রংপুর

দাম কম নির্ধারণ হওয়ায় হতাশায় বিএডিসির গম চাষিরা

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯

দাম কম নির্ধারণ হওয়ায় হতাশায় বিএডিসির গম চাষিরা

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) বীজের গম ক্রয়ের মূল্য কম নির্ধারণ হওয়ায় লোকশানের মুখে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের চুক্তিবদ্ধ গম চাষিরা। হতাশায় দিন কাটছে তাদের। দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।

চাষিদের দাবি, গত বছরের চেয়ে বাজারে এবার গমের দাম বেশি হওয়ার পরও এবার প্রতি কেজিতে ৩ টাকা কম নির্ধারণ করেছে বিএডিসি। গত বছর প্রতি কেজি প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজের গমের দাম ৩৫ টাকা ছিল। এ বছর ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর বাজারে কাঁচা গমের দাম ছিল প্রতি কেজি ১৯ টাকা। আর এবার বাজারে কাঁচা গম ২৩ টাকা থাকলেও বিএডিসি বীজের গম কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে ৩২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে চাষিরা লোকশানের মুখে পরছেন। তাই বিএডিসির বীজ উৎপাদিত চাষিরা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন দফতরে দাম বৃদ্ধির দাবিতে আবেদনপত্র আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ চাষি ফোরামের সভাপতি কুতুব উদ্দীন বলেন, ‘বাংলাদেশে গম উৎপাদনের প্রধান জেলা ঠাকুরগাঁও। এখানে ৩টি জোনের মাধ্যমে চুক্তিবদ্ধ চাষিদের থেকে মানসম্মত বীজ ক্রয় করে বিএডিসি। কিন্তু বিএডিসি গত বছরগুলোতে গম বীজের দাম ঠিক দিলেও এবার অন্যায়ভাবে কেজিতে ৩ টাকা কমিয়ে দিয়েছে। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চুক্তিবদ্ধ চাষিরা যদি লোকশানে পরে তাহলে বীজ উৎপাদনে অনাগ্রহী হয়ে উঠবে। তাই চাষিদের কথা চিন্তা করে কর্তৃপক্ষের পুনরায় মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। মূল্য বৃদ্ধি না করলে চাষিরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন।’

ঠাকুরগাঁও বিএডিসির চুক্তি বদ্ধ চাষি ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এসএম এমদাদুল হক বলেন, ‘বিএডিসির এই মনগড়া সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ। ৩ মাস পরে বীজের টাকা পায় চাষিরা। এতে ২ টাকা লাভ না পেয়ে যদি ২ টাকা লোকশান হয় তাহলে চাষিরা কেমনে বাঁচবে? দ্রুত দাম না বাড়ালে আন্দোলন করা ছাড়া উপায় থাকবে না চাষিদের।’

কৃষি বিপণন অধিদফতরের জেলা বিপণন কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘গত বছর ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন বাজারে কাঁচা গম ১৯-২০ টাকা বিক্রি হলেও এবার ২৩-২৪ টাকা দরে বিক্রি হয়। জেলায় গমের আবাদ কমে যাওয়ায় চাষিরা এবার ভাল দাম পেয়েছে।’  

বিএডিসি’র ঠাকুরগাঁও কন্ট্রাক গ্রোয়ার্স জোনের উপ-পরিচালক আওলাদ হাসান সিদ্দীকী বলেন, ‘আমরা বীজ ক্রয়ের সময় চাষিদের উৎপাদন খরচ ও বাজার মূল্য 

কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠালে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ গম বীজ ক্রয়ের মূল্য ভিত্তি বীজ ৩৮ ও প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত বীজ ৩২ টাকা নিধার্রণ করেছে। কিন্তু এই দর চাষিরা না মানায় দরখাস্ত দিয়েছে। গম বীজের মূল্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত চাষিদের দরখাস্ত পেয়েছি তা সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য


অন্যান্য