রংপুর

ত্রাণ পৌঁছেনি উলিপুরে চরাঞ্চলের পানিবন্দি ৭শ' পরিবারে

প্রকাশ : ১০ আগষ্ট ২০১৯ | আপডেট : ১১ আগষ্ট ২০১৯

ত্রাণ পৌঁছেনি উলিপুরে চরাঞ্চলের পানিবন্দি ৭শ' পরিবারে

পানিতে আটকা পড়েছে মানুষ- সমকাল

  আব্দুর রাজ্জাক সরকার, কুড়িগ্রাম থেকে

নৌকা থেকে ঘাটে নামার পর দেখা পারুল বেগমের সঙ্গে। তার হাত পা ফোলা দেখে কারণ জানতে চাইলে এই মধ্যবয়ষ্ক নারী যা বললেন তা শুনে আতকে উঠার মতো অবস্থা। পারুল বলেন, আমি অন্ধ, হাত পা ফোলা দেখতে পাই না তবে ব্যথা টের পাই। প্রায় এক মাস ধরে ঘরে বন্যার পানির সঙ্গে বসবাসের কারণে তার এই অবস্থা।

ঘরে পানি থাকায় প্রায় এক সপ্তাহ তাকে থাকতে হয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের খোলা জায়গায়। এখন একটু পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ঘুমাতে পারেন, তবে চৌকি সমান পানি না থাকলেও ঘরের কোনায় কোনায় এখনও আছে বন্যার পানি।

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বিরহিম চরে দেখা হওয়া পারুল বেগমই শুধু নয় এই চর ছাড়া খামার দামার চরের আরও ২০ থেকে ৩০ নারী পুরুষের সঙ্গে কথা বলে প্রায একই তথ্য পাওয়া গেল।

চিকিৎসা সহায়তা তো দূরের কথা এবারের ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত কেউ ত্রাণ দেয়নি তাদের। এসব মানুষের অভিযোগ, এই দুই চর দূরে হওয়ায় সেখানে কেউ ত্রাণ দিতে যায় না। বজরার মুচির বাঁধ নৌকায় তিন ঘণ্টার দূরত্বে এই দুই চরে ৭০০ পরিবারের বাস।

খামার দামার চরের মালেকা বেগম বলেন, ঈদ উপলক্ষে শুধু কিছু চাল পেয়েছেন তারা। কিন্তু পুরো বন্যায় এক মাসেও সরকারি বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি। ঈদে যে চাল পেয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তাও নিজে নৌকা ভাড়া করে দুই ঘণ্টা দূরের পরিষদকে থেকে আনতে হয়েছে। সেই চাল নৌকার ভাড়া দিতেই শেষ।

তিনি বলেন, এছাড়া সরকারি বা বেসরকারি কোনো উদ্যোগে সেখানে ত্রাণের নৌকা নিয়ে তাদের কাছে কেউ যায়নি।

স্থানীয় কলেজ শিক্ষক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগির প্রতিষ্ঠাতা আবু হেনা মুস্তফা বলেন, এবারের ভয়াবহ বন্যায় উলিপুরের বেশিরভাগ এলাকা ডুবে গেছে। বেসরকারি উদ্যোগে অনেক ত্রাণ দিতে এলেও বিরহিম চর ও খামার দামার চরে কেউ যায়নি। নৌকায় দুই ঘণ্টা পারি দিতে হয় বলে এই সমস্যা। গত এক মাসে এই প্রথম শুক্রবার তার সহযোগিতায় মুক্ত আসর নামে একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সংগঠন সেখানে ত্রাণ দেয়।

বজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মহুবর রহমান বলেন, বিরহিম চরে ৫০০ পরিবার ও খামারদামার চরে ২০০ পরিবারের বসবাস। বন্যয় পুরোপুরি ডুবে যায় এসব এলাকা। শুধু ঈদে কিছু চাল দেওয়া হয়েছে এখানে। বন্যার সময় ত্রাণ সহায়তা পায়নি এসব এলাকার মানুষ।

বজরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সমকালকে বলেন, সরকার থেকে ১১ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়েছিল বন্যার্তদের জন্য। চর বজরা, পুবর্ব বজরা ও আশপাশের কয়েকটা এলাকায় দেওয়ার পর চাল শেষ হয়। তারপরও খামারদামার চরে কিছু দিয়েছি। কিন্তু বিরহিমের চরে দেওয়া হয়নি কিছু। ঈদ উপলক্ষে সব চরে চাল দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উলিপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন স্টিভ বলেন, হিসেব অনুযায়ী সব এলাকায় ত্রাণ পাওয়ার কথা। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ত্রাণ না গিয়ে থাকলে অবশ্যাই ত্রাণ দেওয়া হবে।

মন্তব্য


অন্যান্য