রংপুর

দিনাজপুরে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৭ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৯ | আপডেট : ২৩ জুন ২০১৯

দিনাজপুরে হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৭ জনের যাবজ্জীবন

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বিরলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আব্দুল বারী নামে একজনকে হত্যা মামলায় সহোদর জাহাঙ্গীর আলম এবং শরিফুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ওই মামলায় অভিযুক্ত আরো ৫ জন নারীসহ ১৭ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। এছাড়াও প্রত্যেক আসামীকে সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। একই মামলার ১৯ জন আসামীকে মারামারি করে রক্তাক্ত ও জখম করার অপরাধে ৩২৫ ও ১৪৯ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ২ জন আসামী পলাতক রয়েছে।

মামলার রায়ে বলা হয়- ‘মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত আসামী ২ জনকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হলো। মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা সাপেক্ষে উক্ত শাস্তি কার্যকর করা হবে। আসামীদ্বয় আইনে নির্ধারিত ৭ দিনের মধ্যে আপীল দায়ের করতে পারবেন।’

মামলার বিবরনে জানা যায়, গত ২০০৪ সালের ২৯ অক্টোবর সকালে দিনাজপুরে বিরল উপজেলার রতনৌর মৌজার ১৪ শতাংশ জমির মালিকানার মিস অগ্রক্রয়ের মামলা করে ডিক্রীপ্রাপ্ত হলে জমির দখল বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক পেয়াদা মাধ্যমে দখল নিতে যায় বিরল উপজেলার নোনাগ্রামের মাহাতাব উদ্দিন আহাম্মদের ছেলে আব্দুল কাফি, সাইদুর রহমান, ওহিদুর রহমান, আব্দুল বারী, ফরিদুল হক, বড় বোন মাহফুজা খাতুনসহ অন্যান্যরা। এ সময় মামলার প্রতিপক্ষের বাধার মুখে দখল নিতে ব্যর্থ হয়ে আদালতের লোক ফেরত যায়। এরপরই দখল নিতে যাওয়া লোকদের সাথে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষ বাধে, যাতে কয়েকজন আহত হয়। আহতদের মধ্যে বিরল উপজেলার নোনাগ্রামের মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাফী ও আব্দুল বারী এবং তাদের বোন মাহফুজা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার (একদিন পরে ৩০ অক্টোবর ২০০৪) পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাণ হারান আব্দুল বারী। ভাই হত্যার ঘটনায় ৩১ অক্টোবর মৃতের ভাই এ্যাড. আব্দুল বাকী বাদী হয়ে বিরল থানায় ৩২৫, ৩০২ ও ১৪৯ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন মামলা কার্যক্রমে ১৭ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত এই রায় প্রদান করেন।

মামলাটি সরকার পক্ষে পরিচালনা করেন অতিরিক্ত পিপি হাসনে ইমাম নয়ন ও অ্যাড. একরামুল আমিন। আসামী পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন মাজহারুল ইসলাম সরকার, মোসলেম উদ্দিন সরকার ও স্টেট ডিফেন্স কৌশুলী খলিলুর রহমান।

মন্তব্য


অন্যান্য