রংপুর

মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে পিস্তল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে পিস্তল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ

  পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযানকালে মাদক না পেয়ে এক মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে পিস্তল দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযানে এক বছরের শিশুসহ ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের বিনিময়ে পরিবারটির আরেক সদস্যকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের লোকজন। তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, মাদক খুঁজতে গিয়ে মাদক ব্যবসায়ী লিটনের স্ত্রীর কাছে পিস্তল পাওয়া যায়।

লিখিত অভিযোগ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রেমচরণজোত সীমান্ত এলাকার মাদক ব্যবসায়ী লিটনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। লিটন পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মামলাও রয়েছে। তবে অভিযানের সময় লিটনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। অভিযানে তেঁতুলিয়া থানার এসআই মাহবুবুর রহমান, সিপাই আব্দুর রহমান, খায়রুল ইসলাম এবং ওয়্যারলেস অপারেটর মামুনুর রশিদও ছিলেন।

লিটনের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কোনো মাদকদ্রব্য না পাওয়ায় এবং লিটনকে না পেয়ে প্রথমে তার ভাই খাজা নাজিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পরে তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করে অধিদপ্তরের লোকজন। পরে হঠাৎ লিটনের স্ত্রী ঝর্ণা বেগমকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়। নাজিম উদ্দিনকেও হ্যান্ডকাফ পরিয়ে গাড়িতে তোলা হয়। নাজিমের স্ত্রী ৫০ হাজার টাকা দিয়ে তাকে মুক্ত করেন।

লিটন বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আমার বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে। মাদক না পেয়ে পিস্তল দিয়ে ফাঁসিয়ে শিশুসন্তানসহ স্ত্রীকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে। তিনি নিজেকে এবং স্ত্রীকে নিরপরাধ বলে দাবি করেন। লিটনের ভাই খাজা নাজিম উদ্দিন বলেন, কয়েকজন সাদা পোশাকধারী লোক ও পুলিশ আমাদের বাড়িতে ঢোকে। এরপরই তারা তল্লাশি করা শুরু করে। তারা আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করে। পরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে পঞ্চগড় মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বলেছেন, তারা যেসব অভিযোগ করছে, তা মিথ্যা। লিটন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি। আমরা তার বাসায় অভিযান চালাই। ভুলক্রমে আমরা তার বড় ভাই খাজা নাজিম উদ্দিনকে আটক করলেও পরে তাকে ছেড়ে দেই। তবে তল্লাশির সময় লিটনের স্ত্রী ঝর্ণার কোমরে একটি পিস্তল খুঁজে পাই। পরে ঝর্ণাকে তার সন্তানসহ গ্রেফতার করে নিয়ে যান তারা। সোমবার রাতেই এ ব্যাপারে লিটন ও ঝর্ণাকে আসামি করে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি জহুরুল ইসলাম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে অভিযান চালিয়ে ওই নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কাছে একটি পিস্তল পাওয়া গেছে। গতকাল গ্রেফতার নারীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য


অন্যান্য