রংপুর

পঞ্চগড়ে পশুর হাটে অধিকাংশই ভারতীয় গরু

প্রকাশ : ০৭ আগষ্ট ২০১৯ | আপডেট : ০৭ আগষ্ট ২০১৯

পঞ্চগড়ে পশুর হাটে অধিকাংশই ভারতীয় গরু

  সফিকুল আলম, পঞ্চগড়

ঈদের আগে শেষ মুহূর্তে কেনাবেচায় জমে উঠেছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাট। জেলার কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটে দেশি গরুর সংখ্যা কম, অধিকাংশ হাট ভারতীয় গরুর দখলে। 

বুধবার জেলার পাঁচটি পশুর হাট ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। জেলা শহরের রাজনগর হাট, বোদা উপজেলার নগরকুমারি, তেঁতুলিয়ার শালবাহানহাট, দেবীগঞ্জের ভাউলাগঞ্জহাট ও আটোয়ারীর ফরিকরগঞ্জ হাট ঘুরে দেখা যায়, দেশি গরুর পাশাপাশি অধিক সংখ্যক ভারতীয় গরু। জেলার বাইরে থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে গরুর দাম গতবারের তুলনায় বেশি বলে দাবি ক্রেতাদের। বিভিন্ন পশুর হাট থেকে ব্যাপারিরা প্রতিদিন কয়েকশ ট্রাকে গরু কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছেন। পঞ্চগড়ে গরু কিনে বেশ লাভের মুখ দেখছেন বলে জানান ব্যাপারিরা। 

এই প্রতিবেদক জেলার পাঁচটি হাট ঘুরে অধিক সংখ্যক ভারতীয় গরু দেখতে পেলেও সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা এ তথ্য অস্বীকার করেছেন। রাজনগর গরুর হাটের ইজারাদার আব্দুর রহিম বলেন, ‘বাজারে প্রচুর দেশি গরু উঠেছে। তবে পাশাপাশি ভারতীয় গরুও আছে। ভারতীয় গরুর আধিক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।’

স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেশি গরুর ব্যবসা করি। কিন্তু বাজারে দেশি গরুর পাশপাশি ভারতীয় গরু প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। আমদানি বেশি হলেও গরুর দাম কম নয়। কারণ প্রতিদিন জেলার বাইরে থেকে বেপারিরা এসে ট্রাক ভরে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।’

জেলা সদরের জগদল এলাকার কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বছরখানেক আগে ২৭ হাজার টাকা দিয়ে দুইটি ছোট আকারের গরু কিনে লালনপালন করেছি। এবার হাটে নিয়ে সেই দুই গরু ৮২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি।’

রাজশাহী চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকার গরু বেপারি রহিমুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রতিদিন পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকায় হাট করি। হাটে গরু কিনে ট্রাকে করে এলাকায় পাঠাই। এবার গরুর দাম কিছুটা বেশি হলেও এখান থেকে গরু কিনে বাইরে নিয়ে বিক্রি করলে বেশি লাভ হয়।’

পঞ্চগড় বাজারের জুদান স্টোরের মালিক আব্দুল ওয়াদুদ বাবু বলেন, ‘তিন হাট থেকে ঘুরছি, মনের মত কোরবানির গরু কিনতে পারিনি। হাটে প্রচুর ভারতীয় এবং দেশীয় গরু। কিন্তু গরু প্রতি গত বছরের তুলনায় ৮-১০ হাজার টাকা দাম বেশি। একটু কম দামের আশায় শেষ দিকে গরু কিনতে এসেছি।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ দাস বলেন, ‘জেলায় এবার ৪৮ হাজার গরু এবং ১৭ হাজার ছাগল উৎপাদন করা হয়েছে। কোরবানির বাজারে গরুর দাম ভালো থাকায় খামারিসহ কৃষক আর গৃহস্থরা দেশি গরুর উপযুক্ত দাম পাচ্ছেন। এবার কোরবানির ঈদকে লক্ষ্য রেখে এ জেলায় গরুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছ। আমাদের এখানে উৎপাদিত গরু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন জেলার বাইরে যাচ্ছে এবং দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।’

মন্তব্য


অন্যান্য