়েছে অতীতের ওই সময়ের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের নানা দিক। দেশের সবচেয়ে বড় এ প্রত্ননাটকের মঞ্চায়ন উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ। প্রধান অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নাট্যজন আতাউর রহমান ও অধ্যাপক আবদুস সেলিম, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেন, বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান।

ড. সেলিম মোজাহারের লেখা এ নাটক সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রযোজনা করেছে শিল্পকলা একাডেমি। নাটকের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। নাটকটির দ্বিতীয় মঞ্চায়ন হবে একই স্থানে আজ শনিবার।

গতকাল নাটকের মঞ্চায়ন উদ্বোধনের সময় হাসান আজিজুল হক বলেন, 'এ ধরনের শৈল্পিক আয়োজনকে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ সংস্কৃতি যত ছড়াবে সমাজের তত মঙ্গল হবে। এ মাটি বৌদ্ধ জনপদের পরিচয় বহন করে। বাঙালির শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতির তীর্থস্থান মহাস্থান। বাঙালির অখণ্ড সংস্কৃতি এখন প্রত্নস্থলের মাধ্যমে উদ্ভাসিত হচ্ছে।'

নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, ১৫০০ বছর আগের সভ্যতার এই নগরী মহাস্থানের ভাসুবিহার। এই ভূখণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

নাটকের শুরুতেই আসাদুজ্জামান নূর নিজেকে 'মহাস্থান' আখ্যা দিয়ে শুরুতেই বর্ণনা করেন স্থানটির ইতিহাস। মন্দ্রিত কণ্ঠে বলেন, আড়াই হাজার বছর পূর্বেকার মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্রনগরীর রাজধানী ছিল। কয়েক শতাব্দী ধরে এ স্থান পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন শাসকবর্গের প্রাদেশিক রাজধানী ও পরবর্তীকালে হিন্দু সামন্ত রাজাদের রাজধানী ছিল। তৃতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে পঞ্চদশ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অংসখ্য হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের রাজারা এখানে রাজত্ব করেছেন। মূল নাটক শুরু হয় তার ধারাবর্ণনা শেষ হওয়ার পর, যাতে তৃতীয় খ্রিষ্টপূর্বাব্দ থেকে ১৫০০ সাল সময়ের শাসকদের শাসন ও শোষণের চিত্র তুলে ধরা হয়। ঘটনার পালাবদলে ঐতিহাসিক এই স্থান পরিণত হয় ধর্মীয় তীর্থস্থানে। এ নাটক শেষ হয় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। একেবারে শেষ প্রান্তে আবির্ভূত হন একজন মূকাভিনেতা। সকল আঁধার কাটিয়ে

আলোকবর্তিকা হয়ে এগিয়ে আসতে থাকেন তিনি। এ সময় আবহে বেজে উঠে সৈয়দ শামসুল হকের 'আমার পরিচয়' কবিতার অংশবিশেষ- 'আমি জন্মেছি বাংলায়/আমি বাংলায় কথা বলি/আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি'... অংশটুকু।

নির্দেশক লিয়াকত আলী লাকী সমকালকে বলেন, এ নাটকে প্রত্ন-ইতিহাসকে দৃশ্যকাব্যে রূপান্তরিত করা হয়েছে। মহাস্থানের গৌরবোজ্জ্বল আখ্যানের ভেতর দিয়ে সমগ্র বাংলার মহাস্থান হয়ে ওঠার গল্প নাটকটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

নাট্যকার সেলিম মোজাহার বলেন, বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী পুন্ড্রনগরের মহাস্থানকে কেন্দ্রভূমিতে রেখে মহামুনি গৌতম বুদ্ধের বাংলায় আসার সময় থেকে একাত্তরের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কালপর্বকে এ নাটকে তুলে ধরা হয়েছে। বাঙ্গালা অঞ্চলের ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক পট ও তার পরিবর্তনের ইতিহাসের 'জানা ও জনপ্রিয়' গল্পপ্রবাহ এ নাটকের আখ্যানভাগ।

নাটকটিতে ঢাকার ৬০ এবং বগুড়ার ১০০ জন অভিনয়শিল্পী এবং ঢাকার ৩০ ও বগুড়ার ৭০ জন নৃত্যশিল্পী অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে অংশ নিয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক কলাকুশলী।

এর আগে শিল্পকলা একাডেমি ২০১৪ সালের ২০ এপ্রিল নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে দেবাশীষ ঘোষের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ করে দেশের প্রথম প্রত্ননাটক 'সোমপুর কথন'। নরসিংদী জেলার উয়ারী-বটেশ্বর খননের মাধ্যমে যে আড়াই হাজার বছরের পুরনো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন আবিস্কার হয়েছে, সেই নিদর্শনকে উপজীব্য করে ২০১৪ সালের ৬ জুন মঞ্চস্থ হয় প্রত্ননাটক 'উয়ারী-বটেশ্বর'।